প্রেমমানিশা(১০)

#প্রেমমানিশা(১০)

‘ দাদা এক পাতা প্যারাসিটামল হবে ? ‘

আচমকা এই প্রশ্নে দোকানি চমকে গেলো,খানিকটা ভ্যাবাছ্যাকাও খেয়েছে মনে হয়। আজকের সময়ে দাড়িয়ে কোনো ফার্মেসিতে প্যারাসিটামল না থাকাটা যেখানে অপরাধের কথা সেখানে ফারাইরার প্যারাসিটামল আছে কিনা জিজ্ঞেস করা আরও বড় অপরাধ।

দোকানির এহেন হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার মানে খুঁজে পেলো না ফারাইরা। এই দৃষ্টির মানে যেহেতু ফারাইরার মস্তিষ্কে ঢোকেনি সেহেতু সে আবারও বললো ‘ প্যারাসিটামল কি আছে দাদা ? ‘

দোকানি যথারীতি আবারও বিরক্ত হলো ফারাইরার কথায় তবে প্রতি উত্তরে কিছু না বলে এক পাতা প্যারাসিটামল এনে ফারাইরার সামনে রাখলো। ফারাইরা ওষুধের পাতা হাতে নিয়ে বলল ‘ দাদা এক পাতা কত ? ‘

এবার যেন দোকানি আকাশ থেকে পড়লো। ফারাইরার দিকে সংকীর্ণ চোখে তাকিয়ে বললো ‘ দশ টাকা পাতা…… ‘

ফারাইরা দোকানির কথামত ব্যাগ থেকে দশ টাকা বের করে দোকানিকে দিয়ে ওষুধ হাতে নিয়ে বাসের দিকে দ্রুত পা চালিয়ে হাঁটা দিলো। সকলে অপেক্ষা করে বসে আছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে। ফারাইরা পৌঁছলেই বাস ছাড়বে।

ফারাইরা বাসে উঠে বাসের ডান দিকের সারির দুই নাম্বার সিটের সামনে দাড়িয়ে মৃদু গলায় বললো ‘ আপু…. আপু আপনার ওষুধ ‘ ।

মেয়েলি গলার আভাস পেয়ে সানার ঘুম ভেংগে গেল। সে তার হরিণী চোঁখ মেলে চাইলো। ঘুমঘুম ভাবটা এখনও কাটেনি বলে ঘুমের ঘোরে বুঝতে পারছে না সামনে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটা কে। মেয়েটা কে ঠাওর করতে না পেরে সানাহ্ সংকীর্ণ দৃষ্টিতে বললো ‘ তুমি…তুমি কে ? Who are you ? ‘

‘ আমি……আমি ফারাইরা..…ফারাইরা জামান দৃঢ়তা । কাল রাতে আপনাকে এলোমেলো ভাবে রাস্তায় হাঁটতে দেখে বাস থামিয়ে আপনাকে যে বাসে উঠিয়েছিলাম ‘ ফারাইরা স্বচকিত দৃষ্টিতে বললো।

ফারাইরার কথা শুনে সানাহ্ এবার পূর্ণ দৃষ্টি মেলে ফারাইরার দিকে তাকালো। ঘুমঘুম ভাব তার কেটে গেছে বলে ফারাইরার চেহারা তার কাছে স্পষ্ট হয়ে এসেছে। মেয়েটাকে চিনতে পেরে অপ্রতিভ হলো,মেয়েটা কাল রাতে ওকে হেল্প করলো আর ও তাকে চিনতেও পারলো না। নিরুচ্চারে বললো ‘ আর ইউ ব্লাইন্ড সানাহ্ ? ‘
সম্মুখে বললো ‘ হ্যাঁ তাইতো……আসলে ঘুমের ঘোরে ছিলাম তাই চিনতে পারিনি। আই অ্যাম সরি ফর দিস কাইন্ড অফ বিহেভিয়ার। ‘

