মায়াপরি #সাদিয়া_আহমেদ_রোজ #পর্ব_০৩

0
375

#মায়াপরি
#সাদিয়া_আহমেদ_রোজ
#পর্ব_০৩

মুহিব সাদিয়ার কপাল থেকে নিজের হাত দিয়ে ঘাম মুছে দিলো। তারপর ওর কপালে নিজের ঠোট গভীর ভাবে ছোঁয়ালো। মুহিবকে কাছে আসতে দেখে সাদিয়া চট করে দূরে সরে যায়। মুহিব সাদিয়ার কোলে মাথা রাখে। সাদিয়া মুহিবের মাথা উচু করে সড়াতে গিয়েও পারেনা। হয়তো মুহিবের মাথাটা অতিরিক্ত ভারি নাহলে সাদিয়ার বল কমে গেছে। সাদিয়ার চোখের পানি টুপটুপ করে মুহিবের মুখের ওপর পড়ছে।

– ” স্বপ্ন স্বপ্নই হয় সাদিয়া। মুহিব কখনো তোমাকে কষ্ট দিতে পারেনা। তাই আমাকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। আমি তোমার জন্যই এসেছি। তোমাকে রক্ষা করতে এসেছি। একজন রক্ষক কখনো ভক্ষক হতে পারেনা কারন সেটা হলে তার নামের পাশে ইবলিশ / শয়তান বসাতে হবে। ”

– ” দূরে যান প্লিজ। ”

– ” কেন? ”

– ” আপনাকে ভয় লাগছে আমার। দয়া করে দূরে যান। আমি বাইরে যাবো। প্লিজ সড়ুন। সড়ুন আমার কাছ থেকে।”

মুহিব সাদিয়ার মুখের দিকে তাকালো। ওর চোখগুলো থেকে সাদা আভা বের হচ্ছে। মুহিব সাদিয়ার চোখ থেকে চোখ সড়িয়ে নিলো। কারন আজ রাতেই সাদিয়া ২০বছরে পা দিয়েছে। মুহিব সাদিয়ার কাধ ধরে হালকা নিচু করলো।

– ” আমাকে ভয় পাবার কি কারন আছে মায়াপরি? আমিও তো তোমারই মতো। কেন বুঝতে পারছো না আমায়? কেন বুঝতে চাইছো না আমি কখনো তোমার কোনো ক্ষতি চিন্তাও করতে পারিনা। ”

কিছু সময়ের জন্য থমকে গেলো সাদিয়া। মুহিবের চেহারা ভোরের হালকা আলোয় জ্বলজ্বল করছে। মুখভর্তি দাড়ি, ফর্সা নুরের চেহারা। মায়াভরা দুচোখ। আর মিহিগলায় কথা বলা। যেন সবকিছু ওকে আকর্ষন করার জন্যই। মুহিব সাদিয়ার ঠোটে নিজের ঠোট স্পর্শ করলো।

– ” রেডি হয়ে নাও। আমরা আমাদের বাড়ি ফিরবো। কিছু কাজ আছে। ”

– ” আমি এখানে থাকবো। ”

– ” কাল আবার ফিরে আসবো। কাজ মিটিয়েই, তাই সেহের আজ এখানেই থাকবে। শুধু তুমি আর আমি যাবো।”

সাদিয়ার মনে ভয় ঢুকে গেলো। মুহিব ওকে একা নিয়ে যেতে চাইছে কেন? তবে কি স্বপ্নই সত্যি হতে চলেছে? ওকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলবে মুহিব? ওদিকে মুহিব একধ্যানে সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

– ” কি ভাবছো? তোমাকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলবো? ”

মুহিবের কথায় চমকে তাকালো সাদিয়া। মুহিব কি করে জানলো ও এটাই ভাবছে? মুহিব আবার বললো

– ” বাবার কবর জিয়ারত করতে যাবো। তুমি দূর থেকেই বাবার দোয়া নিও। [ আমি জানি তুমি কেন ভয় পাচ্ছো। চিন্তা করো না *মায়াপরি* খুব শীগ্রহই তোমাকে ওদের হাত থেকে মুক্ত করবো আমি। এটা তোমার মুহিবের ওয়াদা ] ”

