তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য #Nushaiba_Jannat_Arha #পর্ব ২ + ৩

0
719

#তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ২ + ৩

এতোকিছুর মাঝেও বিন্দুমাত্র অনুভূতি নেই আভানের। তার মনে যে বয়ে চলেছে এক তুফান। এই রাত তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে নানা স্মৃতি। একটা চেয়ার টেনে বসে চোখ বুজে ডুব দিলো তার অতিতের কিছু স্মৃতিতে। কি সুন্দরই না ছিল সেইসব দিনগুলো। আর এখন একটা বিরাট ঝড় এসে সব তছনছ করে দিলো। এই ঝড় মুহূর্তের মাঝেই তাদের সম্পর্ক টা নষ্ট করে দিলো।

( চলুন দেখে আসা যাক ছয় মাস আগের ফ্লাশব্যাক)

– আম্মু আসি। দেরি হয়ে গেলো আমার।

– আরে খেয়ে তো যাবি।

– আম্মু তুমি কি ভুলে গেছো আজ আমার কলেজের প্রথম দিন। প্রথম দিনই যদি এতো দেরি করে যাই তাহলে কি হবে বলো তো? এমনিতেই লেট হয়ে গেছে তারউপর আরও লেট হয়ে যাচ্ছে।

– একটুও লেট হবেনা আমি খাইয়ে দিচ্ছি।

-প্লিজ, আম্মু আমি এখন খাবো না। তুমি টেনশন করো না, আমি ক্যান্টিনে কিছু খেয়ে নিবো। বলেই একপ্রকার দৌড়ে বেরিয়ে পড়লো। রিকশায় করে কলেজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল আরহা।

– আরে শোন তো, খেয়ে যা মা। দেখো মেয়ের কাণ্ড আর পারি না একে নিয়ে। খাবারের প্লেটটা রেখে তিনি তার কাজে গেলেন।

——————-

(বাবা-মায়ের খুব আদরের ছোট মেয়ে আরহা। ছোটবেলা থেকেই খুব চঞ্চল স্বভাবের মেয়ে। দেখতে যেমন মায়াবী তেমনি পড়ালেখাতেও দূর্দান্ত। আরহারা দুইভাইবোন। বড় ভাই ইহসান আহমেদ , সে এখন অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে।ইহসানও পড়ালেখায় বেশ ভালো। মারামারি,খুনসুটি করাই দুই ভাইবোনের কাজ। দুই ভাইবোনই সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখে। আরহার বাবা একজন ছোটোখাটো চাকরি করেন। এ দিয়েই তাদের সংসার চলে যায়। আর আরহার মা একজন গৃহিনী। এইতো এভাবে হেসে খেলেই চলে যাচ্ছে তাদের চারজনের ছোট সুখী পরিবার)

একপ্রকার দ্রুতই কলেজে প্রবেশ করলো আরহা। একটু হেটে সামনে গিয়ে দেখতে পেলো একটা মেয়ে গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই পেছনদিক থেকে জড়িয়ে ধরে বলল

– কি রে। কি খবর আরিশা? কতদিন পর দেখলাম তোকে।

– সর তুই। কতক্ষণ ধরে তোর জন্য অপেক্ষা করছি। এতো দেরি করে এলি কেন। তোকে না বলেছি তাড়াতাড়ি আসতে।

– দোস্ত সরি রে। সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে রে।

– হুম বুঝছি।

– এতোদিন পর দেখা হলো কই বললি না তো, আমি কেমন আছি।

– দেখলে তো মনে হচ্ছে ভালোই আছিস।

– আসলে তুই না একটা আনসোসাল।

– কিহ্ আমি আনসোসাল। তবে রে।

– আচ্ছা আচ্ছা বাদ দে এসব। এতোদিন পর দেখা মারামারি করতে চাই না। তার থেকে এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে চল ক্লাসে যাই।

– হুম চল।

বলেই দুই বান্ধবী মিলে ক্লাসে চলে গেলো।
আরহা আর আরিশা দুই বেস্টফ্রেণ্ড। সেই ছোট্টবেলার ফ্রেণ্ড ওরা। গল্প করতে করতেই ওরা ক্লাসে চলে গেলো।ক্লাসে গিয়েই সবার সাথে পরিচিত হয়ে নিলো আরহা আর আরিশা। দুজনে খুবই মিশুক প্রকৃতির। সহজেই সবার সাথে মিশে যেতে পারে।

———-

– আরিশা, এই আরিশা। আমার না খুব খুদা লেগেছে রে। কি করি বল তো। সকালে কিচ্ছু খাইনি রে।

– চল তাহলে ক্যান্টিনে যাই।

– এখন তো ক্লাস চলতেছে। এখন কিভাবে যাবো?

