Monday, September 21, 2026

রইলো_তোমার_নিমন্ত্রণ। [১৬]

#রইলো_তোমার_নিমন্ত্রণ।
[১৬]

ভূমির সামনে হাটুগেরে বসে আছে আরাভ। ভূমির হাত আরাভের হতের মধ্যে মুষ্ঠিবদ্ধ। আরাভের দৃষ্টি স্থির তার নিলাদ্রিতার ভয়ার্ত মুখের দিকে। ভূমি অনেক্ষন যাবৎ কিছু বলার চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুই বলে উঠতে পারছে না। আরাভ লম্বা শ্বাস নিলো। এক হাতে ভূমির হাত ধরে অন্যহাত রাখলো মুখের গালে। কেপে উঠলো ভূমি। আরাভ বলল,
” ভয় নেই নিলাদ্রিতা। আমি আছি তো।”

আরাভের কথায় ভূমি শান্ত হতে পারলো না। ভূমি জানে আরাভ তার কোন ক্ষতিই হতে দিবে না। তবে আরাভ! তার দায়িত্ব কে নিবে। এই ডেথ যে ভয়ংকর তাতে তো আরাভের জিবন সংকটময়। ডেথ যদি একবার আরাভের সন্ধান পায় তাহলে যে আরাভের আর কোন অত্বিত্বই থাকবে না। আরাভকে হাড়ানোর কথা মনে হতেই শরীর যেন রক্তশূন্য হয়ে গেল। ছলছল করে উঠলো ভূমির চক্ষুদ্বয়। আরাভের গালে নিজের হাত রেখে বলল,
” যে তুমি এত মানুষের দায়িত্ব নিলে, সেই তোমার দায়িত্ব দায়িত্ব কে নিবে শুনি?”

আরাভ হাসলো। ভূমির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
” যে আমায় সৃষ্টি করেছে, যার দয়ায় এতগুলো মানুষের দায়িত্ব নিতে পারছি সেই আমার দায়িত্ব নিবে। আর তোমার ভালোবাসা। ভালোবাসার নাকি অনেক শক্তি, এত ভালোবাসো তুমি আমায়। এই ভালোবাসা রেখে কোথায় যাই বলতো। আমাদের যে আরো অনেকটা পথ চলার বাকি।”

ভূমি আরাভের সামনে বসলো। আরাভের দুগালে হাত রেখে বলল,
” তোমার কিছু হবে না তো। আমার খুব ভয় হচ্ছে। তোমার হাড়ানোর ভয় আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়।”

আরাভ ভূমির হাতের হাতের উপর হাত রেখে নিজে অধোর স্পর্শ করে নিলো। ভূমিকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিতে নিতে বলল,
” কিচ্ছু হবে না আমার। দেখে নিও।”

আরাভ মুখে যতই বলুক ওর কিছু হবে না। তবে আজ এই মুহূর্তে অনেক ভয় লাগছে। সত্যিই যদি ওর কিছু হয়ে যায়। তাহলে কি হবে ওর নিলাদ্রিতার। জানে, মৃত্যুর স্বাদ একদিন সবাইকে গ্রহন করতেই হবে। তবে এখন ভূমিকে একা রেখে সে যে মৃত্যুকে গ্রহন করতে পারবে না। কি হবে আরাভ না থাকলে, ভূমি ওকে ভূলে যাবে। অন্যকাউকে নিয়ে নিজের জীবন শুরু করবে। আরাভের নিলাদ্রিতাকে অন্যকেউ ভালোবাসবে, আদর কারবে। না এটা সে সহ্য করতে পারবে না। এদিক থেকে আরাভ বড্ড স্বার্থপর। কথাগুলো ভাবতেই দুচোখ ঝাপসা হয়ে আসে আরাভের।

শুধু আরাভ না। যে কোন মানুষ তার অতি পছন্দের জিনিস বা প্রিয় জিনিসটা কাউকে স্পর্শ করতে দেয় না। সে তাকে সবার থেকে আগলে রাখে, নিজের কাছে রাখে। গভীর যত্নে পরম ভালোবাসায় আগলে রাখে। খুব প্রিয় জিনিসের অংশীদার মানুষ কোনদিন মেনে নিতে পারে না। এটাই বাস্তব, এটাই সত্য।সে একটু চোখের আড়াল হলেই মানুষটা যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে।

