মায়াপরি #সাদিয়া_আহমেদ_রোজ #পর্ব_০৪

0
364

#মায়াপরি
#সাদিয়া_আহমেদ_রোজ
#পর্ব_০৪

বন্ধঘরে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছে মায়া। ব্যাথায় সারা শরীর অবশ হয়ে আসছে। কিছুক্ষন আগে মুহিব এসে মায়াকে বেল্ট দিয়ে বেধরম পিটিয়েছে। যার ফল ভোগ করছে মায়া। অথচ কস্মিনকালেও মুহিব এটা কল্পনা করতে পারেনা। কিন্তু কে বোঝাবে মায়াকে যে ওটা মুহিব না, রাদ ছিলো। মধ্যরাতে বাড়ি ফেরে মুহিব। আর সেহের মুহিবকে দেখামাত্র সবটা জানিয়ে দেয়। মুহিবের সারা শরীর লাল বর্ণ ধারন করছে রাগে।

– ” ভাইজান বিশ্বাস করো আমি রাদ কে আটকানোর চেষ্টা করেছি, তোমাকে জানানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু আমার কোনো শক্তিই কাজ করছিলো না। আমি নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলাম। মায়াপরিকে রাদ প্রচন্ড মেরেছে। এমনকি মারার পর ওর কাটা জায়গা দিয়ে নিজের অশুভ শক্তি ওর ভেতর প্রবেশ করানোরও চেষ্টা করেছে। জানি না এখন মায়াপরি কেমন আছে। ভয় করছে ওর কাছে যেতে। ”

মুহিব কিছু না বলেই ঘরে ঢুকে যায়। লাইট অন করতেই দেখে মায়া দেওয়ালের কোনে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। মুহিবকে দেখে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে মায়া। মুহিব মায়ার পাশে এসে মায়াকে দেখতে লাগলো। সারা শরীরে দাগ বসে গেছে। মুখটুকুও ছাড়েনি। চোখের নিচে, ঠোটে সব জায়গা কেটে রক্তে মাখামাখি হয়ে গেছে।

– ” তোমাকে স্পর্শ করার অনুমতি চাই আমার। স্বামীর অধিকার চাই। দয়া করে অনুমতি দাও।”

মুহিবের কথায় রাগে, ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয় মায়া। মেরে শরীরের এমন অবস্থা করার পরও আবার শরীরটাকেই চাচ্ছে মুহিব? ভাবতেই গা গুলিয়ে ওঠে ওর। ওদিকে মুহিব চাচ্ছে মায়ার শক্তি নিজের মধ্যে নিতে যেন ওরা আর মায়ার ক্ষতি না করে। কিন্তু মায়ার অনুমতি ছাড়া তো ও মায়াকে স্পর্শ করতে পারবে না।

– ” কিছু বলো সাদিয়া। ”

মায়া বালিশে মুখ গুজে আরও জোরে কেঁদে ওঠে। কোনো উপায় না দেখে মুহিব, ফারহান তাজওয়ার হয়ে ওঠে। জ্বীন কন্ঠে বলে ওঠে

– ” আপনাকে স্পর্শ করার অধিকার কি আমি পাবো না মায়া? ”

জ্বীনকন্ঠ শুনে পেছন ফিরে তাকালো মায়া। আর মুহিবের মুখশ্রী দেখে স্থীর হয়ে গেলো। মুহিব শূণ্যে ভাসছে পরনে সাদা জুব্বা আর টুপি। সারা ঘর মিষ্টি আতরের ঘ্রানে ম’ম করছে।

– ” আপনি? ”

– ” আমিই ফারহান তাজওয়ার মুহিব। জ্বীনের বাদশাহ। আমিই রোজ আপনার কাছে আসতাম। আমাকে পাঠিয়েছেন আমার পিতা ওরফে আপনার মামাজান।আর যে মুহিব আপনাকে কষ্ট দেয় সে আর কেউ না আমারই যমজ ভাই রাদ। আপনি পরিকন্যা মায়া। কিছু মনে পড়ছে আপনার? ”

মায়া কঠিন গলায় বললো।
– ” নাহ। ”

– ” এখনও কি আমাকে বিশ্বাস করা যায় না? ”

– ” আপনি সত্য বলছেন তার প্রমাণ কি? হতে পারে আপনিই সেই দুষ্টু জ্বীন। ”

