তুমি আছো তাই পর্ব – ১৫

গল্প – তুমি আছো তাই
পর্ব – ১৫
লেখিকা – নৌশিন আহমেদ রোদেলা

রেদুয়ান বাঁকা হাসি দিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে,,তারপর ব্যালকনি টপকে একদম নিচে।।নিশি এতোক্ষণ রেদুয়ানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো,,,নিলয়ের হালকা কাশির শব্দে সামনে তাকালো।।নিলয় শয়তানী হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে আসছে,,,আর নিশি ঠাঁই দাড়িয়ে আছে,,,সে খুব ভালো করে জানে,, এখন সে যেখানেই পালাক না কেনো নিলয় তাকে ধরবেই,,,সো শুধু শুধু এনার্জি ওয়েস্ট করে নায়িকাদের মতো পিছিয়ে যাওয়ার মানে হয় না,,,তাছাড়া নিশির পিছনে দেয়ালও নেই,,, যা আছে তা হলো বিছানা।।ওটা আরো বেশি রিস্কি বলেই মনে হচ্ছে নিশির,,,তাই চুপচাপ দাঁড়িয়েই কাপাকাপি করছে ।।ভয়টাকে কন্ট্রোল করতে পারছে না বেচারী।।নিলয় নিশির ঠিক সামনে এসে দাঁড়ালো।। নিশির দিকে একপলক তাকিয়েই শার্টের বোতামে হাত দিলো,,,নিশির এবার হার্ট আট্যাক হওয়ার উপক্রম,,,নিলয় ওর সাথে এক্চুয়েলি কি করতে চাইছে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না নিশি??নিলয় শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে দিয়েছে,,,নিশি আর পেড়ে উঠলো না।।চোখ দুটো খিচে বন্ধ করে নিলো,,,কথা বলার ন্যূনতম শক্তি তার নেই।।হার্টের স্পন্দনগুলোও যেনো আজ তার বিপক্ষে কথা বলছে ।।বেশ কিছুক্ষণ পরও নিলয়ের কোনো সারাশব্দ না পেয়ে,,, চোখ পিটপিট করে তাকালো নিশি।।।একি নিলয় ওর থেকে বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে মুখ চেপে হাসছে।।।নিলয়ের হাসিতে নিশি লজ্জা পেয়ে গেলো,,,নিলয় আবার এগিয়ে এসে নিশির কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,,,

জানেমন,,,কি ভেবেছিলে??বাসরটা এখনি করে নিবো??

নিশির এবার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করছে,,,নিলয়ের মুখে কি কিছু আটকায় না নাকি??

এতো লজ্জা পেয়ে না প্লিজ,,খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে তো,,আই কান্ট কন্ট্রোল,,(চোখ টিপ দিয়ে)

ছিহ,,,

বলেই নিশি ঘুরে ব্যালকনির দিকে পা বাড়ালো,,,নিলয়ের সামনে আর দাঁড়িয়ে থাকা এই মুহূর্তে তার পক্ষে সম্ভব নয়।।কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না,,, হাত ধরে হেঁচকা টান দিয়ে নিশুকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো নিলয়।।।নিলয়ের ভারি নিশ্বাস এসে পড়ছে নিশির ঘাড়ে,,,প্রতিটি নিশ্বাসে কেঁপে কেঁপে উঠছে নিশি।।

নিশু??চলো না বিয়ে করে ফেলি,,,পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি,,,

নিলয়ের জড়ানো কথায় কেঁপে উঠলো নিশি।।।নিলয় যেনো গভীর নেশায় আসক্ত।।।হঠাৎই নিশিকে ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো নিলয়।।এতে নিশি বেশ অবাক হলো,,,ও ভেবেছিলো হয়তো নিলয়,,,,,,

নিশু??যাও নীল শাড়িটা পড়ে আসো,,আমি আজ নিজে তোমাকে সাজাবো,,,আজ তোমায় নিয়ে চাঁদ দেখবো,,,চন্দ্রবিলাশে মেতে উঠবো,,চাদঁও আজ জ্বলবে দেখো,,,

এখন??এতো রাতে শাড়ি পড়ার কি দরকার??চাঁদ তো এমনিও দেখা যায়।।(করুন চোখে)

আমি যা বলছি তাই হবে,,,যাও শাড়ি পড়ে আসো,,,আচ্ছা,,,তুমি শাড়ি পরতে পারো??(কৌতূহলী দৃষ্টিতে)

