তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য #Nushaiba_Jannat_Arha #পর্ব ১৬

0
402

#তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ১৬

সূদুর বিস্তৃত মাঠে দাঁড়িয়ে আছে আভান। পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে অাধার। আকাশে উঠেছে থালার মতো চাঁদ। আজ পূর্ণিমার রাত। আকাশে অজস্র তারার মেলা। সেই সাথে বয়ে চলেছে মিষ্টি হাওয়া।
একটু পর পর পাশের গাছ গুলোর পাতা নড়ছে।

এতো রাতে আভান আসতে চায় নি এখানে, আরহার জোড়া জুড়িতেই এলো। আরহা আভানের সাথে খোলা মাঠে এসে চন্দ বিলাস করবে। ব্যাপারটা আভানের কাছে কিছুটা বিরক্তই লাগল। তবে তা প্রকাশ করল না সে। এতো রাতে ঘুম ভাঙিয়ে আভানকে নিয়ে এসেছে আরহা চন্দ্র বিলাসের জন্য। ব্যাপারটা নিতান্তই খাপছাড়া বলে মনে হয় আভানের কাছে।

খোলার মাঠ পেয়ে আর মিষ্টি একটা পরিবেশ পেয়ে চারিদিকে দৌড়া দৌড়ি করতে লাগল আরহা আনন্দে। আর এ সবই পকেটে হাত দিয়ে দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল আভান। আরহার এমন পাগলামি দেখে মিটিমিটি হাসছে সে। এবার শান্ত কণ্ঠে আরহার উদ্দেশ্যে বলল

– পড়ে যাবে তো, আস্তে দৌড়াও আরহা।

আভানের কণ্ঠস্বর পেয়ে দৌড় থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল আরহা। তবে কিছু বলল না মুচকি হাসল শুধু। আরহাকে থামতে আরহার কাছে আভান গিয়ে বলল

– হয়েছে চাঁদ দেখা, এবার বাসায় যাওয়া যাক।

– আর একটু থাকি না এখানে, প্লিজ।

– অনেক রাত হয়েছে তো আরহা। বাসায় চলো।

আভানের কথা শুনে মুখ অন্য দিকে ফিরিয়ে গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রইল আরহা। আরহার এমন অবস্থা দেখে বেশ হাসি পেল আভানের। হাসি থামিয়ে বলল

– এতো রাতে খোলা মাঠে থাকা ঠিক না, আরহা। তুমি তো বেলকনিতে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখতে পারতে, শুধু শুধু এখানে আশার কোনো মানেই হয় না।

– খোলা মাঠে চাঁদ দেখার আনন্দই আলাদা। ও আপনি বুঝবেন না। বলেই একটা ভেংচি কাটল আরহা।

আরহার কথার প্রতিত্তোরে আভান গম্ভীর কণ্ঠে বলল

– আচ্ছা দেখো তুমি তোমার খোলা মাঠে চাঁদ দেখ। আমি গেলাম আমার বাসায়। আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।

বলেই হাই তুলতে তুলতে নিজের বাসার দিকে অগ্রসর হলো আভান। পেছন থেকে আরহা অনেক বার ডাকল কিন্তু ফিরেও তাকাল আরহার দিকে। এবার আরহা অনেক জোরে চিৎকার করে ডাক দিল আভানকে।

– আভাননননননন।

পা থেমে গেল আভানের হঠাৎ আরহার চিৎকার শুনে। অজানা আশঙ্কায় পিছন ফিরে তাকাল সে। আরহাকে কেউ একজন টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে কোথাও। আরহা তাই চিৎকার করে আভানকে ডেকেই যাচ্ছে। আভান দৌড়ে গেল আরহার কাছে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ধরতে পারল না আরহাকে। আরহা যে ধরা ছোয়ার বাইরে। সমানে দৌড়ে চলেছে আভান কিন্তু পথ শেষই হচ্ছে না। পথ যেন আরও প্রশস্ত হচ্ছে। আর আরহা দূরে সরে যাচ্ছে। হঠাৎই চোখের পলকে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল আরহা। আরহাকে দেখতে না পেয়ে আভান আরহার নাম ধরে চিৎকার করে ডাকতে লাগল। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। চারিদিকে থমথমে পরিবেশ বিরাজমান। শুধু আভানের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। এখনো ডেকেই চলেছে, কিন্তু ওর ছায়াও আর দেখা গেল না।

– আরহাআআআআআ
.
.
.
ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল আভান। চারপাশ তাকিয়ে দেখল, না সবকিছু ঠিকঠাকই আছে। যেখানে সে বসেছিল সেখানেই আছে। তার মানে আভান এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল। এটা নিতান্তই একটা স্বপ্ন ছিল তার মানে, স্বপ্ন বললে ভুল হবে, দুঃস্বপ্ন। ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলতে লাগল সে। তখন অারহা আর আভানের অতীতের স্মৃতি ভাবতে ভাবতে চোখটা একটু লেগে এসেছিল। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল তা সে নিজেও জানে না। বুকটা এখনো ধুকপুক করছে। আরহাকে কেউ আভানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এটা স্বপ্ন হলেও আভানের কাছে তা স্বপ্ন নয়, বাস্তবই মনে হচ্ছে। সব সময়ই আরহাকে হারানোর ভয়টা মনের মাঝে থেকেই যায়। তাই তো আজ সকালে ঐ ছেলেটার সাথে কথা বলতে দেখে এতো টা রেগে গিয়েছিল আভান। একটুর জন্য মনে হচ্ছিল আরহা আর আভানের নেই। এটা ভাবতেই বুকটা মোচর দিয়ে উঠল আভানের।

