মনের_অন্দরমহলে পর্ব ১৪

#মনের_অন্দরমহলে পর্ব ১৪
#আনিশা_সাবিহা

–“কতবড় সাহস ওর! এতো করে সাবধান করলাম তবুও হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢুকতে হবে? ইডিয়ট ব্লাডি রিপোর্টার।”

রাগে গজগজ করতে করতে বললেন আয়াশ। আমি এখনো পেছন দিক থেকে উনার শার্ট খামচে একভাবে দাঁড়িয়ে আছি। নেই কোনো হেলদোল। মাঝে মাঝে বুঝতে পারি না উনার মাথা ঠান্ডা করানোর ঔষুধ কি? কি করলে উনার মেজাজ ফুরফুরে হবে? এমন লোকের সঙ্গে থাকি যে নিত্যদিন একটা সমস্যা নিয়ে হাজির হন।

–“এভাবেই কি শার্ট ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে? রিপোর্টার চলে গেছে। আর মারামারি করার চান্স নেই।”

শার্ট ছেড়ে দিলাম আমি। ফুলকি মিনমিন করে বলল….
–“ম্যাম আমি আসছি।”
বলেই চলে গেল ও। ঘরে একা রয়ে গেলাম আমি আর আয়াশ। আমি মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে বললাম…..
–“আপনার মাথাতে কি নিমপাতা ভর্তি?”

–“হোয়াট?”

–“মানে বলছিলাম যে আপনি সবসময় এতো মেজাজ নিয়ে কি করে থাকেন? একটু ভালো মুডে থাকা যায় না? মানুষের কৌতূহল তো হতেই পারে। তার জন্য মারধর করা কতটুকু যৌক্তিক? আর আপনি আমাকে যেভাবে লুকিয়ে রেখেছেন যেন আমি এমন কোনো ধনসম্পত্তি যে যেকেউই দেখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে চুরি হবার আশঙ্কা আছে।”

আয়াশ আমার গাল টেনে কোমল সুরে বললেন….
–“আমার সব থেকে বড় এবং দামি সম্পত্তি তুমি নিশাপাখি।”

উনার এই একটা কথাতে আঁটকে গেল আমার কথা। হার্টবিট যেন মিস হয়ে গেল। হঠাৎ মনে হলো আমি হয়ত ভীষণই লাকি। একটা ছেলে আমাকে নিজের সবচেয়ে দামি মনে করছে। অতঃপরই বিষন্নতায় ভরে গেল আমার আনাচে কানাচে। মনে পড়ল বিয়ের দিন আয়াশের গোপনে ফোনে বলা কিছু কথোপকথন। ‘আমি উনার কাছে শুধুই দয়ার পাত্রী’। এই কথাটা কানে ঝনঝন করে বাজতে লাগল।

–“আমার বাড়ি, গাড়ি আর টাকাপয়সা সব চলে গেলেও যদি আমি তোমায় পাশে পাই সেটাতেই জীবন লুকিয়ে থাকবে আমার। শুধু পাশে এই আনিশা সাবিহাকে চাই। দরকার হলে তোমায় ছোট্ট করে #মনের_অন্দরমহলে লুকিয়ে রাখতাম। কিন্তু তা পারি না।”

উনার অসাময়িক কথাবার্তায় দোটানার আগুনে পুড়তে থাকে আমার মন। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে উনার প্রশ্ন করতে, উনি কি সত্যিই আমায় ভালোবাসেন? করতে গিয়েও আঁটকে যাই। যদি এই প্রশ্নে সেই ভয়াবহ রাগটা বেরিয়ে আসে? তাই মনেই থেকে যায় সেসব প্রশ্ন।

আর কথা না বাড়িয়ে সরাসরি নিজের ঘরের চলে যান আয়াশ ফ্রেশ হতে। দুপুর গড়িয়ে যাবে কিছুক্ষণ পরেই। খাওয়াদাওয়া করতে তো হবে।

