“না চাইলেও তুমি আমার পর্ব :১

0
6814

বেস্টির হবু বরের সাথে নিজের এভাবে বিয়ে হয়ে যাবে তা ভাবনাতেও ছিলো না চন্দ্রর।
কি থেকে কি হয়ে গেলো মনে পড়লেই বার বার শিউরে উঠছে চন্দ্র।
কান্নায় বুক ফেটে যাচ্ছে চন্দ্রর,বুকের ভিতর আছড়ে পড়ছে কান্না সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো কিন্তু প্রকাশ করতে পারছে না।

বাবা,ভাইয়ের ভয়ে কখনো ছেলে ফ্রেন্ড বানাতে পারে নি প্রেম তো অনেক পরে।
কি অদ্ভুত!
সেই ভীতু মেয়েটার বিয়েই হলো কাজী অফিসে,বাবা,ভাই,বোন ছাড়া।
এসেছিলো বিয়ের সাক্ষী হতে কিন্তু কপাল ফেরে বিয়ের পাত্রী হয়ে গেলো।

রেস্টুরেন্টের আধো আলো আধো ছায়ায় সামনে বসে থাকা মানুষটি কে যদিও অপূর্ব দেখাতো অন্য সময় হলে কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে দুনিয়ার নিকৃষ্ট জীব এই মানুষ।

মনে মনে বললো চন্দ্র,”আই হেইট ইউ,আই হেইট ইউ,আই হেইট ইউ”

কাকতালীয় ভাবে ঠিক সেসময় নিষাদ ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ তুলে সামনের দিকে তাকালো।
চন্দ্রর কান্নাভেজা মুখ,থেকে থেকে দুই ঠোঁট ফুলে উঠছে,দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে কান্না চাপানোর বৃথা চেষ্টা করছে মেয়েটা।

এই মেয়েটাই নিষাদের স্ত্রী আজ থেকে,ভাবতেই নিষাদ অবাক হচ্ছে।
ফোন থেকে মারিয়ার সকল ছবি ডিলিট করে দিলো,ফেসবুক,হোয়াটসঅ্যাপ সবকিছু থেকে মারিয়া কে ব্লক দিয়ে দিলো।

খাজানায় বুফেতে খেতে আসার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো চন্দ্রর,ভেবেছিলো বান্ধবীরা সবাই মিলে আসবে,কিন্তু আজ সবার আগেই চন্দ্র চলে এসেছে,অথচ খাবারগুলো মনে হচ্ছে বিষাক্ত। মুখে তুলতেও ইচ্ছে করছে না।

ফোন পকেটে রেখে নিষাদ খাওয়া শুরু করলো,চন্দ্রকে সাধাসাধি করার ধার ধারিতে গেলো না।
নিষাদের ২ বছরের ভালোবাসা আজ পূর্ণতা পেতো,শুধুমাত্র চন্দ্রর জন্যই মারিয়া আসে নি আজ কাজী অফিসে নিষাদ জানে।

পাশের টেবিল থেকে পলাশ ডেকে বললো,”দোস্ত ভাবী তো খাচ্ছে না,খাইয়্যে দে”

“তুই না পারলে বল আমি খাইয়্যে দিই,আফটার অল তোর বৌ মানে আমার বৌ”
লিমনের কথা শুনে বাকীরা সবাই হাহা করে হেসে উঠে।

দাঁত কিড়মিড়িয়ে উঠে চন্দ্রর,মনে মনে বলে,”তোর এই পঁচা কুমড়ো বন্ধুর বৌ হতে বসে আছি যেনো আমি?
তোর এই চিচিঙ্গা বন্ধুকে ডিভোর্স দিতে আমি একটু ও দেরি করবো না,জাস্ট ওয়েট।একটু সাহস জমিয়ে নিই”

“তুমি যদি ভেবে থাকো আমাকে ডিভোর্স দিয়ে বেঁচে যাবে তবে ভুল ভাবছো চন্দ্র,আমি তোমার বাসায় আমার বিয়ের কাবিননামা দেখাবো,যাদের ভয়ে তুমি আমাকে ডিভোর্স দিবে ভাবছো তাদের চোখে তুমি কি হবে ভেবে দেখেছো?
তাছাড়া তোমার ছবি তোলা আছে,আজ হোক কাল হোক,তুমি ডিভোর্স দেওয়ার পর সবাই জানবে তোমার আগে বিয়ে হয়েছে তুমি ডিভোর্সি”

একদমে কথাগুলো বলে নিষাদ আবার খাওয়ায় মন দিলো। চন্দ্র হতভম্ব হয়ে বসে রইলো,এই ছেলে কি মনের কথা বুঝতে পারে না-কি?
কিভাবে বুঝতে পারলো যে চন্দ্র,তাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভাবছে?