সানার এহেন গোছানো কথা শুনে ফারাইরা অবাক না হয়ে পারলো না। নিরুচ্চারে বললো ‘ স্ট্রেঞ্জ…… কাল রাতে এমনভাবে কথা বলছিলেন যেন কোনোমতেই গুছিয়ে বলতে পারছেন না, লাইক এ ড্রাংক। আর আজ কী সুন্দর গুছিয়ে বলছেন……আসলেই জ্বর মানুষকে কাবু করতে পারে। ‘

ফারাইরা সম্মুখে বললো ‘ ইটস ওকে আপু……আপনার জন্য একটা প্যারাসিটামল এনেছি……খেয়ে নিন, খেলে গায়ের জ্বরটা ছাড়বে। ‘ ফারাইরা কথাগুলো বলেই সানার দিকে প্যারাসিটামল এগিয়ে দিল।

ফারাইরার হাতে থাকা প্যারাসিটামলের দিকে তাকিয়ে মৃদু তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো সানাহ্।এতদিন এত প্যারাসিটামল, এন্টি বায়োটিক খেয়েও তার জ্বর সারলো না আর এখন এই সামান্য 500mg Napa ট্যাবলেট খেয়ে সেরে যাবে। ব্যাপারটা বড়ই হাস্যকর। যেখানে এত হাইলি পাওয়ারের এন্টি বায়োটিক আর প্যারাসিটামল তার জ্বরকে কাবু করতে পারলো না সেখানে এই সামান্য পাওয়ারের ওষুধ পারবে ?

তবে সানাহ্ নেহাতই ভদ্রতার বসে কোনো উচ্চবাচ্য না করেই ফারাইরার হাত থেকে ওষুধের পাতাটা নিলো কারণ মেয়েটা নিজ উদ্যোগে গিয়ে কিনে এনেছে ও খাবে বলে তাই না নিলে খারাপ দেখায়। সানাহ্ পাতা থেকে ওষুধ বের করে মুখে দিতেই ফারাইরা পাশে থাকা রবিনের কাছ থেকে পানি বোতল নিয়ে বোতলের মুখ খুলে সানার দিকে এগিয়ে দিল। একটু আগে ফারাইরা তাকে বন পাউরুটি দিয়েছি, সেগুলো খেয়েই ওষুধ খেলো। ফারাইরার হাত থেকে বোতল নিয়ে তিন ঢোকে পানি খেয়ে সেটা ফেরত দিয়ে বললো ‘ থ্যাংক ইউ ফর ইউর হেল্প, আই উইল রিমেম্বার ইউ ‘ ।

‘ ইউর ওয়েলকাম ‘ মিষ্টি হেসে উত্তর দিলো ফারাইরা ।
তারপর ফারাইরার সঙ্গে আরও কিছু কথাবার্তা বলে বাসের সিটে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজলো সানাহ্। তার মনে পড়লো এতক্ষণে কি ফারহান চিঠিটা পেয়ে গেছে ? আবার মনে হলো চিঠিটা কি নিজের ঘরে রেখে এসে ঠিক করলো ? অন্য কেউ আবার চিঠিটা পড়বে নাতো ? যদিও চিঠির উপরে স্পষ্ট লাল কালিতে লেখা ‘ মিস্টার ফারহান ছাড়া কারোর জন্য পড়া স্ট্রিকটলি প্রোহাইবিটেড ‘ । নাকি সরাসরি ফারহানের ঠিকানায় দিয়ে আসতে হতো ? কিন্তু এভাবে হলেও তো পাওয়ার চান্স নেই কারণ এখন যা পরিস্থিতি তাতে ফারহানের দিন রাত ওই বাড়িতে থাকারই সম্ভাবনা বেশি।

চোখ বুজেই সানার মনে পড়লো কাল রাতের কথা। কাল রাতে মেয়েটা যেভাবে সাহায্য করলো তার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়তো এত কিছু করতো না। অন্য কেউ কেন সানাহ্ নিজেই করতো না। ফারাইরা প্রমাণ করে দিয়েছে পৃথিবীতে এখনও মানবতা বেচেঁ আছে।

