তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য #Nushaiba_Jannat_Arha #পর্ব ২৯ + ৩০ [অন্তিম পাতায়]

0
815

#তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ২৯ + ৩০ [অন্তিম পাতায়]

সকাল হতেই রোদ্দুরের আলো এসে আছড়ে পড়ল আরহার মুখশ্রীতে। ঘুম ভেঙে গেল ওর। চোখ পিটপিট করে মেলতেই অনুভব করতে পারল কারও বাহুডোরে আবদ্ধ সে। ব্যক্তিটি আর কেউ নয় সে আভান। আভানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে আরহা। আভান পরম আবেশে জড়িয়ে আছে আরহাকে। হ্যাঁ এটাই আরহার জন্য এখন সবচেয়ে নিরাপদ স্থান যেথায় থাকলে আরহার কোনো বিপদ হবে না।

আভান এখনো ঘুমিয়েই আছে। আরহা নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে আছে আভানের ঘুমন্ত মুখশ্রীর দিকে। কি নিষ্পাপটাই না লাগে ঘুমালে আভানকে।

হঠাৎ কাল রাতের কথা মনে পড়ে গেল আরহার…..

– তুমি হলে আমার….

আভানের উত্তরের অপেক্ষায় উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় আরহা। আভান এটা বলে থেমে আবার বলল

– তুমি হলো আমার, কেউ-ই হও না তুমি আমার। আর অভাব পুরণ করা তো দূরের কথা।

আভানের এ কথা শুনে এবার আরহা কান্নাই করে দিল। কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে বলল

– এসব কি আভান, তার মানে আপনার মনে কোনো জায়গা নেই আমার জন্য?

– জানি না আমার মনে আছে কি না কোনো জায়গা, তবে তোমার মনে যে আমায় নিয়ে কোনো জায়গা নেই তা আমি ভালো করেই জানি।

– আপনি কোনো দিন বুঝবেন না আমায়। আমি যে আপনাকে আমার থেকেও বেশি ভা….

বলতে গিয়েও থেমে গেল আরহা। আভান প্রশ্ন বিদ্ধ চাহনিতে তাকিয়ে আছে আরহার দিকে। সে বলল

– কি আমাকে কি আরেকবার বলো তো।

– কিছু না।

বলেই চলে যেতে নিল আরহা আর তখনই পেছন দিক দিয়ে হ্যাচকা টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল আরহাকে। আদুরে কণ্ঠে বলল

– আমি জানি তুমি কি বলতে চেয়েছো, তুমি আমায় ভালোবাসো তাই তো?

আরহা প্রতিত্তোরে কিছু বলল না। লজ্জায় নিজের মুখ লুকালো আভানের বুকে। আভান তা বুঝতে পেরে মুচকি হাসল। আরহা এবার হালকা ধাক্কা দিয়ে আভানকে সরিয়ে কিছুটা রাগ নিয়ে বলল

– হ্যাঁ হ্যাঁ ভালোবাসি আপনাকে, অনেক ভালোবাসি। কিন্তু আপনি তা বুঝেন না। পেয়েছেন এবার আপনি আপনার উত্তর।

– আহারে বেচারির কি কষ্ট, তো বুঝতে হলে আমায় কি করতে হবে শুনি?

– কিছুই করতে হবে না, ছাড়ুন আমায়, আমায় ঘুমাতে দিন।

আরহা ছাড়তে বললে আভান আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আরহাকে। আভান গম্ভীর কণ্ঠে বলল

– এই শোনে, আমি কি তোমার পর নাকি আপন? সত্যি করো বলবা।

– পর বলেই তো আমি আপনাকে ছেড়ে যাইনি এতোকিছুর পরও। কিন্তু আপনি আমাকে পর ভাবেন তা আপনার কথা শুনলেই বুঝি আমি।

– তুমি ভাবলে কি করে আমি তোমায় পর ভাবি? পর বলেই তো এতো কাঠ খড় পুড়িয়ে বিয়েটা করলাম আমি তোমায়। আর আমি তো পরই এজন্য আমাকে এখনও আপনি করে ডাকো।

– কিন্তু আপনি…

ঝাড়ি দিয়ে থামিয়ে দিল আরহাকে। আরহা ভয়ে কেপে উঠল। রাগান্বিত সুরে বলল

– এই মেয়ে তুমি আমাকে আপনি করে ডাকো কেন? তুমি করে বলবা, বুঝচ্ছো?