আরাভের বাহুবন্ধনে থেকে ভূমির অনেকটা হলেও স্বত্বি মিলেছে। ভূমি আরাভের বুকে মুখ গুজেই বলল,
” দিয়ার মৃত্যুটা কি এই “ডেথ এলিমেন্ট” এর কারনেই হয়েছে।”

আরাভ ভূমিকে ছেড়ে ওকে বিছানার উপর বসিয়ে নিজেও ভূমির পাশে বসে। তারপর বলে,
” হ্যা। দিয়ার মৃত্যুর জন্যে পুরোপুরিভাবে “ডেথ এলিমেন্ট কে দায়ি করে যায় না। তবে দিয়া আরো অনেক আগে থেকে ড্রা*গ এডিক্টেট। বছর খানেক হবে। দিয়ার কাজিন মিমি মানে তাহমিদের বোন ওরা সেও ডেথ এর শিকার। মিমির সাথে দিয়াও ড্রা*গ নিতো নিজেদের অজান্তে। তবে দিয়ার বয়ফেন্ড, সে ড্রা*গ সাপ্লাই করতো। “দ্যা কিং” এর হয়ে কাজ করতো ইমাদ। সেও ড্রা*গ নিতো তবে খুবই কম। ইমাদ কখনো দিয়াকে ড্রা*গ দিতো না। দিয়াকে ড্রা*গ দিতো অন্যজন। “কিং” এর হয়ে কলেজে অনেক স্টুডেন্ট-ই কাজ করে। তাদের মধ্যে একজন দিয়াকে ড্রা*গ দিতো। এই কথা ইমাদ জানার পর “কিং” এর সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। ইমাদ জানায় সে আর তার হয়ে কাজ করবে না এবং পুলিশের কাছে “কিং” এর নামে কমপ্লেইন করবে। কিং মুখে কিছু না বললেও ডেথ এর কাছে ইমাদের কথা জানায়। এবং ডেথ এর প্ল্যান অনুযায়ী দিয়া প্রথমে ইমাদকে মারে ও পরে নিজে ছাদ থেকে ঝাপ দেয়। আর এই “কিং” টা কে জানো?”

” কে?”

” কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ডিপার্টমেন্টের ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট, অভি।”

ভূমির চোখমুখ উৎফুল্ল হয়ে যায় মুহূর্তেই। উত্তেজিত হয়ে জিগ্যেস করে,
” ওই যে লম্বা সুন্দর কানে ইয়ার রিং পরা ছেলেটা।” আরাভ মাথা নাড়ালে ভূমি বলে, ” আরে সে তো আমাদের ক্লাসের ইশার বয়ফ্রেন্ড।”

আরাভ মৃদু হাসে। দুহাতের তালু ঘসে একটু নড়েচড়ে বসে।তারপর বলে,
” অভির আবার গার্লফ্রেন্ড। পর কতগুলা গার্লফ্রেন্ড আছে সে ও নিজেও হয়তো জানেনা। মেয়েদের সাথে কিছুদিন প্রেম প্রেম খেলা খেলে তারপর তাকে ড্রা*গ এডিক্ট বানিয়ে দেয়।” আরাভ এবার ভূমির মুখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, ” বাহিরের কোন খাবার খাবে না এমনকি কেউ কিছু দিলেও নিবে না সে তোমার যত পরিচিত হোক না কেন। আমি কোন রিক্স নিতে চাই না।”

” আচ্ছা ঠিক আছে। আমি কারো থেকে কিছু নিবে না। তোমার সব কথা মেনে চলবো। তুমি যা বলবে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবো। তবে তোমাকেও একটা কথা দিবে হবে।”

” আমাকে?”

” হুম।”

” কি কথা শুনি।”

” তুমি নিজের খেয়াল রাখবে। সবার কথা ভাবতে গিয়ে নিজেকে ভুলে গেলে চলবে না।”

আরাভ হাসলো। তৃপ্তির হাসি। ভূমির কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরলো। তারপর বলল,
” মাথাটা একটু টিপে দাওতো। খুব ক্লান্ত লাগছে।”
” তুমি কিন্তু কথা দিলেনা।”
” আচ্ছা বাবা নিজের খেয়াল রাখবো।”

