তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য #Nushaiba_Jannat_Arha #পর্ব ৬

0
518

#তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ৬

মিষ্টি হিমেল হওয়া আর মরোরম পরিবেশ চোখ বন্ধ করে উপভোগ করতে লাগল আরহা। বাতাসে অনবরত উড়ে চলেছে আরহার চুল গুলো। সব মিলিয়ে বেশ মন মুগ্ধকর এক পরিবেশ। এমন সময় পরিচিত কণ্ঠের কেউ একজন ডাক দিলো আরহাকে।

– আরুপাখিইইই।

এতোক্ষণ আরহা একটা ঘোরের মাঝে চলে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এইভাবে এতোরাতে কেউ ডাক দেওয়ায় চমকে উঠল সে। কিন্তু অবাক করা বিষয় আজ পর্যন্ত আরহাকে কেউ কখনোই আরুপাখি বলে ডাকেনি। তবে কে এমন যে আরহাকে এই নামে ডাকল। এতে যেন আরও বেশি দ্বিধায় পড়ে গেল সে। চোখ খুলে দেখার চেষ্টা করল কেউ আছে কি না। কিন্তু রাতের আধারে কাউকেই দেখতে
পেল না আরহা। নিজের মনের ভুল বলে ধরে নিল সে। আর বেশিক্ষণ বেলকনি তে থাকল না, রুমে চলে গেল ঘুমানোর জন্য। রাজ্যের ঘুম এসে ভর করেছে আরহার চোখের পাতাতে।
বিছানায় শোয়ার সাথে সাথেই ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমালো আরহা।
.
.
.

আরহা বেলকনি থেকে চলে যাওয়ার পরপরই আড়ালে থাকা ব্যক্তিটি বেড়িয়ে এলো। দৃষ্টি তার বেলকনির দিকে। তবে বেলকনিতে এখন কেউই নেই। তখন আরহাকে বিচলিত হতে দেখে ভীষণ আনন্দ হয়ে ছিল তার। এখনও ভীষণ হাসি পাচ্ছে তার। আর মনে মনে বলল

– এখন থেকে প্রতিদিন এইসময়ে আসবো আমি তোমায় দেখতে আরুপাখি। তোমায় না দেখতে পেলে যে আমার ঘুম আসে না।
সামনা সামনি তো আর দেখা সম্ভব না। তাই রাতের আধারে আসবো আমি। অন্য সময়ের চেয়ে তোমায় রাতের আধারে একদম মায়াবী পরীর মতো লাগে। আমার স্বপ্নের রাণী যে তুমি। ভালোবাসি তোমায় অনেক ভালোবাসি যে প্রেয়সী। কবে যে তোমায় আপন করে নিতে পারব। সে দিন হয়তো বেশি দূরে নয়। খুব শীঘ্রই আসছি আমি। এটা ভেবেই মুচকি হাসল। তবে সে হাসি স্থায়ী হলো না। মুহুর্তের মাঝেই বিলীন হয়ে গেল কিছু একটা ভেবে।

– নাহ্। সেটা কখনোই সম্ভব নয় যে। আমি তোমায় ভালোবাসি এবং এই ভালোবাসা কখনো বদলাবে না। সারাজীবন একই থাকবে। এটা যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। তবে নাহয় আমি তোমায় দূর থেকেই ভালোবেসে যাবো আজীবন। হয়তো আমার ভালোবাসা একপাক্ষিক। আর আমি কখনো তোমার সামনেও যাবো না কারণ আমায় দেখলে তোমার মায়া হতে পারে হয়তোবা। আমি চাই না যে আমার অন্ধকার জীবনে এসে নিজের জীবনটাকে অন্ধকার বানাও। ভালো থেকে, দূর থেকে দেখেও শান্তি পাব আমি। সবার আশা যে সব সময় পূরণ হয় না। তেমনি আমারও।

