এক_বৃষ্টিস্নাত_সন্ধ্যা ১৮.১৯

#এক_বৃষ্টিস্নাত_সন্ধ্যা
১৮.১৯
#WriterঃMousumi_Akter

ওয়াল ঘেষে দাঁড়িয়ে আছি আমি আমার হাত শক্ত ভাবে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছেন বিহান। উনার মুখশ্রির অদলে বেশ পরিবর্তন সেই রাগি ভাবটা আর নেই।আমি উনার থেকে নিজেকে ছড়ানোর চেষ্টা করছি।নিঃসন্দেহে বিহান ভাই একজন শক্ত পক্ত শক্তিশালী মানুষ উনার থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা যে বৃথা চেষ্টা তাতে কোনো সন্দেহ নেই।রাগে ফুঁশ ফুঁশ করছি আমি।আমার দিকে খানিক টা ঝুঁকে রয়েছেন উনি।

“আমি রাগি রাগি ভাবে বলেই যাচ্ছি ছাড়ুন বলছি ছাড়ুন আগে আমাকে।অসভ্য কোথাকার একটা মেয়েকে এভাবে চেপে ধরে রেখেছেন কেনো?”

“ছাড়ার জন্য তো ধরি নি।আর জীবনেও ছাড়বো ও নো বুঝলি পিচ্চি।”

“কেনো ধরবেন আমাকে আপনি?আমি কি আপনার বউ না প্রেমিকা।”

“আচ্ছা আমার কথা আমাকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাইনা?আজ যা খুশী বলতে পারিস আমি রাগ করবো না।”

“রাগ করলে আমার কি যায় আসে।আপনি আম্মুকে আলিপ ভাইয়া কে নিয়ে মিথ্যা বলেছেন কেনো? যে আলিপ ভাইয়া আমাকে লাইক করে।”

“যা বলার ঠিক ই বলেছি।আমার জাস্ট আলিপ কে সহ্য হয় না।ভাবতেই শরীর আগুন হয়ে যাচ্ছিলো যে তুই ওর দেওয়া কিছু ইউজ করছিস।আমি যদি আলিপ কে আর কখনো তোর ত্রী সীমানায় দেখি তাহলে এর চেয়ে খারাপ কিছু করবো বলে দিলাম।কি সাহস আমার জিনিসে নজর দেয়।”

“সব কিছু কি আপনার ইচ্ছামতো হবে নাকি।যখন ইচ্ছা বকবেন আবার যখন ইচ্ছা মিষ্টি কথা বলবেন।”

“হ্যাঁ সব আমার ইচ্ছাতেই হবে।”

“দেখুন বিহান ভাই আমি আপনার বউ ও না গফ ও না তাই দয়াকরে আমাকে টর্চার করা অফ করুণ।আপনাকে সাতশ টাকা ফেরত দিলাম তার পরিবর্তে এক হাজার টাকা দিয়েছেন কেনো?”

!আবার ফেরত দিলে আবার ও ডাবল দিবো।
কারন তুই আমাকে ভাই ভাবলেও আমি কখনো তোকে বোনের নজরে দেখি না।এটা বুঝিস না তুই।”

এমন সময় আয়রা টা এসে আমাদের এভাবে দেখে নিয়ে মুখে হাত দিয়ে মুখ চেপে হেসে বললো,কি মজা বিহান ভাইয়া আর দিয়াপু প্রেম করছে।

কথা টা শুনেই বিহান ভাই কয়েক হাত ছিটকে গিয়ে পড়লো।আমি চোখ বড় বড় করে আয়রার দিকে তাকিয়ে বললাম কিরে আয়রা খুব পেকেছিস তাইনা প্রেম মানে কি হ্যাঁ।এই বয়সে তুই প্রেম কি সেটাও বুঝিস।আয়রা টা হেসে দিয়ে বললো হ্যাঁ আব্বু আম্মুকে দেখেছিলাম৷ এভাবে জড়িয়ে ধরে প্রেম করে।আমি চোখ আরো বড় বড় করে বললাম তা উনি৷ কি আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন নাকি মিথ্যা বললে থাপ্পড় দিবো ধরে।আয়রা টা বললো ওরকম ই মনে হলো।বিহান ভাই খানিক টা দূরে ভ্রু কুচকে দাঁড়িয়ে রইলেন।ইস রে বিহান ভাই এর মান ইজ্জত সব এবার ই শেষ।এই আয়রা টা জনে জনে সবাই কে বলে বেড়াবে।

