একঝাঁক_জোনাকি #পর্ব |০২| #ইশরাত_জাহান_অধরা

0
530

#একঝাঁক_জোনাকি
#পর্ব |০২|
#ইশরাত_জাহান_অধরা

উত্তরে নিহান যা বলল তাতে ঘরের উপস্তিত সবাই অবাক হয়ে তাকাল নিহানের দিকে।

পাত্রী দেখতে এসে পাত্রীর বড় বোনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় নিহান। ঘরের উপস্তিত সকলে শুনে বিস্মিত হয়ে যায়।

নিহানের মা বলে উঠলেন,
– “কিসব বলছিস বাবা?তুই কেন অই মেয়েকে বিয়ে করতে যাবি?আমরা তো তিথি কে দেখতে এসেছিলাম।কথাবার্তাও সব শেষ।আগামীমাসেই তোদের বিয়ে। আর এখন তুই ওকে বিয়ে করার কথা বলছিস?মাথা কি ঠিক আছে তোর?”

নিহান একবার অনিমার দিকে তাকালো।অনিমার দিকে তাকিয়েই বলল,
– “আমার মাথা ঠিক আছে মা।আর তুমি জানো আমি একবার যা বলি তাই করি।তাই যা বলছি মেনে নাও।আমাকে যদি বিয়ে করতেই হয় তাহলে আমি মিস অনিমাকে করব।”

অনিমার মা রিনা বেগম বললেন,
– “এসব কি বলছ বাবা?অনিমা বিবাহিত।”

– “ওরা এখন আলাদা হয়ে গিয়েছে আপনিই তো বললেন উনার হাজবেন্ড উনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে।”

নিহানের মা বলল,
– “তুই একটা বিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করবি?”

– “আমার যখন কোন সমস্যা নেই উনাকে বিয়ে করতে তাহলে তোমাদের এত সমস্যা আসছে কোথা থেকে আমি বুঝতে পারছিনা।আমার বিয়ে হলে মিস অনিমার সাথেই হবে।”

নিহানের কথা শুনে এবার অনিমা মুখ খুলল,
– “আপনি ভাবলেন কি করে আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি হবো?”

– “ভাবিনি তো!জাস্ট আমার ডিশিশনটা জানিয়েছি।বাই দা ওয়ে আমি আমার মতামত জানিয়ে দিয়েছি।আজ তাহলে আসি।”

অতঃপর বাবা মায়ের উদ্দেশ্যে বলল,
– “আব্বু আম্মু চলো।”

বলেই চলে গেল।

নিহানের মা বলল,
– “আমি নিহানকে বাসায় নিয়ে বুঝাব।আপনারা চিন্তা করিয়েন না।বিয়ে হলে নিহানের সাথে তিথিরই হবে।আমি কথা দিচ্ছি আপনাকে।”

রিনা বেগম কথাটা শুনে সস্তির নিঃশ্বাস নেন।
– “তাই যেন হয়।”

– “এবার তাহলে আসি।”

নিহানের মা যেতেই রিনা বেগম অনিমার দিকে তাকালো রাগি দৃষ্টিতে।তিথি ঠোট উল্টে বলল,

– “আম্মু আমি নিহানকে বিয়ে করব।আমি উনাকে ভালোবেসে ফেলেছি।প্লিজ তুমি কিছু করো।”

– “তোর সাথে নিহানেরই বিয়ে হবে।তুই টেনশন করিস না।”

রিনা বেগম অনিমার কাছে গিয়ে বলল,
– “তোর জন্য সবকিছু হয়েছে আজকে।তিথির বিয়ের আগে তুই ঘর থেকে বের হবি না।”

বলেই একটা রুমে নিয়ে দরজা আটকে দিল।অনিমা কিছুক্ষন দরজা ধাক্কাধাক্কি করেও লাভ হলো না।অতঃপর নিরাশ হয়ে মেঝেতে বসে গেল।মনে মনে ভাবল তার সাথেই কেন সবসময় এরকম হয়?একটু কি ভালো কিছু ঘটতে পারে না তার জীবনে?সবসময় সব খারাপ তার সাথেই কেন হয়?উত্তর খুঁজে পায় না। দরজায় হেলান দিয়েই বসে থাকে।

