আমার_গল্পে_তুমি ৩০_পর্ব

আমার_গল্পে_তুমি ৩০_পর্ব
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী(writer)

,
ইয়ানার রুমে বিছানার উপর মাথা নিচু করো বসে আছে রোজা, আকাশ তখনি চলে গেছে ওর কাজ আছে তাই আর দেরি করেনি, ইয়ানার রোজার মাথায় হাত দিয়ে চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলল, আচ্ছা এখন তো বল কী হয়েছে?? দেখ তুই না বললে আমি জানবো কীভাবে, বল আমায় কি হয়েছে, আর বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিস কেনো আন্টি আংকেল কিছু বলেছে??

ইয়ানা তুই তো জানিস আমি এখনি বিয়ে করতে চাইনা, তোর মনে নেই আমরা কি বলতাম , বলতাম যে আগের নিজের পায়ে দাঁড়াবো তারপর বিয়ে করবো,, কিন্তু বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে তাও আবার এমন লোকের সাথে যার কিনা বয়স অনেক,, আচ্ছা বয়স হলে সম্যসা ছিলো না কিন্তু ওনি বলেছেন যে বিয়ের পর নাকি মেয়েদের বাড়ি থেকে বেরোনো নিষেধ আর চাকরি তো করাই যাবে না, আমি তবুও ওনাকে বুঝাতে গিছিলাম কিন্তু ওনি আমার গায়ে হাত তুলেছে বলেছে মেয়েদের বেশি কথা বলতে হয় না সব সময় পায়ের কাছে থাকতে হয়, এটা কেমন কথা বল,, আমি বাবা মা কে সব কিছু বলেছি কিন্তু ওরা আমার কথা বুঝতেই চাচ্ছে না জানি না ওই লোকটা কি এমন বলেছে যে বাবা তো আজকে রাতেই বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই কোনো রকমে পালিয়ে এসেছি।

বলিস কি লোকটার কত বড় সাহস এভাবে ওনি তোর গায়ে হাত তুলতে পারেননা আর আমি এটা ভেবে অবাক হচ্ছি যে আংকেল এর মতো মানুষ কীভাবে ওই লোকটার সাথে তোর বিয়ে দিতে চাইছে,, আচ্ছা তুই চিন্তা করিস না আমি দেখছি কি করা যায় আগে মিস্টার আর্দ্র আসুক তারপর দেখি ওনি কি বলে, আর এভাবে কাঁদিস না তো ভালো লাগছে না।

ইয়ানাদের কথার মাঝেই আর্দ্র রুমে আসলো গা একদম ঘেমে গেছে রুমে এসে রোজা কে দেখে বলল,, আরে রোজা তুমি এতো সকাল সকাল কি ব্যাপার কোনো সম্যসা??

ওহ আপনি চলে এসেছেন, শুনুন আপনার সাথে আমার কথা আছে একটু এদিকে আসুন।

কি ব্যাপার সকাল সকাল চিপায় যেতে বলছো মতলব কি তোমার বলতো,, কালকের মতো কিছু দেখাবে নাকি,, মজা করে বলল আর্দ্র।

ছিঃ আপনার চিন্তা ভাবনার দেখছি দিন দিন অধঃপতন ঘটছে, আমার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই আপনাকে চিপায় ডাকতে যাবো,, ওসব বাদ দেন আসল কথা শুনুন।