আরাভ ভূমির কোমড় জড়িয়ে শুয়ে রইলো। আর ভূমির হাত খেলা করছে আরাভের চুলের মাঝে।

________________________
সকাল সকাল ভাসানী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত হয়েছে দিগন্ত। গন্তব্য এখন মনিরুল ইসলাম।কম্পিউটার, ইন্টারনেট এসব সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম সবচেয়ে পারদর্শী। তাইতো নিজের সমস্যার সমাধান করতে মনিরুল ইসলামের স্বরনাপ্ন হয়েছে সে। গতকাল যখন আরাভের বলা কথাগুলো দিগন্ত ডিপার্টমেন্টে সব খুলে বলে তখন রফিক মির্জা দিগন্তকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেইস সলভ করতে বলে। না হলে এই কেইসে তিনি অন্যকাউকে ইনভলব করবেন। দিগন্ত ডিপার্টমেন্ট থেকে তিন দিনের সময় চেয়েছে এর মধ্যে সে ডেথ এর সাথে যোগাযোগ করার কোন না ক্লু নিশ্চয় পাবে। রফিক মির্জা দিগন্তকে তিনদিনের সময় দিয়েছে ডেথ সম্পর্কে আরে তথ্য নেওয়ার। দিগন্ত যেহেতু এই কাজ নিজের ইচ্চেতে নিয়েছে তাই সে এটা থেকে নড়বে না। এই ডেথ এর শেষ সেও দেখতে চায়। তাইতো সকাল সকাল মনিরুল ইসলামের শরণাপন্ন হলো সে। মনিরুল ইসলাম তাকে যদি সাহায্য করে।

বেশ উৎসুক নিয়ে তাকিয়ে আছে মনিরুল ইসলাম। দিগন্ত হাত মুচড়াহচ্ছে। কিভাবে তাকে কথাটা বলবে সেটা বুঝতে পারছে না। মনিরুল ইসলাম জিগ্যেস করলো,
” কিছু বলবেন ডিটেকটিভ দিগন্ত।”
” হ্যাঁ, আসলে আমি ডেথকে নিয়ে কিছু তথ্য পেয়েছি। আমি চাই আপনি ডেথ সম্পর্কে জানতে আমাকে সাহায্য করুন।”

মনিরুল ইসলামের মুখটা গম্ভীর হলো। তবে মুখ দেখে বুঝার উপায় নেই। সে জিগ্যেস করলো,
” কি তথ্য পেয়েছেন আপনি?”

দিগন্ত একটু নড়ে বসলো। বুক টানটান করে মাথা উচু করে মনিরুল ইসলামের দিকে তাকিয়ে বলল,
” ডেথ বর্তমানে এক ধরনের ড্রা*গ পাচার করছে। যেটা সারাবিশ্বে নিষিদ্ধ। এমনকি এটা কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাও অজানা। সেই ড্রা*গ ডেথ পাচার কারছে। যার নাম দিয়ে “দ্যা ডেথ এলিমেন্ট। আমি চাই আপনি ইন্টারনেট থেলে এই ডেথ এলিমেন্ট সম্পর্কে আমাকে কিছু তথ্য বের করে দিন। আর ডেথ এর উপর একটু নজর রাখুন।”

মনিরুল ইসলাম মৃদু হেসে বলল,
” হ্যা সিউর। আমি অবশ্যই করবো। আপনাকে সাহায্য করতে পারলে আমার ভালো লাগবে।”

দিগন্ত উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
” এবার তাহলে আমি আসি।”

মনিরুল ইসলাম ও দাঁড়িয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে দিলো হ্যান্ডশেক করার জন্যে। দিগন্ত হাত মিলিয়ে বিদায় নিয়ে চলে যেতেই মনিরুল ইসলামের চোখমুখ রাগে লাল হয়ে গেলো। ধপ করে চেয়ারে বসে পেপার ওয়েটটা চেপে ধরলো। চোখমুখ শক্তকরে বলতে লাগলো,
” ডেথ এলিমেন্ট” পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এই অল্প সময়ে এতদূর পৌঁছে যাওয়া অসম্ভব। তাহলে নিশ্চয় এর পিছনে অন্যকেউ কাজ কারছে। কে হতে পারে। কার এত বড় দুঃসাহস যে, ডেথ এর উপর নজর রাখে। কিছুক্ষণ ভাবার পর ওর মাথায় একটা নামই এলো, ” স্টার গ্রুপ।” অনেকদিন হলো এই গ্রুপের সাথে কথা হয়না। দেখতে হচ্ছে এবার।”

চলবে,,,,,,

#Mahfuza Afrin Shikha.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here