****

কয়েকদিন পর,
দরজা খুলে রিনা বেগম অনিমার হাতে একটা খাম দিয়ে তাচ্ছিল্য করে বলে,
– “দেখ!সোহান ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়েছে।ফোন দিয়ে বলেছে তোকে সাইন করে দিতে।তুই নাকি ওকে কথা দিয়ে আসছিস!বুঝতে পারলি তো তুই শুধু ব্যবহাররেই যোগ্য।কারো বউ হওয়ার না।জম্মের সময়ই তো মাকে মারলি। এখন তোর জামাইও তোকে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে।সাধে কি আর তোকে অপয়া বলি!নিহানও তোর সৌন্দর্যের মোহে পরেই তোকে বিয়ে করার কথা বলছে।বিয়ে করার কয়েকদিন পর সোহানের মতোই ব্যাবহার করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিবে।আসলে কি বলতো তুই ছুড়ে ফেলারই যোগ্য।”

মায়ের মুখে এসব কথা শুনে অনিমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে।আচ্ছা কোন মা কি তার সন্তানকে এভাবে বলতে পারে?সৎ মাই হোক।তাও মা তো!

– “ভুল বললেন!সবাইকে নিজের আর সোহানের মতো ভাববেন না।আমি যেহেতু বলেছি মিস অনিমাকে আমি বিয়ে করব সেহেতু ওকে সারাজীবন আমার কাছে রাখার জন্যই বলেছি।ছুড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য না।আর আপনি না ওর মা?একজন মা হয়ে নিজ সন্তানকে কি করে এরুপ বাজে মন্তব্য করেন সেটা আমার জানা নেই।”

নিহানের কথা শুনে অনিমা আর ওর মা উভয়ই চমকে পিছনে তাকাতেই দেখল দরজার সামনে নিহান দাঁড়িয়ে আছে।

– “একি বাবা তুমি?”

– “জ্বি আন্টি!আসলে হবু স্ত্রীর সাথে দেখা আসলাম।মিস করছিলাম উনাকে অনেক।”

নিহানের কথা শুনে তড়িৎগতিতে অনিমা নিহানের দিকে তাকালো।আগে থেকেই নিহান ওর দিকে তাকিয়ে ছিল বলে দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল।অনিমা সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেলল।বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারল না।নিহান হেসে বলল,

– “মিস অনিমা! রেডি হোন তো!আপনাকে নিয়ে শপিংয়ে যাব।কয়েকদিন পর তো আমাদের বিয়ে। তাই বিয়ের শপিং করতে হবে তো!”

তিথি এবার রাগে নিহানের সামনে এসে বলল,
– “কি দেখে তুমি ওকে পছন্দ করলেন?না আছে রুপ আর না আর গুন।গেয়ো ভুত একটা।আমার মাঝে কি নেই বলেন?যথেষ্ঠ শিক্ষিত, স্মার্ট, সুন্দরী আমি!তাহলে কেন আমাকে রেখে ওকে বিয়ে করার জন্য উতলা হয়ে পরেছেন?”

নিহান হেসে বলল,
– “হ্যা মানছি আপনার সবকিছু আছে যার ছিটেফোটাও মিস অনিমার মাঝে নেই।কিন্তু কি বলুন তো আপনার মাঝে সবকিছু থাকলেও সম্মান করার মতো মানসিকতাটা নেই।নয়তো ভদ্র ঘরের মেয়ে তার নিজ বড় বোন সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারে না।আর সবচেয়ে বড় কথা কি বলুন তো আপনাকে আমার মন ঠিক টানে না।যতোটা মিস অনিমাকে দেখলে টানে!”

তিথি হেসে বলল,
– “একদিনের দেখায় কারোর সাথে প্রেম হয়ে যায় নাকি!আপনি মজা করছেন।কি এমন দেখেছেন ওর মাঝে যে আপনি ওর প্রেমে পরে গেলেন?”

