গোধূলী_বেলার_স্মৃতি (Unexpected Story) পর্ব- ২৬ (অতীতের রহস্য)

0
3214

গোধূলী_বেলার_স্মৃতি (Unexpected Story)
পর্ব- ২৬ (অতীতের রহস্য)
#Jannatul_ferdosi_rimi (লেখিকা)
–“রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এইভাবে কান্না করছো কেন? রাস্তা কী কান্না করার জায়গা? যত্তসব। ” তনয়ের ধমকে যেনো ছুটকির কান্নার মাত্রা আরো বেড়ে গেলো। তনয়ের মাথায় হাত। তার ধমকের বদলে ছুটকির কান্না থামার বদলে, আরো বেড়ে গেলো। রাস্তায় সবাই তনয় এবং ছুটকির দিকে আরচোখে তাঁকিয়ে আছে। তনয় পড়েছে অস্বস্হিতে,কিন্তু সেদিকে ছুটকির খেয়াল নেই সে তো নিজের মতো ভ্যা ভ্যা করে কান্না করতে ব্যস্ত।

তয়ন বলে উঠলো,
–“এইভাবে ছিচকাদুনির মতো রাস্তায় কান্না করোনা।
সবাই দেখছে তো। ”

ছুটকি কান্নামিশ্রিত গলায় বলে,

—“আমার কত্ত দুঃখ। আপনি জানেন? তাই নিজের দুঃখে কান্না করছি। এখান কি রাস্তায় আপনার জন্যে কান্না করতে পারবো নাহ? ”

কথাটি বলে ছুটকি আরেকদফা কেঁদে উঠলো।

তয়ন পড়েছে মহা ঝামালায়। সে ছুটকির দিকে টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বলে,

—“ডোন্ট ক্রাই। টেক ইট। ”

রাস্তার লোকজনেরা এগিয়ে এলো। একজন লোক এগিয়ে এসে তনয়কে উদ্দেশ্য করে বললেন,

–“সমস্যা কী ভাই? নিজের স্ত্রীকে এইভাবে কাঁদাচ্ছেন কেন? স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হলে বাসায় গিয়ে সমাধান করুন। ”

তনয় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। স্ত্রী মানে কি?

তনয় কিছু বলবে তখনি আরেকজন মহিলা এসে বলল,

—“এদের দেখে-ই’ মনে হচ্ছে এরা সদ্য বিবাহিত দম্পতি। আমার মনে হয় কী উনাদের এখন উনাদের মতো ছেড়ে দেওয়া-ই’ ভালো। এইসব ছোটখাটো ঝামালা সবার মধ্যে-ই’ হয়ে থাকে। ”

মহিলার কথা শুনে সবাই মাথা নাড়ায়।
তারপর তার চলে যায়।

তনয় তাদের ডেকে উঠে,

—“আরে ভাই আপনার ভুল বুঝছেন। আমরা স্বামী স্ত্রী নাহ। যাহ বাবা চলে গেলো। ”

তনয় বিরক্তি নিয়ে-ই’ ছুটকির দিকে তাঁকালো। ছুটকি আজকে লাল রংয়ের একটি জামদানী শাড়ি পড়েছে। তাকে দেখে যে কেউ বলে সে সদ্য বিবাহিত নববধূ।

তনয় বুঝেছে রেগে থাকলে কিচ্ছু হবে নাহ। তাই সে কোমল কন্ঠে বলে,

–“আচ্ছা ছুটকি রাস্তায় এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে কি কিছু হবে বলো? তার থেকে বরং তুমি আমার সাথে আমার গাড়িতে উঠো। আমি তোমাকে বাসায় পৌছে দিয়ে আসি। রাস্তায় যাওয়ার সময় তোমার প্রব্লেম টা শুনবো। দেখি কোনো সমাধান দিতে পারি কিনা। ”

ছুটকি তনয়ের দিকে তাঁকিয়ে রাগান্বিত সুরে বলল,

—“আপনি কিসের সমাধান দিবেন? জানেন আজকে আমার একমাত্র ক্রাশ আমাকে রিজেক্ট করেছে। এই প্রথম একটা ক্রাশ খেলাম তাও রিজেক্ট পেলাম। আচ্ছা আমাকে দেখতে কি অসুন্দর বলুন? ”