– ” আপনি আমাকে মারতে নিয়ে যাচ্ছেন আমি জানি।”

– ” তোমার স্বামী যদি এটাই চায় তাহলে পারবে না তার সাথে যেতে? পারবে না মরতে? ”

সাদিয়া চট করে উত্তর দিলো।
– ” নাহ। অনেক কাজ বাকি আছে আমার। সেগুলো শেষ করতে হবে। ”

মুহিব হেসে উত্তর দিলো।
– ” কি কাজ? বাচ্চা বড় করতে হবে? কিন্তু সেটা হওয়ার চান্স তো খুবই কম। কারন তুমি তোমার বরকে কাছে আসেতই দাও না। ”

সাদিয়া রেগে মুহিবের দিকে তাকালো। এই প্রথম সাদিয়ার চোখ লাল হয়েছে রাগে। এর আগেও রেগেছে ও কিন্তু কখনো এমন চাহুনিতে নয়। সাদিয়ার কপালের শিরা দেখা যাচ্ছে। মুহিব কিছু না বলেই উঠে যায়। কিছুক্ষন পর পানি এনে সাদিয়ার শরীরে ছিটিয়ে দেয়।। সাদিয়ার শরীর জ্বলতে লাগলো। ব্যাথায় কুকড়ে ওঠে ও। তারপর পরই অজ্ঞান হয়ে যায়।

সাদিয়ার যখন জ্ঞান ফেরে তখন দেখলো ও একটা বিশাল বাংলোর, একটা অন্ধকার রুমে শুয়ে আছে। চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। দরজা ঠেলে কেউ ভেতরে আসলো। লাইট অন হতেই দেখলো মুহিব দাড়িয়ে আছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, হাতে রক্ত। হঠাৎ করেই সাদিয়ার বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে ওঠে। সাদিয়া উঠে মুহিবের সামনে গিয়ে দাড়ায়।

-” কি হয়েছে আপনার? ”

ওরনার কোনা দিয়ে মুহিবের কপাল মুছতে মুছতে প্রশ্ন করলো সাদিয়া। মুহিব মৃদু হেসে সাদিয়াকে বিছানায় বসালো।

– ” কিছু না। কখন উঠলে ঘুম থেকে? ”

– ” মাত্রই। আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি? ”

– ” হুম। ”

– ” সে বললো আপনি নাকি আমাকে ভালোবাসেন। এটা কি সত্য? আমি আপনার মুখ থেকে শুনতে চাই কথাটা। ”

– ” আমার কাজ শেষ। ফিরবো আমরা। চলো রেডি হয়ে নাও। ”

– ” বলবেন না? ”

– “ভালোবাসায় বলার কিছু নেই, কিন্তু বুঝে নিতে হবে। আমার ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম চোখ এবং না বলা কথা। এবার তুমি খুজে নাও তোমার উত্তর। ”

– ” আপনি ভীষন বাজে একটা মানুষ। ”

– ” আমি না,তোমার বর। তোমার বর ভীষন বাজে। ”

সাদিয়া মুখ ভেঙচি দিয়ে চলে গেলো। মুহিব জোরে জোরে হাসছে। মুহিব যে তার মায়াপরিকে রাগিয়ে আনন্দ পায় সেটা কি তার মায়াপরি বুঝবে নাহ.?