– ওয়েট দেখছি কি করা যায়।

টিচার অন্যদিকে কনসার্নট্রেট করার সাথে সাথে কিছু একটা ভেবে আরিশা দিলো এক দৌড়। আরিশাকে দৌড়াতে দেখে আরহাও আরিশার পিছন পিছন দৌড়ানো শুরু করলো। আরিশা দৌড়ে ক্যান্টিনে গেলেও আরহা এখনও পৌঁছাতে পারেনি দেখে কোনোদিক না দেখেই দৌড়াতে শুরু করলো।

হঠাৎ কারও সাথে ধাক্কা খেয়ে চমকে উঠলো আরহা। সামনে তাকিয়ে উচু লম্বা একটা ছেলেকে দেখে কিছুটা ভয় পেলো আরহা। আজ কলেজের প্রথমদিন আর আজই এমন হলো। সামনে থাকা ছেলেটার মুখে স্পষ্ট রাগের ছাপ। রাগান্বিত কণ্ঠেই বলল

– কি করলে তুমি এটা? আমার শার্টটাই নষ্ট করে দিলে। How dare you.

– সরি ভাইয়া। আমি আসলে খেয়াল করিনি। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি অনেক দুঃখিত।
আর কিছু বলার আগেই সামনে থাকা ছেলেটা আরহাকে চড় মারার জন্য হাত উঠালেই আরহা ভয়ে মুখ ঢেকে নিলো। আর তখনই পাশ দিয়ে একটা ছেলে হেটে যাচ্ছিলো। তবে আশ্চর্য ব্যাপার এইযে আরহার গালে এখনো পর্যন্ত কোনো চড় পড়লো না। একটু একটু করে চোখ খুলেই দেখতে পেলো সামনে থাকা ছেলেটার হাত শক্ত করে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে সেই ছেলেটা।

– কি ব্যাপার কি তামিম, তুমি এভাবে একটা মেয়ের গায়ে হাত তুলতে যাচ্ছিলে কেন?

– আরে ভাই দেখেন এই মেয়েটা কি করেছে আমার। আমার নতুন শার্টটা নষ্ট করে দিলো। জাস্ট বিরক্তিকর।

– সরি ভাইয়া। আমি ইচ্ছা করে এমন করিনাই। আমি আসলে খেয়াল করিনি। আমি অনেক অনেক দুঃখিত। (আরহা)

– সরি তো বলেই দিলো। ওকে সব মিটমাট। তামিম ভবিষ্যতে তুমি আর এমন করবেনা। আমি যেন না দেখি এইসব। মাইণ্ড ইট।

– কিন্তু ভাইয়া আমার শার্ট….

– আরেহ্ তখন থেকে খালি শার্ট শার্ট করতেছো। একটা শার্টের দাম কতোইবা। আচ্ছা আমি কিনে দিবো। তামিম আর কোনো কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো।

– থ্যাংক ইউ। আমাকে বাঁচানোর জন্য।

– বড় ভাই হিসেবে এটা আমার কর্তব্য। এছাড়া আর কিছুই না।
বলেই সেখান থেকে সেই ছেলেটি চলে গেলো। ছেলেটার এমন অদ্ভুত আচরণে আরহা বেশ অবাক হলো। তবে এ নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামালো না।

আর এদিকে আরিশা ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে আরহাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল

– কিরে তুই এইখানে কেন?

