সবটা অন্যরকম♥ পর্ব_৫০

সবটা অন্যরকম♥
পর্ব_৫০
Writer-Afnan Lara
.
-সাদাত স্যার আমায় পছন্দ করেন এটা তো তোমায় আগেও বলেছিলাম।বিয়েতে অমত করবে না দেখো
.
-যখন জানতে পারবে আপনি বারে চাকরি করেন তখন দেখিয়েন কি করে উনি।যদিও আমি তার কথা শুনবো ন। তাও বলছি
.
-এই সময় চাকরি খুঁজতে গেলে তো অনেক সময় লেগে যাবে আমার।তাও চেষ্টা চালু রাখতে হবে যে করেই হোক।তোমায় আমি হারাতে চাই না
.
-এসব চিন্তা বাদ দিন।বাবা সবে আমাকপ পেয়েছেন এখনই বিয়ের কথা ভাববেন না।তা আমরা কোথায় যাচ্ছি?
.
-বাসায়
.
-কেন?
.
-মা তোমাকে ছাড়া থাকতে পারে না।কান্নাকাটি শুরু করে দিছে।তাই মাকে দেখে নিবে আর খাবারও খেয়ে নিবে
.
-আচ্ছা।
.
আহনাফ যে পথ দিয়ে যাওয়ার সে পথ দিয়ে না গিয়ে অন্য পথ দিয়ে যচ্ছে যাতে আলাদা একটু সময় পাওয়া যায়
বাসায় আসার পর থেকে আহনাফ এক চিন্তায় ডুব দিয়েছে আর তা হলো তার চাকরির কারণ। যদি সে দিবাকে হারিয়ে ফেলে তাহলে দোষটা তার নিজের হবে সম্পূর্ণ
দিবা খালামণির সাথে কথা বলতে বলতে আহনাফকে লক্ষ করছে।খালামণি একটা সময়ে উঠে চলে গেলেন খাবার রেডি করতে
দিবা সে সুযোগে আহনাফের কাছে এসে বসলো।হাতে হাত রেখে বললো”চাকরি এখন পেতেই হবে তা নিয়ে ঝামেলা মাথায় নেওয়ার দরকার নাই।বাবা যদি রাজি না ও হোন ইটস্ ওকে।বিয়ে করলে আপনাকেই করবো।তাও মনটা এমন খারাপ করে রাখবেন না”
আহনাফ মাথা তুলে বললো”সব কিছু এত সোজা না দিবা।ভালোবাসা এই একটা সময়ে এসে থমকে যায় পরিবারের চাপে পড়ে।তখন আমরা কি রেখে কি করবো ভেবে পাই না।এটা খুবই কঠোর একটা পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়ায় আমাদের সামনে।একদিকে পরিবার আর আরেকদিকে ভালোবাসার মানুষটি”
.
দিবা আহনাফের কাঁধে মাথা রেখে বললো”চলুন দূরে কোথাও চলে যাই”
.
কথাটা শুনে আহনাফ দিবাকে নাড়া দিয়ে বললো”যদি আমিও তোমার বাবার মতন করি যেমনটা উনি তোমার মায়ের সাথে করেছিলেন?”
.
দিবা হেসে বললো”আমার হবু শাশুড়ি বিয়েতে রাজি সুতরাং তার ছেলে চেয়েও আমাকে ঠকাতে পারবে না।আসুন খাবেন আমাদের সাথে।খালামণি ডাকছে”
.
দিবা উঠে চলে গেলো সেদিকে।আহনাফ নিজের ফোনটা পকেট থেকে বের করে কল করলো জিসানকে।সে কোনো চাকরি খুঁজতে দিতে পারবে কিনা তা জানার জন্যই কলটা করা
জিসান বেশ অনেকগুলো চাকরির সন্ধান দিলো কিন্তু ওগুলোর বেতন অনেক কম যা দিয়ে সংসার সামলানো বেশ কঠিন হয়ে যাবে
তা ভেবে রাগ করে আহনাফ ফোনটা ফেলে উঠে চলে আসলো ডাইনিং রুমে
খাওয়া শেষ করে দুজনে একসাথেই বের হয়েছে বাসা থেকে
দিবা মিনিকে বুকে ধরে সিঁড়ি দিয়ে আস্তে আস্তে নামছে
এক পাশে আলো আছে তো আরেক পাশে নেই
আহনাফ দিবার মুখের দিকে চেয়ে হাঁটতে গিয়ে হোচট খেয়ে গেলো।দিবা এক হাতে ওকে ধরে বললো”সাবধানে”
.
