Tuesday, April 14, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প এক কাপ চা এক_কাপ_চা পর্ব-১২

এক_কাপ_চা পর্ব-১২

এক_কাপ_চা
পর্ব-১২
#সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

(৩৪)

“ভাবী, আপনি সম্পর্কে আমার ভাইয়ের স্ত্রী। এসব কথা কী বলছেন?আমি আপনাকে বিয়ে করবো কেন?”

“তবে আমার স্নেহা?”

“আমাদের কিন্তু কথা তেমন হয়েছিল না।”

“তুমি তোমার দায়িত্ব থেকে সরে আসতে চাইছো?তোমার জন্য তোমার ভাই কী না করেছে?”

“আমি দায়িত্ব থেকে সরে আসছি না।কিন্তু আপনার প্রতি অনুরোধ। এমন কোনো প্রস্তাব আমাকে দিবেন না যা রাখা সম্ভব নয়। আমি আপনাকে সম্মান করি।”

“তবে স্নেহাকে মেনে নিবে না?”

“কেন নিবো না?স্নেহা আমার ভাইয়ের মেয়ে।ও আমাদের কাছেই থাকবে।”

“আমি আমার মেয়েকে কাউকে দিবো না।”

“যদি আপনি এটাই ভেবে থাকেন তবে আমি পারবো না স্নেহাকে বাবার নাম দিতে।কারণ আপনি জানেন ইখুম ব্যতীত কাউকে আমার স্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আর স্নেহাকে কাগজে কলমে আমার নাম দিতে হলে তার মায়ের নামে ইখুমের নামটাই থাকবে।”

“থাকবে না। তুমি কেন?”

রাশেদ দাঁড়ায়নি।প্রতিটি মানুষের সহ্যের কিছুটা সীমানা প্রাচীর থাকে। রাশেদের সেই প্রাচীরে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে।
তার প্রতি তার মা,ভাবীর এসব অন্যায় আবদার আজ তার গলায় কাটার মতোন বিঁধে আছে।
রাশেদ কিছু দূর আগাতেই ইখুমকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো।ইখুমের দুই চোখ রক্ত বর্ণ ধারণ করেছে। মুখে খেলা করছে কোনো এক আবেগের দ্যুতি। যাকে বাস্তবতা বদলে দিতে চাইছে। প্রাণপণে ইখুমের করা প্রার্থনা যেন অদৃষ্ট শুনতে পেয়েছিল।বিধাতা মুচকি হেসে আশীর্বাদের হাত বুলিয়ে দিয়েছেন ইখুমের ভাগ্যে। সে বুঝতে পারলো রাশেদকে তবে এতোদিন মানসিক ভাবে ভেঙে চলেছিল তার শাশুড়ি এবং সামিনা।বিয়ের কনে হিসেবে কিংবা বাড়ির বৌ হিসেবে কখনো তাকে মেনে নিতে চায়নি ভদ্রমহিলা। তিনি বলেছিলেন তাকে এতটা মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে যেন ইখুম নিজেই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা করে।
তবে কী শুধু তাকে মানসিক কষ্ট দিতেই তার শাশুড়ি এতদিন ধরে রাশেদের সাথে এমন সাপলুডু খেলে চলেছেন?
ইখুম ভাবতে পারছে না। তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। পাশের পিলারে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো সে। সামিনার সামনে
রাশেদ দাঁড়ায়নি, দীর্ঘ শ্বাস ফেলে তার দিকে এগিয়ে এসে বলল,

“যাবে আমার সাথে?এমন কোনো এক জায়গায়?যেখানে সকল কিছু থেকেই মুক্তি পাওয়া যায়?বিলাসিতা এনে দিতে পারবো না তবে হ্যাঁ না খাইয়েও রাখবো না। যাবে ইখুম?আমার সাথে?”

(৩৫)

“বিয়ে বাড়িতে এসে যদি মেয়েদের দিকে না তাকাও তবে কী করলে?”

মৌসুমির এমন কথায় তার দিকে ভ্রু-কুঁচকে তাকিয়ে রইল তাশদীদ। স্নেহার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছিলো তাশদীদ। স্নেহার মুখ টিস্যু দিয়ে মুছিয়ে সে বলল,

“মেয়েরা প্রদর্শনীর বস্ত নয়। যে মেয়েরা নিজেদের প্রদর্শন করতে ভালোবাসে তারা আমার নজরে একটা স্লাট ব্যতীত কিছুই নয়।”

“স্লাট?সরাসরি বেশ্যা বানিয়ে দিলে?”

“তুই নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ৷ বুঝে যাবি।আর হ্যাঁ মনে রাখিস পঁচা জিনিসে মাছি বসেই।”

মৌসুমি অপমান গায়ে মাখলো বলে মনে হলো না। সে চলে গেল স্টেজের দিকে।সাগরিকা তখন মুনিরের পাশে বসেছে। সবার আবদার হলো একটা গানের। মুনিরের ইশারায় একজন ছেলে গিটার দিয়ে গেল।
স্টেজের সামনে চেয়ারে বসে সাগরিকা গাইতে শুরু করলো,

sab se pehele hain pyaar, main or tum dono to ek hain.
uski bad aaye ashaye ki tum kon ho? or main kon hu?