হুম বলো,, সিরিয়াস মুখ করে বলল আর্দ্র।

তারপর ইয়ানা আর্দ্র কে রোজার বিষয় টা সবটা খুলে বলল সবটা শুনে আর্দ্র এক হাত কমরে আর অন্য হাতের বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে নিজের থুতনিতে চুলকাতে চুলকাতে বলল,, হুমম আচ্ছা তুমি সরো আমি দেখছি ব্যাপারটা, আর্দ্র রোজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো আর্দ্র কে দেখে রোজা বিছানা থেকে ওঠে দাঁড়ালো৷,, রোজা আমার না কোনো ছোট বোন নেই আমার ছোট বেলা থেকেই খুব ইচ্ছে ছিলো যাতে আমার একটা ছোট্ট বোন থাকে যাকে আমি কাঁধে নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াবো তাই আম্মু কে বলছিলাম কিন্তু আম্মুর অপারেশন করা ছিলো তাই আমার সেই আশাটা পূরণ হলো না, কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে আল্লাহ তোমার মাধ্যমে আমার সেই আশাটা পূরণ করেছে, তুমি চাইলে এখানেই আমার ছোট বোন হয়ে থাকতে পারো আর আমিও চাই যাতে তুমি পড়াশুনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াও,, আর তুমি আর ইয়ানা তো একি সাথে পড়তে তারমানে ইয়ানার মতো তোমারও অর্নাস শেষ, কালকে তোমার সব সার্টিফিকেট সহ সব দরকারি কাগজ পএ নিয়ে ইয়ানার সাথে অফিসে এসো কাল তোমার ইন্টারভিউ আছে।

আর্দ্রর কথা শুনে ইয়ানা তো হা করে আর্দ্রর দিকে তাকিয়ে আছে, এই গম্ভীর লোকটাও এতো সুন্দর করে কথা বলতে পারে ওর জানাই ছিলো না ,, রোজা আর্দ্রর দিকে তাকিয়ে ভাইয়া বলে কেঁদে ফেলল আর্দ্র আলতো করে রোজার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,, আরে আমার মিষ্টি বোনটি এভাবে কান্না করে না,, ইয়ানা ওকে আমাদের গেস্ট রুমটা দেখিয়ে দাও আজ থেকে আমার বোন আমাদের সাথেই থাকবে, আচ্ছা আমি তাহলে ফ্রেশ হয়ে আসছি, আর এই যে ম্যাম মুখটা বন্ধ করুন নয়ত মশা মাছিসহ বাকি সব পোকা মাঁকর তোমার মুখের মধ্যে চলে যাবে, আর আমি অনেক ভালো বর বলো বউকে মারি না কিন্তু আদরও করতে পারছি না,, কথাগুলো বলে বাঁকা হেসে ওয়াশরুমে চলে গেলো,, এদিকে আর্দ্রর কথা শুনে ইয়ানা তো অবাক এর উপর অবাক হচ্ছে হঠাৎ করে ওনি এতো ভালো হয়ে গেলো কীভাবে।
,,,,,,,
দুপুরের দিকে সবাই ডয়িং বসে গল্প করছে রোজাও আছে, সবাই ওকে ভালোবেসে ওখানে থাকতে বলেছে রোজাও ইয়ানার মতে অন্তরাকে আপু বলে ডাকে বাড়ির সবাই রোজাকে পছন্দ করে,, ইয়ানা কেবলি গোসল সেরে টাওয়াল গায়ে দিয়ে রুমে আসলো নিজের জামা কাপড় সহ প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে আর্দ্র এখন রুমে নেই তাই নিচিন্তে রুমে আসল, রুমের দরজা টাও ভিড়ানো আছে, রুমে এসেই ইয়ানার টাওয়াল এর গিট্টিটা ঢিলা হয়ে গেলো তাই টাওয়াল টা খুলে আবার সুন্দর মতো পড়ে নিলো তারপর বিছানা থেকে কাপড় সহ সবকিছু হাতে নিয়ে কেবলি আবার ওয়াশরুমে যাবে তখনি পিছন ঘুরে দেখল আর্দ্র হা করে চোখ দুটো বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে,, আর্দ্র কে দেখে ইয়ানা একবার নিজের দিকে তাকালো তারপর আর্দ্রর দিকে তাকালো একটু আগের করা কাজটা মনে করেই ইয়ানা জোরে সরে একটা চিৎকার দিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।

ইয়ানার চিৎকারে আর্দ্রর হুশ ফিরল নিজের হাত দিয়ে দু কান চেপে ধরে একটু আগের ঘটনা মনে করে বাঁকা হাসল,,, ইয়ানা তড়িঘড়ি করে সব কিছু পড়ে এসে রাগে রাগে সোজা আর্দ্রর দিকে গেলো তারপর ওর সামনে দাঁড়িয়ে বলল,, এই খারাপ লোক একটা কারো রুমে আসতে গেলে নক করে আসতে হয় জানেন না??

