শব্দহীন_অনুভূতি পর্ব_২১

শব্দহীন_অনুভূতি পর্ব_২১
#পলি_আনান

দুপুরের খাওয়ার শেষে নোমান আরাফকে ইশারা করে দ্রুত তার রুমে আসার জন্য।আরাফ আড় চোখে হৃদিতার দিকে তাকালে হৃদিতা চোখ ইশারায় শান্ত থাকতে বলে।হৃদিতা খাওয়ার শেষে দ্রুত তার রুমে চলে যায়।কেননা এই মূহুর্তে প্রভাকে নিয়ে সবার আদিখ্যেতা তার মোটেও সহ্য হচ্ছে না।যদি আরাফের হবু বউ হিসেবে এই বাড়িতে প্রভা প্রবেশ না করতো তবে মেয়েটাকে নিশ্চিত সাদরে গ্রহণ করতো সে।

দুপুরের সময়টা কেটে গেছে।আরাফ আর নোমান গাড়ি নিয়ে কোথাও বের হয়েছে নিশ্চই ডিভোর্সের কাগজের বিষয়ে।হৃদিতা বিরক্ত ভঙ্গিতে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আইদা আর আদীব একসাথে আইদার রুমে কিছু একটা নিয়ে বেশ তর্ক করছে। তখনি রুমে ঢোকে হৃদিতা।

– এই এই এই কি করছো তোমরা?আবার ঝগড়া কেন করছো?
আইদা আর আদীব তড়াক করে হৃদিতার দিকে তাকায়। আদীব গাল ফুলিয়ে নালিশ সুরে হৃদিতাকে বলে,
– দেখো ভাবীমনি প্রভা আপু আমাদের বলছে তোমাকে যেন ভাবীমনি না ডাকি।এই কথা শোনার পর থেকেই আদীবা প্রভা আপুর দেওয়া সব চকলেট ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

হৃদিতা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। বাচ্চা এই ছেলে মেয়ে গুলোর কানেও বিষ ঢোকাতে আলসেমি করছে না প্রভা।
– ভাবীমনি তুমি বলো তোমায় কেন আমরা ভাবীমনি ডাকবো না?
আইদার কথা একটু মেকি হাসে হৃদিতা।আইদার গাল টেনে বলে,
– ও তোমাদের সাথে মজা করেছে আর তোমরা বোঝনি বোকা।প্রভা দেখতে চেয়েছে তোমরা আমায় ঠিক কতটা ভালোবাসো।
– এটা দেখার কি তুমি তো আমাদের বেস্ট ফ্রেন্ড।

হৃদিতা আইদার কথার প্রত্যিত্তর করার আগে হুড়মুড় করে রুমে ঢোকে প্রভা।আদীবকে উদ্দেশ্য করে নাক উঁচিয়ে বলে,

– এই বিড়ালটা এই বাড়িতে কেন?আরাফের তো বিড়াল পছন্দ না তবে?
-এটা আরাফ ভাইয়ার সবচেয়ে প্রিয়। হৃদিকে কেউ বিড়াল বললে আরাফ ভাইয়া খেপে যায়। তুমি ওকে “হৃদি” বলেই ডেকো।
প্রভা ভ্রু-কুচকায়।এদিকে হৃদিতা বসে আছে ভ্রুক্ষেপহীন ভাবে। প্রভার কথা যেন তার কর্ণকুহরে পৌছতে পারেনি এখনো।প্রভা হৃদিতার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকায়।তার বুঝতে বাকি রইলো না হৃদিতা থেকে হৃদি,আর বিড়ালটা আরাফের নয় হৃদিতার পছন্দের।আর হৃদিতার সব পছন্দ আরাফ যত্ন করে তুলে রাখে।