বিহান ভাই কে বললাম,ভদ্রলোকের মতো আমার উপন্যাস টা দিন।আমি এখন যাবো।

বিহান ভাই কপাল কুচকে তাকিয়ে বলেন,কিসের উপন্যাস।আর এসব উপন্যাস পড়ে পড়ে তো দেবদাসি হয়ে যাচ্ছিস। এই উপন্যাসে দেখলাম দিয়া নামের মেয়েটি মারা গিয়েছে।তা এসব ট্রাজেডি উপন্যাস পড়েই তো তোর এই অবস্থা। তোর থেকে আয়রার বুদ্ধি আছে ভালো। আয়রা ও ভালো বোঝে কোনটা প্রেম আর কোনটা অন্য কিছু।

খানিক টা রাগ দেখিয়ে চলে এলাম বাড়িতে।

প্রায় এক মাস কেটে গিয়েছে। বিহান ভাই ও ঢাকায় ফিরে গিয়েছেন।আবার সব স্বাভাবিক ভাবেই চলছে।মান অভিমান কিছুটা কমেছে।

_______________________________
খুলনা যেতে হবে বাসার সবার দাওয়াত।বিভা আপুর শ্বশুর বাড়ির থেকে দাওয়াত এসছে। সেখানে বিভা আপু আর তার বর আরিফ কে নিয়ে একটা অনুষ্টান এর আয়োজন করা হয়েছে।সবাই যাবে কিন্তু আমি বলে দিয়েছি যে আমি যাবো না মানে আমি যাবোই না।কারণ বিহান ভাই আজ ঢাকা থেকে আসছেন উনিও যাবেন।আর সারাক্ষণ দুনিয়ার বাজে কথা বলবেন আমাকে।মামা বাড়ির যে কোনো অনুষ্টানেই আমার কাজিন রা নিমন্ত্রিত থাকে।মামা প্রাইভেট কার ঠিক করতে চেয়েছে কিন্তু বিভোর ভাই বলে দিয়েছেন বাসে চড়ে মজা করতে করতে যাবেন।মামাবাড়িতে ঘরোয়া মিটিং বসেছে সেখানে কিভাবে যাওয়া হবে সেই নিয়ে আলোচনা চলছে।আমার যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো না কিন্তু আম্মুর দাঁত ঝাকিতে যেতে বাধ্য হলাম।বাড়ির মুরব্বিরা সবাই বিভোর ভাই দের ফ্ল্যাটে প্লান করছে যাওয়ার সময় কি নিয়ে যাবে না যাবে সে বিষয় নিয়ে।আমরা কাজিনেরা সবাই ছাদে পাটি বিছিয়ে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছি।ইচ্ছা করেই বিভোর ভাই দের ছাদে আড্ডা দিচ্ছি।কারণ জানি এখানে বিহান ভাই এর আসার চান্স নেই।বিভোর ভাই আড্ডা দেওয়ার সময় আমাদের কাজিনদের সবাই কে ফোন দিয়ে ডেকে আনেন।

ছাদে প্রেম নিয়ে ভীষণ গবেষণা চলছে।এমন সময় দ্যা গ্রেট বিহান ভাই গম্ভীর মুডে হাজির হলেন। গায়ে কফি কালারের টি-শার্ট পরণে ব্লাক জিন্স।জিন্সের পকেটে হাত গুজে ছাদের রেলিং ঘেষে এসে দাঁড়ালেন।এখানে যারা আছে সবাই বিহান ভাই ভক্ত শুধু আমি বাদে।মেহু আপু বিহান ভাই কে ডাকলো,”বিহান ভাই এখানে আসুন না আমাদের পাশে বসবেন”।তোহা আপু ও ডাকলো, “বিহান ভাই আসুন না প্লিজ আমার পাশে বসবেন।”বিহান ভাই ভ্রু কুচকে তাকিয়ে এসে আমার পাশে এসেই বসলেন।এমন সময় বিভোর ভাই তার প্রস্তাব টা রাখলেন যে আমরা বাসে করেই যাবো অনেক মজা হবে তাতে।ছেলেরা সবাই রাজি অন্য কারো কোনো আপত্তি না থাকলেও আমি ভীষণ আপত্তি জানালাম।জোরে বলে উঠলাম, আমার আপত্তি আছে আমি বাসে যেতে পারবো না।সবার সব উৎসাহে পানি ঢেলে গেলো।সবাই এক সাথে বলে উঠলো কেনো?আমি বললাম বাসে উঠলে আমার বমি পায় খুব।আমি কিছুতেই বাসে যেতে পারবো না।

কারো কোনো আপত্তি না থাকলেও বিহান ভাই তার গা জ্বলানো কথা শুরু করলো।

“মেয়ে মানুষ মানেই সমস্যা।শুধু সমস্যা বললে ভুল হবে মহা সমস্যা।মেয়ে মানুষের জন্যই পৃথিবীতে এত সমস্যা।তার উপর যদি এমন ভয়ানক মহিলা হয় তাহলে তো আর সমস্যার শেষ নেই।এই মহিলা মানে আরো বেশী সমস্যা।”

“কথাটা পড়তেই রাগের চরম পর্যায়ে পৌছে গেলাম।কি ব্যাপার সবাই কে মেয়ে বলছেন আর আমাকে মহিলা বলছেন কেনো?”