তারপরও অনেকটা আশঙ্কা নিয়ে বেলকনি থেকে উকি দিলো আরহার কেবিনে। না আরহা ঠিকঠাক আছে। আগের মতো ঘুমিয়ে আছে। চেয়ার থেকে উঠে বেলকনি থেকে বেরিয়ে অগ্রসর হলো আরহার কেবিনের দিকে। আরহাকে ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেই দেখতে পেল হাতের অসংখ্য জায়গায় রক্ত জমাট বেধে আছে, ফর্সা গালটা এখন লাল হয়ে আছে, হাতের পাঁচ আঙ্গুলের দাগ এমন ভাবে বসে গেছে যে বলার বাইরে। এসব কিছুর জন্য আভান দায়ী। শুধুই আভান।

এসব ভাবতে গিয়ে আর আরহার এমন অবস্থা দেখে তার নেত্রপল্লব বেয়ে গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোটা অশ্রু। রাগ হলে যে তার মাথা ঠিক থাকে না। কেন যে পারে না নিজের রাগ টাকে কন্ট্রোল করতে পারে না তা সে নিজেও জানে না। রাগ হলে যে রাগের মাথায় কি করতে কি করে বসে পরে যেয়ে মনে পড়লে তা অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না তার। কই ছোটবেলায় তো সে এমন ছিল না বেশ শান্ত একটা বাচ্চা ছিল সে। সবাই তাকে কতো ভালোবাসত। কিন্তু বাবা মা মারা যাবার পর সময়ের সাথে সাথে তার জীবন অনেকটাই পাল্টে গেল। ধীরে ধীরে সে প্রচণ্ড বদমেজাজি, বদরাগী আর জেদিতে পরিণত হলো একা একা থাকার কারণে। তখন সময়টায় তাকে একাকিত্ব গ্রাস করে ফেলেছিল।

এ কষ্টের কথা কাকে বোঝাবে সে। যখন কাউকে নিজের মনে কথাটা একটু হলেও কিঞ্চিৎ পরিমাণ বলেছিল তার ভালোবাসার মানুষটিকে। আভানের পাথর হ্রদয়ে যখন সেই মানুষটি ভালোবাসার ফুল ফুটিয়েছিল, সে মানুষটি আর কেউ নয় সে আরহা। আর তখনই একটা তুফান এসে তাদের জীবনের সমস্ত কিছু ওলোট পালোট করে দিল। আরহার ভুল থাকলেও এখানে আভানের দোষটাই বেশি। তার উচিত হয়নি ভালোবাসার মানুষটিকে এমন ভাবে মারার। এসব ভাবছিল আভান আর তার নিজের প্রতি ঘেন্নাটা বেড়িয়েই চলল।

আরহার কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল আভান। আরহার ক্ষত স্থানে মলম লাগিয়ে দিল পরম যত্নে। ক্ষত স্থানে মলম লাগাতে গিয়ে ঘুমের মধ্যে বাড়ে বাড়ে কেপে উঠছিল আরহা। এতে আভানের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। বুকটা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল তার। মলমটা আরহার হাতে লাগানো শেষ হলেই উঠে চলে গেল সে। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল।

– I am so sorry. I promise you, my dear aru pakhi, আমি আর কোনো দিনও তোমার সাথে এমন করবো না। অনেক কষ্ট দিয়েছি তাই না, তোমায় আরহা। Sorry, I am so sorry. আমি তো ইচ্ছে করে করিনি এমন, রাগ হলে যে আমি আমার মাথা ঠিক রাখতে পারি না। হাজার চেষ্টা করলেও নিজের রাগ টাকে কন্ট্রোল করতে পারি না আমি। সব সময় তোমাকে হারানোর একটা ভয় থেকেই যায় আমার মাঝে, তাই তো আমি এতো রিয়াক্ট করি। সমস্যা নেই আমি আর এমন ভুল কোনো দিনও করবো না তোমার সাথে, I promise you, Arha.

কথাটা আভান কান্না ভেজা কণ্ঠে মনে মনে বলল। চলে যাচ্ছিল এমন আভানের ফোনটা বেজে ওঠায় দাঁড়িয়ে পড়ল সে। পকেট থেকে ফোনটা বের করেই স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই চিন্তায় পড়ে গেল আভান। সে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। ফোনটা কি ধরবে না কি ধরবে না। আদোও কি ঠিক হবে ফোনটা রিসিভ করা এই মুহূর্তে ….

#চলবে ~

গতকাল অনেক ব্যস্ততম একটা দিন ছিল তাই গল্প দিতে পারিনি। গল্পটা কেমন লাগল জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here