আজ থেকে ২০ বছর আগে পরিদের রাজ্যে জন্ম হয় রাজকন্যা মায়ার। জ্বীনের বাদশাহ আবরারের ছোট বোনের মেয়ে। মায়ার নাম দেওয়া হয়েছিলো ওর চোখের জন্য। মায়া এমন একটা পরি যে চোখ দিয়ে সবাইকে বশ করে নিতে পারতো। তবে সে ছিলো দুষ্টু-মিষ্টি পরি। কারন তার বাবা ছিলো খারাপ জ্বীন ভালোবেসে সাফিয়া আর হাসিনের বিয়ে হয়। সাফিয়া প্রথমে জানতো না যে হাসিন খারাপ জ্বীন। মায়ার জন্মের পর মায়া নিজের শক্তি সবার ক্ষতিতে যখন কাজে লাগাতে শুরু করে তখন আবরার ফারহানের ছেলে ফারহান তাজওয়ার [ মুহিব ] কে সবার সামনে আনা হয়। মুহিব প্রথম দেখাতেই মায়াকে পছন্দ করে ফেলে। মায়া অবশ্য মুহিবকে পছন্দ করে না। মায়া শুধু নিজের শক্তি নিয়ে চিন্তা করতো। মায়া সবাইকে শুধু কষ্ট দিতে শিখেছিলো। আর মুহিব সবার কষ্ট দূর করার জন্য মায়ার রাগ নিজের মধ্যে সমাহিত করতো। যখন মায়ার ৫বছর বয়স তখন মায়াকে মানুষের মাঝে নিয়ে আসে মরিয়ম [ মুহিবের মা] এবং আবরারের অনুমতি নিয়ে সাদিয়ার মামির ভাইকে বিয়ে করে।

মরিয়মের বিয়ে পরপরই সেহের হয় তবে সেহের আবরারেরই কন্যা। আর তার দু বছর পর মরিয়ম পরিরাজ্যে চলে যায়। কিন্তু সবার চোখে সেও মৃত। মুহিব একদিন মায়াকে নিয়ে আসে ইব্রাহিমের [ সাদিয়ার বাবা ] কাছে। নিঃসন্তার দম্পতি তখন মায়াকে নিজের কন্যা হিসাবে দত্তক নেয়। তখন থেকেই মায়া হয়ে যায় সাদিয়া।

মানুষের মাঝে আসার পরও মায়া নিজের যাদু ব্যবহার করতে শুরু করে। ইব্রাহিমকে দুবার ছাদ থেকে ফেলে দেয়। দাদুকে আকাশে উঠিয়ে তিনচারদিন ঝুলিয়ে রাখতো। এসব দেখে মুহিব আবরারকে ডেকে এনে মায়ার সব শক্তি কেড়ে নেয়। মায়ার স্বৃতিশক্তি থেকে পরিলোকের সমস্ত কিছু মুছে দেয়। কথা ছিলো ২০ বছর হলে মায়ার সবকিছু আস্তে আস্তে মনে পড়ে যাবে।

কিন্তু ৬বছর আগে মায়ার খোজ জেনে যায় রাদ শাহামাত যে মুহিবের যমজ ভাই। রাদ জ্বীনদের মধ্যে সবথেকে বাজে, খারাপ এবং ভয়ংকর জ্বীন। যে মুহিবের অনুপস্থিতে মায়ার কাছে আসতো। কিন্তু কখনো স্পর্শ করতে পারতো না তাই স্বপ্নের মধ্যে ওকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। মায়ার ক্ষতি করার চেষ্টা করে। যেন ওর খারাপ শক্তি মায়ার মধ্যে প্রবেশ করে। কিন্তু মুহিব সেটা হতে দেয়নি। মুহিব এসে মায়ার সমস্ত কষ্ট দূর করতে থাকে। মায়ার দেখভাল করতে থাকে। কিন্তু আজকের পর থেকে মায়ার শক্তি দ্বিগুন হয়ে যাবে আর সেই শক্তিটা মুহিব পাবে। কারন মুহিব এখন তাজওয়ার যার অর্থ রাজা/বাদশাহ। তাই নিজের স্ত্রীর সমস্ত শক্তি সে নিজের মধ্যে সমাহিত করতে পারবে।