“শুধু মহিলা নয় ভয়ানক মহিলা তুই।কারো কোনো সমস্যা নেই সব সমস্যা তোর।দুনিয়ার সব সমস্যা নিয়েই জন্ম হয়েছে তোর।”

“আমি যাবোই না।”

“তুই না তোর ঘাড়ে যাবে।আর বাসে চড়েই যেতে হবে তোর।”

আলিপ ভাইয়া বলে উঠলেন,”বিহান ভাই দিয়া কে বকছেন আপনার গফ যদি বাসে চড়তে না পারে তখন কি করবেন।”

“বিহান ভাই ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলেন,,আমার গফ নিয়ে গবেষনা আর কত চালাবি তোরা”

আলিপ ভাইয়া বললেন,”আমার গফ বাসে চড়তে না পারলে তার হাত ধরে হেঁটে তেপান্তর পাড়ি দিবো।”

বিহান ভাই ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলএন,”সিওর আলিপ।”

“ইয়েস ভাইয়া।”

“ওকে কাল দিয়ার সাথে হেঁটে খুলনা যাবে।”

আমি মুখ ভেংচি দিয়ে বললাম,”জ্বী না আমি মোটেও হাঁটতে পারি না।”

বিহান ভাই বলে উঠলেন,”বাসে চড়তে পারবি না হাঁটতে পারবি না তাহলে কি প্যারাসুট এ যাবি।”

“আপনার সাথে আমি কথা বলছি না ওকে।”

বিহান ভাই আবার শুরু করলেন,”তাহলে আলিপ কাল তোমার ভালবাসার পরীক্ষা হবে।তেপান্তর নয় জাস্ট খুলনা হেঁটে যাবা।”

তিয়াস ভাই বললঅ,”ও হেঁটে যেতে যেতে আমরা বাড়ি ফিরে আসবো।”

বিহান ভাই বললেন,”আগে গিয়েই বুঝুক।মুখে বলে মেয়েদের ইমপ্রেস করাটা খুব ইজি ব্যাপার কাজে করে দেখানো মোটেও ইজি নয়।”

তিয়াস ভাইয়া বললো,”বিহান ভাই মানুষ কাউকে ভালবাসলে তার জন্য সব করতে পারে অসম্ভব কিছু নয়।”

“সিরিয়াসলি!তোদের মতো গফের জন্য হাত কাটতে পারবো না,গফের কথায় উঠতে বসতে পারবো না,রেগুলার গফ নিয়ে স্যাডনেস স্টাটাস দিতে পারবো না।”

আমি বললাম, “তাহলে ভালবাসবেন কিভাবে?”

“সোজা বিয়ে করে।বিয়ে করে তাকে আমার মতো করে সাজিয়ে নিবো।মেয়ে মানুষের বুদ্ধি কম।বোঝে কম চিল্লায় বেশী ওদের মতো হবো কেনো?পুরুষ জাতির একটা সম্মান আছে না।তাদের কে আমাদের মতো করে তৈরি করবো।”

“আমি বললাম,শুনুন মোটেও বাজে কথা বলবেন না।মেয়ে মানুষ বোঝে কম চিল্লায় বেশী।বুদ্ধি কম।”

“ক্যানো দিয়া তাতে কোনো সন্দেহ আছে?”

“অবশ্যই বিহান ভাই আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

“আমার শ্বশুরের মেয়েকে দেখে বোঝ, তার জামাই যে তার মেয়ের পিছে ছুটছে সে বুঝতেই চাইছে না।তাহলে কি মেয়ে মানুষের কোনো বুদ্ধি আছে বল।থাকলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারতো।তাই আমি আমার কথা উইথড্র করলাম না।”

মেহু আপু বললো,”আরে বিহান ভাই আপনার ও গফ আছে?এটা কি শুনালেন?কে সেই মহোয়সী নারী।আমি সিওর নিশ্চয় ভীষণ ম্যাচুরিটি সম্পূর্ণ কোনো মেয়ে।”

রিয়া বললো,”নিশ্চয়ই ডাক্তারি পড়ে তাইনা বিহান ভাই।”