এখন মনে হচ্ছে মদন পাগলা কে নিয়ে লোকে যা বলে তা সব মিথ্যে না,সকালে আসার সময় মদনের সাথে চন্দ্রর দেখা হয়।
চন্দ্রকে দেখে মদন হইহই করে সামনে এসে ডিগবাজি খায় রাস্তায়।
তারপর বলে”আইচ্ছা বুবুজান,কওতো দেখি,শনিবার থেকে ১০৫ বিয়োগ দিলে কি মাছ হয়?”

“তরমুজ”

“হইছে বুবুজান,তুমি দশে দশ পাইছো,তোমার যাত্রা শুভ হবে,তোমার বিবাহ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে,ফি আমানিল্লাহ”

মদনের কথা শুনে চন্দ্র হাসতে হাসতে ভিরমি খেয়েছিলো তখন,কিন্তু এখন মনে কান্না পাচ্ছে। কেনো তখন বিশ্বাস করে নি চন্দ্র,তাহলে তো এরকম হতো না।

চন্দ্রর আবারও কান্না আসে।

নিষাদ অনেকক্ষণ ধরে খাচ্ছে আর আড়চোখে দেখছে চন্দ্রকে,তারপর গলার স্বর অত্যাধিক শান্ত রেখে বলে,”যতোটা খারাপ ভাবছো আমাকে আমি ততোটাও খারাপ নই,ভেবো না,আমি কাউকে কিছু জানাবো না এখন আমাদের বিয়ের ব্যাপারে,যেদিন আমার ভিতরের আক্রোশ মিটে যাবে সেদিন ডিভোর্স পেপার পেয়ে যাবে তুমি,তোমাকে আমার স্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে হবে না। আমিও তোমার কাছে কোনো অধিকার নিয়ে আসবো না।আমি শুধু তোমাকে মানসিক কষ্ট দিতে চাই চন্দ্র,যে কষ্ট আমি পাচ্ছি তোমার কারণে। ”

“বিশ্বাস করেন নিষাদ ভাই,আমি মারিয়া কে নিষেধ করি নি,আমার তো দোষ ছিলো না কেনো এরকম করলেন আপনি আমার সাথে তাহলে?”

“দোষ ছিলো না তোমার?
তাহলে কেনো মারিয়া মেসেজে তোমাকে বলেছে সে তোমার কথা এতোদিন ভালো করে ভেবে দেখে নি কিন্তু আজ বুঝতে পারছে তুমি ঠিক বলেছো,বাবা মাকে কষ্ট দিয়ে এভাবে বিয়ে করা ঠিক না,জবাব দাও চন্দ্র।
অন্তত তুমি,লিপি,সিমি,ইতু তো জানতে মারিয়া কে আমি কতটা ভালোবাসতাম,শুধু মাত্র বড় ভাইয়া বিয়ে করে নি বলে এখন নিজেরা বিয়ে করে রাখতে চেয়েছি,তুমি মারিয়ার ব্রেইন ওয়াশ করে দিয়েছো।”

চন্দ্র বুঝতে পারছে না নিজের দোষ টা কোথায়,চন্দ্র তো কথা টা এভাবে বলে নি,এখন বললেও নিষাদ বিশ্বাস করবে না।নিজের ফাটা কপালের দোষ দিয়ে ক্ষান্ত হলো।

ফোন বেজে উঠতেই চন্দ্র কেমন যেনো চমকে উঠে,মনে হচ্ছিলো যেনো ধরা খেয়ে গেছে সে বাবার হাতে।ফোন বের করে দেখে ভাইয়ার কল।চন্দ্র রিসিভ না করে রেখে দেয়।
রেস্টুরেন্টের হট্টগোল শুনলে ভাই ঠিকই সন্দেহ করবে।

