Wednesday, June 17, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প তোমাকে তোমাকে পর্ব – ১৯

তোমাকে পর্ব – ১৯

0
981

তোমাকে

পর্ব 19.1

অনিমাদের কেনাকাটা শেষ হতে বেশি সময় লাগলো না I অনিমা একটা অফ হোয়াইট এর উপর লাল ব্রাইডাল জামদানি নিল I সোনালী আর কাল কাজ করা I মুনিরের খুব ইচ্ছা ছিল ওকে একটা হীরের আংটি কিনে দেয়ার কিন্তু অনিমা রাজি হলো না I ও একটা খুব সাধারণ সোনার আংটি কিনলো I দোকান থেকে বেরোনোর সময় অনিমা জিজ্ঞেস করল
– তোমার জন্য কিছু কিনবে না ?
– আমার অনেক পাঞ্জাবি আছে ওখান থেকে একটা পড়লেই হবে
অনিমা থমকে দাঁড়িয়ে গেল তারপর বলল
– তোমার কি ধারনা আমার কোন শাড়ি নেই ? বিয়েটা তো আমি একা করছি না I
মুনির আমতা আমতা করে বলল
– আমি আসলে ঠিক পছন্দ করে কিনতে পারিনা
– সমস্যা নেই আমি পছন্দ করে দিচ্ছি

অনিমা মুনিরের জন্য একটা অফ হোয়াইট পাঞ্জাবি কিনলো I গলার কাছে কালো আর লাল সুতার কাজ করা I শাড়িটার সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে দারুণ মানিয়ে গেল পাঞ্জাবিটা I কেনাকাটা শেষ করে বেরোনোর সময়ে অনিমা বলল
– যদি সময়ের সমস্যা না থাকে তাহলে আমি সেঁজুতির জন্য একটা ড্রেস কিনতে চাই
– তোমার ইচ্ছা হলে অবশ্যই কিনবে তবে যদি আজকের কথা ভেবে কিনতে চাইছ তাকে বলে রাখি ওর ড্রেস কেন হয়ে গেছে I
-কখন ?
– অনেক আগেই I বাচ্চারা সবাই একই রকম ড্রেস পড়বে তাই ওদের ড্রেস আগে কেনা হয়েছে I সেঁজুতি জানে I ওর পছন্দের কেনা হয়েছে I

অনিমা এবার আর অন্য সময়ের মতো অবাক হলো না I বলল
– আচ্ছা ঠিক আছে I চলো তাহলে যাওয়া যাক
গাড়িতে উঠে মুনির লক্ষ্য করলো অনিমা কোন কথা বলছে না I মাথা নিচু করে বসে আছে I কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারল অনিমা আসলে কাঁদছে I
– কি হয়েছে অনিমা ? আমাকে বল
অনিমা কিছু বলল না শুধু মাথা নাড়লো I
-তাহলে কাঁদছো কেন ?
– তোমার কি সত্যিই কিছু হয়েছে ?
– না
– সত্যি ?
– আমি তোমার কাছে কখনো মিথ্যা বলি না I এই জীবনে শুধু দুবার ই তোমাকে মিথ্যা বলেছিলাম
– সেটা কখন ? অনিমা অবাক হয়ে জানতে চাইল
– তোমার বাসা ভাড়া নেয়াটা কোন কাকতালীয় ঘটনা ছিল না
-আর অন্যটা
– সেটা অনেক বছর আগের কথা Iঅন্য দিন বলব

গাড়ি ততক্ষণে ইউনিভার্সিটি পাড়ায় ঢুকে গেছে I মুনির ফুলার রোডে একপাশে গাড়ি দাঁড় করালো I তারপর বলল
– এই জায়গাটা তোমার মনে হচ্ছে ?
অনিমা চোখ মুছে সামনে তাকালো I এখানে একবার কালভার্টের উপর ওরা দুজনে বসেছিল I সেদিন অনিমার খুব জ্বর এসেছিল I অনিমা কোনদিনও ভুলবে না সেদিনের কথা I
-হ্যাঁ মনে আছে
-তোমার আমার মধ্যে একটা কানেকশন ছিল I আমি আমাদের বন্ধুত্বটা খুব মিস করি I আমি আমার পুরনো বন্ধুকে ফেরত চাই অনিমা I কি পাব তো ?