পুরো ছাদ নির্জনতায় ছেয়েছে। গান শেষে স্নেহা হাত তালি দিয়ে বললো,

“পি পি পো পো। পিপ্পো?”

সাগরিকা গানটা গাওয়ার ধরণে মুগ্ধতা ছিল। তাজবীদ হেসে বলল,

“গানটা ডোরেমন সিরিজে ছিল।এবার তবে আরেকটা বিয়ে উপলক্ষে হয়ে যাক?”

সাগরিকা মাথা দুলিয়ে না করছিল কিন্তু তাশদীদ সামনে এসে বসে তার হাত থেকে গিটার নিয়ে গাইতে শুরু করেছিল,

“ম্যে রঙ শরবতো ক্যা, তু মিঠে গাট কা পানি।”

পুরো গানটায় সে তাকিয়ে ছিল সাগরিকার দিকে।সাগরিকার অনুভূতি গুলো ধীরেধীরে সুড়সুড়ি দিচ্ছিলো তার পেটে। সে ঠোঁট কামড়ে ধরেছে অনুভূতিকে লুকিয়ে রাখতে৷
গানটা শেষ হতেই হাফ ছেড়ে বাঁচলো সে।তার দিকে তাকিয়ে হাসছিল তাশদীদ৷
মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হয় শরবতের মতোন ঢকঢক করে গিলে ফেলতে এই মেয়েকে।কিন্তু হায় কপাল এমন তো হয় না।
এরপর রাত-ভর চলবে মদ্যপান এবং নাঁচ গান।
তাই তাজবীদ তার বাবাকে বলল সবাইকে নিয়ে ফিরে যেতে। তারা দুই ভাই থাকবে। তাশদীদ ব্যস্ত তাই তাকে এসে বলতে বলল।আর রাশেদ ও থাকছেই তাই বাকী কারোর থাকার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে মেয়েদের।
গাড়ি অবধি তাদের এগিয়ে দিতে যাচ্ছে তাশদীদ৷ রাত প্রায় দশটা। বিয়ে বাড়ির বাতি নিভছে জ্বলছে। সাগরিকার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সে এক হাতে জড়িয়ে নিয়েছে তাকে। নিজের গায়ের জ্যাকেট খুলে সাগরিকার হাতে দিয়ে বলল,

“জানালা খোলা রাখবি না।আর বাড়ি গিয়ে সোজা ঘুম।অনলাইনে দেখলে! ”

“থাকবো না।প্রমিস।”

তাশদীদ কিছু না বলেই আলতো স্পর্শে নিজের বুকের সাথে তাকে জড়িয়ে নিয়ে বলল,

“মনে হচ্ছে এই তোদের সাথে আমার শেষ দেখা।যাইহোক না কেন নিজের খেয়াল রাখিস। মনে রাখিস। শোক যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত শোকের থেকে পরিবারের খুশির প্রাধান্য বেশি।”

(৩৬)

ইখুমের সামনাসামনি বসে আছে রাশেদ৷ সে বিয়ে বাড়িতে থাকেনি। ইখুমের সামনে মাথা নিচু করে বসে আছে সে। ইখুমের কি হলো সে নিজেও বুঝলো না।সে তেড়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মার দিতে লাগলো রাশেদের শরীরে।
তার পরণের শাড়ি এলোমেলো হয়ে আছে। আচঁল গলিয়ে পড়েছে কাঁধ থেকে।
বাড়ির সবার কথা ভেবে জোড়ে কাঁদতেও পারছে না সে। রাশেদ তাকে বাধা দিচ্ছে না।পুরুষ মানুষ এক আজব প্রানীর নাম।
তারা চাইলে মেয়েদের মতোন কাঁদতে পারে না।
ইখুম শান্ত হয়ে এলে রাশেদ তার গায়ে আঁচল উঠিয়ে দিয়ে তাকে বিছানায় বসিয়ে দিলো।
ইখুমের কোলে মাথা রেখে নিচে ফ্লোরে বসেছে রাশেদ। ইখুম তার চুলের মুঠি ধরে তার মুখ উঠিয়ে বলল,

“কেন করলে এমনটা?তুমি যত কথাই বলো না কেন আমাকে এত মানসিক কষ্ট দেওয়ার কিংবা আমার সন্তানকে মেরে ফেলার কথা বলার অধিকার তোমার নেই।আমি তোমাকে মাফ করবো না। কোনো দিন না।আমার গায়ে হাত তুলেছো, কী করোনি আমার সাথে? কেন? সামিনাকেই বিয়ে করে নাও এখন।ওর দায়িত্ব নিতে চাইছো না কেন এখন?তবে কেন কথা দিয়েছিলে?”

রাশেদ তার দিকে তাকিয়ে বলল,

“তোমাকে বিয়ে করার জন্য আমার মা আমাকে শর্ত দিয়েছিল।স্নেহার দায়িত্ব নিতে হবে। যদি এমন দায়িত্ব না নিতে পারি তবে তোমাকে আনতে পারবো না।তোমাকে বিয়ে করার পূর্ব শর্ত
অনুযায়ী আমি বাধ্য ছিলাম।”

চলবে (এডিট ছাড়া পর্ব)
#ছবিয়ালঃ Pixmania collection

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here