তখনই রাদ কক্ষে প্রবেশ করে। একসাথে দুটো মুহিবকে দেখে ভয়ে দেওয়ালের সাথে মিশে যায় মায়া।রাদও মুহিবকে দেখে অবাক হয়। ওদিকে মুহিবের শরীর ক্রমোশ আগুন হতে শুরু করে। মানুষ থেকে আগুনে রূপান্তর হয় মুহিব। সেই সাথে রাদও আগুন হয়ে যায়। মুহিব রাদকে মায়ার থেকে সড়িয়ে বাইরে নিয়ে যায়। সেহের সেই সুযোগে ঘরে আসে।

– ” ভাবি দয়া করে ভাইয়াকে তোমার কাছে আসার অনুমতি দাও। আজকের রাত টা পার হয়ে গেলে রাদের শক্তি তোমার ভেতরে চলে আসবে। তুমি খারাপ পরিতে পরিনত হবে। একবার বিশ্বাস রাখো ভাইয়ার ওপর তোমার সব কষ্ট দূর করে দেবে ভাইয়া। ”

– ” তুমি ঘরে যাও সেহের। তুমি ছোট ভয় পাবে। ”

– ” আমি তোমার ৬বছরের ছোট তবে তুমি শক্তিহীন বলে আমাদের থেকে কম ম্যাচিউর। রাজকন্যা আমি। ভয় আমাকে শোভা দেয় না। ”

– ” তুমি? ”

– ” জ্বীন কন্যা। তুমিও জ্বীন এবং পরিকন্যা ভাবি। মনে করার চেষ্টা করো সবকিছু, ঠিক মনে পড়বে। তুমি ভাইজানকে ভুল বুঝো না। দয়া করে ওকে আর কষ্ট দিও না। ”

– ” একি তুমি কাঁদছো কেন? আরে বোকা মেয়ে কাঁদছো কেন? আমার তো এটাই প্রাপ্তি যে আমি যাকে চেয়েছি তাকেই পেয়েছি। কিন্তু এর বাইরেও কিছু আছে যেটা আমি জানি না। ”

– ” সবটা জানতে পারবে। কাল সকালে তোমার সবটা মনে পড়ে যাবে। তারপর তুমি সবথেকে শক্তিশালী পরিতে পরিণত হবে। এটাই ছিলো সেই অভিশাপ। ”

– ” কোন অভিশাপ? ”

– ” ভাইয়া চলে এসেছে। তুমি থাকো আমি যাই। ”

সেহের চলে যায়। মুহিব ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে মায়ার দিকে। যুদ্ধ করে ক্লান্ত সে। মায়া মুহিবকে এভাবে দেখে উঠে দাড়ায়। মুহিব দ্রুত এসে মায়াকে ধরে কাতর কন্ঠে বলে।

– ” আরে আরে উঠছো কেন? দূর্বল তুমি। তুমি গিয়ে ঘুমাও আমি ঠিক আছে।। আর কিছু লাগলে ডেকো। ”

– ” আমি আপনাকে আপনার অধিকার দিতে চাই মুহিব। আমি দাড়িয়েছি শুধু এটা দেখার জন্য যে আপনি আমার মুহিব কিনা? আমার মুহিব কখনো আমাকে কষ্ট দিতে পারে না, কষ্টে দেখতে পারে না। আর যে আমাকে মেরেছে সে তো আপনি নন। তাহলে আপনি কেন আপনার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন? আমার স্বামী আপনি তাই আমার ওপর সম্পূর্ণ অধিকার আছে আপনার। আমি নিজে আপনার কাছে ধরা দিয়েছি তার একটাই কারন ‘ আমার অতিত ও অভিশাপ সম্পর্কে জানতে চাই আমি।’ আপনি আগে রেস্ট নিন। আমি আপনার জন্য পানি আনছি। ”

– ” পানি লাগবে না। তুমি আমাকে স্পর্শ করলেই আমার সব শক্তি ফিরে আসবে। আর ধন্যবাদ আমার কথা রাখার জন্য। ”

মুহিবের কথা শুনে রেগে যায় মায়া। এভাবে বেহায়ার মতো আত্মসমর্পণ করেছে কি ধন্যবাদ শোনার জন্য? এই মুহূর্ত মুহিবকে জ্বীন নয় এলিয়েন মনে হচ্ছে মায়ার কাছে। কিন্তু মায়াও কম বুদ্ধিমতী নয়, সে পাল্টা উত্তর দেয়