তোহা আপু বললো, “নিশ্চয় ঢাকা শহরের সেরা সুন্দরী কোনো মেয়ে।কারণ বিহান ভাই প্রপোজ করলে ফিরিয়ে দিবে এমন কোনো মেয়েই নেই।”

রিয়া বললো, “বিহান প্রেম করলে তো আর যার তার সাথে প্রেম করবে না সব দিকে পরিপূর্ণ শিক্ষিত কম কথা বলে এমন মেয়ে।”

সাডেন বিভোর ভাই জোরে পড়া শুরু করলো, “বিহান জানো অনেক মিস করছি তোমায়।ফ্রি হয়ে কল দাও।”
ইয়াহু পেয়ে গিয়েছি বিহানের গফের মেসেজ।প্রেয়সী দিয়ে সেভ রাখা।বিহান তলে তলে এত দূর।ভালবেসে আবার প্রেয়সী দিয়ে সেভ রাখা।

বিহান ভাই এবার বললেন,সবার বকবক শেষ হলে এবার বলি গাইস।তার আগে বিভোর আমার ফোন দে।পারসোনাল জিনিস দেখা ঠিক না মোটেও।
আমার গফ তোদের কারো বর্ণনার সাথে মেলে নি।তবে সে সত্যি খুব সুন্দর। প্রেমে পড়ার মতোই।ম্যাচুরিটির “ম” ও নেই তার মাঝে।এই রেগে যচ্ছে এই রাগ কমছে।এই বেত লাফাচ্ছে, এই কার্টুন দেখছে। ভীষণ অবুঝ আর রাগের ডিব্বা একটা।তার সাথে রোজ কথা হয় না।দু’এক মাস পর পর দেখা হয়।সে জানেই না তাকে আমি ভালবাসি।জানলেও বলবে মজা করছি।না হলে রিজেক্ট করবে।কারণ তাকে বিরক্তি করি এটা সে মেনে নিতেই পারে না।এখন যদি সে জানে এগুলা তার নামেই বলছি না জানি কত কি ভাববে।

বিভোর ভাই বললেন,ইস কত নারীর যে কপাল পুড়লো সো স্যাড।

_________________________________
পরের দিন সকাল দশ টায় আমরা রওনা হলাম খুলনার উদ্দেশ্য। বাসে যে যার মতো সিট নিয়ে বসে পড়লাম।রিয়া আর বিভোর ভাই পাশাপাশি সিটেই বসেছে।আমি আর মেহু আপু এক সিটেই বসেছে।বিহান ভাই আর শুভ ভাইয়া এক সিটেই বসেছে।মুরব্বিরা আমাদের আগের সিট গুলাতে বসেছে।শুভ ভাইয়া বিহান ভাই কে রিকুয়েষ্ট করলো সে মেহু আপুর সিটে বসবে।বিহন ভাই বাধ্য হয়ে উঠে এলেন মেহু আপুকে বললো মেহু সামনের সিটে যাও।মেহু আপু খুশি মনে উঠে চলে গেলো।আমার পাশে রাক্ষস মানব এসে বসলেন।পাশের সিটের এক গাদা মেয়ে বিহান ভাই এর দিকে তাকিয়ে আছেন। বোঝায় যাচ্ছে তারা বিহান ভাই এর প্রতি ক্রাশড।মেয়ে গুলার হাসি দেখে গা জ্বলছে আমার।

রিয়া হুড় হুড় করে বিভোএ ভাই এর গা ভরে বমি করে ভাষিয়ে দিলো।বিভোর ভাই এর যা অবস্থা দেখার মতো না।এইদিকে মেয়ে গুলো এসে বিহান ভাই এর নাম্বার চাইছে।বিহান ভাই কিছু বলার আগেই আমি উনার নাম্বার টা বলে দিলাম।বিহান ভাই রেগে একবার তাকালেন আমার দিকে।এমন সময় আমার ও বমি পাচ্ছিলো।বিহান ভাই দ্রুত একটা পলিথিন ধরলেন আমার সামনে।বমি শেষে বললেন,সামান্য রাস্তা জার্নি পারিস না।বমি করে ক্লান্ত হয়ে বিহান ভাই এর কাঁধে মাথা রাখলাম।বিহান ভাই আমার মুখের দিকে একবার তাকালেন মাত্র।কাকে যেনো ফোন দিলেন,

রমিম আমার বাইক টা নিয়ে আয় তো দ্রুত।চাবি আছে বাসায় এলিনা আন্টি আছে উনার কাছে চাইলেই দিবে।পিচ্চি বাসে চড়তে পারছে না।