– “আসলে কি বলুন তো!জীবনের একটা টাইমে লাইফে এমন একজন মানুষের আগমন ঘটে যাকে দেখলে পুরো দুনিয়াটা থমকে যায়।সবকিছু সুন্দর লাগে।তার মাঝে কিছু থাকুক আর না থাকুক তাকে ভালো লাগে।এমনকি তার যেই খারাপ গুনটা আছে সেটাও অমৃতের মতো লাগে।যাকে ভালো লাগার তাকে হাজার বছর ধরে ভালো লাগা লাগে না জাস্ট কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়।মন আপনাআপনিই তাকে ভালোবেসে ফেলে।এতে কোন সময়ের প্রয়োজন হয় না।

আর যাকে ভালো না লাগার তার সাথে যুগ যুগ বছর ধরে থাকলেও ভালোবাসা যায় না।আশা করি আপনার লাইফেও কেউ আসবে যাকে দেখে আপনার ভালোবাসতে সময়ের প্রয়োজন হবে।তখন আপনি আমার অবস্তাটা বুঝবেন।”

বলেই হেসে অনিমার দিকে তাকিয়ে বলল,
– “একি আপনি এখনো রেডি হন নি কেন?আন্টি মিস অনিমাকে বলুন রেডি হতে।ও মনে হয় আপনার ভয়ে রেডি হচ্ছে না।”

রিনা বেগম থমথমে গলায় বললেন,
– “যাহ, রেডি হো!”

অনিমা অবাক হয়ে বলল,
– “আম্মু!”

নিহান হেসে বলল,
– “দেখলেন আন্টি আপনাকে পারমিশন দিয়ে দিয়েছে।তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসুন দেরি হয়ে যাচ্ছে তো!”

অনিমা কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেল।রিনা বেগম একটু এগিয়ে বললেন,

– “একটু কি ভেবে দেখলে হতো না?দেখো ও অনাথ একটা মেয়ে।তোমার থেকে বয়সেও অনেক বড় হবে।কেন ওর পিছে পরে আছো?”

– “উনি আমার থেকে বয়সে বড় হোক এতে আমার কোন সমস্যা নেই।”

রিনা বেগম নিহানের কথায় বিরক্ত হলেন।ছেলেটা বড্ড ঘাাড়ত্যাড়া।কারোর কথাই মনে হয় না শুনবে।শুধু শুধু বলে কোন লাভ নেই।হুদাই টাইম নষ্ট।হায়!অনিমার কপালটা কত ভালো। এমন বড়লোক ডাক্তার ছেলের সাথে বিয়ে হবে।আর আমার মেয়েটার?বিয়ে হতে হতেও হলো না! এই ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

.

অনিমা একটা নীল রঙের সুতির থ্রি-পিস পরে বের হলো।মুখে কোন প্রসাধনীর ছোয়া নেই তবুও যেন কত্ত মায়াবী লাগছে মেয়েটাকে। অনিমা রুম থেকে বের হতেই নিহান অনিমার হাত ধরে বলল,
– “আন্টি!তাহলে আমরা আসছি।”

রিনা বেগম দুজনের দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে বললেন,
– “যত্তসব আদিখ্যাতা!”

****

একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে অনিমা আর নিহান।অনিমা গলাটা একটু পরিষ্কার করে বলল,

– “দেখুন আমি আপনার থেকে গুনে গুনে ৭ বছরের বড়।”

– “জানি আমি!”

– “আপনি তো জানেন আমি প্রেগন্যান্ট! তাও আমাকে বিয়ে করতে চাইছেন?”

– “আমার এতে কোন অসুবিধে নেই।বরং বউয়ের সাথে বাচ্চা একটা ফ্রি পেয়ে যাব।”

– “আপনি আমাকে বিয়ে করতে চাইলেও আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারব না।”

নিহান শান্ত কন্ঠে জবাব দিল,
– “কারনটা জানতে পারি?”

– “দেখুন আপনার বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল আমার বোনের জন্য। সেখানে আমি কি করে আপনাকে বিয়ে করব?আমার মান সম্মান বলে কিছু একটা আছে৷ আমার রুচিতে বাধবে আপনাকে বিয়ে করতে। এতে আমার পরিবারের মানুষরা কষ্ট পাবে।আমি চাই না আমার জন্য আমার পরিবারের মানুষজন কষ্ট পাক।”

নিহান অনিমার কথা শুনে হাসল।নিহানকে আসতে দেখে অনিমা ভ্রু কুচকে বলল,

– “আপনি হাসছেন কেন?”

নিহান হাসতে হাসতেই জবাব দিল,
– “আপনার বোকার মতো কথা শুনে।”

– “মানে?”

– “আচ্ছা আপনি আমাকে জাস্ট একটা প্রশ্নের এন্সার দিন। আপনি যাদেরকে…….

(চলবে)…
#গল্পঃ_একঝাঁক_জোনাকি

(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন, পরবর্তী পর্ব নিয়ে খুব শীঘ্রই আসছি…)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here