মনে মনে এসব ভাবতে ভাবতেই দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে এলো। তার যে কিছুই করার নেই। সব সময় সবার হাতে সবকিছু থাকে না যে। টুপ করে চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা জল বেরিয়ে পড়ল লোকটির। দ্রুততার সাথেই চোখ মুছে নিল। শেষবার বেলকনির দিকে তাকাল। চোখ সরিয়ে নিয়ে গাড়ির দিকে অগ্রসর হলো। গাড়িতে চলতে শুরু করল তার গন্তব্য স্থলের দিকে।

—————–

আরহা তো খুশিতে আত্মহারা কারণ তারা পরিবারের সবাই মিলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যাবে। বেশ অনেক দিন যাবত বিভিন্ন কাজের চাপে তাদের কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় নি। আরহার বেশ অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল, পরিবারের সবাই মিলে কক্সবাজার ঘুরতে যাবে। আজ তা পূরণ হতে চলেছে যে। আরহার ভীষণ পছন্দের জায়গাও এটা। আর সমুদ্র সৈকত হওয়াতে আরও বেশি পছন্দের। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার পর যখন জানতে পারল তারা কক্সবাজার যাবে তখন থেকে আরহার খুশি আর দেখে কে। আরহাকে এমন খুশি হতে দেখে আরহার মা বাবা আর আরহার ভাই ইহসানও খুশি হলো। সব জিনিস পত্র গোছগাছ করে গাড়িতে করে রওনা দিল কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে।

গাড়ির জানালার সাইডে বসেছে আরহা। জানালার কাচ খুলে মুখ বাহিরের দিকে রেখেছে। চোখ ভরে দেখছে বাইরের পরিবেশ। আজকের আবহাওয়াও বেশ ভালো। তাপমাত্রাও খুব বেশি একটা না। না গরম না শীত, এই টাইপের। আর গাড়িতে মিডিয়াম ভলিউমের সুন্দর সফট মিউজিক অন করা হয়েছে ইতোমধ্যেই। যে কারণে আরহার আরও বেশি ভালো লাগছে। এতো সুন্দর প্রকৃতিও হতে পারে বুঝি এসব ভাবছে আরহা। তার ভাবনার জগতে বিচরণ করছে এবং নানান প্রকৃতির ছবি আঁকছে। ছোট বেলা থেকেই আরহা বেশ ভালো ছবি আঁকতে পারে। আর এদিকে আরহা মা বাবা দুজন মিলে গল্প করছেন। আরহার ভাই ইহসান কানে ইয়ারফোন গুজে ইতোমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে।

এইসব করতে করতে কখন যে তারা তাদের গন্তব্য স্থলে পৌঁছে গেল নিজেরাও জানে না। কক্সবাজার পৌঁছেই তারা হোটেলে চলে গেল। আরহার বাবা আগে থেকেই বুক করে রেখেছিলেন।

ক্লান্ত লাগার কারণে আরহা হোটেলের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিলো। বাকিরাও যে যার মতো রুমে রেস্ট নেওয়ার জন্য চলে গেল।

বিকেলের দিকে আরহা, আরহার মা বাবা, আরহার ভাই ইহসান, সবাই মিলে ঘুরার জন্য বের হয়ে এলো। তারা চলে এলো সমুদ্র সৈকতের প্রায় কাছাকাছি। এইতো আর একটু দূরেই সমুদ্র সৈকত। পাশেই ছিল বিভিন্ন কসমেটিকস এর দোকান। আরহার চোখ পড়ল সেই দিকে। আরহার জোড়াজুড়ি তে সবাই গেল সেই কসমেটিকস এর দোকানে। কিছু কসমেটিকস ও কিনল আরহা।

বেরিয়ে আসার সময় আরহার মা দেখলেন তার হাতে তার পার্টস্ ব্যাগটা সাথে নেই। তাই আরহা বাবাকে নিয়ে আরহার মা সেই দোকানের দিকে গেলেন। আর যাওয়ার আগে বলে গেলেন আরহার সাথে আরহার ভাই ইহসানকে দাঁড়াতে বলে সেই দোকানের দিকে গেলেন তারা। কিন্তু হোটেলে ইহসান নিজের ফোন টা রেখে আসায় হোটেলে গেল তার ফোন আনতে।যদিও যাওয়া আগে ইহসান বলেছিল

– ইস্ রে আমার ফোন টা হোটেলে রেখে এসেছি রে।

– তো যা গিয়ে নিয়ে আয় তোর ফোন।

– তুই একা একা থাকতে পারবি তো?