আহনাফের চোখে অন্যরকম একটা নেশা খুঁজে পেলো সে।
আহনাফ এগিয়ে এসে হাতটা দেয়ালের উপর রাখলো
মিনি চোখ বড় করে তার জ্যাকেটের চেইনটা দেখছে ড্যাবড্যাব করে।
চেইনটা ঝিকমিক করছে বলে তার চোখ ওদিকেই গেছে সবার আগে
দিবা চুপ করে আছে।আহনাফ একটু ঝুঁকে বললো”বিশ্বাস করো!ভালো একটা চাকরি পেলে আমি তোমায় আজই বউ করে আনতাম।তোমাকে নিজের করে পাবার ইচ্ছা আমায় যন্ত্রণা দেয়।কেন পারছিনা বলো?তোমাকে ছুঁতে গেলে আমার অনেক কিছু ভাবতে হয়।হয়ত তুমি ভাববে তোমার মায়ের মতন তুমিও ঠকতে পারো
এসব ভেবে আমি তোমার কাছে এসেও তোমায় ছোঁয়ার শক্তিটুকু হারিয়ে ফেলি।কষ্ট হয় দিবা!!”
.
কথাটা বলে আহনাফ দিবার ঘাঁড়ে মাথা ঠেকালো।দিবা ফিসফিস করে বললো”আমি যদি এখন আপনাকে ছুঁই তাহলে কি সেটা আপনাকে ঠকানো হবে?”
আহনাফ দিবার কান টেনে ধরে বললো”আই এম সিরিয়াস।মজা করবে না”
.
-“আরেহ আমিও সিরিয়াস।জাস্ট কিস একটা করলে আপনি কি ঠকবেন?যদি না ঠকেন তাহলে করবো”
.
-“তুমি নিজে ঠকবা”
.
-“কেন?কেন?”
.
-কারণ আমায় একবার নেশায় ফেললে তোমার আর নিস্তার নাই”
.
-“মিঁয়াওওওওওওও”
.
আহনাফ চমকে দূরে সরে বললো”ওর কি হলো আবার?”
.
-“যে হারে আমায় চেপে ধরেছিলেন মিনি কিন্তু আমার কোলে ছিল।বেচারা চাপ খেয়ে ভয় পেয়েছে”
.
-“আমাদের বাসর ঘরে এরে ঢুকতে দিবা না।সব গণ্ডগোল করে ফেলবে তা নাহলে।এক কাজ করো ওরে একটা বউ এনে দাও তাহলে আর সেদিন আমাদের ডিস্টার্ব করতে আসবে না”
.
-হইছে।পরেরটা পরে।এখন চলুন দেরি হয়ে যাচ্ছে”
.
আহনাফ নিজের মাথার চুলগুলো ঠিক করে হাঁটা ধরলো
দিবাকে একেবারে ওর বাসার গেটের সামনে এনে নামিয়ে দিল সে
দিবা হাত দিয়ে টাটা দিলো ওকে
আহনাফ মুখ ফুলিয়ে বললো”থাক।আর কাঁটা গায়ে নুনের ছিঁটি দিতে হবে না আপনাকে”
.
দিবা মুখটা এগিয়ে এনে আহনাফের গালে ঠোঁটজোড়া লাগিয়ে সাথে সাথে পিছিয়ে গেলো
আহনাফ গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে বোকার মতন
দিবা ওর এমন লুক দেখে দাঁত কেলিয়ে বললো”কই?কি করবেন এখন?বললেন না নিস্তার হবে না”
আহনাফ বাইক থেকে নেমে দিবার হাতের কব্জি ধরে টান দিয়ে বললো”তোমার বাপের সামনে থেকে তোমায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সাহস আমি রাখি”
.
-“ছাড়ুন। জানি আপনার সাহস আছে।আর প্রুভ দিতে হবে না। বাই”
.