ভাবাভাবির এক পর্যায় ওষুধের প্রভাবে সানার চোখ লেগে এসেছিল কিন্তু পাশ থেকে ফারাইরার ডাকে কান দুটো সজাগ হয়ে উঠলো। ঘুমঘুম চোখেই শুনলো ফারাইরার বলছে ‘ আপু আমরা রাজশাহী এসে গেছি, নামতে হবে আমাদের। আপু..…আপু উঠুন ‘ ।

ঘুম ভেংগে আড়মোড়া ভেঙে সিটের গা ছেড়ে সোজা হয়ে বসলো সানাহ্। হঠাৎ খেয়াল করলো আশ্চর্যজনকভাবে Napa 500mg কাজ করতে শুরু করেছে। তার পুরো শরীর একেবারে ঘেমে নেয়ে একাকার। সানাহ্ তার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তার শরীর ঘিনঘিন করে উঠছে গরমে। কী ব্যাপার জ্বর কি নেমে গেলো নাকি ?

‘ আপু……আপনি কি জেগে আছেন ? ‘

পাশ থেকে ফারাইরার প্রতি নিয়ত ডাকাডাকিতে সানাহ্ বিরক্ত হয়ে চোখ খুললো তবে নিজের বিরক্তি ভাবটা চেহারায় ফুটে উঠতে দিলনা কারণ মেয়েটা তাকে অনেক সাহায্য করেছে। সানাহ্ চোখ খুলতেই ফারাইরা বললো ‘ আপু আমাদের নামতে হবে। আপনি নামবেন না ? ‘

‘ হুম চলো ‘ বলে সানাহ্ তার চেহারায় গম্ভির ভাব বজায় রেখে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেলো আর ফারাইরা ওকে অনুসরণ করে পিছন পিছন এগোলো। ফারাইরা একসঙ্গে বাস থেকে নিচে নেমে বাকিদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো । সানাহ্ বললো ‘ থ্যাংক ইউ ফর ইউর কাইন্ড হেল্প…আই উইল অলওয়েজ রিমেমবার ইউ। তোমাদের কোনো হেল্প লাগলে নির্দ্বিধায় বলতে পারো। ‘

সানার কথা শুনে ফারাইরা কিছু বলবে তার আগেই ওর ফ্রেন্ড জুঁইতি বললো ‘ না না আপু আপনাকে হেল্প করাটা আমাদের কর্তব্য ছিল আর আমরা তাই করলাম। এর বদৌলতে আমাদের কিছু চাই না। উই আর হ্যাপি টু হেল্প ইউ…… ‘

‘ আপু আপনার কি শরীর বেশি খারাপ ? আপনি বললে আমরা দু একজন মিলে আপনাকে আপনার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি..…আপনার তো কোনো ব্যাগও নেই। সমস্যা হবে না……আমরা দিয়ে আসি। ‘ রবিন অনুনয়ের সুরে বলল।

‘ নো নো…… এর প্রয়োজন নেই। তোমরা শখ করে ঘুরতে বেরিয়েছিলে অথচ মাঝে আমি এসে ঝামেলা করে দিলাম। অথচ তোমরা আমার অনেক হেল্প করেছো কিন্তু বিনিময়ে আমি কিছুই করতে পারছি না। এখন আমি বাকিটা রাস্তা একাই যেতে চাইছি…… জ্বরটা আমার ছেড়ে দিয়েছে। বাড়ি গিয়ে রেস্ট নিবো..’ সানাহ্ অপরাধী মুখে বললো।

‘ আরে না না আপু কিসের কষ্ট ? আপনি এমনভাবে বলছেন যেন আমাদের হেল্প নিয়ে আপনি কোনো বড় গুনাহ্ করে ফেলেছেন…… আচ্ছা যাই হোক আপনি যখন চাইছেন একা যেতে তখন আপনি তাই করুন। তবে আপনি একটু আমাদের কারোর নাম্বারটা নিয়ে নিন, বাড়ি পৌছে জানিয়ে দিবেন যে আপনি পৌছে গেছেন নাহলে আমাদের টেনশন হবে ‘ জুঁইতি বললো।

