#ভালোবাসি_আমি_যে_তোমায়_২
#Sohani_Simu
৩৬.
বিকেলের অবসন্ন রাঙা রোদ অলসভাবে গাছের মাথায় জড়িয়ে আছে।শেষ ক্লাসটা করে বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসের মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছে ইচ্ছেমতি।গল্প আর হাসি তামাশার মধ্যে হঠাৎই তার ফোন বেজে উঠলো।তার ফিওন্সি ডক্টর মনিম কল দিয়েছে।বন্ধুদের থেকে একটু দূরে এসে কল রিসিভ করে একটু মেজাজ নিয়ে বলল,
‘বলুন কি বলতে চান?’
ওপাশ থেকে ডক্টরের কর্কশ কন্ঠ শোনা গেল,
‘কি বলব মানে?ছেলেটা কে?কার সাথে সারাদিন ঘুরাফিরা কর?কয়টা বয়ফ্রেন্ড আছে তোমার?ভুলে যেওনা তোমার বিয়ে আমার সাথে হওয়ার কথা।তাহলে অন্য ছেলেদের সাথে কি?’
ইচ্ছেমতি ভ্রু কুচকে কিঞ্চিৎ রেগে বলল,
‘আমি কি একবারও বলেছি আপনাকে বিয়ে করব?নাকি আমার বাবা বলেছে?আপনি আর আপনার বাবা মিলে আমার বাবাকে ফোর্স করছেন।আর কোন ছেলের কথা বলছেন আপনি?’
‘যেই ছেলেটা সকালে তার সাথে তোমার একটা ছবি পাঠালো।তোমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে। তোমার ডানাটা বেশি বড় হয়ে গিয়েছে ইচ্ছে।খুব শীঘ্রই কেঁটে ফেলতে হবে।আমি আজই বিয়ের কথা বাবাকে বলেছি।কালকের মধ্যে রেজিস্ট্রি বিয়ে করে নিব।’
ইচ্ছেমতি রেগে বলল,
‘এই শোন আমি তোকে বিয়ে করব না।’
‘সেটা দেখা যাবে।’
ডক্টর রেগে কল কেটে দিয়েছে।ইচ্ছেমতি রাগে কট মট করতে করতে আরাফকে ফোন দিল।আজকে এই ডক্টরের একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।ইচ্ছেমতি হাঁটতে হাঁটতে ফ্রেন্ডদের থেকে অনেক দূরে চলে এসেছে।মাঠের কিনারায় একটা গাছের গুড়িতে এসে বসেছে।আরাফ কল রিসিভ করতেই ইচ্ছেমতি বলল,
‘ভাইয়া শোন তোমাকে খুবই ইম্পরট্যান্ট একটা কথা বলবো।’
‘বল।’
‘কোথায় তুমি?’
‘বাসায়।’
‘ওকে বলছি তাহলে।আমি ওই ডক্টরকে বিয়ে করবোনা। তুমি প্লিজ বাবাকে বলে ওদের না করে দাও।’
‘হোয়াট!’
‘প্লিজ ভাইয়া।ওই লোকটাকে আমার একদম পছন্দ নয়।’
‘কি বলছিস এসব?বাবা আঙ্কেলকে কথা দিয়েছে।এখন বাবা কি বলবে?আর তুই এখন কেন বলছিস?বাসায় আয়।’
‘হ্যাঁ যাব তার আগে তুমি বল বিয়ে ভেঙে দিবা?’