হ্যা পারি।।

কথাটা শুনেই মুখটা কালো হলো নিলয়ের,,সে ভেবেছিলো,,নিশি বলবে সে শাড়ি পাড়তে পারে না আর নিলয় নিজ হাতে পরম যত্নে,, হালকা পাতলা রোমান্সের সাথে নিশির গায়ে শাড়ি জড়িয়ে দিবে কিন্তু নিশি তার আশায় জল ঢেলে দিয়ে কত সহজে হ্যা বলে দিলো।।।নিলয়ের এই মুহূর্তে ওই ব্যাক্তির মাথায় দশ বালতি পানি ঢালতে ইচ্ছে করছে,,যে নিশিকে শাড়ি পড়ানো শিখিয়েছে।।।

শাড়িটা না পড়লে হয় না??(করুন চোখে)

না পড়লে হয়,,,তোমাকে পড়তে হবে না,,

সত্যি?? (খুশি হয়ে)

হুম,,, আমি পড়িয়ে দিবো(শয়তানী হাসি দিয়ে)

হোয়াটটট??আর ইউ মেড??আমি শাড়ি পড়তে পারি সো আপনাকে লাগবে না।।

নাহ,,,আমি যা বলছি তাই হবে,,,,

বলেই নিশির দিকে এগিয়ে গেলো,,,নিলয়কে এগিয়ে আসতে দেখেই নিশি শাড়ি হাতে এক দৌড়ে ওয়াশরুমে।।। উফফফ বাঁচা গেলো।।।।


নদীর পাড়ে গাড়ির ডেকের উপর শুয়ে আছে নিলয়,,,আর তার বুকে মাথা রেখে যে মেয়েটি চোখে বিস্ময় নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সে নিশি।।আজ নিশিকে অপরূপ সুন্দর লাগছে,,,নিলয় আজ নিজ হাতে সাজিয়েছে তাকে,,,খোপায় বকুলের মালা,,,হাতে নীল চুরি,,চোখে গাঁঢ় কাজল।।আজ চাঁদও যেনো নিশির সাথে পাল্লা দিয়ে সেজেছে,,, কি অপরূপ আলো ছড়াচ্ছে চারদিকে,,,নিশি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে চাঁদের দিকে,,, আর একজোড়া চোখ তার থেকেও মুগ্ধ চোখে শুধু তাকিয়েই দেখছে,,,চাঁদের আলোয় মেয়েটির মায়া ভরা মুখ আরো মায়াবি হয়ে উঠেছে।।নিজের বুকটা কেটে তারমাঝে খুব গোপনে যদি মেয়েটাকে লুকিয়ে রাখতে পারতো নিলয়,তাহলে বড্ড শান্তি পেতো।।।কথায় আছে না??ভালোবাসা যতো গাঢ় হয়,, হারানোর ভয়ও ততটাই প্রখর হয়।।।হঠাৎ করেই নিশিকে আরো কাছে টেনে নিলো নিলয়,,,,নিশি কিছু বুঝে উঠার আগেই,,ঠোঁট জোড়া অন্য কারো দখলে চলে গেলো।।।আজ নিশি বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে নি।।এমন একটা পরিবেশে হয়তো প্রিয় জনের ছোট খাটো আবদারগুলো মাথা পেতে মেনে নেওয়া যায়,,,,


ভের চারটার দিকে ঘরে ফিরেছে নিশি,,,ঘুমোতে ঘুমোতে পাঁচটা।। তাই ঘুম ভাঙতেও বেশ বেলা হয়ে গেলো।।হয়তো নিলয় এখনো ঘুমুচ্ছে নয়তো,,,ফোনের “গুড মর্নিং মহারানি” মেসেজটাই,,নিশির সকালের মিষ্টি হাসির কারন হতো।। হঠাৎ ড্রয়ংরুম থেকে কারো কন্ঠ ভেসে আসায়,,উঠে দাঁড়ালো নিশি।।বাবা কি কারো সাথে গল্প করছে??কিন্তু কে লোকটা??নিশিকে দরজায় দাড়াতে দেখেই,,তারিকুল রহমান বলে উঠলেন,,,

ওই তো আমার মেয়ে,,, একদম খাঁটি সোনা।।

মাশাল্লাহ,,, খুব লক্ষি,,,আপনি কোনো চিন্তা করবেন না৷।।।একদম নিশ্চিন্ত থাকুন।

নিশি উনাদের কথা বার্তায় বেশ অবাক হলো,,,এই লোকটাকে কখনো দেখেছে বলে মনে হয় না,,,আর কিসের চিন্তার কথা বলছে উনি??

বাবা??উনি কে??

ওহ,,,তোকে তো বলাই হয় নি,,,উনি ইসহাক সাহেব,,,,তোর জন্য রাজকুমার খোঁজার দায়িত্ব উনার,,,(মুচকি হেসে)

হোয়াটটটট,??????
…………..
………………..
[বাকিটা পরবর্তী পর্বে……]

#তুমি_আছো_তাই #নৌশিন_আহমেদ_রোদেলা #গল্পের_ডায়েরি #রোদেলা #GolperDiaryOfficial

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here