আরহা আর কিছু না বলে সোজা আরিশাকে নিয়ে বাসায় চলে এলো। বাসায় ঢুকেই আরিশা কে নিয়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা লক করে দিলো। তারপর আরিশাকে বসিয়ে রেখেই আরহা চলে গেলো ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে আরিশার পাশে চুপচাপ হয়ে বসে রইলো আরহা । আরিশার খটকা লাগলো আরহার এমন আচরণে। তাই আরিশা জিজ্ঞেস করলো আরহাকে।

– এবার তো বল, কি হয়েছে? তখন ওভাবে দাঁড়িয়ে ছিলি কেন?

– আরে জানিস কি হয়েছে?

– তখন থেকে তো সেটাই জিজ্ঞেস করছি। কিছুই তো বলিস না। আর কি এমন হলো যে তুই ওখানে ওভাবে দাঁড়িয়ে ছিলি আর আমায় তখন ওখানে কিছু না বলেই সোজা বাসায় নিয়ে আসলি কেন?

– আরে বলছি, ওয়েট। এতো প্রশ্ন একসাথে করিস না তো। ধৈর্য্য ধর সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি।

– আচ্ছা বল তাহলে এবার।

আরহা তখনের ঘটনা সবটা খুলে বলল আরিশাকে।

————

অন্ধকার একটা রুমে বসে রকিং চেয়ারে বসে আছে হুডি পরিহিত একটা যুবক। হাতে তার ২০-২১ বছরের হাস্যজল এক মেয়ের ছবি। গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখছে মেয়েটাকে। আর মনে মনে বলছে

– কি মায়বী তুমি দেখতে। প্রথম দেখাতেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি যে। সত্যিই তুমি অনেক মিষ্টি। আমি খুব শীঘ্রই তোমার সামনে আসছি, মাই লাভ। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করো আমার জন্য একটু কষ্ট করে। আমি জানি আমি আসলে তোমার থেকে খুশি আর কেউই হবে না। আমি শীঘ্রই আসছে। বলেই মুচকি হাসি দিয়ে সেই মেয়েটার ছবি বুকে জড়িয়ে নিলো।

#চলবে ~

#তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ৩

জানালার কাচ ভেদ করে সকালের মিষ্টি রোদ্দুর এসে মুখে পড়লো আরহার। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল আরহা।আজ অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা অন্যরকম আরহার কাছে। প্রকৃতি, বাইরের পরিবেশ সবকিছু মিলেই যেন বিশেষ রূপ ধারণ করেছে বলে মনে হচ্ছে আরহার কাছে। কাল অনেক কথা বলে আরিশা চলে যাওয়ার পর আরহার আর কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল। বিষন্ন মন নিয়েই জানালার বাইরে মুখ নিয়ে উপভোগ করতে লাগল বাইরের পরিবেশ। বাইরের বাতাস আর পাখিদের আনাগোনা। সব মিলিয়ে মন ভালো করার মতো। তবে এতে আরহার মন ভালো হলোনা।

– Happy Birthday, my dear little sister. Many many happy returns of the day.

পেছন ঘুরে তাকিয়ে দেখলো কেক হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরহার বড় ভাই ইহসান। আজ যে আরহার জন্মদিন, আরহা নিজেই ভুলে গিয়েছিল। তবে আরহা ভুলে গেলেও যে তার ভাই মনে রেখেছে তার জন্মদিন, এটা ভেবেই আরহার মুখে ফুটে উঠলো একচিলতে হাসি। ভাই-বোনের মাঝে যতই মারামারি হোক না কেন, ভালোবাসার দিক দিয়ে কখনো কমতি হয়না। এটাই বুঝি ভাই-বোনের ভালোবাসা।আরহার এসব ভাবতে ব্যস্ত তখনই ইহসান বলে উঠল

– কি রে, কি এতো ভাবছিস? এতো কষ্ট করে তোকে উইশ করলাম, আর তুই কোনো কথাই বলছিস না।

– Thank you, Vaiya. সত্যি কথা বলতে আমি নিজেই ভুলে গিয়েছিলাম আজ আমার জন্মদিন।

– প্রত্যেক বার তো গিফ্ট গিফ্ট করে পাগল করে দিস। আর এইবার কি এমন হলো যে জন্মদিন ই ভুলে গেলি। পড়াশুনায় তো তেমন করিস না যে পড়াশুনার জন্য সব ভুলে যাবি। এই সত্যি করে বল তো কারও কাছে মাইর-টাইর খেয়েছিস নাকি?