বেশিক্ষণ লাগলো না উনার ফ্রেশ হতে। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আবারও আমার ঘরে হাজির হলেন উনি। আমায় নিয়ে গেলেন খাবার টেবিলে। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে আয়াশ এই একই বাড়িতে থাকলেও বাবা-মায়ের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন না। নিচে খাবার দুটো টেবিল রয়েছে। একটাতে আয়াশ খাবার খান আরেকটাতে মা-বাবা। এরা যেন জন্মের শত্রু।

প্রতিদিনের মতো খাবার নিয়ে আসা হলো। দুপুরেই একমাত্র ভাত জিনিসটা খেয়ে থাকেন আয়াশ। সেই সুবাদের আমিও ভাতই খাই। ভাত ছাড়া অন্যসময় খাওয়া যেন অসম্পূর্ণ লাগে আমার। তবে আয়াশের জেদ বলে কথা! উনি যা খাবেন আমাকেও তা খেতে হবে।

ভাতের কয়েক লোকমা মুখে দিতেই আয়াশের বাবা গম্ভীর কন্ঠে কিছুটা দূরের খাবার টেবিল থেকে বলে উঠলেন…..
–“আয়াশ? তুমি নাকি একটা রিপোর্টারকে মারধর করেছো?”

আয়াশ উত্তর দিলেন না। উনি উনার মতো খেয়ে যাচ্ছেন হয়ত। কিন্তু খাবার খাওয়া থেমে গেল আমার। ঢক গিলে বসে থাকলাম। উনার বাবা আবারও বেশ জোরে বললেন…..
–“আমি তোমায় প্রশ্ন করছি।”

–“কিন্তু আমি আপনাকে এ্যান্সার দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করছি না।”

–“আয়াশ? উনি তোমার বাবা। অন্তত একটু রেসপেক্ট দিয়ে কথা বলো!”

কাঠকাঠ গলায় বলে উঠলেন আয়াশের মা। আয়াশ গাম্ভীর্যপূর্ণ ভাবে উত্তর দিলেন…..
–“যে যেমন তার সাথে তেমনই ব্যবহার করা উচিত। আরেকটা কথা, খাবার সময় এসব ডিজগাস্টিং আলোচনা করতে চাই না। আমার আর আনিশার খাওয়া নষ্ট হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আর কোনো কথা বললে উঠে চলে যাব।”

–“তুমি আমার কথা বোঝার চেষ্টাই করো না দেখছি। ওই রিপোর্টারকে হসপিটালের যাবতীয় খরচের থেকে বেশি আমায় দিতে হয়েছে। কি দরকার ছিল শুধু শুধু এসব করার? এমন তো নয় যে রিপোর্টার ভুল তথ্য পেয়েছিল। আসলে তো তুমি কাজটা করেছো। ভুলটা করেছো। ওদের প্রত্যেকটা কথা সত্যি ছিল।”

–“ওদের বলা কথা সত্যি না মিথ্যে এটা জেনে আমার কি লাভ? হ্যাঁ ওরা সত্যি বলেছে। তাতে আমার কি? সব থেকে বড় কথা আমার লাইফে আমি কাউকে ইন্টারফেয়ার করার সুযোগ দিই না সেখানে রিপোর্টার তো অনেক দূর। আর আপনারা এসব কথা টেনে কি বোঝাতে চাইছেন? কি করতে বলছেন এখন?”