চলবে,,

(গল্প এক জায়গায় থেমে আছে এমন টা ভাববেন না।এই গল্পে কোনো জটিলতা থাকবে না।এমন দুষ্টমিষ্টি থিম ই ভেবে রাখা।আস্তে আস্তে আগাবে।ভাল বাসা নিবেন সবাই)
#এক_বৃষ্টিস্নাত_সন্ধ্যা
১৯.
#WriterঃMousumi_Akter

বাসের মধ্য বিহান ভাই এর কাঁধে মাথা দিয়ে ঝিমিয়ে পড়েছি আমি।চোখ মেলে চাইতেই পারছি না।মাথা টা ঝিম ঝিম করছে আমার।বিহান ভাই মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।একটা গ্যাসের ট্যাবলেট আর সাথে একটা বমির ওষুধ খাইয়ে দিলেন।বিহান ভাই এর বুকে গিয়ে মাথা ঠেকে গেলো।

অপরদিকে বিভোর ভাই এর যে কি অবস্থা। বিভোর ভাই এর শরীর রিয়ার বমিতে একাকার অবস্থা। শুভ ভাইয়া বললো বিভোর প্রেমের অমৃত খেয়ে ফেলতে পারিস ভাই।বিভোর ভাই শুভ ভাইয়ার কথা শুনে রেগে কি একটা অবস্হা।বাস ভর্তি মানুষ এর মাঝে শার্ট খুলে ফেললেন।গায়ে সেন্ডো গেঞ্জি পরে শার্ট জানালা দিয়ে ফেলে দিলেন।রিয়াকে ফিস ফিস করে বলছে এখন তোমার জামা আমাকে দাও।বাস ভর্তি মানুষ আমার ইজ্জত দেখছে।রিয়া হেসে দিয়ে বললো ওকে দিলাম তাইলে নেন।বিভোর ভাই বললেন,আরে না না ভুলেও না।এইজন্য ই তো নিব্বি বলি। নিব্বি না হলে কেউ এই বাসের মধ্য নিজের ড্রেস খুলতে চায়।

–আম্মু এসে আমাকে খানিক টা বকা দিলো।এখনো বাসে চড়া অভ্যাস করতে পারলাম না।ঢাকা লেখাপড়ার জন্য কি করবো আমি।এই মেয়ে দিয়ে কিচ্ছু হবে না কত কিছু।শুভ ভাইয়া বললো আম্মু,দিয়া ছোট মানুষ ওকে বকা দিও নাতো।আস্তে আস্তে সব পারবে।আলিপ ভাইয়া এসে বললো দিয়া কেমন লাগছে এখন।বিহান ভাই বিরক্তি নিয়ে বললেন, ওকে দেখে বুঝছো না কেমন লাগছে ওর।উফফ বুঝিনা সব সমস্যা গুলো সব সময় আমার সামনেই আসে ক্যান।মাইয়া মানুষ মানেই সমস্যা।সেখানে যাবে সমস্যার সৃষ্টি করবে।আবার তাদের আশ পাশের প্রেমিক গুলার ন্যাকামি জাস্ট অসহ্য।আলিপ ভাইয়া বললো কে কি করেছে ভাইয়া।বিহান ভাই বললেন,প্লিজ গো টু ইওর সিট নাও।

বিহান ভাই ড্রাইভার কে বাস থামাতে বললেন,ড্রাইভার বাস থামিয়ে দিলেন।পাশের সিটের মেয়েটা বললো,নেমে যাচ্ছেন নাম্বার টা।বিহান ভাই বিরক্ত হয়ে বললেন আমাকে নেটওয়ার্ক এর মধ্য খুজে পাবেন না।এই পিচ্চিকে দেখছেন আপনার ফোন ই আস্ত রাখবে না।সো এগুলা চিন্তা বাদ দিন।

রমিম ভাইয়া বাইক নিয়ে চলে এলো।বিহান ভাই আম্মুকে বললো,ফুপ্পি আমি দিয়াকে নিয়ে বাইকে যাচ্ছি।আম্মু বললো সাবধানে যাস বাবা।রমিম ভাইয়া বিভোর ভাই এর জন্য ও শার্ট নিয়ে এলেন।বাস থেকে ক্লান্তি নিয়ে নামলাম।বাস টা আবার ছেড়ে দিলো।রমিম ভাইয়া আমাকে দেখে বললো,কি ব্যাপার দিয়া এত ক্লান্ত হয়ে পড়েছো যে।আগে বাসে চড়ো নি।ক্লান্তি নিয়ে বললাম বাসে চড়তে পারি না আমি।

–রমিম ভাইয়া বললো বিহান প্রেয়সী বার বার কল দিচ্ছে।তুই নাকি মেসেজ সিন করছিস না,সে না খেয়ে হাত কেটে ফেলছে।বিহান ভাই আমার দিকে তাকিয়ে পড়লেন বিহান ভাই যেনো এমন একটা মুহুর্তের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।আমি কপাল কুচকে তাকালাম উনার দিকে।