‘ আচ্ছা ‘

‘ এই ফারাইরা তোর নাম্বারটা দে ‘ জুঁইতি বললো।
আচমকা জুঁইতির গলা শুনে চমকে উঠলো ফারাইরা। সে এতক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়েছিল সানার দিকে। কাল রাতে খেয়াল করেনি তবে আজ কেন জানি সানাহ্কে তার চেনা চেনা লাগছে। মনে হচ্ছে সানাহ্কে কোথাও দেখেছে কিন্তু মনে করতে পারছে না। কে এই সানাহ্ ?
কিন্তু জুঁইতির ডাক শুনে ভাবনা ছেড়ে বেরিয়ে এলো। স্বচকিত গলায় বললো ‘ হুম, আপু আপনি আপনার নাম্বার দিন। আমি সেভ করে নিচ্ছি ‘ বলে সানার দিকে দৃষ্টি দিলো ফারাইরা।

ফারাইরার কথায় সানাহ্ ওর নাম্বারটা ফারাইরাকে দিলো। ফারাইরা বললো ‘ আপু কি দিয়ে সেভ করব ? ‘

‘ সানাহ্ ‘

সানাহ্ নামটা শুনে এবার যেন ফারাইরা আরও চমকে উঠলো। কি আশ্চর্য নামটাও চেনা চেনা লাগছে কিন্তু কিছুতেই কিছু মনে করতে পারছে না ? নামটা কি ওর পরিচিত কেউ বলেছিল ? জাপান ? জাপান বলেছিল ? নাহ্ পিকনিক থেকে ফিরেই জাপানকে জিজ্ঞেস করতে হবে। এখনই সানাহ্কে কিছু বলা যাবে না। দেখা গেলো পরে অনুমান ভুল বের হলো ।

—-

মিসেস রাহেলা যখন বাড়ির বাগানের মালির কাছ থেকে কাল বিকেলে বাগান ছেড়ে কোথায় গিয়েছিল তার কৈফিয়ত নিতে ব্যস্ত তখনই কথার এক পর্যায়ে তার চোখ গেলো বাড়ির ফটকের দিকে। দীর্ঘ ফটক পেরিয়ে ভিতরে আসছে সানাহ্। সানার হাঁটা চলা আর ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে সে খানিকটা অসুস্থ। হুট করে সাত সকালে সানাহ্কে দেখে মোটেই অবাক হননি মিসেস রাহেলা কারণ এরকমটা প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে এবার বেশ কয়েক দিন পর এরকম হয়েছে।কতদিন হলো ? প্রায় এক বছরের কাছাকাছি..…

তবে পরিস্থিতির বিবেচনায় মিসেস রাহেলা তার ভাবাভাবির চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে সানার দিকে এগিয়ে গেলেন। সানার কাছে গিয়ে তার কাঁধে হাত রেখে বললেন ‘ সানাহ্ তোকে এরকম অসুস্থ দেখাচ্ছে কেন ? ‘

ক্লান্তিময় রোদের পরশ সানার চোখে মুখে আছড়ে পড়ছে। সেই রোদের দিকে তাকিয়েই ঘর্মাক্ত মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে সানাহ্ বললো ‘ সারারাত জার্নি করে এসে আমি বহুত টায়ার্ড তাই এরকম দেখাচ্ছে। ‘

‘ আচ্ছা তুই এক কাজ কর……এখানে মাথার উপর খাড়া রোদে দাড়িয়ে না থেকে ঘরে চল। ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে রেস্ট নিবি।একটু রেস্ট করলেই দেখবি শরীর চাঙ্গা হয়ে গেছে ‘ বলে সানার কাধে হাত রেখে নিজ উদ্যেগে সানাহ্কে বাড়ির ভিতর নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলেন।

