তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য #Nushaiba_Jannat_Arha #পর্ব ৭

0
487

#তুমিহীনা_আমি_যে_শূন্য
#Nushaiba_Jannat_Arha
#পর্ব ৭

সন্ধ্যা ৭ বেজে ৪৫ মিনিট,

কিন্তু এখনও পর্যন্ত জ্ঞান ফেরে নি আরহার। সেই যে বিকালে যে জ্ঞান হারিয়ে ছিল তারপর আর কোনো হুশ নেই তার। দু’ঘন্টা হয়েছে ওর জ্ঞান ফেরেনি এখনো।

কিছুক্ষণ আগের ঘটনা…..

রক্তে লাল হওয়া মাটিতে মৃত লোকটিকে দেখে জ্ঞান হারাল আরহা সামনে থাকা লোকটির বুকে। হঠাৎ এমন হওয়াতে সামনে থাকা ব্যক্তিটি হকচকিয়ে গেল। দ্রুত সরে আসাতে আরহা লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। সেদিকে দৃষ্টিপাত করল না সে। ফোনটা বের করে কাকে জানি ফোন দিল তাৎক্ষণাত। ওপর পাশ থেকে বলল

– হ্যালো। কেমন আছেন?

– ওতো কথা বলার সময় নেই দ্রুত চলে আসো এখানে। বলেই ঠিকানা দিয়ে দিল।
এই ঠিকানায় তাড়াতাড়ি চলে আসো। come fast.

– আচ্ছা একটা প্রশ্ন করতে পারি?

– কি বলো?

– হঠাৎ আপনি আসতে বলছেন এইভাবে। কোনো সমস্যা?

– এতো কথা বলার টাইম নেই। যা বলেছি তাড়াতাড়ি করো।

– ওকে …

আর কোনো কথা বলার আগেই ফোনটা কেটে দিলো। ওপার পাশে থাকা ব্যক্তিটি দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। ঐ ব্যক্তিটির দেওয়া ঠিকানায় যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিল।

কিছুক্ষণের মাঝেই উক্ত স্থানে পৌঁছে গেল একটি মেয়ে। মেয়েটিকে দেখেই বলল

– এতোক্ষণে আসার সময় হলো তোমার। ইডিয়েট কোথাকার।

– সরি । আচ্ছা কি জন্যে ডেকেছিলেন তা কি জানতে পারি?

– এতোক্ষণে আসলে মেইন পয়েন্টে। ঐ দেখো এই মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে, ওকে নিয়ে যাও এখান থেকে। হয়তো এখানেরই স্থানীয় কোনো হোটেলে থাকে ও। খোঁজ করে সেখানে দিয়ে এসো।
( আরহাকে উদ্দেশ্য করে বলল লোকটি)
কথাটা বলে আর এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়ালো না। বড় বড় পা ফেলে দ্রুত নিজের গাড়ির দিকে চলে গেল লোকটি। গাড়িটা স্টার্ট দিয়েই চলে তার গন্তব্য স্থলে।

লোকটি চলে যাওয়ার পর মেয়েটির একটা দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে এলো। আর কিছু না ভেবে আরহার নিয়ে কোনোমতে কষ্ট করে নিয়ে যেতে লাগল।

আর এদিকে,

আরহার মা বাবা কসমেটিকস দোকান থেকে এসে আরহা আর ইহসান কে না দেখে বিচলিত হয়ে পড়লেন। ইতোমধ্যে ইহসানও চলে এসেছে হোটেল থেকে মোবাইল নিয়ে। ইহসান এসে আরহাকে না দেখতে পেয়ে বলল

– আরহা কোথায় মা?

– আরহা কোথায় মানে? আরহা তোর সাথে গিয়েছে না?

– আরহা আমার সাথে যাবে কিভাবে? আরহা তো এখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। আর আমি হোটেলে গিয়েছিলাম ফোন আনতে।

– তোকে না বলে গিয়েছিলাম আরহাকে দেখতে। তারপরও তুই আমার কথা শুনলি না কেন?

– মা বোঝার চেষ্টা করো। আমি আরহাকে রেখে যেতে চাইনি। ওকে নিয়ে যেতে চেয়েছি। কিন্তু ও তো গেল না। বলল আমি এখানে দাঁড়াচ্ছি মা বাবা চলেই আসবে এখনই। শুধু শুধু যাবো না।

– তাহলে মেয়েটা গেল কোথায়?

মাথায় চিন্তার পাহার এসে ভর করলো তাদের মাথায়। এদিক ওদিক খোঁজাখুঁজিও করে পেল না আরহাকে। এতে তারা বিচলিত হয়ে পড়লেন।

এমন সময় অপরিচিত একটা মেয়ের সাথে আরহাকে দেখে কিছুটা অবাক হলেন তারা। মেয়েটা আরহা ধরে ধরেই নিয়ে আসছিল। আরহাকে দেখে দ্রুত এগিয়ে গেলেন তারা। আরহাকে এমন অবস্থায় দেখে বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন আরহার মা।

– কে তুমি? আর আরহাকে এভাবে ধরে ধরেই বা কেন নিয়ে এলে? কি হয়েছে আমার মেয়েটার?

