কাছে তুমি পর্ব-০৩ #রোকসানা আক্তার

0
373

#কাছে তুমি
পর্ব-০৩
#রোকসানা আক্তার

৪.
সানার কফি বানানো শেষ হলেই সে মিনা খাতুনকে ডাক দেয়।একবার,দুইবার,তিনবার….!কিন্তু মিনা খাতুনের কোনো সাড়া এলো না।”ফোনে কল এসেছে কথা শেষ করেই চলে আসবে” বলে সেই যে রুমে ঢোকে কফিটা ঠান্ডা হয়ে যেতে ধরেছে মিনা খাতুনের এখনো আসার নামগন্ধ দেখছে না!সানার খুব রাগ লেগে যায়।সে এখন কফি হাত নিয়ে এভাবে দাড়িয়ে থাকবে?নাকি নিজে গিয়ে রিয়াশকে কফির মগটা দিয়ে আসবে?কিন্তু রিয়াশের রুমে তার এখন যাওয়াটা ত একদমই খাটে না!আর যেতেও ইচ্ছে করছে না!ভাবতে ভাবতে সানা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে থাকে।

“কফি ঠান্ডা হলে কী আমার রুমে কফি নিয়ে যাবি?”

কারো কন্ঠস্বরে সানার সৎবিৎ ফিরে আসে।সামনে তাকিয়ে রিয়াশ ভাইয়া স্ট্রেট পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে।রিয়াশকে দেখে সানার ভেতরটা থরথরে কেঁপে উঠে!বার দুয়েক ঢোক গিলে সে সতর্ক চোখে চারপাশটা তাকিয়ে নিয়ে মুহূর্তে মাথাটা নুইয়ে আনে!আর মনে মনে বলে”প্লিজ ভাইয়া,প্লিজ আপনি এখান থেকে যান।কেউ দেখে ফেললে সর্বনাশ হয়ে যাবে!”কিন্তু মনের কথা মানুষ কি শোনে?রিয়াশ সানার দিকে কিছুক্ষণ স্থির চাহনিতে তাকিয়ে থেকে তারপর বলে,

“তা কফি নিয়ে যেতে এত লেট হচ্ছে কেন?শেষবার আমাকে কফি খাইয়ে তোর স্মৃতিটুকু মনে রাখতেও দিবি না?এত তাড়াতাড়ি নির্দয় হয়ে গেলি?”

সানা চুপ হয়ে থাকে।রিয়াশের এ’কথার পিঠে সে কি জবাব দিবে তা সে জানে না!
“কথা বলছিস না কেন সানা!আমার জন্যে কি তোর একটুও মায়া হয় না?”

এখান থেকে যে করেই হোক যেতে হবে।নাহলে মিনা আপার চোখে পড়লে ফুপীর কানে।আর তখন কেল্লাফতে!ভেবেই সানা আর চুপ থাকলো না।
“ভা-ভাইয়া আ-আমি রুমে চলে যাচ্ছি।কফিটা এই রাখলাম।”

বলেই যে রুমের দিকে পা বাড়ায়,তখনি রিয়াশ সানার বাম হাতটা খপ করে ধরে ফেলে!সানার এবার ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে উঠে।

“ভাইয়া,প্লিজ!ছাড়ুন!কেউ দেখে ফেলবে।মিনা আপা এখনো জেগে আছে।”
“দেখলে দেখুক!আমি ভয় পাই না!তোর সাথে আমার এখনো অনেক কথা বলার আছে।আগে সব কথা শেষ করি তারপর যাবি!এর আগে এক পাও নড়তে পারবি না।”
“কেন আমাকে বারবার বিরক্ত করতে আসেন?কেন আমাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেন না?”
“তুই সত্যিই জানিস না কেন আমি এরকম করি?”
“নাহ।আর জানতেও চায় না!”

রিয়াশের চোখের দৃষ্টি এবার তীক্ষ্ণ হয়ে আসে।চরম আহত গলায় বলে,

“তুই আমাকে এত সহজে ভুলে গেলি?!”

সানা চুপ হয়ে থাকে।রিয়াশ এক ঝটকায় সানাকে সামনে টেনে এনে বলে,

“এই,তুইতো আগে এরকম ছিলি না?তুই হঠাৎ এমন হয়ে গেলি কেন সানা?মনে পড়ে না আগের স্মৃতিগুলো একবারও?ক’দিন পর অন্যের ঘরে চলে যাবি এতদিনে যে মানুষটির জন্যে গান গাইতিস,চা নিয়ে আসতিস,ভালোনাসার অনুভূতিগুলো জমা রাখতিস সেই মানুষটিকে ছেড়ে কীভাবে অন্যের ঘরে ভালোবাসা ছড়াবি?এতটা নির্দয়,পাষাণ,কঠোর…. তুই!”

“সময় থাকতে ফুলের গোড়ায় পানি না দিলে সে ফুল কি আর তাঁজা থাকে।শুকনো পাতার মতো নেঁতিয়ে যায়।অব্যক্ত ইচ্ছাটার তখব আর মূল্য থাকে না!”