—-

‘ রাহেলা এদিকে এসো..…একটু বাম হাতের মাছের ব্যাগগুলো নাও তো ‘ বলতে দুই হাত ভর্তি নানান বাজারের ব্যাগ হাতে বাড়ি ঢুকলেন মিস্টার আমান।
মিস্টার আমানের ডাক শুনে হাতের কাজ রেখে এক ছুটে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন মিসেস রাহেলা। তড়িঘড়ি করে মিস্টার আমানের হাত থেকে মাছের ব্যাগ নিয়ে বললেন ‘ ভাইজান কোথায় ? আপনার সাথে না বের হয়েছিল ? ‘

‘ সে আর বলো না……পথে ফিরতে সময় তার এক মক্কেলের ফোন……আর্জেন্ট দেখা করতে হবে তাই সে ছুটলো দেখা করতে। এই পনেরো মিনিটের মধ্যে ফিরবে। তা ওই শাহজাদা ওঠে নি এখনো ঘুম থেকে ? ‘ এক হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন মিস্টার আমান।

‘ আহ্ এভাবে বলছেন কেন ? আজকে ছুটির দিন…একটা দিন তো বেচারাকে একটু শান্তিতে ঘুমোতে দিন। রোজ তো অফিস করে, আজ নাহয় ঘুমাক। ‘ মিসেস রাহেলা রান্নাঘরে বাজারের ব্যাগ রাখতে রাখতে বললেন।

মিস্টার আমান স্ত্রীয়ের পিছন পিছন রান্নাঘরে এসে হাজির হয়ে বললেন ‘ এখন তো ঘুমোচ্ছে কিন্তু বিয়ের পর ? বিয়ের পর কি করবে ? বিয়ের বয়স তো হয়ে গেছে তার..… এই তুমিই শায়খকে মাথায় তুলছো। কোনো ঘুমোনো নেই……আমি তুলছি ওকে ‘ বলে মিস্টার আমান দ্রুত পা চালিয়ে রান্নাঘরের বাইরে চলে গেলেন আর মিসেস রাহেলা সেই পানে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বাজার গোছানোর কাজে লেগে পড়লেন। ঠিক করলেন আজ ছুটির দিন তাছাড়া সানাহ্ও বাড়ি এসেছে,কিছু ভালোমন্দ রান্না করবেন ।

খাবার টেবিলে সকলে জড়ো হয়েছে, অপেক্ষা চলছে সানার প্রবেশাধিকারের। ইতিমধ্যে সানার বড় মামা মিস্টার আশরাফও মক্কেলের সঙ্গে দেখা করে ফিরেছেন। সানার ছোটো মামা শায়খও তার ভাগ্নির আশার খুশিতে কোনো উচ্চবাচ্য না করেই দ্রুত আরামের ঘুম ছেড়ে খাবার টেবিলে হাজির হয়েছে।

সানার আগমনের খুশিতে মিস্টার আমানও আরেক প্রস্থ বাজারে গিয়ে মাঝারি সাইজের চিংড়ি মাছ কিনে এনেছেন, ভাগ্নির পছন্দ বলে। মিস্টার আশরাফ তার ভাগ্নির আগমনে লাইব্রেরী ঘরের ধুলোয় মিশে থাকা নভেলগুলো নিজ হাতে ঝেড়ে পরিষ্কার করেছেন, অবসর সময়ে ভাগ্নির সঙ্গে নভেল পড়ে কাটাবেন বলে। তবে যেই সানার আগমনে এতকিছু ঘটে গেলো সেই সানারই কোনো পাত্তা নেই।

‘ ভাবী তুমি গিয়ে একটু দেখে আসতো সানাহ্ এখনও আসছে না কেন ? ও কি রেস্ট নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ? ‘ শায়খ বললো। শায়খের কথায় সম্মতি দিয়ে মিসেস রাহেলা উঠতে যাচ্ছিলেন তবে তখনই সানাহ্ ধীরে ধীরে পা ফেলে সিড়ি দিয়ে নেমে এলো।

‘ কোনো দেখাদেখির প্রয়োজন নেই মামা। তুম বুলায়ে ওর হাম না আয়ে…… সানাহ্ তোমারে সামনে হাজির হ্যাঁ ‘ কথাগুলো বলতে বলতে সানাহ্ শায়খের মুখোমুখি বসলো।