মুনির ভেবেছিলো অনিমা হয়তো এখনো অন্য কিছু শোনার জন্য তৈরী নয় i হয়তো এখনও ও ওর স্বামীর স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছে I তাই ওকে সহজ করার জন্য কথাটা বলেছিল I অনিমা জবাব দিল না কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল I তবে অনিমা বুঝল মুনির ওকে কখনো ভালোবাসেনি আজও ভালবাসে না শুধু নিজের নিঃসঙ্গতা দূর করার জন্য বিয়ে করছে I ও মনে মনে বলল তুমি আমার বন্ধুত্ব চাইছ তো তুমি শুধু সেটাই পাবে এর বেশি আর কিছুই না I তারপর একটু হেসে বলল
– হ্যাঁ পাবে I

*******
কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই বাদ মাগরিব বিয়েটা সম্পন্ন হয়ে গেল I এই বিয়েতে যে দুজন সবচাইতে বেশি আনন্দ করলো তারা হল সেঁজুতি আর তনু I ওদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে আজ ওদের বাবা মায়ের বিয়ে হচ্ছে I সবচাইতে ব্যস্ততায় দিন কেটেছে নাজমার I এরমধ্যে ও কয়েক দফায় মাসুদের সঙ্গে ঝগড়া করে ফেলেছে I মাসুদ ওদের সবচাইতে ছোট ভাই I সকালে যখন ওকে ফোন করে আসতে বল হল ও বলল
– ভাইয়া তুমি একটু এসে দাওয়াত দিলে ভালো হয় I তা না হলে রেশমির আব্বা আসবেন না
– আচ্ছা আমি দেখছি
নাজমা মুনিরের হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে বলল
-তোর শ্বশুরের মত তোরও একটু আত্মসম্মানবোধ থাকা উচিত ছিল I ঘর জামাই হয়ে বসে আছিস আবার শশুরের সম্মান নিয়ে কত চিন্তা I তোর মোটা শ্বশুরের না আসলেও চলবে আমার ভাইয়ের বিয়েতে I
– আহা নাজমা কি শুরু করলি I ফোনটা দে আমাকে
– না ভাইয়া I শোন তোর না আসলেও চলবে I আজতো শুক্রবার I গিয়ে তোর শ্বশুরের পায়ে তেল মালিশ কর I ভাইয়ের বিয়েতে এসে সময় নষ্ট করবি কেন ?
বাধ্য হয়ে মুনিরকে ফোনটা টেনে নিতে হলো I মাসুদ ততক্ষণে ফোন কেটে দিয়েছে I মুনির কোনমতে বুঝিয়ে সুজিয়ে ওকে আসতে রাজি করালো I নাইলে মা খুব কষ্ট পাবে I যদিও আসার পরেও দুজনের আবার বেধে গেল I

বিয়ে পড়ানোর পর নাজমা অনিমা কে মুনিরের ঘরে বসিয়ে রেখে গেল I অনিমার খুব অস্বস্তি হচ্ছে I এইভাবে সেজেগুজে বিছানায় বসে থাকতে I যদিও অনিমা খুব একটা সাজেনি I একটা টিপ পর্যন্ত দেয়নি I তবুও ওকে দেখতে অন্যরকম সুন্দর লাগছে I মনির একবার এসে দেখে গেল একজনের সঙ্গে কথা বলার অজুহাতেI আগত অতিথীরা অনেকেই বিদায় নিয়ে চলে গেছে I আবরার আর সোহানা এসেছিল I মনির কে একটা অনেক দামি ঘড়ি আর অনিমাকে একটা সোনার ব্রেসলেট উপহার দিয়ে গেছে I অনিমার যদিও ইচ্ছে ছিল না ওদের থেকে কোন উপহার নেয়ার কিন্তু বাধ্য হয়েই নিতে হলো I
অনিমা অনেকক্ষণ ধরে একা একা বসে আছে I ওর একবার খুব মুনিরকে দেখতে ইচ্ছা করছে I খুবই নির্লজ্জ ধরনের ইচ্ছা I ওদের বিয়ে হয়ে গেছে I কিছুক্ষণ পর মুনির এমনি এখানে আসবে I তবু কেন এখনই দেখতে ইচ্ছা করছে I একজনকে সঙ্গে নিয়ে মুনির ঘরে ঢুকলো I অনিমা মাথা নীচু করে বসে ছিল I ওদের ঢুকতে দেখে উঠে দাঁড়ালো I মুনির বলল
– অনিমা উনি আমাদের পাশের কোয়াটারে থাকেন I মালেক স্যার I আমাকে খুবই স্নেহ করেন I
অনিমা সালাম দিল I মালেক স্যার কিছুক্ষণ কথা বলে বিদায় নিলেন I অনিমা মুগ্ধ হয়ে দেখল মনির হাসতে হাসতে উনাকে বিদায় জানাচ্ছে I মনে হলো অনেক বছর পর এই হাসিটা দেখল অনিমা I একসময় এই হাসিটা দেখলে ওর সারারাত ঘুম হতো না I

রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি বাজে I অতিথিরা প্রায় সবাই চলে গেছে I নাজমা আজকে থাকবে I কিছুক্ষণ আগে বাচ্চারা সহ এসেছিল I অনিমাকে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে ও যেন সেজুতিকে নিয়ে চিন্তা না করে I ওরাও বিদায় নিয়ে চলে গেছে অনেকক্ষণ I মনির এল আরো কিছুক্ষণ পর I অনিমা তখন ও ওই ভাবেই বসেছিল I অনিমাকে ওইভাবে দেখে মনির একটু অবাক হল I তবে খুশি হল খুব I ওর খুব ইচ্ছে করছিল অনিমার চিবুক টা ধরে ওর মুখটা একটু দেখতে কিন্তু সাহস হলো না পাছে অনিমা রাগ করে I
মুনির ঘরে ঢুকে বলল
– অনিমা তুমি চেঞ্জ করে নাও I তোমার উপর অনেক ধকল গেছে I চেঞ্জ করে শুয়ে পড়ো I
অনিমা বুঝল না ওর উপর কি এমন ধকল গেলো I তবে ও কথা বাড়ালো না I শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল I বের হয়ে মনিরকে কোথায় দেখলো না I

অনিমা একটা হালকা কমলা সুতির শাড়ি পরেছে I চুল ছেড়ে দিয়েছে I চুল বেঁধে ও ঘুমাতে পারে না I অনেকক্ষণ এপাশ-ওপাশ করেও ওর ঘুম এলো না I হয়তো নতুন জায়গা বলে I অনিমা আস্তে করে উঠে বারান্দায় গেল I মুনির সোফায় বসে মোবাইলে আজকের ছবিগুলি দেখছিল I অনিমাকে দেখে অবাক হল I অনিমা একটু ইতস্তত করে বলল
– ঘুম আসছে না একটু বসি ?
– হ্যাঁ বস I আজকের ছবি গুলো দেখছিলাম I দেখো বাচ্চাদেরকে কি সুন্দর লাগছে
অনিমা একটু এগিয়ে এসে বসলো I বাচ্চারা সবাই একই রঙের ড্রেস পড়েছে I ভারী সুন্দর লাগছে সবাইকে I দুজনে অনেকক্ষণ ধরে ছবিগুলো দেখল I রাত তখন গভীর হয়েছে I চারিদিক সুনসান I মনির একসময় বলল
– তুমি কি আমার উপর রেগে আছো অনিমা ?
অনিমা জবাব দিল না I কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মনির বলল
– একটা গান শোনাবে ?
অনিমা এবারেও কিছু বলল না I তবে ও খুব আস্তে করে ওর মাথাটা মনিরের কাঁধে রাখল I মুনির একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল I যাক অনিমা তাহলে সহজ হয়ে এসেছে I অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ও যখন অনিমা গান শুরু করল না মুনির তখন পাশ ফিরে তাকিয়ে হেসে ফেললো I অনিমা ঘুমিয়ে পড়েছে I মুনির একটা হাত দিয়ে ওকে আগলে নিল তারপর অন্য হাতে ওর চুলগুলো মুখ থেকে সরিয়ে দিতে দিতে বলল
– তুমি একেবারে আগের মতই আছো I তবে আমি তোমাকে এখন আগের চাইতে ও অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি I

পর্ব 19. 2

অনিমা যখন ক্যাম্পাসে পৌঁছালো তখন আটটার বেশি বাজে I কাল সারারাত উত্তেজনায় ও ঘুমাতে পারিনি I সারারাত এপাশ-ওপাশ করে কেটেছে I বারবার শুধু মনে হচ্ছিল ও মুনিরকে কি বলবে, ও কিভাবে রিঅ্যাক্ট করবে I আচ্ছা, এমন যদি হয় মনির ওকে ভালোই বাসেনা সবটা অনিমার মনের ভুল I তখন? থাক না I নাইবা ভালবাসলো I অনিমা তো কিছু চাইছে না ওর কাছে শুধু নিজের মনের কথাটাই বলছে I এভাবে কিছু না বলে থাকলে ও দম বন্ধ হয়ে মরে যাবে I তার চেয়ে এই ভালো সবটা বলে নিজের কাছে হালকা হয়ে যাওয়া I ও কাউকে ভালোবাসে বলে তারও ওকে পাল্টা ভালবাসতে হবে এমন তো কোন কথা নেই I কিন্তু কি করে বলবে ? অনেক ভেবে চিন্তে অনিমা একটা পথ বের করেছে I মুনির বলেছিল ও বই পড়তে ভালবাসে I অনিমা ওর সবচাইতে প্রিয় বই এর প্রথম পাতায় একটা গান লিখল I বই এবং গান দুটোরই নাম ’’ তোমাকে’’I এই গানটা ও যতবার শুনেছে মনে হয়েছে কেউ ওর মনের অনুভূতি প্রকাশ করার জন্যই লিখেছে I অনিমা গোটা গোটা হরফে লিখল