রিয়াশ সানার হাতটা ছেড়ে দেয়।ফস করে একটা তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে,
“আমার একটা অনুরোধ রাখবি, সানা?এই শেষ একটা অনুরোধ! আর না আমি তোকে বিরক্ত করবো,আর না তোকে জ্বালাবো।”

সানা কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর সম্মতি দেয়।রিয়াশের মুখে হাসি ফুঁটে উঠে।বলে,
“আজ তুই আমার সাথে কফি খাবি।তাও কফিটা আমি নিজ হাতে বানাবো!”
“কফি কোথায় খেতে হবে?”
“ছাদে।আর মিনা আপাকে নিয়ে ভয় পাস না।সে দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে তখনই ঘুমের দেশে তলিয়ে গেছে। নামার সময় দেখেছিলাম। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
“আচ্ছা এইটুকুই ত অনুরোধ?আর অন্যকোনো প্রসঙ্গ টেনে আনবেন না ত?”
“য়ু হু।”
“পাক্কা?”
“একদম পাক্কা”

তারপর রিয়াশ আগের কফিটা বেসিনে ফেলে দিয়ে সে নিজে আবার কফি বানাতে লেগে যায়।সানা অন্যদিক তাকিয়ে।তার কাছে কেমন অস্বস্তি অস্বস্তি লাগছে!মনে সন্দেহ হচ্ছে ” এ হঠাৎ আমাকে নিজহাতে কফি বানিয়ে খাওয়ার অফার করলো কেন?এর পেছনে একজেক্ট কোনো কারণ থেকে নয় তো?আচ্ছা মিনা আপা যখন আমাকে বলেছিলো রিয়াশ ভাইয়ার জন্যে এক কাপ কফি বানাতে। তখন আমার মনে মনে খুব ভালো লাগা একটা অনুভূতি হলো-এই শেষ সুযোগ প্রিয় মানুষটিকে নিজহাতে কফি বানিয়ে খাওয়াডে।হয়তো এরকম সুযোগ আর কখনোই আসবে না।আফসোস-কষ্ট মাখা মন নিয়ে কফি বানাই।ঠিক আমার মতো এখন রিয়াশ ভাইয়ার সেইরকম ফিল হচ্ছে নাতো?হয়তো!পৃথিবীতে ভালোবাসাগুলো এত্ত কষ্টের কেন?কতগুলো হাসি মুখের জন্যে আরেকটা হাসিমাখা মুখককে বিসর্জন দিতে হয়!এর নামই বুঝি নিয়তি!” ভাবতে ভাবতে সানার চোখজোড়া বসে আসে!

“ম্যাডাম?আপনার কফি?

রিয়াশের কথার শব্দে সানার ঘোর কাঁটে।রিয়াশের কফি বানানো শেষ।সেটা সানার ভাবনাজগতের বিচরণের কারণে খেয়ালেই আসেনি। সানা হালকা হাসির চেষ্টা করে রিয়াশের হাত থেকে কফির মগটা হাতে নেয়।

” ছাদে যাওয়া যাক?”

সানা মাথা নেড়ে “হ্যাঁ” ইঙ্গিত করে!দুজনের হাতে কফির মগ।দৃষ্টি দূরের ওই অন্ধকারের দিকে!দুজনের দৃষ্টি দূরের অন্ধকার মাখা ওই ঝোপঝাড়ের উপর!আর উদাস দৃষ্টিতে নৈঃশব্দ মুখে দিকে দিকে কফিতে চুমুক।পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নিস্তব্ধ রাতে প্রিয় মানুষটির সাথে কফি খাওয়ার এই মুহূর্তটা হয়তো তারা আর কখনো ফিরে আসবে না।দূরের ওই অন্ধকারের মতোই ঢেকে যাবে সব!থাকবে আক্ষেপ,কষ্ট,দুঃখ ভরা রাত!ভাবনার মাঝেই চোখ ঝাঁপসে আসে সানার।মাথা ঘুরতে থাকে প্রচন্ড।সানা মাথায় হাত রেখে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,

“আমার কাছে কেমন যেনো লাগছে।পৃথিবীটা কেমন মাথার উপর ঘুরছে।আমি যেন পড়ে যাচ্ছি নিচে!প্লিজ ভাইয়া ধরুন আমায়!ধরুন!পড়ে যাচ্ছি আমি!”

ওমনি রিয়াশ সানাকে তার বাহুডোরে জড়িয়ে নেয়।আর হাত থেকে মগটা নিয়ে তা নিচে রাখে।সানা মুহূর্তে ঘনঘন নাক ঢেকে ঘুমের দেশে তলিয়ে যায়।তা দেখে রিয়াশের সে কি হাসি!যাক অবশেষে তার ঘোমের ট্যাবলেট টা কাজে দিলো।এবার কিডন্যাপ করাটা ইজি হবে!

চলবে…….

(বোনাস পার্ট হয়তো আজ দিতে পারি।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here