তনয় এক পলক ছুটকির দিকে তাঁকালো। মেয়েটা সত্যি খুব মায়াবী।এই মায়াবী মুখ দেখলে যে কেউ প্রেমে পড়তে বাধ্য। মেয়েটির কথাবলার ধরন আরো আকর্ষনীয়।
তনয় মিষ্টি হেঁসে বলল,
—“অবশ্যই তুমি খুব সুন্দর। নিশ্চই তোমার ক্রাশের কোনো সমস্যা আছে। আচ্ছা বাদ দাও এখন আপাতত গাড়িতে উঠো ফাস্ট। ”

ছুটকি মাথা নাড়ালো।

এদিকে,

ছোট সাহেব আমার দিকে তাঁকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার কাছে এসে বললেন,

—” আমার ফুপিআম্মুর নাম ছিলো কুঞ্জ। খুব মিষ্টি দেখতে ছিলো সে।
ঘটনার সূত্রপাত্র ঘটে ১৫ বছর আগে।
তখন আমার বলতে গেলে আমার ৭ বছর হবে। দিয়া পিপি তখন টেনে পড়তো। আমার ইশানি পিপি তার সংসার নিয়ে ব্যস্ত ছিলো।”

আমি বলে উঠলাম,

—“ইশানি ম্যাম বিবাহিত ছিলেন? ”

—-“হুম। ফুপিয়াম্মু মারা যাওয়ার পর কোনো এক কারণে ইশানি পিপির ডিভোর্স হয়। তো মেইন কথায় আসি।আমি একেবারে ছিলাম মা ভক্ত যাকে বলে। মাকে ছাড়ে আমার চলতোও নাহ। তখন আফজাল শেখ অর্থাৎ আমার বাবার ব্যাবসা সবে মাত্র লাভের আশা দেখেছিলো। (লেখিকাঃ রিমি)
আমার বাবাকে বিভিন্ন দেশে যেতে হতো ট্যাুর এর জন্যে। বাবার সেখানে খেয়াল রাখার জন্যে মা ও চলে যেতো। আমার সব খেয়াল আমার ফুপিয়াম্মু-ই’ রাখতো।”

অতীতে,

রুদ্রিক জেসমিন শেখের আচল ধরে বলে,

—“মা আমিও যাবো তোমার সাথে। ”

জেসমিন শেখ রুদ্রিকের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

–“নাহ বাবা তোমাকে এখন কী করে নিয়ে যাবো আমাদের সাথে? তুমি তো ছোট তাইনা? সামনে স্কুলে তোমার এক্সাম ও আছে। তুমি তোমার ফুপিয়াম্মুর আছে থাকবে ওকে ? একদম লক্ষি ছেলের মতো। আমি খুব তাড়াতাড়ি আমার বাবাটার কাছে চলে আসবো।”

রুদ্রিক মুখ ফুলিয়ে বলে,

—“মা তুমি তো দুই-তিন মাসের আগে ফিরে-ই’ আসোনা। আমি তো তোমাকে ছাড়া থাকতে পারিনা মা। ”

জেসমিন শেখ মমতার সাথে বললেন,

—“কয়েকটা দিন কষ্ট করো বাবা। তোমার ড্যাডের এখন অনেক কাজ। তাই আমাকেও তার সাথে যেতে হচ্ছে। তুমি ফুপিয়াম্মুর কাছে থেকো কেমন? আমি তোমাকে প্রতিদিন ফোন করবো।”

তখনি আফজাল শেখ এসে তাড়াহুড়া করে এসে বললেন,

—“রুদ্রিক মাই বয়। তুমি চিন্তা করো নাহ। আমি এবং তোমার মা খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো ওকে ডিয়ার? ”

আফজাল শেখ নিজের বোনের দিকে তাঁকিয়ে বলে,

—“কুঞ্জ ছেলেটার খেয়াল রাখিস। ”