‘বাসায় আয় আগে।’
ইচ্ছেমতি কল কেঁটে কিছুক্ষণ থমথমে মুখ করে বসে থাকলো।পরক্ষণেই মনে মনে বলল এই বিয়ের ঝামেলা আজকে মিটিয়েই ছাড়বে।বাসায় যেয়ে তাকে লঙ্কা কান্ড বাঁধাতে হবে।দরকার হলে অন্তর মতো হাত-পা কেঁটে হলেও ভাইকে নিজের পক্ষে আনতে হবে।
—
শেষ বিকেলে নির্ভীক ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরছিল।রাস্তায় আরাফের কল পেয়ে অবাক হল।ছবিগুলোর ব্যাপারে কথা বলার জন্য নির্ভীকই আরাফকে কল দিত।আরাফের কল ধরে ছবিগুলো নিয়ে আর কথা এগুলোনা জরুরী দরকারে আরাফকে নিয়ে প্রান্তদের বাসায় আসতে হল।প্রান্ত বাসায় নেই।অফিসে আজ তার প্রথম দিন।সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অফিস করলে তবে তার ছুটি।প্রান্তর মা আরাফের চা নাস্তার ব্যবস্থা করে আরাফের সামনে সোফায় বসলো।আসার সময় আরাফ নির্ভীককে সব বলে দিয়েছে তাই নির্ভীক এক ঢোক পানি খেয়ে গ্লাস যথা স্থানে রেখে গলাটা সামান্য ঝেরে নিয়ে বলল,
‘আসলে মামি,আমরা এসেছি বিয়ের কথা বলতে।আরাফ ভাইয়ার ছোটবোন ইচ্ছেমতিকে চিনো নিশ্চয়?আরাফ ভাইয়ার মা প্রান্তকে দেখে খুব পছন্দ করেছেন।এখন উনি বলছেন আমরা যেন কথাটা তোমাদের জানায়।তুমি আর মামা এগুতে চাইলে উনারা রাজশাহী আসবেন।’
আরাফ অবাক হয়ে নির্ভীকের দিকে তাকিয়ে আছে।আরাফের বাবা-মা তো এখনও কিছু জানেই না আর নির্ভীক এসব কি বলছে?আরাফ প্রান্তর মায়ের দিকে তাকিয়ে কিছু বলবে তখনই নির্ভীক বলল,
‘তোমরা মনে হয় এখনই প্রান্তর বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবছোনা।’
প্রান্তর মা মৃদু হেসে বললেন,
‘ভাবছিনা মানে আমি তো সেই তোর বিয়ের দিনেই প্রান্তর বিয়ে দিতে চাইছিলাম।ইচ্ছে আর অন্তকে প্রথমে একসাথে দেখে যমজ ভেবেছিলাম।তোর মার সাথে গল্পও করলাম মেয়েটাকে প্রান্তর সাথে বিয়ে দিতে পারলে ভাল হয়।তোর মা বলল ওর নাকি বিয়ে ঠিক আছে তাই আর কিছু বলিনি।ভারী মিষ্টি মেয়ে।’
প্রান্তর মা প্রান্তর গার্লফ্রেন্ডের ব্যাপারে জানার পর থেকে মেয়ে দেখা শুরু করে দিয়েছেন।এতদিন প্রান্তর চাকরি ছিলনা তাই খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে মেয়ে দেখেননি।আরাফ চিন্তিত হয়ে বলল,
‘বিয়ে ঠিক ছিল কিন্তু এখন বলছে….’
নির্ভীক আরাফকে পুরোটা বলতে না দিয়ে বলল,
‘আঙ্কেল আন্টির ওই ছেলেকে খুব একটা পছন্দ নয়।প্রান্তকে দেখে উনাদের পছন্দ তাই আজকে ফোন করে বলেছে তোমরা যদি রাজী থাকো তাহলে ওই ছেলে ক্যান্সেল।’
প্রান্তর মা খুশি হয়ে বললেন,
‘তোর মামা ফিরে আসুক তখন নাহয় উনাদের ফোন করব?আমরা কথাবার্তা এগুতে চাই।মেয়ে আমাদের দুজনারই খুব পছন্দ কিন্তু ওই বিয়ে ঠিক থাকার জন্য মুখ ফুটে কিছু বলতে পারিনি।’
আরাফের মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।বাবা-মাকে কিভাবে বলবে কিছু বুঝতে পারছেনা।এদিকে প্রান্তর মা যে এত সহজে রাজী হয়ে যাবে আরাফ ভাবতেও পারেনি।আরাফ চিন্তিত হয়ে বলল,
‘প্রান্ত কি বলবে।ওর মতামত..’
