অপ্রিয়_প্রেয়সী #লিখা_তানজিলা #পর্ব – ১১

#অপ্রিয়_প্রেয়সী
#লিখা_তানজিলা
#পর্ব – ১১

অফিসে এখন লাঞ্চটাইম চলছে। ওয়াশরুমের দরজা আটকে সীমান্তর কেবিন থেকে আনা ফাইল টা ঘেটে দেখছে আইজা। বালুচর প্রজেক্টের সাথে জড়িতদের লিস্ট আছে এতে। নতুন ইনভেস্টরদের লিস্টে একজন সিরাজ আজাদ যিনি সম্পর্কে আইজার চাচা।

ঠাস করে ফাইল টা বন্ধ করে দিলো আইজা। আসলেই তো এতো বড় কান্ড একজনের পক্ষে তো সম্ভব না। আইজা যতটুকু জানে প্রায় এক বছর আগে চার কোম্পানি যৌথ ভাবে বালুচর ইউনিয়নে একটা শিল্প এলাকা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলো। যার মধ্যে নাজিম শিকদার আর আইজার বাবাও ছিলো। রাত জেগে ওর পাপাকে কাজ করতে দেখেছে আইজা। সাথে এক বছর আগে হাতে হ্যান্ডকাফ’স ও। ফাইল টা কয়েক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ রেখেই চোখ বুঁজে ফেললো আইজা। পরক্ষণেই খুলে ফেললো আঁখি জোড়া। এই মুহুর্তে এতোকিছু ভাবলে সময় নষ্ট।

বালুচর প্রজেক্টের জন্য পারমিশন পেতেও বেশ কষ্ট করতে হয়েছিলো। কিছুদিন পরই বালুচর প্রজেক্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় আর একটা এক্সিডেন্টের পর পুরো কাজটাই স্থগিত হয়ে যায় আর পরবর্তিতে আইজার বাবা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মেশিন সাপ্লাইয়ের কাজে আইজার বাবা জড়িত ছিলো। সেদিকেই যত ঝামেলা হয়েছে।

এক রাতের মধ্যেই সকল নতুন যন্ত্রপাতির বদলে নিম্নমানের পুরাতন যন্ত্রপাতির স্তুপ রাখা ছিলো। কাজ শুরুর দিন একজন ওয়ার্কার বেশ বাজেভাবে জখম হয়েছিলো। আইজার বাবা ওকে বলেছিলো তিনি খুব গুরুত্ব নিয়ে এ ব্যপারটা দেখেছিলেন। এমনি কয়েকদিন আগেই যন্ত্রপাতি গুলোর কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তখন কোন সমস্যা ছিলো না। আইজার স্পষ্ট মনে আছে কারণ সেদিন ও নিজের বাবার সাথে ওদিক টায় গিয়েছিলো।

কিন্তু পরবর্তীতে যখন নিরীক্ষক এসে যন্ত্রপাতি দেখতে এলো সবগুলো কমদামি পুরোনো খারাপ ছিলো। যেসব ব্যবহার করে কাজ করা ছিলো ক্ষতিকর। নতুন মেশিনারির কোন হদিস পাওয়া যায়নি। এমনকি কোন প্রমানও ছিলো না! আইজার বাবা যে কোম্পানিতে সিইও পদে ছিলেন তার যে এমপ্লয়ি এ দিকটায় সরাসরি জড়িত ছিলো সে তো পলাতক হয়েছে আগেই! ফলে সন্দেহ আরও জোড়ালো হয়। এমনকি বেশ কিছু অর্থের হিসাবেও গড়মিল ছিলো। প্রমান না থাকা স্বত্বেও সে দায়ভার আইজার বাবার ওপরই পড়ে।

কিন্তু সেদিন আইজা ওর বাবার কাছ থেকে জানতে পেরেছে এ অফিসে কর্মরত আসিফ নামের কেউ নাজিম শিকদারের প্ল্যানের ব্যাপারে তাকে জানিয়েছে। বলেছিলো প্রমানও হস্তান্তর করবে তবে টাকার বিনিময়ে। এরপর তো আইজার ওর বাবার সাথে কোন কথাই হয়নি। আর আজ জানতে পেরেছে আসিফকে কয়েকদিন আগে চাকরি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে! এই আসিফকে এখন কোথায় খুঁজবে ও!

