কাছে তুমি পর্ব-০৪(এডিট পর্ব) #রোকসানা আক্তার

0
344

#কাছে তুমি
পর্ব-০৪(এডিট পর্ব)
#রোকসানা আক্তার

কল বাঁজতেই রাহুল একহাতে মইয়ের ভর সামলে অন্যহাতে পকেট থেকে ফোনটা বের করে।রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে,

“মই নিয়ে তাড়াতাড়ি পেছন সাইডে আয়।সানা এখন আমার দু’হাতের কোলে শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে!কুইক!”

রাহুল “ওকে” বলেই আবেদ কে নিয়ে বিল্ডিং-এর পেছনে মই নিয়ে লাগায় একছুট!মই দেয়ালের সাথে ঘেঁষাতেই রিয়াশ সানাকে বুকের সাথে মিশিয়ে খুব সাবধানে মই বেয়ে নিচে নামে!!আমার

৫.
সূর্যের কড়া রোদটা গ্লাস ভেদ করে সানার চোখে লাগতেই সানার ঘুম ভেঙ্গে যায়।সানা পিটপিট করে চোখের পাতা মেলে চারপাশ তাকায়েই চমকে উঠে।জায়গাটা কেমন অচেনা অচেনা!

“গুড মর্নিং,লালপরী?”

কারো কণ্ঠস্বর শুনে সানা কাঁপা এবং ভয়ার্ত মাখা চোখে পাশ ফিরে তাঁকায়।তাকিয়ে দেখে তার রিয়াশ ভাইয়া বাথরুম থেকে বের হয়ে পান্জাবীর হাতা গুটাতে গুটাতে তার দিকে এগিয়ে আসছে।সানা মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায়!

“কখন জেগেছিস ঘুম থেকে?রাতে ত সেই লম্বা এক ঘুম দিয়েছিলি।”
বলেই রিয়াশ হাসার চেষ্টা করে।যে হাসিতে রহস্যতা লেগে আছে।রিয়াশের কথাতে সানার তেমন ভাবান্তর হলো না।সানা চোখজোড়া ক্রমশ তীক্ষ্ণ করে মনে চেপে রাখা কথাটা রিয়াশের দিকে ছুঁড়ে দেয়!

“আপনি ই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন?”

রিয়াশ স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় বলে,

“এখানে আমি এবং তুই ছাড়া আর ত কোনো তৃতীয় ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছি না।সো ওমন মহৎ কাজটা আমি ছাড়া আর কে করবে, বল?”
“কিন্তু এখানে কেন এনেছেন?”
“এখানে কেন এনেছি তা তুই এখনো বুঝিস নি?ওই কিডন্যাপ নাকি টিডন্যাপ কি যেন ওইটাই মনে কর!”
বলেই রিয়াশ পেছনের চেয়ারটা সামনে টেনে সানার সামনে ধপাস করে বসে।মুহূর্তে সানার চোখমুখে আকাশসম বিস্ময় ছুঁয়ে যায়!

“আপনি এমন জঘন্য কাজটা কীভাবে করতে পারলেন?কীভাবে?এখন বাসায় সবাই আমাকে কী ভাবছে?মা,বাবা,ফুপী, ফুপা আমাকে কেউ আর ক্ষমা করবে?!করবে না!”

“বিয়ে করার খুব শখ জমেছিল তাই তার প্রতিকারে এই বদ্ধ ঘরটা তোর জন্যে রেখে দিয়েছি”
“আপনি এতটা নীচ!নিজের কথাই ভাবলেন একবারও আমার কথা,আমার সম্মানের কথা, আমার ফ্যামিলির কথা ভাবলেন না!”বলার মাঝেই সানা দুইচোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে।
“এই কাঁদবি না।একদম কাঁদবি না বলছি!কাঁদলে কিন্তু গুম করে ফেলবো।”
“করে ফেলুন খুন।আমি বাঁচতে চাই না।মরতে চাই।মরতে!”
“এত অভিনয় করিস কেন সানা?তুই না আমাকে ভালোবাসিস?”
“আগে বাসতাম।এখন আর বাসি না রিয়াশ ভাই।”
“মিথ্যে কথা।সব মিথ্যে কথা।তুই আমাকে ভালোবাসিস।তুই তা স্বীকার না করলেও তোর চোখ ঠিকই আমাকে বলে দেয়!”