–বিহান ভাই রমিম এর দিকে তাকিয়ে বললেন,,কেনো প্রেয়সীর সমস্যা কি?স্যাকা খেয়েছে নাকি?স্যাকা খেয়ে হাত ফাত কাটলে আমি সান্তনা দিতে যাবো না।এগুলা সাইকো মার্কা মানুষ জাস্ট বিরক্তিকর।

–না তুই মেসেজ সিন করছিস না তাই।

–মেসেজ আনসিন এর জন্য হাত কাটলে ব্লক ডান বলে দিস।ইউ এন্ড শি নো ভেরি ওয়েল হু আই এ্যাম।সো ওর জায়গা ব্লক লিস্টেই থাকবে।

–থাক ভাই পাগলামি করিস না।ফোন টা রিসিভ করিস। বুঝিস না ভার্সিটির সেরা সুন্দরী, ডাক্তার বাবার মেয়ে।তুই বলতে পাগল।

–আমি নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে রমিম ভাইয়ার কথা শুনছি বিহান ভাই এর কিঞ্চিত দৃষ্টি আমার দিকে।আড় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন যে আমি কি ভাবছি।বিহান ভাই এর দিকে চোখ পড়তেই অনিচ্ছাকৃত হাসি দিলাম আমি।

–বিহান ভাই রমিম ভাইয়া কে বললো,বাহ ভাই নাইস।বিশাল উপকার করলি।কোন টাইমে যে কি বললি।অনেক বড় উপকার হলো আমার। শালা ডাফার কি বাঁশ যে দিয়ে দিলি।

–অনিচ্ছাকৃত একটা হাসি দিয়ে বললাম, ইয়ে রমিম ভাইয়া আমাদের ভাবি বুঝি খুব সুন্দরী।

–রমিম ভাইয়া হেসে দিয়ে বললো অনেক সুন্দর দিয়া।দেখলে চোখ ফেরাতে পারবা না।বিহানের সাথে খুব মানায় তাকে।

–ভাই আর ভাবির রিলেশন কবে থেকে।

–ভার্সিটির প্রথম থেকেই এই গুঞ্জন শোনা যায়।

–বিহান ভাই রমিম ভাইয়ার দিকে রেগে গিয়ে বলেন শালা প্রেয়সী তোর ক্রাশ আমার কিছুই হয় না।হুদাই আমাকে বিরক্ত করে। আমার জাস্ট অসহ্য লাগে।আর তুই কার সামনে কি বলছিস। এমনি ওর মাথায় সমস্যা উলটা পালটা বুঝবে সিওর।অটো এসছে এইবার বিদায় হ শালা।

একটা অটো করে রমিম ভাইয়া চলে গেলো…..
————————– ————————-
একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা।ওই জায়গা টায় এত সুন্দর। রাস্তার দু’পাশ জুড়ে অনেক দূর পর্যন্ত কৃষ্ণচূড়া গাছের ছড়াছড়ি।প্রকৃতির এক লাল পরিবেশ চারদিকে তেমন কোলাহল নেই।আমি পায়ের জুতা খুলে পিজ ঢালা রাস্তায় খালি পায়ে ফুলের উপর দিয়ে হাঁটছি।মনে হচ্ছে ফুলের রাজ্য প্রবেশ করেছি।বিহান ভাই বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।প্রকৃতির এত সুন্দর পরিবেশ আগে দেখি নি আমি।মন চাইছে ডানা মেলে উড়ি।ফুলের বিছানায় ঘুমোতে মন চাইছে আমার।এভাবে খালি পায়ে বেশ কিছু সময় হাঁটলাম আমি।

কিছুক্ষণের মাঝে একটা ইজি বাইক দেখলাম আর দাঁড় করালাম।

কোথায় যাবেন জিজ্ঞেস করতে বললাম খুলনা যাবো।ভাড়া ঠিক ঠাক করে ইজি বাইকে উঠে পড়লাম আমি।

বিহান ভাই রতীমত অবাক আমি ইজি বাইকে খুলনা যাবো।তাও আবার খালি পায়ে।আর ইজি বাইকে যাওয়ার কারণ ই বা কি?

