অতিরিক্ত চাওয়া { ২ } ২

অতিরিক্ত চাওয়া { ২ }

— I control my emotions pretty well, but when you come around it’s all over the place.

ক্লাসে বসেই স্ট্যাটাস টা এই নিয়ে ১০ বার পড়ে ফেলেছে শিলা! এবং তা চেঁচিয়ে পড়ছে। বিষাক্ত মুখ নিয়ে শুনতে হচ্ছে বেলীকে ! সাতসকাল বেলা লোকটির চেহরা দেখতে হয়েছে! এই দিন কি আর ভালো যাবে? তার উপড় আবার এই মেয়ে সেই ব্যাক্তির স্ট্যাটাস নিয়ে গুনগান গাইছে মাজায় কোমর বেঁধে! দিন দুনিয়ায় আর কিছুই ভালো লাগছে না বেলীর! ফেঁকাসে মুখ নিয়ে সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো শিলাকে! কিন্তু শিলা সেদিকে ধ্যানই দিলো না। আপন মনে বলে যাচ্ছে..,
— লাইন গুলো মনে হচ্ছে আমার জন্য ডেডিকেট করা। কারণ আমার রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর-ই স্ট্যাটাস ছেড়েছে। ইশ, লজ্জা লাগছে।
— হ্যাঁ বোন আমার তোর জন্যই লিখেছে। এখন গিয়ে পায়ে ঝুল গিয়ে। লাত্থি মারলেও ছাড়বি না। একদম শক্ত করে ধরে থাকবি।
— তাকে নিয়ে তোর এতো সমস্যা কেন?
— তোর নানির হচ্ছে যে!
কথায় না পেরে শিলা বলল,
— কামারখালি যাবি?
বেলী আপসেট স্বরে বলল,
— মা? সে তো,
— দিবে, দিবে! আমার মা আজ তোদের বাড়ি যাবে বলল! আমিও যাবো! বিমান আপুকে সাথে নিলে যেতে দিবে!
ক্লাসের ইংলিশ শিক্ষক তার হাতের চক ছুড়ে মারলো শিলার দিক!
~ কি সাংঘাতিক। সামনে বসে বেয়াদবি।
কথা বলতে বলতে শিক্ষক শিলার হাত থেকে ফোন কেঁড়ে নিলেন। এবং ফোন ফিরত দিবে না সেটাও জানালেন। এবং পুরো ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকতে হবে দু’জনকে।

ক্লাস শেষে বেলীকে টেনে নিয়ে গেটে আসলো শীলা। তার চেহারায় চিন্তার ছাপ। ফোন নেওয়ার জন্য মা-বাবা আনতে হবে। আর সেটা শিলা করতে পারবে না। তাকে মাইর দিবে বাড়িতে। ফোন আর দিবেও না চালাতে। এখন সাহায্য করতে পারে বেলীর আব্বু। কিন্তু সে শীলার বাবাকে বিচার দিবে। তাই দ্বিতীয় রাস্তা হলো তৃষ্ণা। চেয়ারম্যানের ছেলে বললে দিয়ে ভালো ও বলবে। বেলী তৃষ্ণাকে দেখেই কাঁপতে লাগলো। মনেমনে যতই বলুক সামনে যে সে ভীতু। ভিষণ ভীতু।
তৃষ্ণা মিষ্টি স্বরে বলল,
— এনি প্রব্লেম শিলা?
শিলা খুলে বলল। তৃষ্ণা বেলীর দিক তাকিয়ে বলল,
— ফোন কার?
শীলা কান্না কন্ঠে বলল,
— আমার ভাইয়া।
তৃষ্ণা বেলীকে ধমকে বলল,
— ফোন নিয়ে স্কুলে কি?
বেলী মিনমিন করে বলল,
— আমাকে কেন বলছে। ফোন আমার না। আমার বাবাকে বিচার দিবেন না।
— আচ্ছা দিব না। আর শিলার ফোন ও এনে দিব।
শিলা চেঁচিয়ে উঠল,
— সত্যি?
— হ্যাঁ। বেলী?
— জ্বি।
— তুই কি চাস?
— এটাই। যেটা শিলা বলছে।
— তো যা। ওখানে গিয়ে দাঁড়া। আর দু হাতের দু আঙুল দিয়ে কপালের সামনে সিং বানা। যা দ্রুত।
বেলী জানত এমন কিছু। তাই আসতে চায় নি। পেছনে অসহায় দৃষ্টিতে তাকাল। আবিদ দু-হাতে বোঝালো সে কিছুই করতে পারবে না। শিলা হালকা গলায় বলল,
— যা না জান আমার। একটুই তো।
বেলী গিয়ে সেভাবে দাঁড়াতেই তৃষ্ণা কিছু ছবি তুলল।
— একটা হাসি দে।
বেলী জোরপূর্বক হাসলো।
অতএব তৃষ্ণা বেশ দ্রুত ফোন এনে দিলো।