সানা চুপ হয়ে থাকে।রিয়াশও কিছুক্ষণ চুপ থেকে এবার হাই তোলে।স্বাভাবিক এবং সুদৃঢ় কন্ঠে বলে,
“এই ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না সানা।তোকে বুঝানোর সবটাই আমার হাতের বাইরে ছিল! শেষ মুহূর্তে তোর সাথে কথা বলতে চেয়েছি তোকে বুঝাতে চেয়েছি।তোকে আমার মনের কথা বলতে চেয়েছি।তুলিকে দিয়েও চেষ্টা করিয়ে তোকে আমার সামনে আনাতে।তাও পারি নি।ওদিক দিয়ে তোর এনগেজমেন্ট।হাতে সময় খুবই কম ছিল।বলা যায় কিডন্যাপ করতে একপ্রকারে বাধ্য হয়েছি।তারজন্যে আমি তোর কাছে ক্ষমা চাইছি!”

সানা এবারও কোনো জবাব দেয়নি।সানার চুপ থাকা দেখে রিয়াশ বলে,

“এখনো রাগ করে আছিস আমার উপর?”
“আমার ওতকিছু ভাবতে ভাল্লাগছে না!বাসায় যাবো আমি।ব্যাস বাসায় যাবো!আমাকে বাসায় দিয়ে আসুন।””
“এত অস্থির হচ্ছিস কেন?বাসায় ত যাবি!আমি নিজেই তোকে বাসায় নিয়ে যাবো!তবে এভাবে না…..”
“মানে?কী বলতে চান আপনি!”
“কিছু না।আমি এখন উঠছি।বাসায় যেতে হবে।দেরী হলে বাসায় যে হাঙ্গামা লাগিয়ে দিয়ে এসেছিস তার উৎপাটন করবেটা কে শুনি?এমনিতেই কালরাত তোকে কোলে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে জান অর্ধেক শেষ।তুই এত্ত ওজন,বাব্বাহ!হারবাল-টারবাল খাস নাকি আবার!”
বলেই ঠোঁটের কোণে দুষ্ট হাসি চাপে রিয়াস।সানার বিস্মিত চোখজোড়া এবার রাগে আগুনের মতো লাল হয়ে ওঠে!তা দেখে রিয়াশের মনে মনে সেই কি কুটিল হাসি!

“আমি মোটা না চিকন,লম্বা না বেটে তা দেখার রাইটস আপনার নেই!”
“রাইটস নেই।তবে হতে আর কতক্ষণ!”
“কখনোই হবে না।আমি হতে দিবও না! আমি এখনই বাসায় যাবো।আপনি নিয়ে যান অথবা না যান!”

বলেই সানা বিছানা থেকে নামতে যায় ওমনি রিয়াশ পথ আগলে দাঁড়িয়ে বলে উঠে,
“লালপরী,তোমার এখন বাসায় যাওয়ার পথ ত বন্ধ!মা,মামা-মামী ভোর সকালেই তোমাকে সার্চ করে নিয়েছে।তোমাকে না দেখতে পেয়ে সবাই ভেবে নিয়েচে তুমি কোন নাগরের সাথে পালিয়ে গেচো।এখন যদি তুমি বাসায় যাও তাহলে বুঝতেই পারছো তোমার কি হাল হবে?আর তুমি বাসায় না গিয়ে যদি আরেকখানে যেতে চাও এই রিয়াশ ত তোমাকে সেখানে যেতে দিবে না। এই রুমটা কিছুক্ষণ পর তালাবদ্ধ হয়ে যাবে।সো এখান থেকে চলে যাবার ভাবনাটা এখুনি মাথা থেকে ঝেঁড়ে ফেলো!”

সানার আরো রাগ উঠে যায়।রাগে রিয়াশের কলারটা খুব শক্ত করে চেপে ধরে বলে,

“আপনি নীচক,অসভ্য,জঘন্য…ইত্যাদি! ”
“তোমার জন্যে আমি সব হতে রাজি!”