এসব ভাবার মাঝেই সাদিয়া বের হয় ওয়াসরুম থেকে। পরনে একটা লাল পাড়ের হলুদ জামদানি শাড়ি। চুল বেয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। সাদিয়া তোলায়ে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে আয়নার সামনে যায়। চুল মোছার সময় তোয়ালের সাথে বারি খেয়ে চুলের পানি মুহিবের মুখে এসে লাগে। আবেশে চোখ বুজে নেয় মুহিব। পরক্ষনেই সাদিয়ার চিৎকার শোনে ও। তাকিয়ে দেখে আয়নার মাঝে মায়ার, পরির চেহারা। ভয়ংকর রকমের সুন্দর আর রাজকীয় পোশাকে মুহিব মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায়। মায়া আয়নার মাঝে দাড়িয়ে মুহিবকে ডাকতে থাকে। মুহিবও যেতে লাগলো আয়নার কাছে। তখনই সাদিয়া ভয়ে মুহিবকে জরিয়ে ধরে। কেঁপে ওঠে মুহিব সেই সাথে আয়নার ভেতরে থাকা মায়া উচ্চস্বরে হেসে ওঠে।

– ” আমি মায়া না ফারহান। আমি ছাঁয়া। মায়ার ছাঁয়া।”

বলেই হাসলো অবয়বটি। মুহিরের সারা শরীর শিউরে উঠলো এ কথা শুনে। মুহিব তো ভুলেই গিয়েছিলো বাদশাহ আর রাজকন্যারা যমজ হয়। তাদের মধ্যে একজন হয় ভালো আরেকজন খারাপ। কিন্তু ছাঁয়া কেন এসেছে? তবে কি আবরারের কথাই সত্যি? ছাঁয়া মায়াকে মেরে নিজে পরিদের রানি হতে চায়?

মুহিব মায়াকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে নিজের শক্তিতে বাড়িতে ফিরে আসে।

[ সাদিয়াকে মায়া বলে ডাকা হবে পরের পর্বগুলোতে]

দুদিন পর মায়া নিজের ঘরের আয়নার সামনে দাড়িয়ে কুচি ঠিক করছিলো তখনই মুহিব ঘরে ঢোকে। মায়া দ্রুত নিজের শাড়ির আঁচল মাথায় দিতে যায় যার ফলস্বরূপ কুচির কাপড়টুকু নিচে পড়ে যায়।

– ” আমি কি সাহায্য করবো? ”

– ” নাহ, নাহ। আমি পারবো। আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আপনি কি কিছু খাবেন এখন? কিছু লাগবে? ”

– ” হ্যা লাগবে। তোমাকে প্রয়োজন এই মুহিবের। আর খাওয়ার কথা বলছো? একটা চুঁমুও তো দিলে না অথচ বিয়ের তিনদিন হয়ে গেলো। ”

মুহিবের কথায় লজ্জা পেলো মায়া। মাথা নিচু করে জমে যাওয়া বরফের ন্যায় দাড়িয়ে রইলো। মুহিব হেসে মায়ার শাড়ির কুচি ঠিক করতে থাকে। মুহিবের স্পর্শে রীতিমত কাঁপছে মায়া। মুহিব দুষ্টুমি করে মায়ার নাভির পাশে ছোট করে চুঁমু খেলো। শিহরণে মায়ার পা টলে উঠলো। চোখ বেয়ে পানি পড়ছে ওর। মুহিব ভয় পেয়ে যায় মায়ার কান্না দেখে। মায়া কি কষ্ট পেয়েছে? ওর অনুমনি না নেওয়ায় কি খারাপ লেগেছে ওর?

মুহিব মায়াকে কোলে তুলে বিছানায় বসালো। তারপর দুগালে হাত রেখে মিহিগলায় বললো

– ” কাঁদছো কেন? খারাপ লেগেছে? আসলে দুঃখিত। আমার উচিত ছিলো তোমার অনুমতি নেওয়ার। আর এমন হবে না। মাফ করে দিও। ”

মুহিব উঠে যেতেই মায়া মুহিবের হাত টেনে ধরে।
– ” সরি। ”

মুহিব মায়ার পাশে বসলো।
– ” কেন? ”

– ” কেঁদে ফেলেছি বলে। আপনার জন্য কাঁদিনি আমি। ”

মুহিব দুষ্টুমি করে বললো।
– তাহলে কার জন্য কেঁদেছো? আরো বর টর আছে নাকি? ”

– ” আসলে..”