-“কাজিন ভাবী! আপনার পেট ঠিক আছে তো? ত্রিশ মিনিট হয়ে গেছে!”
হঠাৎ করে বাইরে পরিচিত মেয়েলি কন্ঠ শুনে এক প্রকার লাফিয়ে উঠলো আইজা। বিরক্ত বোধে কুঁচকে এলো ভ্রু জোড়া। আইজা ফাইলটা দুই ভাজের মতো করে ব্যাগে রাখলো। দরজা খুলতেই সামনে ভেসিনের আয়নার দিকে মুখ করে রাখা ফিহাকে দেখতে পেলো ও। আইজাকে দেখে কিঞ্চিত দাঁত বের করে হেঁসে উঠলো সে।

-“আপনি আমাকে আইজা বলেই সম্বোধন করবেন। কাজিন ভাবী বলতে হবে না। আমাদের বয়সে সেরকম পার্থক্য নেই।”

ফিহা মৃদু হেসে বললো,
-“ভুল বললেন কাজিন ভাবী। আমি আপনার তিন বছরের ছোট।”

আবারও কাজিন ভাবী! এসব উদ্ভট উদ্ভট সম্বোধনে নিজেকে জড়াতে দেখে রাগ হচ্ছে আইজার। ও কিছুটা শক্ত গলায় বলে উঠলো,
-” আপনাকে দেখে তো বলাই যাবে না আপনি এতো জুনিয়র। তবুও
দয়া করে আমাকে কাজিন ভাবী ডাকবেন না।”
-“কেন? ডিভোর্সের প্ল্যানিং করছেন না তো! এতো আগেই! আরো ধনী কাউকে পেয়ে গেছেন না-কি!”

তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফিহার দিকে তাকালো আইজা। তা চোখে পড়তেই উচ্চস্বরে হেঁসে উঠলো ফিহা। হাসির মধ্যেই বলে উঠলো,
-“সরি! মজা করছিলাম। আপনি তো সিরিয়াসলি নিয়ে নিলেন।”

-“আপনার সাথে কী আমার মজার সম্পর্ক! আমার ব্যাক্তিগত বিষয় নিয়ে আপনার এসব ধারণাগত মজা করতে যাবেন না। নিজের জীবনে নজর দিন। কোন কিছু চক্ষুগোচর হয়ে যাচ্ছে না তো!”
আইজার কথায় ফিহার হাসির বেগ হুট করেই বন্ধ হয়ে গেলো। সম্পূর্ণ অনুভূতিহীন মুখভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে সে। ভেসিনের কলটা এখনো খোলা। ক্রমাগত পানি পড়ে যাচ্ছে।

আইজা আগ বাড়িয়ে কলটা বন্ধ করে পুনরায় ফিহার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
-“আমি পানি অপচয়ের কথা বলছিলাম। এভাবে কল ছেড়ে কারও সাথে কথা বলতে বলতে পানি কেন অপচয় করছেন?”

-“আইজা, আপনি সাহিলের সাথে যা করেছেন তা সীমান্ত ভাইয়ার সাথে করবেন না প্লিজ! অনেক কষ্ট দিয়েছেন আপনি সাহিলকে।”

হঠাৎ ফিহার মলিন কন্ঠ শুনে আইজা এক ভ্রু উঁচু করে তাকালো। ফিহার দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করে বসলো,

-“কীভাবে কষ্ট দিয়েছি আমি সাহিলকে?”

ফিহা হয়তো কিছু বলতে চাচ্ছিলো কিন্তু তার আগেই আইজা ফিহার হাত শক্ত করে চেপে ধরে আরও বললো,
-“এক সেকেন্ড! এভাবে ওয়াশরুমে কাহিনী শুনে কিসের মজা! চলুন আমার সাথে!”