সানা কলারটা ছেড়ে দেয়।বেহায়াটার সাথে কথা বলে খামোখা সময় নষ্ট!যে করেই হোক এখন তার বাসায় ফেরতে হবে!বাসায় ফিরে সবাইকে কিছু একটা বুঝিয়ে বলতে হবে।বলবে বান্ধবী ভোর সকালে কল করে বলেছে তার মা নাকি স্ট্রক করেছে।তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে তাকে সাহায্য করার তেমন কেউই নেই।তাই সে গিয়েছে সাহায্য করতে তার মাকে হাসপাতাল নিয়ে যাবার জন্যে।সবাইকে বলতে চেয়েছে।কিন্তু সবাই ঘুমে ছিল বিধায় কাউকে আর বলতে পারে নি।ব্যাস্ কেইস ইজ ডিসমিস।তবে এই রুম থেকে বেরুবেটা কীভাবে!সানার ভাবনার মাঝই রিয়াশ বলে,

“সানা?আমি এখন তাহলে চলে যাচ্ছি!ওই যে টেবিলের ওপর খাবার রেখে গেছি।ফ্রেশ হয়ে তা খেয়ে নিও মনে করে।”

বলেই রিয়াশ সানার গাল চাপড়ে রুম থেকে বের হয়।দরজার কাছে যেতেই রিয়াশ কি ভেবে যেন আবার পেছনে তাকায়।
“লালপরী?লাভ ইউ।টেক কেয়ার!”
বলেই দরজা টেনে ওপাশ থেকে লক করে দেয়।এপাশে সানার ভেতরটা মুচড়ে উঠে।রিয়াশ এই কাজটা কেন করলো?কেন করলো সে?সে কি জানে না ভালোবাসাটাকে না হারতে দিলে হেরে যাবে তাদের মধ্যবিত্ত পরিবারটা!পরিবারে নেমে আসবে কঠোর সংগ্রামী জীবনটা!তার বাবা কি পারবে সেই কষ্টের ধার বাইতে?পারবে সফি,রিধির পথ করে দিতে?পারবে মায়ের ওষুধের টাকা জোগাড় করতে?পারবে না।কিছুই পারবে না।তবে আমাকে পারতেই হবে!এই বাসা থেকে যে করেই হোক বেরুতে হবে।এট এ্যানি কস্ট!

৬.
রিয়াশ গাড়ির কাছে এসে তুলিকে কল মারে।ওপাশ থেকে রিসিভ হতেই,
“তুলি?কোথায় তুই?”
“এইতো দোস রেডি হচ্ছি।কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরুবো।”
“এখন দশটা বেঁজে চলছে।আর তুই বলছিস তুই রেডি হচ্ছিস!কখন তুই মার্কেটে পৌঁছাবি,কখন তুই বিয়ের শপিং করবি উফ!”
“এত অস্থির হচ্ছিস কেন রে ভাই।তোর বউকে ত আর কেউ ধরে নিয়ে যাবে না!ধৈর্য্য ধর, ধৈর্য্য ধর।আমি রাহুল,আবেদ কে কল করে দিয়েছি।ওরা কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কেটে এসে হাজির হবে।”
“ওকে।তাড়াতাড়ি কর।আমি এখন বাড়ি যাচ্ছি।ক্যাঁচাল টা সামলিয়েই তোদের কল করবো।”
“ওকে দোস্ত।আর তোর শেরোয়ানীর মাপটা মেসেন্জারে পাঠিয়ে দে।”
“ওকে।”
“বায়।”

কথা শেষ করেই রিয়াশ তৃপ্তি ভরে একটা নিঃশ্বাস নেয়।মনে তাট কি খুশি!সানাকে বিয়ে করবে।
“মনের ভেতর ডাকুমডুকুম নাচেরে,
বিয়েরও আনন্দে!,
আহা কি খুশি আকাশে বাতাসে।রঙ্গ ছড়িয়ে যায় বহুদূরে!”