ধবধবে সাদা স্কুল ড্রেস কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটছে বেলী। সাথে শিলা এবং আরও কিছু একই স্কুলের সাথিরা। পেছনে বাবলু তার বন্ধুদের সাথে। হালকা ঠান্ডা শীতল বাতাসে বিনুনির ফিতা গুলো উড়ছে বেলীর ! দু’পাশে উঁচু উঁচু গাছের মাঝে যাচ্ছে সরু ইটের রাস্তা! রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে মোটরচালিত গাড়ি গুলো! তাজা রৌদ্রে নদির পানি গুলো চিকচিক করছে! মোহময় পরিবেশ। শিলার আওয়াজে ধ্যান ভাঙলো বেলীর,
— তৃষ্ণা ভাই মারামারি করেছে শুনলাম। তুখোড় মারামারি। ছেলেকে নাকি হসপিটাইযড করতে হচ্ছে। সেই গ্যাঞ্জাম হয়েছে ওপারে। অথচ সে দেখ। পুরোই ফিটফাট।
— ফিটফাট? লোকটা ভয়ংকর।
শিলা জবাব দিল,
— কি বলছিস আবল-তাবল। তোর চোখ নেই।
আজ সবাই মিলে হেঁটে যাচ্ছে! আজ নতুন না, প্রায় হেঁটে যাওয়া হয়! ৫ টাকার রাস্তা আর কতো দুরই বা হবে!
মাঝপথে পৌছাতেই নিচে ঘাট দেখা যাচ্ছে ! এখান থেকে নৌকা চড়ে যাওয়া হয় কামারখালি! কামারখালি অনেকটা শহরের মতো! ওখানে সব পাওয়া যায়! বেলির যখন কোনো কিছু প্রয়োজন হয় তখন বিমানের সাথে ওপারে যেতে পারে! মাঝে মাঝে ঘুড়তে বাবার সাথে বা শিলার সাথেও যাওয়া হয়েছে! এই নদির অল্পাংশ জুড়ে প্রেমের নদি বলা হয়! কারন ও আছে! কোনো এক কালে নাকি জমিদারের মেয়ে ও তার প্রেমিক এই নদিতে আত্নহত্যা করেন তাদের ভালোবাসা অমর করার জন্য! বেলি পুরো কাহিনীটা জানে না! জানার ইচ্ছায় আছে ! কিন্তু যাকেই জিজ্ঞেস করেছে সেই বলে সঠিক ভাবে জানে না! পেছনে বাবলুর চাপাবাজীর আওয়াজ শোনা গেলো,
— ভাবছি বলিউড নায়ক হবো ? স্টাইলিশ, স্টাইলিশ পোস মাড়বো! চুটকি দিতেই নায়িকা পাবো নতুন নতুন! লীলাখেলায় মাতোয়ারা হবো!
সেই মাতোয়ারার নেশায় গান গাইবো..
‘ চিকন চাকন মাঞ্জা দোলে গানের তালে তালে.. হাসি দিলে টোল পরে তোমার দুটি গালে..
চুপিচুপি ডাকো তুমি কাছে আসো না..
আসলে তুমি আমায় ভালোবাসো না..
তুমি ঝালাইয়া গেলা মনের আগুন, নিভাইয়া গেলা না..