– ” ধন্যবাদ আমাকে তার মতো করে ভালোবাসার জন্য।জ্বীনহুজুর। ”

মায়ার কথায় মুচকি হাসে মুহিব। মায়ার দুগাল ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে মায়াকে। ১৫বছরের অপেক্ষার ফল এই রাত। আকাশ থেকে একফাঁলি চাঁদের স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে পড়ছে সারা ঘরে। পরিপূর্ন হচ্ছে দুটি মন, আর আসতে চলেছে জ্বীনজাতির ভাবি তাজওয়ার।

সকালে ঘুম ভাঙতেই নিজেকে মুহিবের সাথে লেপ্টে থাকা অবস্থায় দেখতে পায় মায়া। লজ্জায় মুখ নীল বর্ণ ধারন করেছে। মুহিবের রোমশ বুক যে মায়ার দূর্বলতা এটা বোধ হয় মুহিব জানে তাই গোসল করে নামায পড়ে খালি গায়েই শুয়েছে। মায়াও নামায পড়ে নিলো।বিছানার কাছে আসতেই মায়া দেখতে পায় মুহিব ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

– ” কি দেখছেন জ্বীনহুজুর? ”

– ” আমার ভাবি সন্তানের মা’কে। আমি সত্যিই ভাবিনি মায়া তুমি আমাকে ভালোবাসবে। ছোটবেলায় তো কম কষ্ট দেইনি আমি। তুমি ভুল করলে, আমার কষ্ট হলেও আমি তোমাকে মারতাম। তোমাকে একা পরিরাজ্য থেকে জঙ্গলে ছেড়ে আসতাম। তুমি কাঁদতে তবুও নিয়ে আসতাম না। বিশ্বাস করো আমি ইচ্ছা করে কিছু করতাম না। নিরুপায় ছিলাম আমি। কিন্তু সবকিছুর মাঝে একটা সত্যি হলো আমি তোমাকে দেখার প্রথমদিন থেকে তোমাকে ভালোবেসেছি, তোমার পাশে থেকেছি। আর আজও তোমাকেই ভালোবাসি। ”

– ” তাই? তাহলে আজ আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনান। ”

– ” আজ নাহ। কাল। ”

– ” কেন কাল কেন? আজ শুনতে চেয়েছি আজ শোনাবেন।”

– ” তোমার ভেতরে রাদের শক্তি আছে। আল কুরআনের আলো ও বাণী তুমি সহ্য করতে পারবে না। তোমাকে আগে পরিলোকে যেতে হবে। সেখানে তোমাকে তাজ পড়ানো হবে। তোমার ভাই রিফাত অপেক্ষা করছে তোমার জন্য। ”

– ” রিফাত? ”

– ” হুম। তুমি আসার পর একদুষ্টু পরির একটা ছেলে হয়। পরিটাকে মেরে ফেলে এক হুজুর। তারপর থেকেই রিফাত তোমার মায়ের কাছেই থাকতো।”

– ” আমার কিছু মনে পড়েনি। ”

– ” কোনো ব্যাপার না। আচ্ছা মায়া কখনো যদি জানতে পারো আমি অনেক বড় একটা ভুল করেছি। তখন কি করবে? ”

মায়া উত্তর দেয়।
– ” ক্ষমা করে দিবো। ”

– ” যদি জানতে পারো তোমার সাথে অন্যায় করেছি? ”

– ” তাহলেও ক্ষমা করে দেবো।”

মুহিব কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। মায়া নিজের পেতে হাত বোলাচ্ছে। কেমন জানি লাগছে ওর। মনে হচ্ছে পেটে কিছু আছে।

– ” কি হলো? ”

– ” পেটে কেমন জানি লাগছে। ”

– ” সে আসছে। তাই এমন লাগছে। দাড়াও ব্যাথা কমিয়ে দিচ্ছি। ”

মুহিব চোখ বুজে মায়ার পেট স্পর্শ করে। শীতল হাতের স্পর্ষে কেঁপে ওঠে মায়া। শিহরণে চোখ বুজে নেয়। আস্তে আস্তে ও অনুভব করে ব্যাথাটা আগের মতো নেই। মুহিব মায়ার চোখ বোজা দেখে মৃদু হাসলো।