৭.
রুমের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সানার মা।চোখমুখে তার নীরবতার ছাপ।তার থেকে কিছুটা বামে দরজার কাছ বরাবর দাঁড়িয়ে সানার বাবা লিয়াকত আলী।উনার মুখটা গম্ভীর বলা চলে।তার থেকে দুই হাত দূরে কিচেনের দিকটায় সফি,রিধি দাঁড়িয়ে। সাফাও তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তবে চাঞ্চল্যকর মনে।সে রিধি,সফির মনোযোগ আকর্ষণ করতে ফাঁকে ফাঁকে দূরের কিছু একটার দিকে ইঙ্গিত শব্দ করে উঠে তারপরও সাফা,রিধির সেদিকে কোনো হেলদোল নেই।তাদের বোন যে এমনটা করবে তারাও দিকবিদিক নিস্তব্ধ হয়ে যায়!মিসেস রিমা সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পা নামান।সোফার দিকে কিছুটা হেলে তারপর দৃষ্টিটা সানার মার দিকে দিয়ে বলেন,

“এই দুটো ছেলেমেয়েকেও ও শেষ পর্যন্ত ও এটুকুই শিখিয়ে গেলো!পড়ালেখা করবি আর সাথে প্রেম করবি।পরে বিয়ে করার নাম করে প্রেমিককে নিয়ে ভেগে যাবি।বাহ!ভাবী আপনে না কি যেন বলতেন?ও হ্যাঁ মনে পড়েছে আপনার মেয়ে নাকি অত্র এলাকার মধ্যে শান্ত,সুশ্রীল আর ভদ্র মেয়ে!এমন মেয়ো আর দ্বিতীয়টি হয়ই না।এখন সেই ভদ্র,শান্চ এবং সুশ্রীল মেয়ে গভীর রাতে নাগেরর হাত ধরে পালালো!আসলেই খুব ভালো আপনার মেয়ে!প্রশংসাযোগ্য!সত্যিই প্রশংসাযোগ্য!”

মিসেস রিমার কথায় সানার মার অসহায়ত্ব মুখ ফুঁটে ওঠে।মেয়েকে নিয়ে উনার কেনজানি ওমনটা মনে হচ্চে না।কেননা মেয়েকে কখনো কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে দেখেন নি।মেয়ে তার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো,কুরআন তিলাওয়াত করতো। চালচলন মার্জিত ছিল।বাইরে বেরুলে পর্দা করে বের হত।কথাবার্তাও ঠান্ডা,সুশীল ছিল।মনটা বার বার বলছে মেয়েটার সাথে হয়তো খারাপ কিছু ঘটেছে।মেয়েটা ওরকমের করতেই পারে না!নাহলে রাতে শুতে যাওয়ার সময় হাসিমুখের মেয়েটা তাকে চুমু খেয়ে আবার রাতেই উধাও হবে?য়ু হু কিছুতেই মনকে আশ্বস্ত করতে পারছেন না।সবটা যেন গড়বড় মনে হচ্ছে।তারপরও তিনি এই কথাগুলো মিসেস রিমা বেগমকে বুঝাতে পারছেন না।মিসেস রিমা বেগম এই বুঝটা নিচ্ছেন ই না।উনার একই কথা “সানা কোন নাগরের সাথে চলে গেছে!”নাহলে এনগেইজমেন্টের আগেরদিন রাতে কেন পালাবে সে?

ঠিক সানার মার ভাবনার মাঝেই মিসেস রিমা বেগমের কল বেঁজে উঠে।তাকিয়ে সানার বরপক্ষদের লোক।মিসেস রিমা সানার মা-বাবার দিকে তাকিয়ে বলেন,

” সানার হবু শ্বশুর কল করেছে।কী রিসিভ করবো?”

সানার মা দ্বিধাভরা চোখে সানার বাবার দিকে তাকায়।লিয়াকত আলী বলেন,
“রিসিভ করেন।বলেন যে মেয়েটা অসুস্থ হয়ে গেছে আজ এনগেজমেন্টটা ক্যান্সেল করতে হবে!মেয়েটা সুস্থ হলে পরে ফাইনাল ডেট দিয়ে দেওয়া হবে!”

রিমা বেগম তাই বলেন!তারপর সানার বরপক্ষদের সাথে কথা বলা শেষ হলেই লিয়াকত আলীকে বলেন,
“আপনি পাগল?আপনার মেয়ে কি আর ফিরে আসবে?আসবে না।কারণ সে ফিরে আসার জন্যে যায়নি।খামোখা ওদের মিথ্যে বলে আশা দেখিয়ে লাভটা হবে কী?”

“একদম ঠিক বলেছ মা।বরপক্ষদের ঝুলিয়ে রেখে লাভ নেই।সানা ত আর ওদের বাড়ির বউ হয়ে যাবে না!”