আয়াশের বাবা একটু চুপ থেকে বলে উঠলেন….
–“আমি জানি তুমি আনিশাকে পছন্দ করো। কিন্তু ওর বয়স কম। সেটাও তোমায় বুঝতে হবে। তাই বলছিলাম যে ওকে যদি তুমি ওর বাড়িতে রেখে আসতে। ও যখন এডাল্ট হবে তখন একেবারে রেজিস্ট্রি করিয়ে……”

কথাটা পরিপূর্ণ না হতেই তীক্ষ্ণ শব্দ হলো। কিছুটা পড়ে ভেঙে গেল। দুই সেকেন্ড বুঝতে সময় লাগলো আমার। আয়াশ নিজের প্লেট ফেলে দিয়েছেন। আমি কাঁচুমাচু হয়ে গেলাম একপ্রকার। ঝড়ের পূর্বাভাস পাচ্ছি।
–“আপনি কি ভাবলেন? আপনার কথায় ওকে বাড়ি দিয়ে আসব। তারপর কয়েকদিন পর ওকে ভুলে যাব? এটাই আপনাদের পরিকল্পনা নাকি?”

কাউকে আর কিছু বলার সুযোগই দিলেন না আয়াশ। আমার হাত টেনে ধরে উঠে দাঁড়ালেন। আমিও উঠে দাঁড়ালাম। আমাকে একপ্রকার টানতে টানতে নিয়ে আসতে লাগলেন খাবারের পাত থেকে। আর চিল্লিয়ে বললেন…..
–“যে যাই বলুক। পুরো পৃথিবী জানুক আমি ওকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করেছি। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি কোনো অবস্থাতেই ওর থেকে নিজেকে আলাদা করছি না। ও সারাজীবন আমার চোখের সামনে থাকবে। আর যদি না থাকে তাহলে ওকে মেরে মরে যাব আমি। না ওকে কারোর হতে দেব আর না ও আমার থেকে আলাদা হবে।”

সিঁড়িতে গরুর মতো টানতে টানতে আমায় নিয়ে যাচ্ছেন আয়াশ। আমার পায়ের ধাপ ঠিকঠাক পড়ছেই না। না দেখতে পাওয়ায় হোঁচট খেয়ে বসলাম আমি। পায়ের আঙ্গুলে ভীষণ ব্যাথা পেলাম। ‘আহহ’ করে উঠতেই আমায় কাঁধে তুলে নিলেন আয়াশ। আমি শান্ত হয়ে গেলাম। আমি জানি উনি আমার কথা শুনবেন না। তবে বাবার এই প্রস্তাব যদি আয়াশ মানতেন তাহলে আমার জন্য ভালোই হতো। কিন্তু বর্তমানে এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো!

আমায় ঘরে নিয়ে এসে চেয়ারে বসিয়ে দিলেন আয়াশ। মনে হচ্ছে এটা আয়াশের রুম। কারণ আমার ঘরে কোনো চেয়ার নেই। আমার মুখের ওপর থেকে অস্থিরতার সঙ্গে চুল সরিয়ে আমার দুই গালে হাত রেখে থেমে থেমে বললেন….
–“তুমি আমার থেকে আলাদা হবে না তো বলো? হবে না তো? তুমি বলো আলাদা হবে না? বলো?”

উনার প্রতিটা শব্দে জড়িয়ে রয়েছে উন্মাদনা। পাগলের মতো করে চলেছেন উনি। উনাকে শান্ত করতে হবে। তাই উনার হাতের ওপর হাত রেখে মাথা নাড়িয়ে বললাম…..
–“না আমি আপনার থেকে আলাদা হবো না। কি করে হবো বলুন? আমাদের না বিয়ে হয়ে গেছে? নিজের স্বামীর থেকে কেউ আলাদা হয়?”

–“তাহলে তুমি আলাদা হচ্ছো না। কেউ আমাকে বোঝে না। সবাই শুধু নিজেরটা বোঝে। তুমি না তাদের থেকে আলাদা। তুমি ওদের মতো সেলফিশ নও। আমি জানি তুমি আমায় ছেড়ে কোথাও যাবে না।”