টেবিলের উপর ফোন রেখে মাথা নিঁচু করে বসে থাকে চন্দ্র,যে ঝড় বয়ে গেছে তার উপর দিয়ে,তা জীবন কে কিভাবে বদলে দিবে জানা নেই চন্দ্রর।

রাত্রির মেসেজ আসে ফোনে,চন্দ্র ভ্রুক্ষেপ করে না তাতেও।নিষাদ তাকায় স্ক্রিনের দিকে।

“তাড়াতাড়ি বাসায় আয়,বাবা-ভাইয়া খোঁজ করছে তোর,আর হ্যাঁ মনে করে আমার চকোলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম আনবি”

খাওয়া শেষ করে সবাই বের হয় রেস্টুরেন্ট থেকে।চন্দ্র একা বসে থাকে।
নিষাদ আগে বের হয়ে যায় চন্দ্রকে কিছু না বলেই,পিছনে বের হয়ে যায় ওর বন্ধুরা,যদিও সবাই চন্দ্রর থেকে বিদায় নিয়ে যায়।

চন্দ্র একা বের হয়ে আসে খাজানা থেকে,উত্তরা ৭ নাম্বার থেকে ধানমন্ডি যাওয়ার রাস্তাটা আজ কতো লম্বা মনে হয়। বাসের মধ্যেই চোখের পানি ফেলতে থাকে চন্দ্র,জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা কার কাছে বলবে চন্দ্র,৬ বছরের বন্ধুত্বের পুরষ্কার এভাবে পাবে চন্দ্রর ভাবনাতেও ছিলো না।

ফোন বেজে উঠে আবার,রাত্রি কল দিয়েছে।চোখ মুছে ফোন রিসিভ করে চন্দ্র,আপ্রাণ চেষ্টা করে গলার স্বর স্বাভাবিক রাখার,নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,”হ্যাঁ আপা,বল”

“তুই কোথায় রে চন্দ্র,ভাইয়া কতোবার জিজ্ঞেস করেছে তোর কথা,বোন তোর আল্লাহর দোহাই লাগে তাড়াতাড়ি আয়”

“আসছি আপা,চলে আসছি কাছাকাছি”

রাত্রি ফোন রেখে দিলো।

অফিসে বসে বসে নিষাদ ভাবছে মারিয়ার কথা। মারিয়ার জন্য নিষাদ কি পরিমাণ পাগল ছিলো,কতো পাগলামি করেছে ২ বছর ধরে। মারিয়া কিভাবে সব ভুলে গেলো?
একটা মেয়ের বুদ্ধিতে মারিয়া নিষাদকে ভুলে গেলো,নিজের ভালোবাসা কে এভাবে ত্যাগ করে দিতে একটুও আটকায় নি মারিয়ার!

শরৎকালের এই পড়ন্ত বিকেলে মৃদু রোদ এসে আলতো করে নিষাদ কে ছুঁয়ে যাচ্ছে।এই আলোকে নাকি কনে দেখা আলো বলা হয়,এই আলোতে আজ মারিয়া কে দেখার কথা ছিলো,অথচ নিষাদ বসে বসে অফিসের ফাইল দেখছে।

নিষাদের ফোন বেজে উঠে,পলাশের কল এসেছে।
কল রিসিভ করে নিষাদ।

“দোস্ত,কাজ টা কি ঠিক হলো?”

“অবশ্যই ঠিক হয়েছে,আমি এই বিষয়ে কারো থেকে কোনো উপদেশ আশা করছি না পলাশ”

“দেখ তুই,যা ভালো মনে হয় তাই কর”

নিষাদ কল কেটে দিলো,বেল বাজিয়ে পিওন কে ডেকে চা’য়ের কথা বলে আবার ফাইলে নজর দিলো। কিছু ভালো লাগছে না নিষাদের।কাজেও মন বসে না আজ।

আচ্ছা,মারিয়ার কি সত্যি বিয়ে হয়ে গেছে?
এতো পাগলামি,এতো ভালোবাসা,এতো প্রেম সবই কি মারিয়া ভুলে গেলো?
শুধুমাত্র গ্রীন কার্ড ধারী পাত্রের জন্য?
একটা গ্রীন কার্ড কি ভালোবাসার চাইতেও দামী?
সেই ছেলেটা ও কি মারিয়ার মন খারাপ হলে বেসুরো গলায় গান গাইবে?
কারণে অকারণে মারিয়া কে দেখার জন্য পাগলামি করবে?
সারাদিন অফিস করে,মারিয়ার অভিমান ভাঙ্গানোর জন্য সারারাত হোস্টেলের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবে?
ভাবতে পারছে না নিষাদ কিছু,মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে তার।