– ” নিন মায়াপরি হয়ে গেছে। আপনার ছেলেটা ভীষন দুষ্টু হবে বুঝলেন? ”

– ” এতো তাড়াতাড়ি? কিভাবে কি? ”

– ” আপনার প্রেমিকের পাওয়ার। দেখলেন তো একরাতের মধ্যেই মা বানিয়ে দিলাম। ”

মায়া চোখ খুললো না। ও ভালো করেই জানে মুহিব এখন ওর দিকেই তাকিয়ে ঠোট বাঁকিয়ে হাসছে। যা দেখলে ও আরও বেশি লজ্জা পাবে। সেহের রুমে এসে ওদের এভাবে দেখে লজ্জা পেয়ে যায়। তবুও নক করে।

– ” আসতে পারি? ভাবি তাজওয়ারের মাতাপিতা? ”

মুহিব সড়ে দাড়িয়ে সেহেরকে ঘরে আসার অনুমতি দেয়। সেহের ঘরে ঢুকে মুহিবকে কিছু একটা বলে। মায়া চুলে বেনি করছে।

– ” ভাবিজান বেনি করো না। ছাড়াই ভালো লাগছে। তোমরা বসো আমি সবাইকে জানিয়ে আসি যে আমরা কিছুদিনের জন্য আমাদের বাড়ি যাচ্ছি।”

– ” মিথ্যা বলবা? জ্বীনপরিরাও কি মিথ্যা বলে? ”

– ” মিথ্যা কোথায় বললাম? মানুষের কাছে থাকার সুবাদে আরেকটা বাড়ি পেয়েছি কিন্তু আসল বাড়ি তো পরিরাজ্যে। ”

– ” ওহ। ”

– ” বুঝলে ভাইজান, ভাবিজান কিন্তু এখনো বোকাই রয়ে গেছে। কিচ্ছুটি বোঝে না। তাড়াতাড়ি তাজ পড়াতে হবে। তখন চট করে বড় হয়ে যাবে। ”

সেহেরের কথায় হাসলো মুহিব। তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো। মায়া শুধু দেখলো ওদের গাড়িটা আস্তে আস্তে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। ওরা মেঘের ওপর ভাসছে। পড়ে যাওয়ার ভয়ে ও দ্রুত মুহিবের হাত চেপে ধরে। মুহিব মায়াকে নিজের সাথে মিশিয়ে একহাতে আগলে রাখে।

– ” ভয় নেই পড়বে না তুমি। তোমার মুহিব তোমাকে আগলে রাখবে সবসময়। ”

সেহের হেসে বলে
– ” আজ একটা বর নেই বলে। ”

– ” রিফাতের সাথে কি চলছে তোর? সব খবরই কিন্তু আমার কানে আসে। ”

– ” ইশ ওটা মোটেই সেহের না ওটা আয়েশা। ”

মায়া চমকে তাকায় সেহেরের দিকে। মায়ার এমন চাহুনিতে ঘাবড়ে যায় সেহের। মায়া প্রশ্ন করে

– ” তোমারও যমজ বোন আয়েশা আছে? পরিরাজ্যে কি সব দু-টো দু-টো? আমার যমজ বোন নেই? ”

– ” আরে না। পরিরাজ্যে আমার নাম আয়েশা আর ভাইয়াকে সবাই তাজওয়ার বলে ডাকে। যেমন পরিলোকে তুমি মায়াজান। ”

– ” মায়াজান? আমি না মায়াপরি? ”

– ” মায়াপরি নামে শুধু ভাইয়া ডাকে তোমাকে। এ নামে ডাকার অধিকার ভাইয়া বাদে মাত্র পাঁচজনের আছে,, ১. আমার আম্মু ২. তোমার আম্মু ৩.আমার আব্বু ৪. আমার ৫. রিফাতের। ”

– ” কতক্ষন লাগবে যেতে? বাতাসে ভাসতে ভালোই লাগছে। দেরি করে চলো না। ”