তুমি হাসলে আমার ঠোঁটে হাসি,
তুমি আসলে জোনাকি রাশি রাশি
রাখি আগলে তোমায় অনুরাগে
বলো কিভাবে বোঝাই ভালোবাসি?
সব চিঠি সব কল্পনা জুড়ে
রং মিশে যায় রুক্ষ দুপুরে
সেই রং দিয়ে তোমাকেই আঁকি
আর কিভাবে বোঝাই ভালোবাসি।

প্রাণ দিতে চাই, মন দিতে চাই
সবটুকু ধ্যান সারাক্ষন দিতে চাই তোমাকে ।

স্বপ্ন সাজাই, নিজেকে হারাই
দুটি নিয়নে রোজ নিয়ে শুতে যাই তোমাকে ।

জেনেও তোমার আঁখি চুপ করে থাকে
রোজ দুইফোঁটা যেন আরও ভালো লাগে
গানে, অভিসারে, চাই শুধু বারেবারে তোমাকে

পরের অংশটুকু আর লিখতে পারলো না I খুব লজ্জা করল I অনিমা ঠিক করল যদি মুনির ও কোন দিন ওকে ভালোবাসে তবে এই গানটা ওকে গেয়ে শোনাবে I তবে অনিমার এই ইচ্ছাটা পূর্ণ হতে যে দীর্ঘ 13 বছর কেটে যাবে এটা ও সেদিন কল্পনাও করতে পারেনি I

বিদ্যুৎ কান্তি স্যার এর ক্লাস শুরু হয়ে গেছে I এই ক্লাসে দেরি করে ঢোকার কোন মানেই হয়না I ক্লাসভর্তি ছেলে মেয়ের সামনে স্যার ধমক দেবেন I আচ্ছা , মুনির ও নিশ্চয়ই ক্লাস করছে I ওর সামনে আজ এরকম অপ্রস্তুত হওয়া যাবে না I অনিমা চট করে সাইন্স লাইব্রেরীতে ঢুকে গেল I উত্তেজনায় ওর বুক কাঁপছে I দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে কারো সঙ্গে ধাক্কা খেলো I হাত থেকে ছিটকে বইটা পড়ে গেল I অনিমা পেছন ফিরে দেখল বইটা সিঁড়ির কয়েক ধাপ নিচে গিয়ে পড়েছে I অনিমা তুলতে যাওয়ার আগেই কেউ একজন ওর পাশ কাটিয়ে নেমে গেল I বইটা তুলে ওর হাতে নিতেই অনিমা বিস্ময় হতবাক হয়ে বলল
– তুমি ? ক্লাস করছ না ?
মুনির হেসে ফেলল তারপর অপরাধীর ভঙ্গিতে বলল
– দেরি করে ফেলেছি তাই আর ঢুকলাম নাI কিন্তু তোমার কি খবর ? তুমি কেমন আছো ? তুমি তো বলেছিলে আসবে ? জ্বর হয়েছিল অনিমা ? মুনিরের কন্ঠে উদ্বেগ ঝরে পড়ল I
ভালো লাগলো অনিমার I প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে অনিমা বলল
– তোমাকে কিছু বলার ছিল মুনির I আমরা কি কোথাও বসতে পারি ?
– হ্যাঁ বল I এখানে বসতে চাও ?
– না I এখনই ক্লাস শেষে সবাই বের হয়ে আসবে I
– তাহলে? কার্জন হলের দিকে যেতে চাও ?
– এরপর তো ল্যাব শুরু হবে সবাই ওখানে যাবে
– তাহলে বরং টিএসসি যাই চলো
– আচ্ছা I অনিমা রাজি হয়ে গেল I

অনিমা আজ গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে I শেষ পর্যন্ত আজ কি হবে ও জানে না I তাই গাড়িটা রাখেনি I যেটাই হোক না কেন ও কিছুক্ষণ একা থাকতে চায় I
ক্লাস শেষ হওয়ার আগেই ওরা দুজন একটা রিক্সা নিয়ে টিএসসির দিকে চলে গেল I

চলবে….
লেখনীতে
অনিমা হাসান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here