আরে কুল কুল এতো রেগে যাচ্ছো কেনো? আর অন্য কোনো লোকতো আর দাখেনি তোমার নিজের বর ই তো সবকিছু দেখেছে,, তবে যাই বলো কাপড় পরেও তোমাকে হেব্বি লাগে আর আজকে তো কাপড় ছাড়া একদম,,,,,

ছিঃ মুখের কি ভাষা আমি আপানার নামে পুলিশে কমপ্লেন করব,, আর্দ্রর মুখ চেপে বলল।

তা পুলিশের কাছে গিয়ে কি বলবে হুম? বলবে যে তোমার বর তোমার সব কিছু দেখে ফেলেছে, তোমার কথা শুনে পুলিশ তোমায় সোজা গারদে নয় একেবারে পাগলা গারদে পাঠিয়ে দেবে,,, ইয়ানার হাত মুখ থেকে সরিয়ে বলল।

আপনাকে তো আমি,,,,

কি করবে আবার সবকিছু দেখাবে নাকি?? আমি কিন্তু অলওয়েজ রেডি।

ইয়ানা আর কিছু না বলে রেগে মেগে ওখান থেকে নিচে চলে গেলো তারপর রাগে রাগে গিয়ে রোজার পাশে গিয়ে সটান করে বসে পড়ল।, কিরে কি হয়েছে এমন রেগে আছিস কেনো কি হয়েছে??

আরে ওনার কত বড় সাহস ওনি আজকে আমার,,, ইস কি বলছিলাম আমি রোজাকে ইয়ানা তোর কি রাগে সব বুদ্ধি লোপ পেয়েছে নাকি।

কি হলো চুপ করে গেলি কেনো আর্দ্র ভাইয়া কি করেছে??

কিছু না,,, তখনি আর্দ্র এসে ইয়ানার মুখোমুখি সোফায় গিয়ে বসল আর ইয়ানার দিকে তাকিয়ে বাঁকা একটা হাসি দিলো তারপর টি টেবিল থেকে কফি হাতে নিয়ে ইয়ানার দিকে তাকিয়ে বলল,, উফফ অনেক হট।

কিহ??,, (অনিক)

আব,,আরে কফিটা অনেক হট মানে গরম।

ওহ তাই বল,,ইয়ানা রাগি চোখে আর্দ্রর দিকে তাকালো,, আচ্ছা ইয়ানা তুই একটু বস আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি এই বলে রোজা ওঠে উপরে চলে গেলো রোজার পিছু পিছু আকাশও উঠে চলে গেলো আকাশ একটু আগেই এসেছে।

এই যে মিস আপনার কাছে ভালোবাসা আছে??

কিহ??

আরে আমি জিগাস করছি আপনার কাছে ভালো বাসা আছে?? মানে আমার এক বন্ধু ভালো বাসার খোঁজ করছিলো তাই জিগাস করলাম আর কি।

আপনার কি আমাকে দেখে মন হচ্ছে যে আমি বাসা খুঁজে দিই,, রেগে বলল রোজা।

আরে রাগ করছেন কেনো এতো রাগ করলে শরীল খারাপ করবে।

সেটা আপনাকে বুঝতে হবে না,, এই বলে রোজা চলে গেলো,,, ইস একেবারে ধানি লংকা।

চলবে,,,,,,???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here