ফিহার হাজার বারন সত্ত্বেও তাকে টেনে হিঁচড়ে অফিস ক্যান্টিনে নিয়ে গেলো আইজা। দুটো পপকর্নের প্যাকেট কিনে একটা ফিহার হাতে ধরিয়ে দিলো। ফিহা চোখ ছোট ছোট করে আইজার দিকে তাকিয়ে নিজের হাত বুলিয়ে যাচ্ছে। আইজা যে হাত চেপে ধরেছিলো সে জায়গা লাল হয়ে আছে। কিন্তু আইজার মধ্যে কোন হেলদোল নেই। ও নিজের মতো করেই একটা একটা করে পপকর্ন মুখে দিয়ে যাচ্ছে আর উৎসুক দৃষ্টিতে ফিহার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন কোন মজাদার কাহিনী শুনবে ফিহার কাছ থেকে যার মূল চরিত্র সাহিল আর খল নায়িকা আইজা!
-“চুপ কেন? বলুন!

-“আপনি জানেন না কী করেছেন?
ফিহার দৃষ্টিতে স্পষ্ট ক্রোধ।

-“আমি কী জানি আর কী জানি না সেটা পরের কথা। আপনি যেহেতু কিছু বলছিলেন সেটা অন্তত শেষ করুন। আমি অপেক্ষা করছি!”

আইজার কথায় হাতে থাকা পপকর্নের প্যাকেট টা টেবিলে রেখেই দ্রুত গতিতে উঠে দাঁড়ালো ফিহা। দৃষ্টিতে কঠোরতা এনে কোন কিছু না বলেই বাইরে পা বাড়ালো সে। আইজা কন্ঠে আফসোসের রেশ এনে বলে উঠলো,
-” না বলেই চলে যাচ্ছেন কেন? এখন আমি রাতে ঘুমাবো কী করে!”

ফিহা দাঁড়ালো না। লাঞ্চটাইম শেষ হওয়ার পথে। এখন এই পপকর্ণ খেয়েই বাকি সময় কাটাবে! একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এলো আইজার মুখ থেকে।

ফিহা চেয়ারে বসে গটগট করে পানি গিলে যাচ্ছে। লাঞ্চটাইম এখনও শেষ না হওয়ায় আশেপাশে কেউ নেই। ফিহা নিজের ফ্ল্যাক্স টা টেবিলের একপাশে রাখতেই আইজাকে দেখে উঠে দাঁড়ালো সে।

-“যখন পুরো কথা বলার সাহসই না থাকে তাহলে শুরু করলেন কেন?

আইজার কথায় মৃদু হেঁসে উঠলো ফিহা। কাঠ কাঠ গলায় বলে উঠলো,
-“মাফ করবেন কাজিন ভাবী! আপনার সাথে কথা বলা আমি শুরু করেছিলাম। কিন্তু এই মুহুর্তে আমার রুচিতে বাঁধছে!”

ফিহা কথা শুনে আইজা নিজের বুকে হাত রেখে চোখে কৃত্রিম ব্যাথিত ভাব এনে বলে উঠলো,
-“এসব কী বলছেন আপনি? আপনি আমার সাথে কথা না বললে আমি থাকবো কী করে! আমার তো অলরেডি দম বন্ধ হয়ে আসছে!!”

পরক্ষনেই আঁখি জোড়া তীক্ষ্ণতার সাথে ঘুরিয়ে নিলো আইজা। এই মুহুর্তে এই মেয়ের জন্য সময় নষ্ট করার ইচ্ছে নেই ওর।

***

শুধু শুধু সেই কখন থেকে খালি বসে আছে আইজা। একজনের কাছ থেকে আসিফের নাম্বার সংগ্রহ করেছে ও। যদিও আসিফের ব্যপারটা ওর বাবা ই হয়তো সামলে নেবে। এছাড়া এই কোম্পানিতে জয়েন করার আরও একটা কারণ আছে। কিন্তু আজই সে বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেবে না ও। শুনেছে কয়েক মাস আগেই বালুচর ইউনিয়নে স্থগিত কাজ আবার শুরু হয়েছে। এবার নতুন দুইজন ইনভেস্টর আছে। যার মধ্যে একজন ওর পাপার ভাই! এখন থেকে আগে সব বিষয় জেনে তবেই কাজ শুরু করবে ও।

-“ইমেইল গুলো সেন্ড করুন!”