প্রভা হৃদিকে ছেড়ে দিতেই হৃদি, হৃদিতার কোলে গিয়ে গুটিয়ে বসে যায়।হৃদিতা পরম যত্নে তাকে নিয়ে খুনশুটি করতে থাকে।
– আদীব-আইদা তোমরা একটু রুম থেকে যাও আমার হৃদিতার সাথে একটু পার্সোনাল কথা আছে।
আইদা আর আদীব সহসা রুম থেকে চলে যায় তখনি প্রভা চেয়ার টেনে হৃদিতার মুখোমুখি বসে,

– আরাফ আর তোমার সম্পর্কে আমি বেশ অনেকটাই অবগত।তুমি কি জানো খুব শীঘ্রি তোমাদের ডিভোর্স হতে চলেছে?
– তো?
হৃদিতার ত্যাড়া উওরে হকচকিয়ে যায় প্রভা।কিছুটা ইতস্ত হয়ে গলা ঝেরে আবার বলে,
– তোমার আর আরাফের সম্পর্ক কেমন মানে পার্সোনাল সম্পর্ক?
– পাচঁ দশটা স্বামী স্ত্রীর মতোই আমাদের সম্পর্ক এটা আর জিজ্ঞেস করার কি আছে?
– তুমি কি জানো আমি আরাফের হবু স্ত্রী?
– দুঃখিত ওটা এক্স হবে।
হৃদিতা এমন সহজ সাবলীল কথায় আবারো অবাক হয় প্রভা। নিজেকে ধাতস্ত করে বলে,

– ভালো’য় ভালো’য় বলছি আরাফকে ভুলে যাও ডিভোর্স পেপারে চুপচাপ সই করে যত টাকা লাগে নিয়ে এই বাড়ি থেকে বিদায় হও।
– তোমাকে একটা কথা বলি ভালো করে শুনে রাখো, যে কোন দিন তুমি ফুফি হওয়ার সংবাদটা পেয়ে যাবে তাই এত লাফালাফি না করে আমাদের সংসার আমাদের করতে দাও। আর এখানে আরাফের পিছনে পড়ে আছো কেন আজব!আরাফ কি তোমায় ভালোবাসে?
– অবশ্যই বাসে,
– ভুল, ভুল, যা ভাবো সবটা ভুল। অতীতে আট /দশটা মেয়ের সাথে যেভাবে সম্পর্কে জড়িয়েছিল আরাফ ঠিক তোমার সাথেও তাই হয়েছে।গালফ্রেন্ড তো হাজারটা করা যায় কিন্তু বউ একজন।এখনো সময় আছে আমাদের সংসারে আগুন না লাগিয়ে লন্ডনে ছিলে সেখান থেকে ভালো কোন ছেলে দেখে বিয়ে করে নাও, তোমারো ভালো আমাদেরো ভালো।

হৃদিতা, হৃদিকে নিয়ে উঠে চলে যায়।এদিকে প্রভা রাগে গজগজ করতে করতে হাতের ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মারে।

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। বিকালের আকাশের পশ্চিম কোনে হেলে পড়া সূর্যটা লাল রক্তিম আভা ছড়িয়ে আছে। সেদিকে তাকিয়ে আরাফ ভাবতে থাকে তার ভবিষ্যতের কথা। হৃদিতা যেভাবে হেলেদুলে হাসিখুশি চলছে তাকে দেখে মনে হচ্ছে না সে খুব একটা চিন্তায় আছে।আরাফ দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। মাথার চুল টেনে আবারো আকাশের দিকে তাকায়। এই মূহুর্তে একটা সিগারেট হলে মন্দ হতো না। হঠাৎ আরাফ অনুভব করে পেছন থেকে দুটো হাত তার পিঠে আঁকিবুঁকি করছে।হাত দুটো থেমে তার পেটের দিকটা ঝাপটে ধরেছে।এক মুহূর্তের জন্য হৃদিতার কথা মনে হলেও হঠাৎ করে মস্তিষ্ক জানান দিচ্ছে না এটা হৃদিতা না।হৃদিয়ার গায়ে এমন বডি স্পের গন্ধ পাওয়া যায়না। তারটা তো অন্য রকম।আরাফ সহসা ছিটকে দূরে সরে যায়।তখনি চোখের সামনে প্রভার মুখ ভেসে উঠে।