প্রান্তর মা বড় মুখ করে বললেন,
‘ও কিছু বলবেনা।আমরা যেখানে বলব সেখানেই বিয়ে করবে।’
আরাফ শুকনো ঢোক গিলল।নির্ভীক মুচকি হেসে বলল,
‘ওই শালাকে বিশ্বাস নেই মামি।আজকাল শুধু মেয়েদের পেছনে ঘুরঘুর করছে।তাড়াতাড়ি বিয়ে করিয়ে দাও নাহলে দেখবা নবাবগঞ্জের কোন চাপাবাজ মেয়ে ঘরে তুলে নিয়েছে।’
প্রান্তর মা চাইছিলেন না আরাফের সামনে প্রান্তর অন্য মেয়েদের পেছনে ঘুরঘুর করার কথা নির্ভীক বলুক। এই ভয়টায় উনি পাচ্ছিলেন কিন্তু নির্ভীক বলেই দিল।নির্ভীকও চালাকি করে কথাটা বলেছে যাতে চাপাই নবাবগঞ্জের মেয়েদের ভয়ে প্রান্তর মা খুব তাড়াতাড়ি ইচ্ছেমতির সাথে বিয়ে দিতে চান।চাপাই আর চাপাইয়ের মেয়েদের উনি একদম পছন্দ করেননা তাই উনি চাননা প্রান্ত চাপাইয়ের মেয়েকে বিয়ে করুক।আফ্রা আর অন্ত ভাল মেয়ে জন্যই তো নির্ভীকের বাবা-মা একসাথে দুই ছেলেকে বিয়ে দিল।মেয়ে দেখতে ভাল,বংশ ভাল,সবসময় অন্তর সাথেই থেকেছে।এসব ভেবে প্রান্তর বাবা-মা ইচ্ছেমতির সাথে প্রান্তর বিয়ে দিতে চাইছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রান্তর বাবা অফিস থেকে ফিরে এসে উনিও মত দিলেন।রাতে প্রান্ত বাসায় আসতেই নির্ভীক প্রান্তকে নিয়ে প্রান্তর ঘরে একা কথা বলার জন্য গেল।ঘরে ঢুকেই নির্ভীক প্রান্তকে দু-চারটে কিল ঘুষি মেরে বলল,
‘ওই শালা ছবি গুলো তোকে কে পাঠাতে বলেছিল?ওই ছেলে এখন বিয়ের জন্য তাড়াহুড়ো করছে।’
প্রান্ত বিছানায় বসে টাই খুলতে খুলতে বলল,
‘ডোন্ট ওরি সিয়াম তো আছেই বিয়ে ভাঙ্গা স্পেশালিষ্ট। ওকে বলব আর দু সেকেন্ডের মধ্যে বিয়ে ভেঙ্গে যাবে।’
নির্ভীক বাঁকা হেসে বলল,
‘তোর বিয়েটা ভাঙতে বলি তাহলে?’
প্রান্ত রাগী মুখ করে নির্ভীকের দিকে তাকিয়ে শাসিয়ে বলল,
‘আগুন লাগাইয়া দিমু তোর সংসারে….।’
নির্ভীক প্রান্তর মাথায় চাটি মেরে বলল,
‘আপনার বোনু কান্না করবে তো তাহলে।আমি আবার বউয়ের কান্না টলারেট করতে পারিনা ভাইসাহেব।’
প্রান্ত চুল ঠিক করতে করতে বলল,
‘দু-একদিন কান্না করে এমনি থেমে যাবে।তাছাড়াও বোনুর জন্য আমি ওয়ার্ল্ড বেস্ট জামাই এনে দিব।তখন আর কান্না করবে না।’
নির্ভীক প্রান্তকে ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে গলা চেপে ধরে রেগে বলল,
‘তোকে আজ খুন করে ফেলব।’
তখনই প্রান্তর মা ঘরে এসে বললেন,
‘একি কি হয়েছে মারামারি করছিস কেন তোরা?’