‘ তুই যে হুট করে এসে হাজির হয়েছিস সেটা কি আদৌ ছোটো আপা আর কবির ভাইকে জানিয়ে হাজির হয়েছিস ? ‘ শায়খ সানার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বললো।

‘ কেন না বলে এলে কি আমাকে তোমাদের বাড়ি থাকতে দিবে না ? না দিলে বলো আমি এখনই বের হয়ে যাচ্ছি তাছাড়া ইটস কম্প্লিটলি ডিপেন্ড অন মি আমি কাউকে বলে আসবো নাকি না বলে আসবো..… ‘ খেতে খেতে গম্ভির ভঙ্গিমায় বললো সানাহ্ ।

সানার এহেন কথাবার্তায় শায়খ খানিকটা ঘাবড়ে গেল কারণ সানাহ্ যদি একবার ভাবে সে বেরিয়ে যাবে তাহলে সে সত্যি সত্যি বেরিয়ে যাবে আর তখন চাইলেও ওকে আর খুজে পাওয়া যাবে না।এইদিকে সানার এহেন কথাবার্তায় মিস্টার আমান বেজায় রেগে গেলেন শায়খের উপর। আগ্রাসী কন্ঠে বললেন ‘ খাওয়ার সময় কি তোর এসব কথা না তুললেই নয় শায়খ ? একদিন বাড়িতে আছিস শান্তিতে খা দা আর ঘুমা। এত কথা কিসের ? ‘

তবে দুই ভাইয়ের মাঝে মিস্টার আশরাফ কিছু না বলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেন। উনি নীরব,নিজের মতো খাচ্ছেন। যদিও উনি উনার ভাগ্নিদের খুব ভালোবাসেন তবে সেটা কাজে প্রকাশ করেন, কথাবার্তায় নয়।

‘ থাক আপনাদের আর ঝগড়া করার দরকার নেই। শায়খ তুমি খাওয়াটা শেষ করো……একদিন বাড়ি আছো..…তোমার ভাইয়ের সঙ্গে ঝামেলা করে কি লাভ ? ‘ মিসেস রাহেলা দুই ভাইয়ের কথার মাঝে বললেন। মিস্টার আমানও আর কথা বাড়ালেন না।

‘ বড় মামা…… লাইব্রেরির নভেলগুলোর কি অবস্থা ? সংখ্যা কি বেড়েছে ? ‘ সানাহ্ বললো ।

‘ হুম নিউ সিরিজ এসেছে…… ওই যে নামটা কি ? The Chronicles of Prydain,Outlander,. A Wizard of Earthsea,The Broken Earth Trilogy..… আপাতত এই কয়েকটাই এনেছি তবে আমার মনে হয়না তোর পক্ষে খুব তাড়াতাড়ি এসব শেষ করা সম্ভব হবে। তুই কতদিন আছিস ? ‘ মিস্টার আশরাফ বললেন।

‘ হুম ঠিক বলেছো……সম্ভব হবে না। বলতে পারছিনা যে বড় মামা.. একদিনও থাকতে পারি আবার দশ দিনও থাকতে পারি। এবার মন চাইলে শুধু আজ রাতটাই থাকতে পারি। তা মামা তোমার অফিস কেমন চলে ? মেয়ে কি কোনো দেখেছো ? বয়স তো হচ্ছে…… বিয়ে করবে না ? ‘ সানাহ্ বললো।

‘ আমার বিয়ে হলে তোর পরেই হবে কারণ ছেলেরা অত তাড়াতাড়ি বিয়ে করে না। আমার বয়স হচ্ছে ? আমি কতই বা বড় তোর ? পাঁচ বছর থেকে দুই মাস কম মানে চার বছর দশ মাসের বড়…… এটা কে তুই বড় বলছিস ? তোর চোখ নষ্ট হয়েছে ? ‘ শায়খ বললো কপট রাগ দেখিয়ে।

‘ হুম সত্যি বলেছো..… নষ্টই হয়েছে ‘ আনমনে বললো সানাহ্……

~ চলবে ইনশাআল্লাহ্….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here