– ত-ত-তুমি এখানে?
– কেন আরাফ অন্য কাউকে আশা করছিলে বুঝি?আসার পর থেকে তোমায় একান্ত ভাবে পাইনি এবার যখন পেলাম তখন ছেড়ে যাই কি করে বলো?
আরাফ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রভার দিকে। প্রভার চেহেরায় বেশ অনেকটা পরিবর্তন এসেছে আগের মতো চেহারায় সতেজতা নেই রাত জেগে চোখের নিচে কালি জমিয়ে ফেলেছে।আরাফ তার দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।
– আরাফ তুমি কি হৃদিতার প্রতি উইক?
আরাফ উওর দিলো না। এই মেয়েকে এখন তিল বললে নোমানের কাছে গিলে তাল বানাবে তাই সম্পূর্ণ কথাটা ঘুরিয়ে দেয় আরাফ।

– তোমার পড়ালেখার কি অবস্থা?
– সে সব ছাড়ো এখন আগে দেখো তোমার জন্য কি এনেছি!
প্রভা জিন্সের পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার বের করে আরাফের সামনে ধরে,

– দেখো তোমার পছন্দের সিগারেট নিয়ে এসেছি।
আরাফ মুচকি হেসে মাথা দিয়ে না না ইশারা করে।
– সরি, আমি ছেড়ে দিয়েছি সিগারেট।
– বাট হোয়াই?
– হৃদিতার সিগারেটের ধৌয়ায় কষ্ট হয়।
আরাফের উওরে প্রভার বেশ হিংসে হয়।নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে অন্যদিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।মনে মনে তীব্র ভাবে ওয়াদা করে যে কোরেই হোক আরাফকে সিগারেট ফোঁকাবে।ঠিক তাই হলো, প্রভার ঘ্যানঘ্যানানিতে বিরক্ত হয়ে আরাফ সিগারেট মুখে তুলে নেয়। লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মুখের সামনে নিতেই কানে আসে হৃদিতার স্বর।

– আরাফ তুই আমার কথার অমান্য করেছিস?
হৃদিতা বেশ রাগ নিয়ে আরাফের সামনে দাঁড়ায়। আরাফ স্তম্ভিত হয়ে একবার হৃদিতা আরেকবার প্রভার দিকে তাকায়।হৃদিতা সুযোগ বুঝে আরাফের পায়ের পাতার উপর নিজের পা তুলে দিয়ে আরাফের গলা ধরে দাঁড়ায়।টাল সামলাতে না পেরে পরে যেতে নিলেই আরাফ তার কোমড় চেপে ধরে। হৃদিতা এক টানে আরাফের মুখ থেকে সিগারেট নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়।

– আর যদি সিগারেট তোর মুখে দেখি তবে,তোর কালো ঠোঁট দুটোতে আর চুমু খাবো না।সত্যি বলছি।
আরাফ হকচকিয়ে যায়। পরক্ষনেই আরাফ স্বাভাবিক হয়ে হৃদিতার নাকে নাক ঘষে দেয়।
– মহারানী যথা আজ্ঞা! আপনার হুকুম আমি আর অমান্য করবো না তবুও এমন কঠিন শাস্তি আমায় দেবেন না।
– আর যদি করিস তবে কি যে করবো আমি?
আরাফ আর হৃদিতার খুনশুটি দেখে জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে প্রভা।এদিকে সিড়ি ঘরের দরজা দিয়ে সব কান্ড দেখছে মাইশা। বেচারি প্রভার অস্থির মুখ খানা দেখে তার বেশ হাসি পাচ্ছে।