– আমার লজ্জা লাগে আপনাকে তুমি করে ডাকতে।

– এতে লজ্জার কি আছে। তুমি করে ডাকো আমায়।

– আচ্ছা ঠিক আছে পরে ডাকবো।

– পরে নয় এক্ষুনি ডাকবে তুমি আমায়।

লম্বা লম্বা কয়েকটা শ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করে আরহা বলল

– আচ্ছা তুমি।

– আচ্ছা তুমি কি বলো কি বলবে?

– আচ্ছা চলুন ঘুমিয়ে পড়ি।

– আবার

– সরি, চলো ঘুমাই।

– আজ তো তোমাকে ঘুমাতে দিব না আরুপাখি।

– কিন্তু কেন?

– এতোদিন আমায় অনেক কষ্ট দিয়েছো তুমি, দূরে সরিয়ে দিয়েছো। কিন্তু আজকের পর থেকে তুমি চাইলেও আমার থেকে দূরে যেতে পারবে না। আমি যেতে দিব না তোমায়, কোথাও যেতে দিব না। আজ তোমাকে আমার আপন করে নিবো। আমি প্রতিশোধ নিবো এর।

– কিসের প্রতিশোধ নিবেন? আমি কি করেছি?

– আবার আপনি?

– সরি, ভুল হয়ে যায়, কিসের প্রতিশোধ নিবা?

আরহাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আরহাকে আভান জড়িয়ে নিল পরম আবেশে। কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলল

– তুমি জানতে চেয়েছিলে না, তুমি আমার কি হও, তুমি আমার জানপাখি হও। তুমি যে ঠিক আমার কাছে কি তা আমি নিজেও জানি না। যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আর তুমি আমার মনের ক্ষত এবং শূন্যতা দূর করার একমাত্র ওষুধ। কারণ #তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য

আভানের কথা শুনে আরহা মুচকি হেসে আভানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আরহা আর আভানের মাঝে কোন প্রকার ভুল বোঝাবুঝি থাকল না। তাদের মধ্যে সবকিছু মিটে গেল। এমন একরাজ্যে তারা পাড়ি জমিয়েছে যেথায় শুধু আভান আর আরহা ছাড়া কেউ নেই। নেই কোনো ঝামেলা, নেই কোনো অশান্তি।

এসব ভাবতে ভাবতেই মুখে মুচকি হাসির রেখা ফুটে উঠল আরহার। ঘুমন্ত আভানের কপালে ছোট করে ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দিল আরহা।

চোখ বন্ধ করেই আভান বলল

– ওহে বালিকা আমি জানি আমি অনেক সুন্দর তাই বলে এভাবে তাকিয়ে থাকবে? তবে যা-ই বলো না কেন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই আমি সারপ্রাইজড্, তোমার মিষ্টিটা কিন্তু জোস ছিল।

আভানের এ কথা শুনে লজ্জায় লাল নীল বেগুনি বর্ণ ধারণ করল আরহা। উঠতে যাবে তখনই টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বলল

– আমায় ছেরে কোথায় যাচ্ছো আরুপাখি?

– ফ্রেশ হতে যাচ্ছি,

– আরেকটু পর গেলে হয় না?

