তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য #Nushaiba_Jannat_Arha #পর্ব ২৩

0
374

#তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ২৩

গোল্ডেন শেরওয়ানিতে বুকের মাঝে হাত গুজে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরহার দিকে। এই ভাবে বর রূপে এতো সামনে থাকা ব্যক্তিটিকে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল আরহা। সে বুঝতে পারছে না এখন এ মুহূর্তে তার কি করা উচিত। সামনে থাকা ব্যক্তিটি আর কেউ-ই নয় সে হলো আভান।

কিছুটা অবাকের সুরে আরহা আভানকে উদ্দেশ্য করে বলল

– আপনি এখানে এতো রাতে এলেন কিভাবে? আর এমন সাজেই বা কেন?

আরহার কথাতে বাকা হাসল আভান। আর এগিয়ে আসতে লাগল আরহার দিকে। আরহার কাছে এসে ওর হাত ধরতেই তা ঝারি দিয়ে সরিয়ে নিয়ে বলল

– সরে যান বলছি এখান থেকে। লজ্জা করে না আপনার অন্যের বউ কে স্পর্শ করতে। নির্লজ্জ, বেহায়া কোথাকার।

– হুম অন্যের বউ ( কথাটা বিদ্রুপ করে বলল আভান)

কিছুক্ষণ পর বলল

– আভান চৌধুরীর বউ তুমি।

– কিহ্ কিসব যা তা বলছেন কি আপনি?

– যা তা না ঠিকই বলছি আমি।

– আপনি যা বলছেন সব মিথ্যে। আমি এক বিন্দুও বিশ্বাস করি না আপনাকে।

– আচ্ছা এই নেও কাবিন, স্পষ্ট জলজল করছে আমার আর তোমার নাম।

আভানের হাত দিয়ে কাবিনটা ছো মেরে নিয়ে দেখল আভান ঠিকই বলেছে, সত্যিই এখানে আরহা আর আভানের নাম স্পষ্ট জলজল করছে। তার মানে একটু আগে যার সাথে বিয়ে হয়েছে সে আভানই। এটা ভেবেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল আরহার। সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

আরহার অবস্থা বুঝতে পেরে আভান ঠাট্টার ছলে বলল

– আরহা, তুমি বোকা সেটা জানি। তাই বলে এতোটা বোকা আগে জানতাম না। সাইন করার সময় তো নামটা দেখবে, তারপর কথা বললাম, কণ্ঠস্বর পেয়ে তো বোঝা উচিত ছিল আমি কে। এতোদিন ধরে চিনো আমায়। তাও বুঝলে না। তুমি অনেক বোকা, তুমি কোনো কিছুই বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করো না। যে যা বলে তা-ই বিশ্বাস করো। সব সময় আমরা চোখের সামনে যা দেখি তা সত্যি না-ও হতে পারে, তার পিছনে কঠিন সত্য লুকিয়ে থাকতে পারে, যেটা আমার বিচার, বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করে নিতে হয়। আশা করি তুমি বুঝতে পেরেছো,আমি কি বলতে চেয়েছি।

আভানের একটা কথাও সহ্য হচ্ছে না আরহার। ভীষণ রাগ হচ্ছে আভানের উপর। রাগান্বিত সুরে বলল

– আপনি একটা ঠকবাজ। আপনি ঠকিয়েছেন আমায়। সবকিছু প্লান মাফিক করেই আমায় বিয়ে করেছেন আমায়। আর তখন আপনিই ফোন দিয়েছিলেন আমায় তাই না?

– হুম

– লজ্জা করে না আপনার অসভ্য কোথাকার। আপনি সরে যান আমার সামনে থেকে। আমি মানি না এই বিয়ে।

– তুমি মানা আর না মানাতে আমার কিছু যায় আসে না, আমি মানি এটাই আসল। আর সবকিছু মেনেই এ বিয়েটা হয়েছে, সবাই সাক্ষীও সো বিয়েটা হয়েছে এণ্ড আজ থেকে তুমি আমার বউ।

– কিসের বউ কার বউ, আমি কারও বউ নই। বললাম না আমি মানি না এ বিয়ে।

– মানতে হবে না এ বিয়ে এখন যাও গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। অনেক বকবক করেছো তুমি। তুমিও ঘুমাও, আমাকেও ঘুমাতে দাও।

– আমি এখন আমার বাসায় যাব। এখানে আর এক মুহূর্তও থাকব না। এতোদিন কাওকে কিছু না বললেও আজ সবাইকে সব বলব, ফাঁস করে দিব আপনার আসল চেহারা।

বলেই আরহা চলে যেতে নিলে শক্ত করে চেপে ধরে আরহার হাত। আরহা হাত ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে দাতে দাত চেপে বলল

– ছাড়ুন বলছি আমার হাতটা।

– ছাড়বো না, কি করবে তুমি।

বলেই এক টানে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল আরহাকে। আরহার বেশ অনেকটা কাছে ঝুকে গিয়ে বলল

– এতোক্ষণ অনেক কিছু শুনেছি আর নয়, এখন আমি বলব তুমি শুনবে। তুমি যদি কাওকে কিছু বলেছো কি করব আমি মনে আছে তো? সো আমাদের মধ্যকার কোনো কথা কাওকে বলবে না। আমি জানতে পারলে কিন্তু খবর আছে, বলে দিলাম।

– বলে দিলে কি করবেন কি আপনি?