এই কথা শুনে আরহার কালকের কথা মনে পড়ে গেলো। কাল যদি ঐ ছেলেটা না বাঁচাতো তাহলে সত্যি সত্যিই প্রথম দিনই কলেজের সিনিয়র ভাইয়ের হাতে মাইর খাওয়া লাগতো। এসব ভেবেই আরহার চোখ পানিতে টলমল করে উঠলো। ইহসান দেখার আগেই দ্রুত চোখ মুছে নিল আরহা।
আরহাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে ইহসান বলল

– কি রে, চুপ করে আছিস কেন? তার মানে তুই মাইর খেয়েছিস? কে মেরেছে তোকে? শুধু বল তাকে সামনে পেলে আমি মেরেই ফেলবো, সাহস কত বড় আমার বোনকে মারে।

– আরে ভাইয়া, তুই সবকিছু সিরিয়াস নিস কেন বল তো। তেমন কিছু হয়নি। আচ্ছা এসব বাদ দে তো। আমার জন্য কি গিফ্ট এনেছিস আগে তাই বল।

– এই নে তোর গিফ্ট।

এক বক্স চকলেট, (আরহার ভীষণ পছন্দের চকলেট), আরহার পছন্দের চকলেট কেক, আর সাথে রয়েছে আরহার পছন্দের নীল রেশমি্ চুড়ি। জিনিস অল্প হলেও এগুলো সবই আরহার পছন্দের। মোটকথা তার ভাই যে তার জন্য এসব এনেছে এটাই তার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। কিছু না দিলেও আরহার মন খারাপ হতো না। আরহা অনেক খুশি হলো গিফ্ট গুলো পেয়ে।

– Thank you so much, vaiya.

– খুশি তো এইবার।

– হুম খুব খুশি আমি ভাইয়া।

– গিফ্ট তো দিলাম। এইবার ট্রিট দে।

মুহুর্তের মধ্যেই আরহার হাস্যজল ফেসটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। আরহার অবস্থা বুঝতে পেরে ইহসান বলল

– আচ্ছা হয়েছে। বুঝছি আমি। ট্রিট তো দিবি না। ছ্যাচড়া কোথাকার।

– কি বললি তুই। তবে রে…

– আজ একটা শুভ দিন। মারামারি করতে চাচ্ছি না। যা এবার ফ্রেশ হয়ে নিচে ব্রেকফাস্ট করতে আয়।

ভাইয়ের কথা মতো লক্ষী মেয়ের মতো আরহাও ফ্রেশ নিচে গেলো ব্রেকফাস্ট করতে।

– আরে আরহা মা আমার খেতে আয়। এই দেখ তোর পছন্দের খাবার। (আরহার মা)

– শুভ জন্মদিন, আরহা মামুনি। (আরহার বাবা)

– থ্যাংক ইউ, আব্বু।

– ওয়েলকাম মামুনি। খেতে বসো।

চারজনই হাসি- খুশিভাবে গল্প করে খাওয়া-দাওয়া করতে লাগলো।

খুব বেশি বড় করে না হলেও ছোটখাটো ভাবেই আরহার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে,
তাদের একমাত্র মেয়ের জন্মদিন বলে কথা। কিছু কাছের আত্মীয় – স্বজন আর আরহার কাছের বান্ধবীদের ইনভাইট করা হয়েছে।

– হ্যাপি বার্থডে, আরহা। (অনেকই উইশ করতে লাগল আরহাকে)

আরিশাকে দেখেই জড়িয়ে ধরলো আরহা।

– এতোক্ষণে আসার সময় হলো শাঁকচুন্নি। ভুলেই গিয়েছিস আমায়।

– তোকে কি আমি ভুলতে পারি বল। এই নে তোর গিফ্ট। এটা কিনতে যেয়েই দেরি হয়ে গেছে তা না হলে আরও আগে আসতাম।
Anyways, Happy Birthday, dost.

— Thanks a lot.