– ক’টা বাজে খেয়াল আছে কোনো? সকাল ১০ টা বাজতে চলল, ছাড়ো বলছি।

আভানের হাত আলগা হতেই আরহা দৌড় দিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে ভেংচি কাটল আভানকে। আভান হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে লাগল।

এভাবেই চলছিল আরহা আর আভানের মাঝে দুষ্ট মিষ্টি সম্পর্ক। সুখে শান্তিতে মিলেমিশে।

——————-

হেসে খেলে দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। এই একটি বছরে সব বদলালেও বদলায়নি আরহা আর আভানের ভালোবাসা। ভালোবাসাটা আগের মতোই আছে ওদের।

– আভান টিফিন বক্সটা তো নিয়ে যাও।

– ও হ্যাঁ ভুলেই গিয়েছিলাম। তবে সমস্যা নেই মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আমার আরুপাখি তো আছে।

প্রতিত্তোরে মিষ্টি হেসে আরহা বলল

– সাবধানে যেও।

– আচ্ছা মহারানি।

সকাল সকাল শাশুড়ীর সাথে বসে নাস্তা বানিয়ে আভানকে আর শশুর মশায়কে দিল, তারা অফিস যাবে তাই। আভান টিফিন নিতে ভুলে গিয়েছিল তাই আরহা পেছন দিক দিয়ে ডাক দিয়ে আভানকে বলল উপরোক্ত কথাটি।

গত দুদিন যাবত আরহার শরীরটা খুব খারাপ। আজ সকাল থেকে আরও বেশি খারাপ লাগছে ওর। তবে কাওকে কিছু বলল না ও। এসব দিকে মাথা না ঘামিয়ে কাজে মনোনিবেশ করল ও। শাশুড়ির সাথে থেকে রান্নাবান্না করছিল আরহা। রান্না প্রায় শেষের পথে। এতোদিনে বেশ ভালোই রান্না শিখে গিয়েছে আরহা। ও বেশ ভালো রান্নাও করতে পারে। রান্না শেষ করতে করতে দুপুর হয়ে গেল। রান্না শেষে নিজের রুমে যাবে আরহা, এমন সময় ওর মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল।

আভান অফিস থেকে বাসায় এসেছিল জরুরি একটা ফাইল ভুলে রেখে গিয়েছে বলে, যখনই ফাইলটা নিয়ে আবার অফিসের উদ্দেশ্যে যাবে তখনই দেখল আরহা পড়ে যাবে এমন ভাব, দ্রুত গিয়ে আরহা পড়ে যেতে নিলেই ধরে ফেলল আভান। ইতোমধ্যে আরহা জ্ঞান হারিয়েছে।
.
.
.

আনন্দের বন্যা হয়ে যাচ্ছে, যেন উৎসবের আমেজ লেগেছে। সবাই আনন্দিত হলেও সব থেকে বেশি খুশি আভান। প্রথমবারের মতো বাবা হতে যাচ্ছে সে। আরহা ওর বিছানায় শুয়ে আছে। পাশেই আরহার হাত ধরে বসে আছে আভান। ওদের রুম ভর্তি লোকজন।

আরহা জ্ঞান হারাতেই আভান কোলে করে আরহাকে নিয়ে এসে বিছানায় শুইয়ে দেয়। তারপর ডক্টরকে কল করে, আধ ঘণ্টার ব্যবধানে চলে আসে ডক্টর। তারপর তিনি চেকআপ করে খুশির খবরটা জানালেন যে আরহা মা হতে চলেছে।

পিটপিট করে চোখ মেলতেই রুমের মাঝে এতো লোকজন দেখে ঘাবড়ে গেল সে। পাশে আভানকে দেখে বলল

– আমার হাত ধরে বসে আছো কেন আভান? আর আমি এভাবে শুয়ে আছি কেন, কি হয়েছে আমার? ঘরে এতো লোকজনই বা কেন?

– আ আরহা আ আমি বাবা হতে চলেছি, আর তুমি মা। এতো বড় একটা উপহার দিলে তুমি আমায়। সত্যিই আমি আজ খুবই খুশি।

আভানের মুখ থেকে এমন কথা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না আরহা। একথা শুনে এক মুহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো সে। পরে বোধগম্য হতেই চোখের পানি ছেড়ে দিল আরহা। কাদতে কাদতে বলল

– কি বলছো কি আভান, সত্যি বলছো তুমি?