প্রভা আর সইতে না পেরে রাগ দেখিয়ে দ্রুত সরে আসে। সিড়ির সামনে আসতেই মাইশার সঙ্গে দেখা হয়।মাইশা তার দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসতেই প্রভা মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

– শোন মেয়ে তোমার ভালোর জন্য বলছি,আরাফের সাথে নিজেকে না জড়িয়ে তাদের কে তাদের মতো করে থাকতে দাও এতে তোমার এবং তোমাদের উভয়ের ভালো হবে।
– থ্যাংস ফর ইউর এডভাইস।আমার ভালো আমি নিজেই করতে জানি।

প্রভা দ্রুত নিচে চলে যায়। এদিকে মাইশা ঠোঁট বাকিয়ে আরো একবার আরাফ আর হৃদিতার দিকে তাকায়।
লেখনীতে পলি আনান।
– ভাইয়া এই তুমি আমার ভরসার হাত?আরাফকে ওই মেয়ে কি করে বাদর নাচ নাচাচ্ছে তা কি তুমি দেখছো না। আমার আরাফ আর আগের মতো নেই সে এখন হৃদিতাতে আসক্ত।
– আহ!চিন্তা করিস না তুই।ডিভোর্সের পেপার গুলো দুই,তিন দিনের মাঝেই চলে আসবে তারপর আরাফ এবং হৃদিতা দুজনেই সই করতে বাধ্য।

– কিন্তু আরাফের যে অবস্থা আমার তো মনে হয়না আরাফকে আমি আগের মতো করে পাবো।
– দেখ প্রভা তোর কি উদ্দেশ্য শুধু আরাফকে পাওয়া নাকি অন্যকিছু বার বার ভুলে যাস কেন তুই?
– যাই হোক, আরাফের সাথে আমার বিয়ে হোক আর না হোক তবে হৃদিতাকে আমি কিছুতেই ভালো থাকতে দেবো না।
প্রভার কথায় মাথা নেড়ে সায় দেয় নোমান দুজনের মাঝে নেমে আসে আবার নিরবতা।নিরবতায় ছেদ ঘটিয়ে প্রভা বলে,

– আমি একটা কথা বুঝতে পারছি না তুমি ওই মাইশা মেয়েটাকে বিয়ে করতে কেন চাইছো ভাইয়া?তোমার জন্য কোন দিক দিয়ে ওই মেয়ে যায় না।তোমার প্রয়োজন কোন মন্ত্রীর মেয়েকে কবজা করা আশা করি আমার কথা তুমি বুঝতেই পারছো।
প্রভার কথায় অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে নোমান।সামনে থাকা ওয়াইনের বোতলে একটা চুমুক দিয়ে রহস্য ভাবে হাসতে থাকে।

রাতের বারোটা ছুঁই ছুঁই তখনি আরাফের ফোনে শাকীলের কল আসে। হৃদিতা এবং তাকে দ্রুত তাদের বাড়িতে আসতে বলে।হুড়োহুড়ি করে আরাফ আর হৃদিতা পৌছে যায় শাকীলের বাড়ি কিন্তু সেখানে গিয়ে দুজনেই আহাম্মক বনে যায়।লিবান এক সাইডে দাঁড়িয়ে,বাড়ির সবার কান্ড কীর্তি দেখছে।তাকে দেখে এগিয়ে আসে আরাফ আর হৃদিতা।

– কিরে কি হয়েছে শাকীল এত গুরুত্ব দিয়ে এত রাতে ডাকলো?
– শাকীল আর নাফিসার বিয়ে তাই।
লিবানের সহজ – প্রাঞ্জল কথাটা ঠিক স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারলো না আরাফ আর হৃদিতা। দুজনেই অবাক হয়ে লিবানের দিকে তাকিয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড।