গলার সুর মিইয়ে বললেন আয়াশ। আমি নিজেও জানি না আমি উনাকে মিথ্যে বলছি না সত্যি বলছি। উনি নিচু হয়ে আমার মাথা উনার বুকের সঙ্গে চেপে ধরলেন। ইতিমধ্যে রাগে ঘেমে একাকার হয়ে গেছেন। হালকা হালকা কেঁপে উঠছেন। হার্টবিট করছে উনার বেশ জোরে জোরে। সেটা উপলব্ধি করতে পারছি আমি। বেশ কিছুক্ষণ সেভাবেই থাকলেন আয়াশ। তারপর আমায় ছেড়ে দিয়ে বললেন…..
–“এই দেখো, তোমার তো খাওয়ায় হয়নি। তোমায় ওখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে এলাম। আমি ফুলকি কে বলে দিচ্ছি খাবার আনতে।”

–“থাক। যেহেতু খাবারের সামনে থেকে এনেছেন সেহেতু আর খেতে ইচ্ছে করছে না।”

–“এভাবে কেন বলছো? আমিও তো খাইনি। তুমি আমি একসঙ্গে খাবো। ওকে?”

ঘরের মধ্যেই আমায় খাবার নিজহাতে খাইয়ে নিজে খেয়ে নিলেন আয়াশ। উনার হাতে খেলে মন্দ লাগে না এখন আর। বরণ নিজেকে বাচ্চা বাচ্চা লাগে। আমার মাও আগে এভাবে খাইয়ে দিতো। মায়ের কথা মনে পড়ে। তৃপ্তির অনুভূতি কাজ করে মনে।

বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বসলাম আমি। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আয়াশের গভীর আবেশ পেয়ে। দুপুরে মাথা বুলিয়ে দিতেই রাজ্যের ঘুম এসে ভর করেছিল আমার চোখে। ঘুম ভাঙতেই বেলকনি দিয়ে রঙিন আকাশ চোখে পড়ল। হাই তুলে চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে বসলাম। পাখির কিচির-মিচির শব্দ শুনে মনে পড়ে গেল পিহুর কথা। বেচারাকে খাবার দিতেই ভুলে গেছি আমি। দ্রুত উঠে দাঁড়ালাম আমি। বেলকনিতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে ডাকলাম।
–“পিহু??”

পিহুর ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ শোনা গেল। ও বোধহয় রাগ করেছে। রাগ করলেই একমাত্র সে আমার কথার উত্তর দেয় না। চোখমুখ খিঁচে বললাম…..
–“সরি রে! তোকে খেতে ভুলে গেছি। আই প্রমিস এটা আর হবে না।”

বলেই সাবধানে ওকে খাবার দিলাম আমি। পিহু নিজের নাম বারংবার উচ্চারণ করতে থাকল। ওর কন্ঠেও যেন রাগের আঁচ পেলাম আমি। যেন ও বলছে, ‘ তা তো ভুলেই যাবে। এখন বর হয়েছে না? বরের সোহাগ পেয়েছো না? আমায় কথা মনে থাকে?’

আমি নিজের মনে মনে পিহুর সামান্য নিজের নাম উচ্চারণ করা নিয়ে অনেক কিছু ভেবে বসলাম। নিজের ভাবনা পিহুর ওপর চাপিয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম…..
–“এই পিহু? এগুলো কি আজেবাজে কথা বলছিস হ্যাঁ?”

–“পাখিদের ভাষাও বোঝো তুমি? ইন্টারেস্টিং তো!”

আয়াশের কন্ঠে কেঁপে উঠে পিছু ঘুরলাম। উনি আবার আমার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বললেন….
–“উমম….পাখিদের ভাষাও বুঝে নাও বাট আমার টাই শুধু বুঝতে পারো না। আমি কি অন্য ভাষায় কথা বলি?”

–“ন…না। আপনি কখন এলেন?”

–“সবে এলাম। ভাবলাম তুমি ঘুম থেকে উঠেছো কিনা দেখে আসি। এসে দেখি তুমি পাখির ভাষা বুঝতে ব্যস্ত!”

–“না আসলে…..”

–“আসলে নকলে বুঝতে চাইছি না। তোমার পিহুকে খেতে দিলে বুঝি?”