– হ্যাঁ হ্যাঁ সত্যি সত্যি বলেছি আমি।

দিন যায় মাস যায় আরহা আগের তুলনায় ভারী হয়ে যায়, আভান এখন আর অফিস যায় না। সব দিকটা আভানের খালু সামলে নিয়েছেন। আভান এখন সবসময় আরহার সাথেই থাকে। আরহাকে কখনো একা ছাড়ে না আর কোনো কাজও করতে দেয়না। এভাবে দেখতে দেখতে কেটে গেল নয়টি মাস।

রাত থেকেই পেটে চিনচিন ব্যথা অনুভুত হয় আরহার। আরহা প্রথমে তেম গুরুত্ব না দিলেও ব্যথা আরও তীব্র হতে লাগলেই আরহা আর দেরি না করে আভানকে ডাকতে লাগে।

– আভান এই আভান, উঠো, আমার না পেটে চিনচিন ব্যথা করছে।

আরহার কথা শুনে ধরফরিয়ে ওঠে আভান। আরহার গালে হাত রেখে ওর হাত মালিশ করতে করতে বলে

– কি হয়েছে খারাপ লাগছে, কোথায় কষ্ট হচ্ছে আমায় বলো।

– আমার পেটে চিনচিন ব্যথা করছে। আমি সহ্য করতে পারছি না।

আভান সাত পাঁচ না ভেবে দ্রুত কল করল এম্বুলেন্স। আর মামনিকে ডাকতে লাগল চিৎকার করে।

ইতোমধ্যে বাড়ির সবাই চলে এলেন। এম্বুলেন্স চলে আসতেই দ্রুত আরহাকে কোলে নিয়ে এম্বুলেন্সে করে রওয়ানা দিল হসপিটালের উদ্দেশ্যে।

আরহাকে যখন ওটিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন আরহার দুচোখ বেয়ে অনবরত গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু জল। কাঁদতে কাঁদতে আভানের হাত ধরে বলল

– আমার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আমায় মাফ করে দিও আভান। আমি আর এই পৃথিবীর আলো হয়তো দেখতে পাবো না। যদি মরে যাই মাফ করে দিও।

আরহা আরও কিছু বলতে যাবে আভান ঝাড়ি দিয়ে থামিয়ে দিল আরহাকে। রাগান্বিত সুরে বলল

– মাইর চিনো মেয়ে মাইর। মুখ দিয়ে যদি আর এ ধরনের অলক্ষুণে কথা বলেছো তাহলে সবার সামনে কষিয়ে একটা থাপ্পর দিবো আমি। তুমি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ। তুমি আমায় ছেড়ে যেতে পারো না আরুপাখি।

আরহা কান্নার জন্য কোনো কথা বলতে পারল না। ওর চোখ বেয়ে অনবরত অশ্রুপাত ঘটছে। শেষ বারের মতো অশ্রু সিক্ত নয়নে তাকিয়ে রইল আভানের দিকে এক দৃষ্টিতে। তারপর আরহাকে নিয়ে ওটিতে গেল ডক্টররা।

প্রায় দু’ঘন্টা যাবত আরহাকে ওটিতে নেওয়া হয়েছে। এখনো কেউ কিছু জানায়নি। এদিকে আভান টেনশনে শেষ। আভান কিছু না চলে গেল নামাজ পড়তে। হ্যাঁ আজ এই প্রথম আল্লাহর দরবারে হাত তুলতে যাচ্ছে আভান তার আরুপাখির জন্য। নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে দু হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত ধরল আভান। কাদতে কাদতে সে বলল