কথাগুলো কানে প্রবেশ করার ফলে নিজের ভাবনায় ব্যঘাত ঘটায় বিরক্তবোধ করলো আইজা। কোন কিছু চিন্তা না করেই বলে উঠলো,
-“নিজের কাজ নিজে করুন। আমাকে কেন বলছেন!”

-“কারণ আপনি স্বেচ্ছায় এখানে জয়েন করেছেন। ফ্রিতে তো আর বেতন পাবেন না!”
সীমান্তর শক্ত গলায় টনক নড়লো আইজার। লোকটা কখন থেকে এসে বসে আছে খেয়াল পর্যন্ত হয়নি। যদিও সীমান্তর হাত কিবোর্ডে আর চোখগুলো মনিটরেই পড়ে আছে। আইজার সামনে থাকা কম্পিউটার স্ক্রীনেও বেশ কিছু টাস্ক সেন্ড করে রেখেছে সীমান্ত।

আইজা কাজ শুরু করতে যাবে তার আগেই কিছু একটা দেখে থেমে গেলো। সীমান্তর চোখে কোন চশমা নেই। চশমা টা টেবিলের এক সাইডে সুন্দর করে ভাজ করে রাখা আছে। সচরাচর যে কোন জরুরি কাজ করার আগেই চশমা পড়ে নেয় সে। পারলে তো কাগজ গুলো চোখের একদম সামনে ধরে রাখে যেন সবকিছু ঝাপসা দেখছে। একবার জিজ্ঞেস করেছিলো আইজা। সীমান্ত বলেছিলো মাথা ব্যথার কারণে কাজের সময় চশমা প্রয়োজন হয় তার।

কিন্তু এই মুহুর্তে কম্পিউটার স্ক্রীনে চশমা ছাড়াই তাকিয়ে আছে সীমান্ত। চোখ দেখে মনে হচ্ছে না কোন সমস্যা হচ্ছে। কেন যেন খটকা লাগছে আইজার। পুরোটা কেবিনে আরও একবার চোখ বুলিয়ে নিলো আইজা। প্রথম বার দেখায় খেয়াল হয়নি। কিন্তু এখন চোখে পড়ছে। বেশ কিছু জায়গায় একটা করে চশমা রাখা আছে। এমনকি সীমান্তর স্টাডি রুমেও এরকম ছিলো। সীমান্ত নিজের জিনিসপত্র সবসময় গোছালো অবস্থায় পছন্দ করে। কোন কিছু এদিক থেকে ওদিক হলে যেন তার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। আর এখানে জায়গায় জায়গায় চশমা ফেলে রেখেছে!

-“ফিহার কাছ থেকে যে ফাইল টা নিয়েছিলেন সেটা ফেরত দিয়ে যাবেন!”

সীমান্তর কথায় আইজা কিছু বলবে তার আগেই ফিহা বলে উঠলো,
-“আইজা তো আমার কাছ থেকে কোন ফাইল নেয়নি!”

-“আমি আইজাকে বলেছি আপনাকে না। নিজের কাজে মন দিন। আর নিজের খাবার টা লাঞ্চ টাইমের শেষ করবেন!”
সীমান্ত ফিহার দিকে না তাকিয়েই কাঠ কাঠ গলায় বলে উঠলো।

আইজা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। ফিহা নিজেও খেয়াল করেনি আইজা ফাইল টা লুকিয়ে নিয়েছে। নিজের মনের ভুল ভেবে আবারও কপি করে নেয় ও পুরো ফাইল টা। সীমান্ত কী করে জানলো! এখানে তো সিসি ক্যামেরাও নেই। এই পুরো কেবিনে সে সময় আইজা আর ফিহা ছাড়া কেউ ছিলো না!