শিলা হাসতে হাসতে শেষ! বেলী বাবলুর মাথায় থাপ্পড় ও মেরে দিল। তাও বাবলুর কথা থামানো যাচ্ছে না। সে তার মতো বলেই যাচ্ছে। ব্রিজের বরাবর আসতেই সেই চেনা জিপগাড়ি দেখে বেলী পা প্রায় থেমে যাচ্ছে ! বাবলু সাপের মতো মিনিটেই গাড়ির সামনে! বাবলুর সাথে তৃষ্ণার ভাব একটু বেশি! তাদের দু’জনের নানান কথা! তার মাঝে বিশেষ টপিক হলো বেলীকে পঁচানো! উদ্ভট, উদ্ভট নাম রাখবে তার! নামগুলো থেকে ভালো একটা বেছে সেই নাম নিয়ে এক সপ্তাহ ডাকবে! ঠিক এক সপ্তাহ হলে নাম চেঞ্জ! অন্যানো নাম খুঁজা শুরু করবে! সেই নামগুলোর কয়েকটা ” কচ্ছপ, বাটারবন, বোতলের ঢাকনা, ড্যানিস, টিকটিকির ডিম, ইরেজার ! আপাতত চলছে ” পাউরুটি “! অবশ্য তৃষ্ণার মুড ভালো থাকলে সে গভীর কন্ঠে বেলী ডাকে।
বেলী আঁড়চোখে তৃষ্ণার দিক তাকালো! তৃষ্ণা একধ্যানে তাকিয়ে বেলীর চাহনিতে ! বেলী নড়েচড়ে হাঁটতে লাগলো। আবারও তাকাল তৃষ্ণার দিক। লোকটার চাহনি বেলী একদম নিতে পারে না। একদম না। ভয়ংকর ভাবে ভেতর মুচড়ে উঠে। দেখা গেলো এক-ধ্যানে তাকানোর ফলে তৃষ্ণার হাতে থাকা সিগারেটে আঙুলে লালচে হয়ে গেলো। আবিদ দ্রুত পাশের দোকান থেকে পানি এনে আঙুল ভেজালো।
লোকটা এখনও তাকিয়ে বেলীর দিক। কি দেখে এতো? কি আছে বেলীর মাঝে। বেলী চোখ পিটপিট করতেই তৃষ্ণা অন্যদিক তাকাল।