“আমাকে ইজি বাইকে উঠতে দেখে বিহান ভাই দ্রুত এগিয়ে এসে আমার হাত ধরে ইজি বাইক থেকে হ্যাচকা টানে নামিয়ে বলেন হোয়াট দ্যা কোথায় যাচ্ছিস? ”

“উনার দিকে মুড নিয়ে তাকিয়ে বললাম আমি খুলনা যাচ্ছি। ”

“ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলেন খুলনা এই ইজিবাইকে।”

“হুম তো আপনার বুঝি তাতেও আপত্তি আছে।”

“অফ কোর্স আপত্তি আছে।এক্ষুণি নাম ইজি বাইক থেকে।”

“না নামবো না।ভাই আপনি চলেন।”

“বিহান ভাই বলেন ওয়েট ওয়েট ওনাকে নামিয়ে দিন ভাই ইজি বাইকে থেকে।”

“আমি নামাবো কেনো ভাই?আমাকে রিজার্ভ করেছেন উনি বারোশ টাকা দিবেন।সারাদিন এ এই একটায় ভালো টিপ পেয়েছি।!

“আমি বললাম,আরে ভাই আপনি উনার সাথে বকবক করছেন কেনো?আমি বলছি যেতে আপনি চলুন।আমি আপনার গাড়ি ভাড়া করেছি”

“বিহান ভাই বললেন,উনাকে নামিয়ে দিন ভাই।বলে দিন আপনি যাবেন না।”

“আমাকে উনার ঠিক করা হয়ে গিয়েছে।উনার জন্য অন্য যাত্রী ছেড়ে দিয়েছি।তাই না গেলেও আমাকে টাকা দিতেই হবে।”

“আপনি যেতে চাইলে যান। কিন্তু আপনার ভালোর জন্যই বলছি।উনি দীর্ঘ আট মাস পাবনা ছিলো।মেন্টাল সমস্যা আছে উনার।যান খানিক সময় পরে পেছন থেকে গলা কামড়ে ধরবে।উনার দিকে তাকিয়ে দেখুন।খালি পায়ে কেউ খুলনা যায়।একা একটা মেয়ে আপনার কি অবাক লাগছে না।আমাদের বাসার কাজের বুয়া উনি”

“অটো চালক ভয় পেয়ে গেলেন,,এই যে আপা নামুন। নামুন বলছি।আপনার জন্য ৩০০ টাকার যাত্রী ছেড়ে দিলাম।”

“বিহান ভাই বললেন,,কিছু মনে করবেন না এই নিন আমি ভাল বেসে ই দিচ্ছি ৩০০ টাকা রাখুন।”

“লোকটা ৩০০ টাকা নিয়ে চলে গেলো আর বিহান ভাই কে বলে গেলো আপনি অনেক বড় মনের মানুষ ভাই। ভাগ্যিস এই পাগলের হাত থেকে বাঁচালেন আমাকে।”

“রাগে সমস্ত শরীর রিরি করছে আমার।আমার মতো সুস্থ মানুষকে পাগল বানিয়ে ছাড়লো।আর আমি কাজের বুয়া এই ভাবেন আমাকে উনি।আমি যে উনার সাথে যাবো না বলেই অটোতে করে যাওয়ার প্লান করলাম সব প্লান জল ঢেলে ছাড়লো।উনার দিকে ক্ষীপ্ত নয়নে তাকিয়ে দেখি থুতনি তে এক হাত বাধিয়ে মিটি মিটি করে হাসছেন।
ভ্রু নাচিয়ে নাচিয়ে বলেন কিরে ক্ষেপি রাগি বেহুদা ক্ষেপে গেলি কেনো?আর হঠাত অটো চড়ে খুলনা যাওয়ার প্লান কেনো?”

“আমি আপনার সাথে যাবো না ব্যাস।তার আগে বলুন আমাকে কাজের বুয়া বললেন কেনো?”

“বিহান ভাই এর হাতে দেখি আমার জুতা। উনি একটু ধমক দিয়ে বললেন নে ধর জুতা পায়ে পর। গাধী একটা পা কেটে যাবে কোথায় কি থাকবে।কাজের বুয়া না বলে ঘরের বউ বললে কি মেনে নিতে পারতি।আরো রেগে যেতি।”

“কাটুক তাতে আপনার কি?”

“হ্যাঁ আমার শ্বশুরের মেয়ের পা কাটলে কষ্ট তো তার জামাই এর ই।বউ এর কষ্ট কি সহ্য করা যায়।তাছাড়া শ্বশুর যে রাজাকার বাবাহ আমাকে গুলি করে দিবে।সমাজ থেকে একজন অনেস্ট ফিউচার ডাক্তার হারিয়ে যাবে।এটা দেশের জন্য অনেক ক্ষতিকর ব্যাপার।সো তোর পা কাটলে অনেক লস।নে জুতা পর।।।”

“পরবো না আমি।”

“বিহান ভাই নিচু হয়ে বসে উনার হাত দিয়ে পা চেপে ধরে জুতা পরিয়ে দিলেন।ওহ মাই গড সুরসুড়ি তে লাফিয়ে উঠলাম।এমনি তে পায়ের তালুতে প্রচুর সুরসুরি।বিহান ভাই আমাকে লাফাতে দেখে বলেন,কি সমস্যা তোর এভাবে ব্যাঙের মতো লাফাচ্ছিস ক্যানো?”