কুঞ্জ মুঁচকি হেঁসে বলে,

–“তুমি কোনো চিন্তা করোনা ভাইয়ূ। ”

জেসমিন শেখ নিজের ছেলের দিকে তাঁকিয়ে আরো কিছু বলতে চাইছিলেন। কিন্তু ফ্লাইট এর টাইম হয়ে যাচ্ছে তাই সে দ্রুতসম্ভব বেড়িয়ে পড়ে। রুদ্রিক তাদের চলে যাওয়ার পানে একদৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকে।

নিজের রুমে বসে ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে ছোট্ট রুদ্রিক।
দিয়া বার বার বুঝাচ্ছে মা চলে আসবে,কিন্তু রুদ্রিক মানতে নারাজ।

তখনি কুঞ্জ খাবার নিয়ে এসে বলে,

—“কি হয়েছে আমার রুদ্রিক বাবাটার? ”

দিয়া কোমরে হাত দিয়ে বলে,

—“কুঞ্জ আপাই দেখ রুদ্রিককে কখন ধরে বলছি কিছু খেয়ে নিতে,কিন্তু না সে খাবে নাহ। কান্নাকাটি করে কী হবে বল? কান্নাকাটির থেকে সেল্ফি তোলা ঢের ভালো। ”

—–“সত্যি দিয়া তুইও নাহ। আচ্ছা রুদ্রিক বাবাটার আমার একটু খেয়ে নে। ”

রুদ্রিক মুখ ঘুড়িয়ে নেয়।

কুঞ্জ মুঁচকি হেঁসে বলে,

—–“রুদ্রিক যদি আমার হাতে না খায়। তাহলে তার ফেভারিট পাস্তা আমি দিয়াকে খায়িয়ে দিবো এন্ড রাতে দিয়াকে অনেক স্টোরিও শুনাবো। ‘বেলীফুলের কুঞ্জে ‘ দিয়াকেও নিয়ে যাবো। রুদ্রিককে নিবো নাহ।”

রুদ্রিক কথাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠে,

—“ফুপি আম্মু আমি খাবো। ”

কুঞ্জ হেঁসে রুদ্রিকে পরম মমতা নিয়ে খায়িয়ে দেয়। রুদ্রিককে বিভিন্নভাবে হাঁসানোর চেস্টা করে। রুদ্রিককেও খিলখিল করে হেঁসে উঠে।

রুদ্রিক তার ফুপি আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বলে,

—“লাভ ইউ ফুপিয়াম্মু। ”

—-“লাভ ইউ টু সোনা। ”

______ছোটসাহেব থামলেন। আমি মুগ্ধ হয়ে উনার কথা শুনে যাচ্ছি। সত্যি ছোটসাহেবের ফুপিআম্মু কত ভালো ছিলেন।

ছোটসাহেব কুড়েঘরের দিকে তাঁকিয়ে বললেন,

—–“এই জায়গাটা ফুপিয়াম্মুর সবথেকে প্রিয় জায়গা ছিলো বলে, এই জায়গাটির নাম ফুপিয়াম্মুর নামের সাথে মিলিয়ে রেখেছিলেন। ‘বেলিফুলের কুঞ্জ’।”

ফুপিয়াম্মু মারা যাওয়ার পর আমি এখানে এসে এই জায়গাটির দেখা-শোনা করতাম। এখন অবশ্য এই জায়গাটার দেখাশোনা মজনু চাচা করেন।

আমি উনার দিকে এগিয়ে বলে উঠলাম,

—“ছোটসাহেব আপনার ফুপিয়াম্মু কীভাবে মারা গিয়েছিলেন। মানে কি এমন কারনে সুইসাইড করেছিলেন? ”

ছোট সাহেব বললেন,

—–“যেদিন বাবা-মা ট্যুর থেকে ফিরে আসলো সেদিন জানতে পারলাম আমাদের ঘরে আরেকজন অতিথি অর্থাৎ আমার ছোট ভাই-বোনের আগমন ঘটবে। জানিস কাজল আমি সেদিন খুব খুশি হয়েছিলাম,কিন্তু মা আমাকে আগের থেকেও বেশি অবহেলা করতো। নিজেকে এবং নিজের বেবিকে নিয়ে সারাদিন থাকতো। আমাকে বলতে গেলে মা টাইম-ই’ দিতো নাহ। তখন ফুপিআম্মু আমাকে আগলে রাখতো। যখন মায়ের ৭মাস চলে সেদিন হঠাৎ রাতে
পিপির ঘর থেকে খুব চিৎকার চেচামেচি শুরু হয়।

অতীতে….