অফিসের পিওন সাদেক চা নিয়ে নিষাদের কেবিনে এলো,চায়ের কাপ নিষাদের সামনে রাখতেই নিষাদ ছুঁড়ে ফেলে দিলো কাপ,ঝনঝন শব্দ তুলে ভেঙে গেলো কাপ-পিরিচ।
শরতের শান্ত প্রকৃতি কে অশান্ত করে দিতেই নিষাদ প্রচন্ড আক্রোশে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো,”চলে যাও সবাই,আমার কাউকে চাই না,কিছু চাই না,তোমরা সবাই মুখোশধারী”

সাদেক আলী কাঁপতে কাঁপতে নিষাদের কেবিন থেকে বের হয়ে যায়,অফিসের বাকী সব স্টাফ ছুটে আসে নিষাদের কেবিনের সামনে।
পুরো অফিসে নিষাদ একমাত্র ব্যক্তি যে কাজ ছাড়া কারো সাথে এক মিনিট কথা বলে নি,কখনো লেট করে অফিসে আসে নি,অফিসের কোনো রুলস ব্রেক করে নি,সবচেয়ে শান্তশিষ্ট,যার কারনে জয়েন করার ১ বছরের মাথায় ৩বার প্রমোশন পেয়েছে।

দরজার ফাঁক দিয়ে সবাই দেখছে কাপের একটা ভাঙ্গা টুকরো হাতের মুঠোয় নিয়ে চোখ বন্ধ করে নিষাদ চাপ দিয়ে ধরে আছে,টপটপ করে রক্তের ফোঁটা চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে হাত থেকে,নিষাদের এরকম ক্রুদ্ধ চেহারা কেউ দেখে নি কখনো।

ক্যাশিয়ার হাসান সাহেব ছুটে গিয়ে তাৎক্ষনিক কোম্পানির চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান খান কে ডেকে আনে।
৬২ বছর বয়সী চিরকুমার শামসুজ্জামান খান কোম্পানির মালিক,তাকে আসতে দেখে সব স্টাফ সরে গেলো।

শামসুজ্জামান খান দরজায় নক করে বললেন,”মে আই কাম ইন? ”

“নো”

নিষাদের এই দুঃসাহসিকতায় সবাই হা হয়ে যায়। বড় সাহেব কে কেউ এভাবে না বলতে পারে কারো ভাবনাতেও ছিলো না সেটা।
নিষাদের প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন খুশি হলো,বড় সাহেবের কানে বিষ ঢালতে কোনো সমস্যা হবে না তাদের এবার।

শামসুজ্জামান খান নিষাদের এই সোজাসাপটা কথাতে ভীষণ খুশি হলেন,নিজের কেবিনের দিকে পা বাড়িয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বলতে লাগলেন,”আই লাইক ইউর ডেয়ার”

সকাল থেকেই চন্দ্র ভীষণ একসাইটিং ছিলো,আজ তার বেস্টির বিয়ে,যদিও কাজী অফিসে নিজেরা বিয়ে করে নিবে।কিন্ত চন্দ্রর উত্তেজনা দেখে রাত্রির মনে হচ্ছিলো যেনো বিয়ে মারিয়ার না চন্দ্রর,সে কি উত্তেজনা চন্দ্রর মধ্যে।
রাতে ঘুমাতে পারে নি,কিছুক্ষণ পর পর জিজ্ঞেস করছে,”আপা, আপা রে,কয়টা বাজে,সকাল কি হয়ে গেলো না-কি?”

বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে রাত্রি জবাব দিতো না,এখনো দেরি আছে।

মাঝরাতে উঠে রাত্রি কে ডাকাডাকি শুরু করে চন্দ্র আবারও।

ভীষণ মেজাজ খারাপ হয় রাত্রির,চন্দ্রর যে মাথায় সামান্য কিছুটা গন্ডগোল আছে রাত্রি রাতেই সেটা প্রথমবারের মতো টের পায় নয়তো বান্ধবীর বিয়েতে কেউ এরকম একসাইটিং থাকে নাকি!