দিবা ছুটে চলে গেলো বাসার ভেতর।আহনাফ মুচকি হেসে গালে হাত বুলিয়ে সেও চলে গেলো।দিবা বাসায় ঢুকতেই বাবাকে দেখতে পেলো ।তিনি সোফায় বসে কাগজপত্র ঠিক করছিলেন।দিবা সোজা তার রুমে চলে যাওয়া ধরতেই বাবা বললেন”দিবা তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।বসো এখানে”
.
দিবা মিনিকে নিয়ে বাবার সামনে বরাবর সোফাটায় বসলো।বাবা হাত থেকে কাগজ রেখে বললেন”আহনাফ কি চাকরি করে জানো?”
.
দিবা ঢোক গিলে অনেক ভেবে বললো”জানি না”
.
-“আমি মৌ আপার সাথে কথা বলেছিলাম দশ মিনিট আগে।উনি বললেন আহনাফ একটা ব্যাংকে চাকরি করে।যা বেতন পায় তাতে সংসার ভালোই চলে।”
.
দিবা চুপ করে মিনির গায়ে হাত বুলাচ্ছে
বাবা হালকা কেশে বললেন”ওকে পছন্দ করো তুমি?”
.
দিবা মাথা তুলে বললো”বিয়ে করতে চাই উনাকে”
.
বাবা মুচকি হেসে টেবিলের উপর থেকে চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বললেন”মিনির কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম।আহনাফের কথা নয়”
.
দিবা বোকার মতন বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে উঠে এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেলো
বাবা মিটমিট করে হাসতে হাসতে ফোন বের করে দিবার মাকে কল করলেন
.
-“হ্যালো!কি সমস্যা? আমার মেয়ে তোমার কাছে গিয়ে থাকছে তাহলে আবার ফোন দাও কেন আমায়?”
.
-“একটা জরুরি কথা বলতে ফোন করেছি”
.
-“কি??দিবা ঠিক আছে তো?”
.
-“হুম ঠিক আছে।একটা কথা বলো আগে!! আহনাফকে তোমার কেমন লাগে?”
.
-“আহনাফ? ও তো ভালো ছেলে।কেন বলোতো?”
.
-“দিবা ওকে ভালোবাসে”
.
-“আর ও?”
.
-“ও নিজেও ভালোবাসে দিবাকে”
.
-বাই।আমি মৌ আপার সাথে কথা বলে দেখছি।শাশুড়ি রাজি না থাকলে এই টপিক সম্পূর্ন বাদ যাবে।আমি চাই না আমার মেয়ের ও একই পরিণতি হোক যেমনটা আমার হয়েছে
.
-“কি বুঝাতে চাও তুমি?দিবার কথা জানলে আমি মায়ের বিপক্ষে গিয়ে হলেও তোমায় নিজের থেকে দূর হতে দিতাম না”
.
-“আমাকে ইউজ করে ফেলে দিয়ে আবার আমার গর্ভের সন্তানের কথা শুনে আপন করে নিতেন?এত ডাহা মিথ্যা কথা না বললেও পারেন।আজীবন তো মিথ্যাই বলে গেলেন।”
.
-আমি মিথ্যা বলি না।তোমাকে যে ভালোবাসি সেটার প্রমাণ হলো আমি আজ পর্যন্ত বিয়ে করিনি।তুমি তো করছো
.
-আমি কি ইচ্ছে করে করছি?বাবা জোর করে বিয়ে দিয়েছেন।আমার যে ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়েটা হয়েছে তার প্রমাণ হলো আমি আজ পর্যন্ত বাবা মায়ের সাথে কথা বলিনি ঐদিন ফোন দিছে তাও আমি তাদের কথার জবাবে কিছু বলি নাই।হু /হা /না তে জবাব দিসি।তোমাকে বলে কি লাভ।তোমার চোখে তো তুমি ঠিক আর আমি ভুল
.
-এসব নিয়ে ঝগড়া করতে চাচ্ছি না আমি।তোমার দোষ কম না
দিবার কথা না জানিয়ে ভুল করছো তুমি
আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে দিবার বিয়ের প্রসঙ্গেও জড়াতো না তোমাকে।তুমি ওর মা বলে আর আমি একজন ভালো বাবা বলে এখন জানালাম তোমায়।নাহলে তোমার সাথে কথা বলতেও আমার রাগ হয়।আমার মেয়ের পরিচয় তুমি এত বছর গোপন রেখেছো আমার থেকে।আজীবন রাখতা যদি আমি নিজে দিবাকে খুঁজে না পেতাম
মেয়েকে এমন ভুল বুঝিয়েছো যে ও এখন আমায় সহ্য করতে পারে না।বাবা মেয়ের যে সম্পর্ক হয় সেটাও নাই আমাদের মাঝে।
.