আরও অনেকেই আরহাকে উইশ করতে লাগলো, গিফ্ট দিতে লাগল। এসবই আরহার পছন্দের।

– এই নেও সবাই আসো, এখন কেক কাটা হবে। আরহা মামুনি এসো। ( আরহার বাবা)

আরহার বাবার কথামতো সবাই চলে এলো কেক কাটতে। জন্মদিনের অনুষ্টানের পর সবাই যে যার মতো বাড়ি চলে গেলো। খুব সুন্দর একটা দিন ছিল আরহার কাছে আজ।

————

সব গেস্টরা চলে যাওয়ার পর আরহার খুব বোরিং লাগছিল। তাই ডিসিশন নিল বাইরে ঘুরতে যাবে। যে ভাবা সেই কাজ। তাই সন্ধ্যার দিকে মায়ের অনুমতি নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হলো আরিশা আর আরহা। যদিও আরহার মা আসতে দিতে চাচ্ছিলেন না তার মেয়েকে বের হতে কিন্তু অনেক জোরাজোরি আর আরিশা থাকার কারণে তিনি রাজি হলেন।

ঘোরাঘুরির জন্য স্থান হিসেবে বেছে নিলো লেকের পাড়। প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য যেন এখানেই বিরাজ করে। লেকের পানি আর ঠান্ডা হিমেল হাওয়ায় মাতিয়ে তুলছে চারপাশ। এ যেন এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। যা আরহা এবং আরিশার ভীষণ পছন্দের। দুজনেই প্রকৃতি প্রেমী। দুই বান্ধবী লেকের পাড়ের এক কোনায় গিয়ে বসলো। দুজনেই মনোরম পরিবেশ এবল হিমেল হাওয়া উপভোগ করতে লাগল, সেইসাথে টুকটাক গল্প করতে লাগল। আর সেইসাথে যদি আইসক্রিম খাওয়া হয় তাহলে ব্যাপারটা মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠে।
দুই বান্ধবী মিলে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করলো।

– চল তাহলে এবার যাওয়া যাক আরহা। দেরি হয়ে গেছে অনেক। আঙ্কেল, আন্টি টেনশন করছে নিশ্চয়ই।

– এই না রে আরেকটু বসি না রে। ভালোই তো লাগছে।

– ক’টা বাজে খেয়াল আছে তোর। চল বলছি।

অনেকটা অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আরিশার কথায় উঠলো আরহা। দুজনেই পা বাড়ালো তাদের গন্তব্য স্থলে।

অনেক রাত হওয়াতে রাস্তায় তেমন কোনো মানুষ নেই। চারপাশ নির্জন। কেমন ভুতুরে টাইপ। ভয় লাগছে ওদের কিন্তু আরিশা আর আরহা আর তেমন কোনো পাত্তা দিলো না। ওরা হাঁটছে এমন সময় পথিমধ্যে ৪-৫ জন ছেলে এসে ঘিরে ধরল। আরহা ভয়ে আরিশাকে শক্ত করে চেপে ধরল। আরিশাও যে ভয় পাচ্ছে না তা কিন্তু না। ও ভীষণ ভয় পাচ্ছে।

– ঐ সুন্দরী কোথায় যাচ্ছো এতো রাতে? বলেই বিশ্রী ভাবে হাসতে শুরু করলো তাদের মধ্যে একজন। আরেকজন আরহার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। আর আরহা আর আরিশা এক পা এক পা করে পেছাতে লাগল। আশেপাশে কেউ নেই যে ওদের বাঁচাবে। ভয়ে ওরা কান্না শুরু করে দিল। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। সব আশা ছেড়েই দিল। এই বুঝি সব শেষ।

এমন সময় কেউ একজন এসে সেই লোকটাকে যে আরহার দিকে এগিয়ে আসছিল তাকে পেছন দিক দিয়ে সজোরে ঘুষি দিলো। আরহা আর আরিশা দুজনেই এসব দেখে ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিল।

কিছুক্ষণ পর চোখ মেলে দেখলো সেই ৪-৫ জন যারা ওদের ডিস্টার্ব করছিলো তাদের কাউকে দেখতে পেল না। তবে যে তাদের বাঁচিয়েছে তাকে দেখে আরহা বেশ অবাক হলো।

– আপনি এইখানে ?……….

#চলবে ~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here