“উহু ছাড়েন তো!ছাড়ুউউউউউউন।সুরসুড়ি লাগে।”

“ডিজগাস্টিং! সুরসুড়ি আবার কি।”

“বুঝেন না তাইনা?”

“নাতো।”

“ওয়েট আমি আপনাকে দিচ্ছি।”

“ওকে ট্রাই কর।”

“জুতা খুলেন।”

“এই রাস্তায় মানুষ পাগল ভাববে।”

“ভুল কি আমি তো পাবনা থেকেই এসছি।খুলুন আগে।”

“আমার জোরাজুরিতে জুতা খুলতে বাধ্য হলো উনি।পায়ের নিচে এত সুরসুড়ি দেয় কিছুই ফিল হয় না উনার।একদম ই রোবট।ক্লান্ত হয়ে ফেইল গেলাম এ বিষয়ে।
উনি ভ্রু বাকিয়ে বললেন আমি কি মহিলা যে লাফাবো।বাস এত সময় অনেক দূরে চলে গিয়েছে।বাইকে ওঠ।”

“আপনার বাইকে ওঠার ইচ্ছা আমার নেই। ”

“পিচ্চি মানুষ এত রাগ আসে কিভাবে শুনি।আর রাগের কারণ টাই বা কি?”

“কোনো কারণ নেই।যান না গিয়ে প্রেয়সী কে বাইকে উঠান আমার তাতে কি।আমি মরে গেলেও আপনার বাইকে উঠবো না।”

“আচ্ছা এই ব্যাপার।সামথিং সামথিং মনে হচ্ছে দিয়া।’

“মোটেও না নাথিং।”

“লাভ ইউ মাই ডারলিং।লাভ ডু সামথিং সামথিং।”

“এখন কি গান গাইতে মন চাইছে আপনার।”

“হ্যাঁ!তোর জেলাসি দেখে।প্রেয়সী কে নিয়ে এত জেলাস তুই হুয়াই দিয়া।কথাটা মুখের উপর ঝুঁকে এসে বললেন উনি।”

“জেলাসির কি আছে শুনি।”

“বুঝি তো প্রেমে ট্রেমে পড়েছিস হয়তো লজ্জায় বলতে পারছিস না তাইনা দিয়া।”

“একদম বাজে কথা বলবেন না আপনি।”

“চুপচাপ বাইকে ওঠ নইলে বুঝবো আমার প্রেমে পড়েছিস।”

“বাধ্য হয়েই উনার বাইকে উঠলাম।মানুষ যে এত অসহ্য ভাবে বাইক চালাতে পারে আগে জানতাম না।এটা কি বিশ্রি ভাবে চালানো।এক্ষুণি পড়ে যাবো এমন একটা ভাব।দ্রুত উনার শার্ট খামচে ধরে বললাম আস্তে চালান বলছি।”

“বাইক থেকে তিন ফিট দূরে বসলে এমন হবেই। পারলে কোমর জরিয়ে বস।”

“বাধ্য হয়ে কোমর জড়িয়ে ধরে বসলাম।আমাকে এইভাবে বসাবে বলে শয়তানি করে এত কিছু করেছে।ইস কি লজ্জা উনাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছি”

উনি আমার দিকে ঘুরতেই ঠোঁটে একটা কামড় দিয়ে বললাম পাবনা থেকে এসছি গো।পাগল নিয়ে বাইক চালালে কামর তো খেতেই হবে।

বিহান ভাই উহ সাউন্ড করে বললেন দিয়া এটা কি তুই।লিপ কিস করতে মন চাইছিলো বলেলেই পারতি।এই নিষ্পাপ ঠোঁটে প্রথম কোনো নারীর স্পর্শ। শরীরের অনুভূতি অন্য দিকে চলে গিয়েছে।বাইক চালানো আর সম্ভব নয়।

দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় আসাতে আমি এটা কি করে ফেললাম।এখন তো নিজের ই লজ্জা লাগছে।ছিঃউনি কি ভাবছেন।

চলবে,,,,

(গল্পে রেসপন্স করার অনুরোধ রইলো।যারা পড়েন সবাই রেসপন্স করলে ১কে লাইক হয়এ যেতো।বাট আপনারা সেটা করেন না।কষ্ট করে লিখি বাট আপ্নারা এত টুকু পারেন না।চেষ্টা করবেন শেয়ার দিতে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here