– এতো দিনে ভুলে গিয়েছো তাইনা? আমি তোমার আপন জনদের মেরে ফেলতে দুবারও ভাববো না।

আরহা ভয়ে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল

– প্লিজ এমনটা করবেন না আভান, আপনি আমায় মারুন, কিন্তু আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি করবেন না। আর আমি কাওকে কিছু বলব না।

– মারার জন্য তো তোমায় বিয়ে করিনি আমি, ভালোবাসি বলেই তো নিজের করে নিলাম।

কথাগুলো বলতে বলতে আরহার গাল বেয়ে পড়া চোখের পানিগুলো যত্ন সহকারে মুছে দিল নিজের হাত দিয়ে। আরহার ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আভানের দিকে। মুখ ফুটে সে কিছু বলল না।

এবার বলল যাও ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আজ সারাদিন অনেক ধকল গিয়েছে।

– কিন্তু আমি কোথায় ঘুমাবো?

– এ আবার কেমন প্রশ্ন, বিছানায় ঘুমাবে।

– আপনার সাথে?

– হুম আমার সাথে, আমার বউ বলে কথা। ( দুষ্টু হেসে বলল কথাটা আভান)

– না, না আমি থাকব না এখানে।

– আরেহ্ ফান করেছি আমি, এতো হাইপার হতে হবে না তোমায়। যতদিন না তুমি মেনে নিচ্ছো আমায় তুমি বিছানায় ঘুমাও, আমি না হয় সোফায় ঘুমাবো।

আভানের কথার প্রতিত্তোরে কোনো কথা বলল না আরহা। তবে ও জেনো হাফ ছেড়ে বাঁচল এতোক্ষণ বেশ চিন্তায় ছিল সে।

ফ্রেশ হয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়ল আরহা।

এদিকে আভান এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আরহার দিকে। কিছুক্ষণ পর চোখ ফিরিয়ে নিয়ে মুচকি হাসল সে। ঘুমন্ত অবস্থায় আরহাকে কি নিষ্পাপটাই না লাগে। বড্ড বেশি মায়াবী লাগে ওকে দেখতে তখন। আরহা যে আভানের মায়াবতী। আর কিছু না ভেবে বেলকনিতে চলে গেল সে। আজ আভানের মনটা বেশ ফুরফুরে, অবশেষে পরিকল্পনা মাফিক সব সম্পন্ন হলো আজ।

—————–

গভীর রাত ৩ টা বেজে ১৫ মিনিট,

এমন সময় স্বশব্দে কোনো কিছু পড়ে ভেঙে যাওয়ার আওয়াজে কাচা ঘুমটা ভেঙে গেল আরহার। ধরফরিয়ে উঠে বসল সে। ঘুমের রেশ এখনও কাটেনি ওর। হাই তুলতে তুলতে এদিক সেদিক খুজছে কি হয়েছে তা দেখার জন্য। আর তখনই দেখতে পেল আভান দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে রুম দিয়ে। এতো রাতে আভানকে এভাবে হন্তদন্ত হয়ে বের হতে দেখে বেশ অবাক হলো আরহা। অবাক হয়ে পিছন দিয়ে ডাক দিয়ে বলল

– আভান কোথায় যাচ্ছেন আপনি? কিছু কি হয়েছে?

আভান চলে যাচ্ছিল এমন সময় পেছন দিয়ে আরহা ডাক দেওয়ায় থমকে দাড়ালো সে। আরহা উঠে গেছে তার মানে। এখন আরহাকে কোনো কিছু বলা যাবে না। তাহলে ও চিন্তা করবে। তাই শান্ত কণ্ঠে আরহার দিকে ফিরে বলল

– কিছু হয় নি আরহা তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। আমি খুব শীঘ্রই আসছি।

বলেই আরহাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল আভান। আরহা হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইল আভানের চলে যাওয়ার দিকে। সে বুঝতে পারছে না কি হয়েছে এই আভানের।

এতো রাতে আভান কোথায় যাচ্ছে? আর কেনই বা যাচ্ছে? কেন জানি না আভান কিছু একটা লুকাচ্ছে আরহার কাছ থেকে।
যতদূর বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু আসলে কি হয়েছে…..

#চলবে ~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here