– কি বলছিস? হঠাৎ বিয়ে!
– হুম ঠিক বলছি।নাফিসা আর শাকীলের মাঝে এই দুইদিন তো তুমুল ঝগড়া। আজ শাকীল নিজেই সিধান্ত নিয়েছে বিয়েটা হবেই।নাফিসার বাড়ির সবাই রাজি কিন্তু শাকীলের বাবা দ্বিমত পোষণ করেন।এমন বেকার ছেলে কি করে বিয়ে করবে?,এতে নারাজ শাকীল তার কথা, বাবার ব্যবসার হাল ধরবো আমি। বিয়ের আগে ধরি আর পরে ধরি, আমি না হয় পরেই ধরবো।সব ঠিক ঠাক কাজিও চলে এসেছে।এদিকে আমি আর কি করবো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবার কীর্তিকলাপ পরখ করছি।

লিবানের কথায় আরাফ আর হৃদিতা দুজনের মুখ দুজন চাওয়াচাওয়ি করে।দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আরাফ বলে,
– কি এমন হলো যে ঝগড়ার পর শাকীল বিয়ে করার সিধান্ত নিলো?
– নাফিসা শাকীলকে জেলাস ফিল করাতে নতুন বফের হাতে হাত রেখে একটু ঘোরাঘুরি করছিল।তখনি শাকীল সুপারম্যান হয়ে উড়ে গিয়ে ওই ছেলেকে ধুমধাম মেরে নাফিসাকে নিয়ে আসে আর বিয়ে আজকেই হবে বলে ঘোষনা দেয়। বুঝলি বোকাদের কান্ড।
লিবানের কথা শুনে আরাফ ঠোঁট কামড়ে হাসে,
– যা হয়েছে একদম ঠিক হয়েছে।এবার সাপে বেজির ঝগড়াটা কমে যাবে আমার মনে হয়।
আরাফের কথায় লিবান আর হৃদিয়া সমান তালে হাসতে থাকে।

ঘরোয়া পরিবেশে অবশেষে নাফিসা আর শাকীলের বিয়েটা সম্পূর্ন হয়।তখন প্রায় রাত তিনটে।শাকীল আর নাফিসার ফ্লাট পাশাপাশি হলেও হুট করে বিয়েটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা নাফিসা।নিজ পরিবার থেকে বিদায়ের পর্বে কান্নায় ভেঙ্গে পরে নাফিসা।নাফিসার কান্না দেখে শাকীল আরাফের পাশে এসে দাড়া। আরাফের কানের সামনে মুখ নিয়ে বলে,

– তামশা’ডা খালি দেখ হাব ভাব এমন যেন আমি গলায় ছুরি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।এত কাদার কি আছে?সারাদিন আমার ঘর আমার রুম দখল করে রাখে আর এখন যখন পার্মানেন্ট নিয়ে এলাম এখন কান্দনের ঢং শুরু।
– চুপ কর ব্যাটা।নাফিসা যদি তোর এই কথা শুনে চুলের মুঠি চেপে ধরবে।
– তা ঠিক বলসত, ঘাড়ে করে নিজের বিপদ নিয়ে যাচ্ছি রে দোস্ত।দোয়া করিস আমার জন্য।

শাকীলের আফসোস ভঙ্গির কথা শুনে ঠোঁট টিপে হাসে আরাফ।তখনি তাদের কানে আসে ফ্যাচফ্যাচ করে কান্নার আওয়াজ।আরাফ আর শাকীল ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই লিবানকে কাদঁতে দেখে ভড়কে যায়।

– কি রে তুই কাদছিস কেন? কি হইছে দোস্ত?
– ন-নাফিসা কান্না দেখে আমারো কান্না আইসা গেছে। ও খুব কষ্ট পাচ্ছে রে।
লিবানের কথায় আহাম্মক হয়ে যায় আরাফ আর শাকীল। আরাফের ঘাড়ে মাথা ফেলে শাকীল আর্তনাদ সুরে বলে”ওহ নো এই পোলারে বিয়া করবো কোন মাইয়া”
#চলবে……..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here