-থাকার কথাও না।আমার তো মন চাচ্ছে দিবাকে বলতে যে তোর বাবারে মরিচের গুড়ো দিয়ে শরবত বানায় খাওয়াই দে পারলে
.
-তোমার সাথে কথা বলাই বেকার।বাই
.
-তার পরেও তো সেধে সেধে আমায় ফোন করো তুমি নিজে।আমি তো করি না।তুমি বেহায়া লোক তাই কল করো অলওয়েজ
.
-জাস্ট আমার মেয়ের জন্য বেহায়া হচ্ছি তা নাহলে তোমার নাম্বার ব্লক লিস্টে ফেলতাম আমি
.
-ভালো কথা মনে করিয়ে দিছো।আমি এখন তোমার নাম্বার ব্লক লিস্টে ফেলবো।বাই
.
-আমার কিন্তু রবি সিম আরেকটা আছে।বাই
——
দিবা রুমে এসে ফোন খুঁজে আহনাফকে কল করেছে।আহনাফ বাইক থামিয়ে রিসিভ করে বললো”কি হয়েছে?”
.
-বাবাকে ভুলে বলে দিছি আপনাকে বিয়ে করতে চাই
.
-ইউরেকা!!তারপর?
.
-তারপর আমি ছুটে রুম৯ চলে এসেছি
.
-আরে আগে বলো সাদাত স্যারের মুখ গম্ভীর ছিল নাকি হাসছিল?
.
-হাসছিল মুচকি মুচকি
.
-আলহামদুলিল্লাহ্‌।যাই শেরওয়ানি অর্ডার দিয়ে আসি
.
-ধুর!মজা করবেন না।এখনও কিছুই ঠিক হয় নাই।
.
-ওগো আমার প্রেয়সী!!
তুমি আমার মনটা ভালো করে দিলা।বলো কি চাও তুমি
.
-আমি চাই আপনি চুপচাপ বাসায় গিয়ে ঘুমান।রাত অনেক হয়েছে।বাই
.
দিবা লাইনটা কেটে দিয়ে বিছানায় বসে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলো একবার।বাবাকে দেখা যায় না।বাবা তার রুমে চলে গেছে মনে হয়
মিনি দিবার ড্রেসিং টেবিলে উঠে আয়নার সামনে বসে নিজেকে দেখছে মনোযোগ দিয়ে
দিবা বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে ভাবলো”সব এত জলদি ঠিক হওয়া মানে বিপদের লক্ষণ।আমি চাই না এত জলদি হোক
ধীরে সুস্থে হোক তাই চাই তাও যেন সব ঠিকঠাক মতন হয়।কোনো বাধা বিপত্তি যেন না আসে।আমি চাই বাবা মা দুজনেই আমার বিয়ে নিয়ে খুশি থাকবেন।দুজনে একত্রে আমার বিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে দেখবেন।আচ্ছা মা তো আসবে না জানি
ভিডিও কলে তো থাকবে তাই অনেক।কত খুশির দিন হবে সেটা
ভাবতেই আমার আনন্দে নাচতে মন চাইছে।
মিনি লিপস্টিকের বক্স নিয়ে ধুরুম করে নিচে পড়ে গেছে।দিবা চোখ মেলে বললো”কেয়ামতের সময় তোর দুষ্টুমি করা লাগবে?এগুলো কে গুছাবে এখন?এমনি এমনি তোকে আজাইরা বলে না উনি।তুই আসলেই আজাইরা একটা।
যা নিজের বউ নিজে খোঁজ।আমার এত সময় নাই।
না থাক!!! পরে জঙ্গল থেকে জংলি একটারে ধরে আনি বিয়ে করতে চাইবে পরে তার চেঁচামেচি আমায় শুনতে হবে।
আমি তোর জন্য ভালো দেখে কিউট দেখে মিষ্টি একটা বউ আনবো।
চলবে♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here