“আপা তোর কি মনে হয় মারিয়া যে এভাবে বিয়ে করতে যাচ্ছে, এটা কি ঠিক হচ্ছে?”

“মোটেও ঠিক করছে না মারিয়া,হোক না যতোই ভালো ছেলে তাই বলে বাবা মা কে কষ্ট দিয়ে বিয়ে করবে কেনো?
ফ্যামিলি কে ম্যানেজ করে বিয়ে করবে,বাবা মা হয়তো সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মেনে নিবে কিন্তু বুকের ভিতর যে ক্ষত সৃষ্টি হবে তা জীবনে ও মুছবে না,আজীবন সেই ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হবে,কেউ জানবে না,কেউ বুঝবে না”

“শুন না আপা,মারিয়া কিন্তু অনেক সুখে থাকবে নিষাদ ভাইয়ের কাছে।”

“তুই কিভাবে বুঝলি সেটা?”

“শুন আপা,একবার হয়েছে কি,১৪-ই ফেব্রুয়ারিতে নিষাদ ভাই ভ্যালেন্টাইনের উইশ করেছিলো মারিয়া কে,রাত ১২টা ১ মিনিটে।
তো সারাদিন অনেক জায়গায় ঘুরতে গিয়েছিলো,সাথে আমাদের সবাই কে নিয়ে যায় নিষাদ ভাই,সন্ধ্যায় হোস্টেলে ফিরার পর আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে বলছি,ভালোবাসা দিবস আর সুন্দরবন দিবস একইদিনে,মারিয়ার জন্য আজকে ভালোবাসা দিবস,আর আমাদের মতো সিংগেলদের জন্য আজকে সুন্দরবন দিবস।
আমার কথা শুনে মারিয়া তড়াক করে উঠে বসে,ভ্রু কুঞ্চিত করে জিজ্ঞেস করে,” কি বললি তুই,আজকে সুন্দরবন দিবস?”

“হ্যাঁ আজকে সুন্দরবন দিবস”

শুনেই মারিয়া ভ্যা ভ্যা করে কান্না শুরু করলো,পাশের রুম থেকে লিপি,সিমি,ইতু দৌড়ে আসে মারিয়ার কান্না শুনে।
সবাই অনেকক্ষণ ধরে জিজ্ঞেস করার পর মারিয়া কাঁদতে কাঁদতে,হেঁচকি দিতে দিতে যা বললো তা শুনে আমরা সবাই ধপাস করে ফ্লোরে বসে একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম”

“কি বললো মারিয়া?”

বাসের হেল্পার চিৎকার করে ডাকছে ধানমন্ডি এসে গেছে,ভাবনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে আসে চন্দ্র।চোখের পানি মুছে বাস থেকে নামে।ইচ্ছে করছে জগৎ সংসারের ঘড়িটির কাঁটা পিছনে ঘুরিয়ে আবার সকালে নিয়ে যেতে,যাতে করে আজকের দিনও অন্যসব দিনের মতো করে কাটে চন্দ্রর।
ইশশ,যদি এসব স্বপ্ন হতো!

সময় কে পেছানো যায় না,যা ঘটে যায় তাকেও বদলানো যায় না।ভাগ্য এমন বলে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আর কি-ই বা করার থাকে?
তবুও বুকের ভিতর এক অজানা আতংক কাজ করে।
কেনো চন্দ্রর সাথেই এরকম হলো?
উত্তর জানা নেই চন্দ্রর।

বাসার সামনে মোড়ের কনফেকশনারি থেকে রাত্রির জন্য আইসক্রিম নেয় চন্দ্র,তারপর পা বাড়ায় বাসার দিকে।১পা সামনে যাচ্ছে আর হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে চন্দ্রর।
গেটের সামনে যেতেই দারোয়ান সালাম চাচা গেট খুলে দেয়,মুহূর্তের জন্য চন্দ্রর মনে হয় এই বুঝি সালাম চাচা টের পেয়ে গেলো চন্দ্রর বিয়ে হয়ে গেছে!

মাথা ঝিমঝিম করে উঠে চন্দ্রর,বুকে কি অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে কাউকে বুঝাতে পারবে না তা চন্দ্র।

কোনোরকমে টলতে টলতে লিফটের দিকে এগোয় চন্দ্র।

না_চাইলেও_তুমি_আমার
পর্বঃ ০১
জাহান আরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here