– হে আল্লাহ আমি জানি আমি পাপী বান্দা। আর আমি এটাও জানি তুমি ক্ষমাশীল। তুমি আমায় মাফ করে দাও, হে আল্লাহ্। আমার অনাগত সন্তান আর আমার আরহাকে সুস্থ রেখো, হে আল্লাহ। ছোটবেলায় মা বাবাকে হারিয়েছি, মা বাবার ভালোবাসা কি জিনিস আমি জানতাম না, আমার সন্তানকে তুমি এতিম বানিয়ে দিওনা। হে আল্লাহ ওকে তুমি সুস্থতা দান করো, ও আর আমার অনাগত সন্তান যেন সুস্থ থাকে, হে আল্লাহ।

এটুকু বলতে বলতেই চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে আভানের। হঠাৎই বাচ্চার কান্নার আওয়াজে তড়িঘড়ি করে চোখের পানি মুছে দ্রুত উঠে দৌড়ে গেল আরহার কেবিনের সামনে।

নার্স বাচ্চাটিকে হাতে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে ওটি থেকে। আভান আসতেই নার্সটি বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে এসে বলল

– congratulations, sir. আপনার ছেলে হয়েছে।

আভান তাকিয়ে দেখল আভান আর আরহার ছেলেটা দেখতে হুবহু আভানের মতোই হয়েছে। যেন একদম রাজপুত্রের ন্যায়। আভানের ওদের ছেলেকে দেখে মুচকি হাসল। নার্সকে উদ্দেশ্য করে বলল

– আমার আরহার কি অবস্থা?

– ম্যাম ভালই আছেন, এখন ওনি রেস্ট নিচ্ছেন।

নার্সকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত কেবিনে চলে গেল আভান। গিয়ে দেখল চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে আরহা। চোখে মুখে তার ক্লান্তির ছাপ। আরহার পাশে গিয়ে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল আভান। হাত বুলাতেই আস্তে করে চোখ মেলে তাকাল আরহা। আভানকে দেখে দূর্বল কণ্ঠে বলল

– আভান, আমাদের বাচ্চা, ও কোথায়?

ততক্ষণে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে প্রবেশ করল নার্স। তিনি আরহার কাছে এসে মুচকি হেসে বলল

– এই নিন ম্যাম, আপনাদের বেবি। ছেলে হয়েছে আপনাদের।

নার্স বাচ্চাটাকে এগিয়ে দিল আরহার কাছে। আরহা পরম যত্নে কোলে নিল তার ছেলেকে। কোলে নিয়ে আদর করতে লাগল। এবার আভানকে বলল

– দেখেছো আভান, আমি বলেছিলাম না আমাদের সন্তান তোমার মতোই হবে। ও একদম তোমার মতো হয়েছে। একদম রাজপুত্র।

– হুম মায়ের মতো না হয়ে বাবার মতো হয়েছে। আমার আর আমার কুইনির লিটিল প্রিন্স।

আভানের কথা শুনে আরহা ফিক করে হেসে দিয়ে বলল

– তো বাচ্চার বাবা কি নাম রাখবে আমাদের ছেলের?

আরহার কথা শুনে আভান অনেক ভেবে চিন্তে বলল

– আমার আর তোমার নাম মিলিয়ে আমাদের ছেলের নাম রাখলাম ‘আরভান চৌধুরী’।

আরহারও বেশ পছন্দ হলো নামটা।

সবার মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে, তাদের একমাত্র নাতিকে পেয়ে। আরহা আর আভানও বেশ খুশি।

————————-

তিন বছর পর…….