নানার দোকানের সামনে যেতেই টাম্মি দৌঁড়ে বেলীর সামনে গিয়ে সামনের পা দু’টো উঁচু করে রেখেছে! ঘেউঘেউ করে উঠছে ! জিহ্বা ঝুলিয়ে কেমন মায়াময় ভাবে তাকিয়ে! বেলী হাটু মুড়ে টাম্মিকে আদর করতে লাগলো! টাম্মির চোখে পানি দেখে থতমত খেয়ে গেলো! শরীরে কাঁদা দেখে দ্রুতো ভালো ভাবে টাম্মির শরীর দেখতে লাগলো! লেজের পাশে গর্ত হয়ে কাটা! লাল রক্ত আশেপাশে কিছুটা লেগে! রক্তের কারনে শরীরের পশম কিছুটা ভেজা! কেউ কিছু দিয়ে মেড়েছে!
— কি হয়েছে?
টাম্মি ঘেউঘেউ করছে! আর বেলীর জামা মুখে নিয়ে টেনে যাচ্ছে৷ বেলীও চলল৷ ব্রিজের সাইডে পৌঁছাতেই দেকগা যাচ্ছে, এক মাঝবয়সী লোক বসে আছে! হাতে লাঠি! ওখনে গিয়ে টাম্মি আরও চেঁচাচ্ছে। এবং সামনে গিয়ে আবার ফিরত আসছে। বেলীরর রাগে কান্না পাচ্ছে। কিভাবে মেড়েছে,
— আপনি ওকে মেরেছেন?
— হ্যাঁ ,
বেলী শক্ত গলায় বলল,
— কেন মেরেছেন জবাব দিন। এক্ষুনি।
— সাহস তো কম না?
— আপনি কেন মেরেছেন?
— আমার লুঙ্গি টানছিল।
— শুধু শুধু কেন টানবে? আপনি আগে নিশ্চয়ই মেরেছেন।
এমন অমানুষিক ভাবে কিভাবে আঘাত করলেন? বিবেক নেই আপনার? বেঁচে দিয়েছেন?
লোকটা থতমত খেয়ে গেলো! কিছুক্ষন ভ্রু-উচু করে তাকিয়ে রইলো!
—বড় গুরুজনের সাথে কেমনে কথা কইতে হয়, বাপ মা শিক্ষা দেয় নি?
পেছন দিয়ে বাবলু জবাব দিল,
— দিয়েছে! কিন্তু অমানুষের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সেটার শিক্ষা দিতে ভুলে গেছে! তা আপনি জানেন কিভাবে বলতে হয় তাদের সাথে কথা?
লোকটা তীব্র রাগে বলল,
— কি অসভ্য ছেলে-মেয়ে। এই কার বাড়ির তোরা?
টাম্মি আবারও ঘেউঘেউ করে তেড়ে যাচ্ছে লোকটির দিক৷ বেলী রাগীনি ভাবে দু’হাতে টাম্মিকে কোলে তুলে নিল৷ এবং লোকটিকে বিশ্রী চাহনি দিয়ে বলল,
— জঘন্য রকমের অমানুষিক কাজ এটা। আপনার এমন করা উচিৎ হয় নি আংকেল। ফিউচারে এমন কিছু করলে
ছেড়ে কথা বলব না।
বাবলু অহেতুক কথা বলে যাচ্ছে। বেলী তাকে ধমক দিয়ে সামনে হাঁটা ধরলো! বাবলুও স্ক্যাল ঘুড়াতে ঘুড়াতে পিছন চলল! লোকটি লুঙ্গী ঠিক করে রাগি ভাবে তাকিয়ে! হাঁটতে হাঁটতে এক লোক বলল..
” আনন্দ মাষ্টারের ছেলে মেয়ে দুইটাই!

বাড়িতে পৌছে বেলী টাম্মির ক্ষততে স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করছে আর আনন্দের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে কিভাবে টাম্মি ব্যাথা পেলো! সব শুনে আনন্দেরও বেশ রাগ হলো! সেও তো টাম্মির মায়ায় বাধা! যতোই সে মুখ দিয়ে অন্যকিছু বলুক! মন থেকে তো টাম্মিও তার বাড়ির সদস্য! আনন্দ তখনি টাম্মিকে কাপড়ে পেঁচিয়ে ডাক্তারের খোঁজে চলল!

খুশি মাটির চুলায় আলু ভাজি বসিয়ে বেলীকে লাঠি ঠেলতে দিলো! সে পুকুর পাড়ে গোসল করতে চলে গেলো! যোহরের আযান দিয়ে দেবে তাকে নামাজ ও পড়তে হবে! বিমান মাত্র বাড়িতে ফিরলো ভার্সিটি থেকে! তার মা, মা চিল্লানি তে খুশি পুকুরপাড় থেকে জবাব দিচ্ছে! উঠানে ভাঙ্গা গাড়ি টা ঠিক করার জন্য উঠে_পুঠে লেগেছে বাবলু! গাড়িটা সে স্কুল থেকে ফিরবার পথে পেয়েছে!
চুলোর কালো ধোয়া গুলো ধীরে ধীরে বিলিয়ে যাচ্ছে বাতাসের সাথে! চারপাশে আগুন গুলো দাউদাউ করে জলছে! বেলী খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে কালো ধোয়া গুলোকে! আগুনের দিক তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করছে! অদ্ভুত সুন্দর! অতিসুন্দর!