মায়ার কথায় হাসলো মুহিব। দূরে পরিরাজ্যের সদর দরজা দেখা যাচ্ছে। স্বর্ণের তৈরি দরজা। দরজার কাছাকাছি আসতেই দরজাটা খুলে যায়। সামনে তাকাতেই ভয় পেয়ে যায় মায়া। লম্বা লম্বা ফর্সা মানুষ। মেয়েগুলোর পিঠে জামার সাথে ম্যাচিং করা পাখনা। মায়া দরজার ভেতর পা রাখতেই ওর শাড়ি গায়েব হয়ে যায়। শূণ্যে সাদা কাপড়ের আবরণে ভাসছে ও। একসময় নিচে নেমে আসে মায়া। সাদা গাউন পড়ে। সামনের ছেলে আর মেয়েগুলোও এখন স্বাভাবিক। মুহিবের দিকে তাকাতেই মায়া দেখতে পায়,, সোনালী রং এর রাজকীয় পোশাকে সজ্জিত মুহিব তার পাশে গোলাপি গাউনে সেহের।

– ” এসব কি হচ্ছে? ”

মুহিব উত্তর দেয়।
– ” মায়াজানের স্বাগতমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ”

মুহিব মায়ার একহাত ধরে সামনের দিকে পা বাড়ালো। স্বর্ণের তৈরি নরম ফুলের বর্ষন হচ্ছে পরিরাজ্যের তাজওয়ারও ও মায়াজানের ওপর। মেঘের ওপর দিয়ে হেটে যাচ্ছে ওরা। দুপাশে ঝর্ণা।

– ” কেমন লাগছে মায়াপরি? ”

– ” স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হচ্ছে। এতোসুন্দর একটা জায়গা। আমি আগে কখনো দেখিনি। ”

চারপাশ থেকে উচ্চস্বরে প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো।
– ” স্বাগতম মায়াজান। পরিরাজ্যে আপনাকে স্বাগতম।”

সামনে বিশাল বড় একটা স্বর্ণের প্রাসাদ। আর প্রাসাদের সদর দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে চারজন। দুজনের মাথায় মুকুট আর একজনকে দেখেই মনে হচ্ছে সেও রাজকন্যা কারন সে সেহেরের মতো জামা পড়েছে। আর একটা সূদর্শন ছেলে।

– ” ওরা কারা? ”

– ” আম্মুজান, আব্বুজান, ফুপিজান আর রিফাত। হালকা গোলাপী গাউনে তোমার আম্মু। ”

সেহের দৌড়ে গিয়ে মরিয়মকে জরিয়ে ধরে। মায়া সবার সামনে গিয়ে মাথা নিচু করে সালাম দেয়। সালামের উত্তর দিলো সবাই। সাফিয়া নিজের মেয়েকে বুকে টেনে নিলো।

– ” কেমন আছো আম্মুজান? ”

– ” ভালো। আপনি? ”

– ” তোমাকে দেখে অনেক ভালো লাগছে। ভেতরে চলো। আয়েশা ওদের নিয়ে আসো ”

– ” জি ফুপিজান। ”

চলবে।

[ নাম নিয়ে অনেকের সমস্যা হতে পারে তাই নামটা ক্লিয়ার করে দিচ্ছি।

সাদিয়া -> মায়াপরি এবং পরিরাজ্যে মায়াকে মায়াজান বলে ডাকা হয়।

মুহিব -> ফারহান তাজওয়ার। জ্বীনের বাদশাহ। পরিরাজ্যে সবাই তাজওয়ার ডাকে ওকে।

সেহের -> পরিরাজ্যে সেহেরকে আয়েশা বলে ডাকা হয়। রাজকন্যা ও।

মরিয়ম ->মুহিব ও আয়েশার আম্মু। পরি-রানি।

আবরার -> মুহিব ও আয়েশার আব্বু। জ্বীনের বাদশাহ ছিলেন।

সাফিয়া -> মায়ার আম্মু। রাজকন্যা।

হাসিন -> মায়ার আব্বু। দুষ্টু জ্বীন।

রিফাত -> মায়ার ভাই। এক দুষ্টু পরির পুত্র। দুষ্টু পরি মারা যাওয়ার পর সাফিয়া ওকে নিজের কাছে রাখে।

ছাঁয়াপরি -> মায়ার যমজ বোন। দুষ্টু পরি।

রাদ শাহামাত -> মুহিবের যমজ ভাই। সব থেকে খারাপ জ্বীন।

♣♣
আজ থেকে আবার রেগুলার গল্প পাবেন। ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here