রিয়াশের কথা শুনে সবাই দরজার দিকে তাকায়।রিয়াশ বাইরে থেকে বাসায় ফিরলো মাত্র।রিয়াশকে দেখামাত্রই সানার মা রিয়াশের দিকে আগ্রহ মনে এগিয়ে যেয়ে বলেন,

“বাবা?আমার মেয়ের কোনো খোঁজ পেয়েছ?”

রিয়াশ গাড়ির চাবিটা নামিয়ে সানার মাকে স্বাভাবিকভাবে উত্তর দেয়,
“পাই নি মামি।তবে আশা আছে পাবো।দোয়া করো সন্ধের মধ্যেই যেন ওকে পেয়ে যাই।আর বাসায় নিয়ে আসতে পারি।”
“হ্যাঁ,বাবা।দোয়া করি।আর দোয়া করবো না?আমার মেয়ের যাতে কোনো বদনাম না হয়।বদনাম না রটানোর আগে আগেই ওকে ওই বরপক্ষদের হাতে যেন তুলে দিতে পারি!”

রিয়াশ থতমত খেয়ে যায়!খাপছাড়া হয়ে বলে,
“কী!আপনি এখনো ওদের আশা করতেছেন?”
“করবো না কেন!ওখানে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে।”
“মেয়ে আসার খবর নাই আবার বিয়ে!আজাইরা কথাবার্তা সব!” (মিসেস রিমা বেগম)
“আহা,মা?বিয়ে ওদের সাথে হয়নি বিধায় কি হয়েছে?আরেক জনের সাথে ত হবে!”
“আরেক জনের সাথে হবে মানে?”
“না ইয়ে মানে..বললাম কী সানাকে যদি খুব দেরী করে খুঁজে পাই খামোখা এই ছেলেদের আশা দিয়ে ত লাভ নেই।এরমাঝে যদি এরা সানার নামে ভুলবাল কিছু উঠায়?তখন?পরে দেখা যাবে এরা এসব উঠানোর কারণে সানার এদের সাথে ত বিয়ে হবেই না পরে অন্যজায়গায়ও বিয়ে দিতে কষ্ট হয়ে যাবে।তাই এদের এখনই বারণ করে দেওয়াটা ভালো হবে।”
“কতবারই ত বললাম ছেলেদের বারণ করে দিতে।উনাদের মেয়ে আর আসবে না।তুই বললি না উনাদের মেয়েকে পেয়ে যাবি?যদিও পেয়ে যাস ও আর আসবে না। কারণ ও ফিরে আসার জন্যে যায়নি!” (মিসেস রিমা বেগম)

কথার মাঝেই লিয়াকত আলী বলেন,
” রিমা আপা একদম ঠিক বলেছেন!রিয়াশ তোমার কথার সাথে আমি কিছুটা মত আবার অমত!কারণ,মেয়েকে যদি ভাগ্যের ফের খুঁজে পাই আর খুঁজে ফেলেও ও যদি কোনো ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যায় মনে হয়না আর ফিরে আসবে!তাই বরপক্ষদের বারণ করে দেওয়াটাই ভালে হবে!সাহেলা(সানার মা)?মেয়ে চলে গেছে মন খারাপ করো না।মেয়ে আমাদের ভালোবাসাটা বুঝে নি।তাহলে আমরা কেন ওরজন্যে প্রতীক্ষা করে করে নিজেদের কষ্ট দিব!
ভুলে যাও ওকে!কষ্ট হলেও ভুলে যাবার চেষ্টা করো!”

সাহেলা ভারক্রান্ত বুকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন।কারণ উনার কারো কথাই বোধগম্য হচ্ছে না।সবকিছুর মাঝেও কেনজানি একটা কিন্তু থেকে যাচ্ছে।সে কিন্তু কী তা তিনি নিজেও খুড়ে বের করতে পারছেন না!তারপর কী আর করা বারণ করে দেওয়া হয় ছেলেদের!রিয়াশ ঝলমলে হাসি ছড়িয়ে দোস্তদের কল দিয়ে বলে,
“ওদের সাথে বিয়েটা ক্যান্সেল!এবার আমার বিয়ের আয়োজন কর সন্ধের আগে আগেই!”

চলবে….
(কী হবে সামনে?কী মনে হয় আপনাদের?বিয়েটা হবে?মতামত জানান।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here