দুপুরের খাওয়া শেষে বিমান ফোন টিপাচ্ছে! বেলী ধীরেধীরে বিমানের পাশে বসলো! বিমান তৃষ্ণার ফেইসবুক আইডি ঘুড়ছে! প্রোফাইল পিকচারটা বেশ সুন্দর কালো জ্যাকেটের নিচে সাদা শার্টটি দেখা যাচ্ছে! বেলি ভ্রু-কুঁচকে বিমানের দিক তাকিয়ে! বিমান তারমতো সে তৃষ্ণার আইডি চেইক করেই যাচ্ছে!

বিকেলে শিলা তার মা কে নিয়ে হাজির বেলীদের বাড়িতে! খুশি শিলার মা কে দেখেই দ্রুতো উঠানে চেয়ার দিয়ে দিলো বসবার জন্য! নিজেও একটি চেয়ারে পাশে বসলো! পান চিবুতে চিবুতে দুজনের কথার তুমুল ঝড় শুরু! শিলা পিছনের রুমে চলে এলো!
— বিমান আপু চলো কামারখালি যাই!
— কেনো?
— আমি কিছু চুড়ি আর থ্রি পিস নেবো!
— যাওয়া যায় তাহলে!
বাবলু ভ্রু উঁচু করে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে ভাবার চিন্তা করে বলল..
— বাবাকে এতো করে বলছি বাড়ির বিমানটা বেঁচে দাও! বড়লোক হয়ে যাবো! কে শুনে কার কথা!
বিমান মা, মা বলে উঠানে যেতে লাগলো..
— আজ তোকে মাড় খাওয়াবো সয়তান ছেলে!
— আরে আমিতো বিমানের কথা বলছিলাম! তাই না পাউরুটি?
বেলূ গাল বেঁকিয়ে মাথা আচড়ানো তে মনোযোগ দিলো!
এইবার বিমান তার হাতের মোবাইল বাবলুর দিক ছুড়ে মেড়লো! ভালোভাবে বুঝলো সে মোবাইল ছুড়েছে নিজেই চিৎকার দিয়ে উঠলো! আর এদিকে মোবাইল কেঁচ করে বাবলু দৌঁড়!

ঘাটের কাছে সকলে পৌঁছিয়েছে! শুধু বেলী এখনো উপড়ে দাঁড়িয়ে টাম্মিকে বোঝাচ্ছে! টাম্মিকে নিয়ে ওপাড় গেলে সে হাড়িয়ে যাবে! ওরা কেউ খেয়াল রাখবে না! বেলী ৫ টাকা টাম্মির মুখে দিয়ে দোকানের দিক যেতে ইশারা করলো! ওমনি টাম্মি দৌড়!
৩_৪ টা নৌকা ঘাটে বাঁধা! দু’টো নৌকায় মানুষ ভর্তি! আর একটায় বিমান, শিলা, বাবলু আরো কিছু মানুষ ও রয়েছে! কিন্তু, বেলির যায়গায় হবে! সে উঠবে তখনি লোকটা বেলির পিছনে তাকিয়ে নৌকা ছেড়ে দিলো! পড়তে নিয়েও পাশের লোকের হাত ধরে বেঁচে গেলো! বাম সাইডে তাকালো! অভি, আবিদ, আয়ুশ কে দেখেই সে ঢোক গিলল! চোখ উল্টিয়ে পিছনে তাকালো! তৃষ্ণা সিগ্রেট টানছে!এবং বেলীর দিক চেয়ে। বেলীকে অবাক করে দিয়ে, হঠাৎ অভি, আবিদ, আয়ুশ আপন মনে উপড়ের দিক উঠে চলে যাচ্ছে! অথচ পিছনে তৃষ্ণা এখনো দাঁড়িয়ে! নৌকা থেকে শিলা, বিমান চেঁচাচ্ছে..
-* পাশের নৌকায় উঠে পড় !
বাবলু হালকা আওয়াজে বলল,
— পাউরুটি তুই তৃষ্ণা ভাইয়ার সাথে চলে আয়!

চলবে…
নাবিলা ইষ্ক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here