আমি মাথা দুলিয়ে অনুনয়ের সাথে বললাম….
–“হু! ওকে খেতে দিতে ভুলেই গিয়েছিলাম।”

–“তাহলে ওকে ছেড়ে দাও। ও মুক্ত হয়ে যাক। নিজের ইচ্ছায় উড়বে। যখন ইচ্ছে হবে খাবে।”

চোখ বড় বড় করে ফেললাম আমি। এক নিশ্বাসে বললাম……
–“না না। ওকে কি করে ছেড়ে দিই? ও আমার খুব প্রিয়। ওকে ছেড়ে দিলে আমার কি হবে?”

আয়াশ হাসলেন। পেছন থেকে আগলে ধরলেন আমায়। আমার মুখে ফু দিয়ে শীতল কণ্ঠে বললেন….
–“তুমি সামান্য পাখিকে মুক্ত করে দিতে রাজি নও। অথচ তুমি বলো আমি যেন তোমায় ছেড়ে দিই। তুমি যে আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় নিশাপাখি। তুমি কি করে ভাবো তোমায় আমি এতো সহজে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাববো?”

বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঢক গিলে আয়াশের কথাগুলো গিলে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু হলো না। এটাকেই বলে লইয়ার মানুষ! একেকটা লজিক বের করে দেবেন সেখানে অবজেকশন দেওয়ার চান্স খুব কমই থাকবে। আয়াশ পাখির সঙ্গে মানুষের তুলনা করছেন? কিন্তু এটাও সত্যি যে পাখিদের ইচ্ছে হয় মুক্ত হয়ে থাকার। তবুও ব্যাপারটা অযৌক্তিক আর যৌক্তিক দুটোর মাঝামাঝি হয়ে গেল। আয়াশ আমার মাথায় টোকা মেরে বললেন….
–“ছোট মাথায় জোর দিতে নেই।”

আয়াশের কথায় বিষয়টা মন থেকে ঝেড়ে ফেললাম আমি। পিহু নিজের নাম ধরে আবারও ডেকে উঠল। আমার মনে পড়ল বইয়ের কথা। অনেকদিন কারো মুখ থেকে বই পড়া শোনা হয় না। আমি চোখে দেখতে পাই না তবে মাঝে মাঝে পড়া শুনতাম। আয়াশকে হুট করে বলে বসলাম…..
–“আমায় একটা ইংলিশ বই পড়ে শোনাবেন প্লিজ?”

আয়াশ বিলম্ব না করেই বলে ফেললেন…..
–“ওফকোর্স। এই প্রথম তুমি কিছু আবদার করলে এটা পূরণ না করলে কি করে হয়?”

আমি মৃদু হাসলাম। আয়াশ আমায় নিলে গেলে লাইব্রেরিতে। বাড়িতে ছোটখাটো লাইব্রেরি আছে জানা ছিল না আমার। বুকশেলফ এর বই ছুঁয়ে যাচ্ছি আমি।
–“কোন বই পড়া শুনবে?”

–“একটা ইংরেজি গল্পের বই?”
আয়াশ সেই অনুযায়ী বই খুঁজতে লাগলেন। আমিও বইয়ে হাত বুলিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ আমার হাত লেগে একটা বই পড়ে গেল। আমি তৎক্ষনাৎ নিচে বসে পড়লাম বইটা তোলার জন্য। হাত দিতেই মনে হলো এটা বই না সম্ভবত এটা ছবির এলবাম। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছো মেরে এলবামটা নিয়ে নিলেন আয়াশ। চিৎকার করে বলে উঠলেন…..

–“তুমি…. তুমি আমার ছোটবেলার ন্যুড ছবি দেখে ফেলেছো?”
আয়াশের কথায় থ মেরে বসে রইলাম আমি। অস্ফুটস্বরে বললাম….
–“কিইইই?”

চলবে……

[বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here