রুদ্রিকের ঘুম ভেঙ্গে যায়। তাই সে তার ফুপিয়াম্মুর রুম গিয়ে দেখে, তার বাবা বেল্ট দিয়ে তার ফুপুয়াম্মুকে অনাবরত মেরে যাচ্ছে।

আফজাল শেখ চিৎকার করে বলে উঠে,

—-“কুঞ্জ তোকে আরেকবার বলে দিচ্ছে তুই তোর বাচ্ছা নষ্ট করবি। ”

কুঞ্জ পিছিয়ে বলে,

—“আমাকে যত ইচ্ছে মারো তবুও আমি নষ্ট করবো নাহ। ”

জেসমিন শেখ এগিয়ে এসে বললেন,

—“এই পাপকে নষ্ট করে ফেলো কুঞ্জ। এই সন্তানকে সমাজ মেনে নিবে নাহ।”

কুঞ্জ ক্ষিপ্ত গলায় বলে,

—“কিসের পাপ? ও আমার সন্তান । তাকে আমি কিছুতে-ই’ শেষ হতে দিতে পারবো নাহ। আমি জানি আমি একটা ভূল করে ফেলেছি, কিন্ত আমি কিছুতে-ই’ নষ্ট করবো নাহ। ও আমার সন্তান। ”

আফজাল শেখ এইবার আরো জোড়ে বেল্টের বারি দিতে থাকে। কুঞ্জ ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে।

রুদ্রিক বাইরে থেকে জোড়ে দরজা ধাক্কা দিতে দিতে বলে,

—“তোমরা আমার ফুপিয়াম্মাুকে এইভাবে মারছো কেনো? ছেড়ে দাও বলছি। ফুপিয়াম্মু। ”

আফজাল শেখ জেসমিন শেখকে ইশারা করেন।

জেসমিন শেখ বেড়িয়ে এসে,রুদ্রিকের হাত ধরে গম্ভীর কন্ঠ বললেন,

—“রুদ্রিক এখুনি ঘরে চলো। ”

রুদ্রিক কাঁদতে কাঁদতে বলে,

—“বাবা ফুপিয়াম্মুকে এইভাবে মারছে কেনো? বাবাকে আটকাও নাহ প্লিয মা। আমাকে যেতে দাও মা ফুপিয়াম্মু কষ্ট পাচ্ছে। ”

কথাটি বলে রুদ্রিক যেতে নিলে জেসমিন শেখ ধমকে বললেন,

—“রুদ্রিক তুমি যাবে নাহ বলে দিলাম। যা হচ্ছে হতে দাও। ”

রুদ্রিক তার মায়ের দিকে তাঁকিয়ে বলে,

—“আমার ফুপিয়াম্মু মার খাচ্ছে আর আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো? আমি তোমার মতো পচাঁ নই আম্মু।
তুমি খুব পঁচা। খুব বাজে তুমি।

রুদ্রিকের কথা শুনে জেসমিন শেখ রুদ্রিকের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। রুদ্রিক কেঁদে দেয়। জেসমিন শেখ বললেন,

—-“প্রচন্ড অসভ্য হয়ে গেছো তুমি রুদ্রিক। এখুনি তুমি আমার সাথে যাবে রুদ্রিক। ”

কথাটি বলে-ই’ জেসমিন শেখ একপ্রকার টেনে-হিচড়ে রুদ্রিককে নিয়ে যায়। আফজাল শেখ ও কুঞ্জের ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়। সে বুঝে গিয়েছেন
কুঞ্জকে বুঝিয়ে কিচ্ছু হবেনা।
রুদ্রিক শুধু একপলক তাঁকায় তার ফুপিয়াম্মুর দিকে। কীভাবে ব্যাথায় সে কাতরাচ্ছে। রুদ্রিকের কষ্ট হচ্ছে সে কিচ্ছু করতে পারছে নাহ।