– কেন পারব না অবশ্যই পারব।

– আচ্ছা সমস্যা নেই তুই চল আমার সাথে।

– এখান থেকে আবার ওতো দূরে যাবে কে। আবার হোটেল থেকে এখানে আসতে হবে ধুর। আর আমি যদি তোর সাথে যাই ভাইয়া, তাহলে আমাদের এসে মা বা খুঁজবে। তারা তো আর জানে না যে আমরা ফোন আনতে হোটেলে গিয়েছি। আর মা বাবার আসতেও বেশিক্ষণ লাগবে না। তার থেকে বরং তুই যা, আমি আছি এখানে।

– আচ্ছা, সাবধানে থাকিস। আমি আসছি এক্ষুনি। এই যাব আর আসবো।

– ওকে।

ইহসান চলে গেল হোটেলের দিকে ফোন আনার জন্য। ইহসান চলে যাওয়ায় আরহা সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ল। এমন সময় কিছুটা দূরে গুলির প্রচণ্ড আওয়াজে চমকে উঠল আরহা। এতোক্ষণ নিজের ভাইকে বড় বড় কথা শোনালেও এখন গুলির আওয়াজে বেশ ভয় পেল সে। কিছু সময় পর আবারও গুলির আওয়াজ হলো। আরহা এবার ভয় পেলেও যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করার চেষ্টা করল।

কে বা কারা কি করছে তা দেখতেই হবে আরহা কে। তাই যে দিক থেকে গুলির আওয়াজের উৎস ভেসে এসেছে সেই দিকেই অগ্রসর হলো আরহা।

গিয়েই আরহা দেখতে পেল কয়েক জন মুখোশ ধারী এবং কালো পোশাক ধারী লোক কাউকে সুট করেছে। আরহা নিজের বাচা মরা সব ভুলে গেল মুহূর্তের মাঝেই। যাকে সুট করতে যাচ্ছে লোকগুলো তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে নিজেই পড়ে গেল মাটিতে। পড়ে গিয়ে আরহা এবং লোকটি ভীষণ ব্যথা পেল। লোকটি মাক্স পরে থাকায় তার চেহারা বোঝা গেল না। তিনি আরহাকে উদ্দেশ্য করে বলল

– তুমি কি পাগল? কি এমন হয়েছে যে এভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে আমায়?

– পিছনে দেখুন। আপনাকে কেউ মারার জন্য গুলি করছিল।

আরহার কথা শুনের লোকটি পিছন ফিরে তাকাল। সাথে সাথেই যারা তাকে গুলি করতে যাচ্ছিল তারা সরে গেল। তবে এসব দৃষ্টি গোচর হলো না লোকটির।

আরহা যে দুইবার গুলির আওয়াজ শুনতে পেয়েছিল সেই গুলিই লেগেছে মাটিতে পরে থাকা ব্যক্তিটির গায়ে। সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত লোকটির গায়ে রক্তে লাল হয়ে গিয়েছে। চারিদিকে রক্তের ছড়াছড়ি। লোকটি হয়তো আর বেচে নেই। যখন গুলি করেছিল তখনই হয়তো মারা গিয়েছে। এমন সময় আরহার চোখ পড়ল রক্তমাখা ব্যক্তিটির দিকে। এতোক্ষণ খেয়াল করেনি সে। এমন নির্মম অবস্থা কখনো দেখেনি আরহা। আজই প্রথম দেখলো সে। এসব দেখে গা গুলিয়ে উঠল আরহার। এসব সহ্য করতে না পেরে মুহূর্তের মাঝেই ঢলে পড়ল সামনে থাকা ব্যক্তিটির বুকে।

#চলবে ~

হাতে ব্যথা থাকায় আগের দুদিন গল্প দিতে পারেনি। আজও হাতে ব্যথা অনেক কষ্ট করে গল্প লিখলাম। দেরি করে দেওয়ার জন্য দুঃখিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here