– আন্টি, ও হয়তো অসুস্থ বোধ করছিল। তাই অজ্ঞান হয়ে গেছে হয়তো। আমি দেখে দ্রুত নিয়ে এলাম। যদিও জানতাম না ওর ঠিকানা, তবুও খোঁজ নিয়ে ওকে পৌছে দেওয়ার জন্য এখানে এলাম।

আর কোনো কথা না বাড়িয়ে দ্রুত আরহাকে নিয়ে হোটেলে চলে গেলেন আরহার মা বাবা। ইহসান যাওয়ার পা বাড়াল।এমন সময় কিছু একটা ভেবে আবার পিছন ফিরল। মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল

– কোথায় পেলেন আমার বোনকে? ( ইহসান)

– ঐতো ওখানে। ( মেয়েটি হাত দিয়ে দেখিয়ে দিল সেই জায়গাটি)

– ওতো দূরে কিভাবে গেল ও?

– তাতো বলতে পারব না, তবে আমি ওকে ওখানে অজ্ঞান অবস্থায় পেয়েছি। তাই নিয়ে এলাম এখানে।

– ধন্যবাদ আপনাকে। আমার বোনকে নিয়ে অাসার জন্য। আপনি ওকে যদি না নিয়ে আসতেন তাহলে হয়তো ওকে আর আমরা ফিরে পেতাম না।

– এভাবে বলবেন না। এটা আমার কর্তব্য মাত্র। আচ্ছা আসি তাহলে এখন আমায় যেতে হবে।

ইহসান আর কোনো কথা না বাড়িয়ে চলে গেল হোটেলে। আর মেয়েটিও চলে গেল তার মতো।

চোখে বেশ অনেকক্ষণ যাবত পানির ছিটা দেওয়ার পর জ্ঞান ফিরল আরহার। এখন হোটেলের রুমেই রয়েছে সে। পাশেই বসে আছে আরহার মা বাবা আর ইহসান। আরহার জ্ঞান ফিরতে দেখে তারা যেন স্বস্তি ফিরে পেল। এতোক্ষণ যেন তাদের বুকে কেউ পাথর দিয়ে রেখেছিল। এখন আরহার জ্ঞান ফেরেতে পাথরটা সরে গেল যেন। আরহার মা বাবা আরহাকে কোনো প্রশ্ন না করেই যে যার মতো রুমে চলে গেলেন কারণ এখন আরহাকে প্রশ্ন করা ঠিক হবে না ভেবে। তবে আরহার রুমে রয়ে গেল ইহসান। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আরহাকে বলল

– ঠিক আছিস এখন?

– হুম।

– সত্যি করে বলতো, কি হয়েছিল তখন, যে ওভাবে জ্ঞান হারালি?

আরহা কিছু বলল না চুপচাপ বসে আছে কোনো কথার উত্তর না দিয়ে। এতে ইহসান বেশ বিরক্ত হলো। এবার বেশ জোড়েই বলল

– আরে কি হয়েছে বলবি তো?

আর যাই হোক আরহা কখনো তার ভাইয়ের সাথে মিথ্যা বলতে পারে না। এতো ক্ষণ চুপচাপ থাকলেও এখন আর চুপ থাকতে পারলো না। একে একে সব ঘটনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলে দিল ইহসান কে। সব শুনে ইহসান অবাক হয়ে গেল। এবার কিছুটা গম্ভীরতা নিয়েই বলল

– তোকে পাকনামো করে ওখানে যেতে বলেছে কে বল তো। এক লাইন বেশি বুঝিস তুই। আজ যদি তোর কিছু হয়ে যেত। তখন কি হতো বলতে পারিস? আমাদের কথা একবারের জন্যও ভাবলি না তুই? কেমন বোন তুই?

– সরি রে ভাইয়া।

– আর যদি কখনো আমি এমন দেখছি, তো আমি একদিন কি আর তোর দশদিন। আমি যদি আর না দেখি।

– ওকে ভাইয়া।

– আমি আসি এখন। রেস্ট নে তুই।

– আচ্ছা।

যাওয়ার আগে আরহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে নিজের রুমে চলে গেল ইহসান।

আর এদিকে আরহা উঠে চলে গেল জানালার কাছে। আজ বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। অন্যদিন তো তাও বাহিরে আলো থাকে। হয়তো আজ আমাবস্যার রাত। তবে ফুরফুরে বাতাস। কিন্তু আরহা ভাবছে আজ বিকেলের ঘটনা। লোকটাকে বেশ চেনা চেনা লাগছিল আরহার। কণ্ঠস্বর ও বেশ চেনা মনে হলো। তখন ওতো ভালো ভাবে খেয়াল করেনি তাই ওতো মাথাও ঘামায়নি। কিন্তু এখন ঠান্ডা মাথায় ভেবে মনে হচ্ছে। আবার এটাও মনে হচ্ছে লোকটাকে বেশ কয়েক বার দেখেছেও আরহা। তবে মাক্স পড়ে থাকায় চেহারা দেখা যায়নি ঠিক মতো। নানা চিন্তা ঘুর পাক করতে লাগল আরহার মাথায়। কিন্তু কোনো ভাবেই কিছু মেলাতে পারছে না সে। মাথায় নানা ধরনের প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে আরহার।

এসব নিয়ে আর মাথা ঘামাতে পারল না আরহা। খুব মাথা ধরেছে তার। তাই আর কোনো কিছু না ভেবেই, মায়ের কাছে গেল। মায়ের জোড়া জুড়িতে কোনো রকম খাওয়া দাওয়া করে নিজের রুমে চলে এলো। বিছানায় শুয়ে নানা ধরনের চিন্তা করতে লাগল। মাথায় চিন্তার পাহার এসে ভিড় করেছে আরহার। বারবার একটা জিনিসই ঘুর পাক খাচ্ছে আরহার মাথাতে।

– কে ছিল লোকটা………

#চলবে ~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here