– ” খারাপ লেগেছে আমার স্পর্শ? ”

মায়া দুপাশে মাথা নাড়লো। যার অর্থ না। মুহিব আবার ঠোট চেপে হাসলো। মায়ার কান্নার কারন ওর অজানা না মায়া মুহিবের স্পর্শে যে “তার” স্পর্শ পেয়েছে। সেটা মনে পড়ায় কেঁদে দিয়েছে। মুহিব গম্ভির গলায় বললো

– ” সুস্থ হয়েছো তুমি? ”

– ” মানে? ”

– ” মানে,, পিরিওড সেড়ে গেছে? [ লজ্জা পেলো মায়া ]তোমাকে তো কিছু বললেও বোঝো না। একদম ছোট বাচ্চা। মনে হচ্ছে মুহিবকে অনেক খাটতে হবে তার অবুঝ বউ এর জন্য। ”

– ” আপনি ভীষনননন..”

– ” পুরো করো কথাটা। আমি ভীষন অসভ্য তাইনা? তোমাকে পেতে হলে আমি এইটুকু অসভ্যতামি হাজার বার করতে রাজি।”

মুহিবের কথায় গোল গোল চোখ করে তাকায়। মুহিব মায়ার এমন রাগি মোটা চোখ দেখে কেঁশে ওঠে। তা দেখে মায়া শব্দ করে হাসে।

– ” জানেন জ্বীনটার কথা মনে পড়ছিলো আমার। কেন জানি না আমার সবসময় মনে হয় ও আমার সাথেই আছে,আমার পাশে, আমার কাছে আছে। ফিল করতে পারি ওকে। কেন বলুন তো? ”

– ” কারন তুমি পরজ্বীনের কথা নিজের স্বামীর থেকেও বেশি ভাবো। ”

– ” পরজ্বীন কি? ”

– ” মানুষদের যেমন পরপুরুষ বলে জ্বীনদের তাহলে পরজ্বীন বলবে। এটা স্বাভাবিক।” ভারি কন্ঠে বললো মুহিব।

মুহিবের কথা শুনে কেঁদে ওঠে মায়া। মুহিবের পা জরিয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। মুহিব এটা দেখে ভড়কে যায়।

– ” বিশ্বাস করুন। আমি ভাবিনা ওনার কথা। আমি এতোটা খারাপ না। বিয়ের আগে যা হয়েছে তা তো আপনি জানেনই। আমি আপনাকে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করেছি, যখন জ্বীনটা বলেছিলো সে আমাকে ভালোবাসে না তখন থেকেই সব দায় থেকে মুক্ত আমি। আমি বারবার সবকিছু ভুলতে চাই, কিন্তু পারি না। এ দোষ কি আমার? ”

– ” আরে পা ছাড়ো। আমি মজা করছিলাম। আমি তো দেখতে চেয়েছিলাম তুমি কি বলো..”

– ” আমি বলি কম, করি বেশি মুহিব।”

মায়ার চোখ লাল হয়ে উঠলো। মুহিবের চারপাশ থেকে একটা মায়াবী শেকল উঠতে লাগলো। মায়া বিকট শব্দ করে হাসছে। মুহিব আয়নায় তাকালো, ছাঁয়া দাড়িয়ে আছে। ছাঁয়ার মুখে ভয়ের ছাপ। মায়া শূণ্যে ভাসছে। তখনই সেহের আসে ঘরে। মায়াকে এভাবে দেখে সেহেরও ভয় পায়।মুহিবকে বেষ্টনিতে দিয়ে আটকে ফেলেছে মায়া।

সেহের নিজের গলা থেকে লকেটজাতীয় কিছু বের করে মায়ার সামনে ধরলো। মায়ার চোখ স্বাভাবিক হতে শুরু করে,, মায়া নিচে পড়ে যেতে লাগলেই সেহের এসে মায়াকে ধরে ফেলে।

সেহের আয়নার সামনে যায়।
– ” ভুলে যেওনা ছাঁয়া পরি, আমিও একজন রাজকন্যা।আমার জন্ম হয়েছে তোমার বিনাশের জন্য। আমি আমার দায়িত্ব নির্বিঘ্নে পালন করবো। শেষ করবো মায়াপরির ছাঁয়াকে। এটা সেহেরের ওয়াদা। ”

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here