সীমান্তর টেবিল থেকে যে ফাইল নিয়েছিলো সেটা অনেক আগেই রেখে এসেছে আইজা। যদিও দুই একটা ফাইলের নিচে লুকিয়ে রেখেছে ভাজ পড়ে যাওয়ার কারণে। কিন্তু ফিহার টেবিল থেকে আনা ফাইল ও ফেরত দেয়নি। সীমান্ত এবার ভ্রু কুঁচকে আইজার দিকে তাকালো। হয়তো আইজার কাছ থেকে কোন জবাব না পেয়ে।

-“আমি ফিহার কাছ থেকে কোন ফাইল নেইনি।”

-“ফাইল টা আপনার ব্যাগেই আছে।

-“আপনি কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলছেন?”

আইজার প্রশ্নের কোন জবাব দিলো না সীমান্ত। শুধু টেবিল থেকে চশমাটা নিজের চোখে পড়ে নিলো সে। তার দৃষ্টির তীক্ষ্ণতায় কিছুটা নড়েচড়ে বসলো আইজা। এখন বুঝতে পারলো এ কেবিনে কেন কোন সিসি ক্যামেরা নেই। কারণ সীমান্তর স্পেশাল চশমা তো আছেই!

আইজাও কিছু বললো না। উঠে গিয়ে সীমান্তর সামনে দাঁড়ালো। ব্যাগ থেকে ফাইলটা বের করে সীমান্তর সামনে রাখলো ও। সীমান্ত নিঃশব্দে চশমা খুলে পুনরায় আগের জায়গায় ভাজ করে রেখে নিজের কাজে মন দিলো। কম্পিউটার স্ক্রীনে চোখ রেখে ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো,
-” এখানে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আপনাকে বেতন দেয়া হচ্ছে না।”

***
বসে থাকতে থাকতে পিঠ ধরে গেছে আইজার। অন্তত বসে কাজ করার জন্য তো বেতন পাবে! একটু পর পর আঁড়চোখে সীমান্তকে দেখে যাচ্ছে ও। শেষ বারের মতো সেন্ড অপশনে ক্লিক করেই দাঁড়িয়ে পড়লো আইজা। একদিনে এতো টাইপ এর আগে করেনি। কয়েক বছরের ইমেইল একদিনেই সেন্ড করিয়েছে মনে হচ্ছে।

হঠাৎ করেই সীমান্ত উঠে কোথায় যেন চলে গেল। সীমান্ত চলে যেতেই ফিহা নিজের ব্যাগ থেকে আবারও সেই বিস্কুটের প্যাকেট বের করে খাওয়া শুরু করেছে। আইজা একবার কেবিনের আশেপাশে রাখা চশমা গুলোর দিকে তাকিয়ে বাইরে ঘুরে দেখার জন্য দিকে পা বাড়ালো। আজকে একবার সীমান্তর স্টাডি রুমে ঢু মারবে বলে মনস্থির করলো। সীমান্তর আগেই বাড়ি যাওয়ার প্ল্যান ওর।

পাঁচ তালায় সেরকম মানুষ নেই। লিফট থেকে নামতেই ডান সাইডে সীমান্তর কেবিন আর বাম সাইডে এক লম্বা করিডোর পাড় করতেই থাই গ্লাসের দরজা। যার ভেতর কী আছে বাইরে থেকে দেখা অসম্ভব। কোন সাধারণ এমপ্লয়ির এখানে আসা নিষিদ্ধ করে রেখেছে নাজিম সরকার।

মনের অজান্তেই লিফটের বাম সাইড দিয়ে যাওয়া সেই মানব শূন্য করিডোরে পা রাখতেই হঠাৎ কে যেন হেঁচকা টানে আইজাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো। ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই সামনে থাকা সাহিল রক্তচক্ষু নিয়ে বলে উঠলো,

-” বলেছিলাম না, আমার থেকে দূরে থাকতে!”

চলবে…

আগের পর্ব
https://m.facebook.com/groups/371586494563129/permalink/498104035244707/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here