তার পরদিন সবাই যেনো থমকে য়ে যায়। কুঞ্জের ঘরে তার ঝুলন্ত মৃত্যদেহ ঝুলছে।

রুদ্রিক স্তব্ধ হয়ে যায়। সে আসলে বুঝতে পারছে নাহ। তার ফুপিয়াম্মু পৃথিবীতে নেই। কিছু একটা বুঝে রুদ্রিক জোড়ে ‘ফুপিয়াম্মু ‘ বলে চিৎকার করে উঠে।

বর্তমানে…..

ছোট সাহেব বললেন,

—“সেদিন যদি জেসমিন শেখ আমাকে না আটকাতো তাহলে বোধহয় আমার ফুপিয়াম্মু বেঁচে থাকতো। সবথেকে বেশি এই মৃত্যুর পিছনে যার হাত রয়েছে, সে হলো আফজাল শেখ। যাকে আমি সবথেকে বেশি ঘৃণা করি। ”

আমি চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ি। অতীতে শেখ বাড়িতে ঘটে যাওয়া এইসব ভয়ংকর অতীত শুনে যেনো আমি একপ্রকার থমকে গেলাম। চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়লো। আমি ছোটসাহেবের দিয়ে তাঁকালাম। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। চোখ দিয়ে উনারাও নোনাজল গড়িয়ে পড়ছে অনাবরত। কতটা কষ্ট ভিতরে নিয়ে প্রতিনিয়ত উনি নিজের সাথে নিজে লড়া-ই’ করে চলেছেন। কেনো যেনো মনে হচ্ছে এই মৃত্যুর পিছনে রহস্য আছে। যা আমাকে জানতে হবে। কিন্তু আপাতত আমাকে ছোটসাহেবের
মন ভালো করতে হবে।

ছোটসাহেব সামনের দিকে তাঁকিয়ে বললেন,

—“দুনিয়াটা বড্ড কঠিন রে কাজল। কিছু কিছু আর্তনাদ শুধু ঘরের চারদেয়ালের মাঝে-ই” সীমাবদ্ধ থাকে। ”

আমি উনার দিকে এগিয়ে বললাম,

—“ছোটসাহেব আমি কখনো বলবো নাহ আপনার সব দুঃখগুলো ভাগ করে দিন। কেননা দুঃখ শুধু একান্ত নিজের,কিন্তু একটা কথা বলতে পারি
আপনার একাকীত্বের সময় আপনি আমার কাজলকে সবসময় পাবেন। ”

রুদ্রিক মুঁচকি হাঁসি দেয়।

—-“আজকে যেহুতু স্পেশাল দিন। সো এখন এইসব কথা বাদ। আজকে সবকিছু স্পেশাল হবে হুহ। আচ্ছা আপনি তো গিফ্ট দিলেন,এইবার আমার দেওয়ার পালা। ”

—-“কি গিফট? ”
উনার প্রশ্নে ,আমি উনার আরেকটু কাছে গিয়ে উনার শার্টের কলাপ টেনে উনাকে আমি নিজের দিকে টেনে নেই। এতে উনি আমার দিকে ঝুঁকে পড়েন। আমি খানিক্টা লজ্জা নিয়ে-ই’ উনার গালে আলতো করে চুমু খাই।

কাজলের এমন কান্ডে রুদ্রিক যেনো শকড। নিজের করা কান্ডে কাজল লজ্জা পেয়ে চলে যেতে নিলে,রুদ্রিক খপ করে কাজলের হাত ধরে ফেলে।

বাকীটা আগামী পর্বে…

চলবে…..কী?

(আশা করি কিছুটা হলেও অতীত ক্লিয়ার হয়েছে)
(অনেক বড় করে দিছি সবাই কমেন্ত করবেন ওকে 😜)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here