দেখতে দেখতে জীবন থেকে কেটে গেল তিন তিনটি বসন্ত। এই তিন বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। কিন্তু বদলায়নি আরহার প্রতি আভানের ভালোবাসা। দিনকে দিন বেড়েই চলেছে ওদের মধ্যকার ভালোবাসা। ওরা এখন একে অপরকে ছাড়া অচল।

এদিকে ইমিরও বিয়ে হয়ে গেছে বছর দুয়েক হতে চলল। ইমির বিয়ে হয়েছে আরহার ভাই ইহসানের সাথে। আরহাদের বাড়িতে যাওয়া আসা সেই থেকে প্রেম তা থেকেই রুপ নিল ভালোবাসার। আর তারপরই বিয়ে। ইমি আর ইহসানের ভেতর যে কিছু চলছিল তা আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল আরহা। আর তারপরই আভান আর আরহা মিলে দুই পরিবারকে বলে ওদের বিয়ে করিয়ে দেয়। পূর্ণতা পেল ওদের ভালোবাসার। ইমি আর ইহসানের একটা ছয় মাসের মেয়েও আছে। ওরাও অনেক সুখে শান্তিতে রয়েছে।

বাকি রইল আরিশা, আরিশার বিয়ে হয়েছে গতবছর। আভানেরই বেষ্ট ফ্রেন্ড ফারহানের সাথে। ওরাও দুজন দুজনকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছে। এখন ওরা সুখেই রয়েছে।
.
.
.
বহুদিন পর আজ বেলকনির ডিভানে বসে আভানের কাধে মাথা রেখে চন্দ্রবিলাস করছে আরহা। ফুরফুরে বাতাস, আকাশে অসংখ্য তারার মেলা আর ইয়াব্বড় থালার মতো একটা চাঁদ। সব মিলিয়ে পরিবেশটা মাতিয়ে তুলেছে। এতো মন মুগ্ধকর পরিবেশ দেখতে কার না ভালো লাগে, তাও যদি হয় মনের মানুষটার সাথে তাহলে তো কোনো কথাই নেই।

বাতাসের কারণে বারবার আরহার খোলা চুলগুলো আছড়ে পড়ছে আরহার মুখে। আরহা অসহ্য হয়ে চুল বাধতে নিলেই আভান বলল

– চুল বাধতে হবে না। খোলা চুলেই তোমাকে ভালো লাগে।

– কিন্তু মুখের উপর যে চুল পড়ছে।

আভান পরম যত্নে সামনে থাকা আরহার চুলগুলো কানের পিছনে গুজে দিল।

– এবার ঠিক আছে। আচ্ছা আরহা আমায় ছাড়া থাকতে কি তোমার কষ্ট হবে?

– কেন কই যাবা তুমি?

– কই আর যাবো তোমায় ছাড়া আমার নিজেকে কেমন শূন্য শূন্য লাগে। আমি তুমি ছাড়া অচল। কিন্তু তুমি বলো তুমি আমায় ছেড়ে যাবে না তো কোথাও?

– আমি তোমার এক বাচ্চার মা আভান। তুমি কিভাবে বলতে পারলা এই কথা। আমি কেন যাবো আর কই যাবো তোমায় ছাড়া। তুমি ছাড়া আমিও যে নিজেকে শূন্য শূন্য অনুভব করি। নিজের অস্তিত্ব কে ভুলে যাই। কারণ #তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য।

আভান মুচকি হেসে বলল

– বাহ্ আমার ডায়লগ আমাকেই দিচ্ছো। খুব সুন্দর তো আরুপাখি।

আরহাও হাসল। আজ নিজেদের মনের কথাটা একে অপরকে বলতে পেরে তারা ভীষণ খুশি।

বাতাসে অনবরত উড়ে চলেছে আরহার চুলগুলো। আর সেদিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রয়ে দেখছে তার প্রেয়সীকে আভান। এ দেখা যে কখনোই শেষ হওয়ার নয়। এ যে এক জনম ধরে দেখলেও মিটবে না।

এভাবেই সুখে শান্তিতে চলতে লাগল ওদের জীবন। যেখানে নেই কোনো ভুল বোঝাবুঝি আছে শুধুই ভালোবাসা। ওরা একে অপরকে ছাড়া অচল। তাই ওরা ওদের ডায়রির গল্পের শেষ পাতায় ওদের জীবনের গল্পের নাম দিল #তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য

_____________ #সমাপ্ত ____________

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here