নির্ভীক প্রান্তর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে পেছনে ঘুরে প্রান্তর মায়ের দিকে তাকালো।ঝটপট বিছানা থেকে নেমে প্রান্তর মায়ের কাছে এগিয়ে গিয়ে নিচু গলায় বলল,
‘ধীরে বল মামী।ওকে কি আর এমনি মারছি?ইচ্ছেমতিকে বিয়ে করবেনা বলছে।কোন মেয়ের সাথে নাকি এফেয়ার আছে?সেই মেয়ে নাকি আমাদের সিনিয়র ব্যাচের?তুমি জানো এসব?এখনই ওর সাথে কথা বল।’
প্রান্ত গলা থেকে হাত সরিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে বিস্ফোরিত চোখে নির্ভীকের দিকে তাকালো।নির্ভীক ঠোঁট টিপে হেসে নাকের উপর চুলকিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসলো।আরাফ ড্রইং রুমে বসে প্রান্তর বাবার সাথে কথা বলছে।অল্প সময়ের মধ্যেই আরাফের সবাইকে খুব ভাল লাগছে।বোনের জেদে এখানে এসে তার মনে হচ্ছে বিয়েটা প্রান্তর সাথে হওয়ায় ভাল।এত সুন্দর ফ্যামিলিতে বোনের সুখের অভাব হবেনা।আরাফ ডক্টর মনিম আর তার ফ্যামেলির সাথেও কথা বলেছে কিন্তু এতটা ভাল লাগেনি।নির্ভীক এসে আরাফের পাশে বসতেই প্রান্তর বাবা উঠে ফ্রেশ হতে গেলেন।আরাফ নির্ভীকের দিকে তাকিয়ে বলল,
‘ইচ্ছে মানছিলনা তাই শুধু কথা বলতে এসেছিলাম।এরা তো রাজী হয়ে গেল।এখন বাবাকে কি বলবো?মনিম বাবার ফ্রেন্ডের ছেলে।সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে।’
নির্ভীক একটা ছোট্টশ্বাস ফেলে বলল,
‘সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ভয়ে এদেরকে আলাদা করে দিবা?’
আরাফ ভ্রু কুচকে বলল,
‘মানে?’
নির্ভীক প্রান্তর মা আশেপাশে আছে কিনা দেখে নিয়ে আরাফের দিকে আর একটু চেপে বসে বলল,
‘মানে ইচ্ছেমতি আর প্রান্ত অনেক আগে থেকে একে অপরকে পছন্দ করে।ইচ্ছেমতির কথা জানিনা তবে প্রান্ত ওকে ভালোবাসে।তোমরা যদি বিয়েতে মত না দাও আমরা জোর করে ওদের বিয়ে করিয়ে দিব।’
শেষের কথাটা নির্ভীক মুচকি হাসির সাথে বলে আরাফের থেকে সরে বসলো।আরাফ তীক্ষ্ণ চোখে নির্ভীকের দিকে তাকালো।বেশ বুঝতে পারছে ডক্টরের সাথে বিয়েটা এরা কিছুতেই হতে দিবেনা।আরাফ ভয় পাচ্ছে নির্ভীকের মতো প্রান্তও না আবার বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারটা এগিয়ে দিয়ে বলে এই দেখো আমরা আগেই বিয়ে করে ফেলেছি।আরাফ পকেট থেকে ফোন বের করে নির্ভীকের দিকে তাকিয়ে বলল,
‘বাবাকে কি করে বুঝাবো?’
নির্ভীক টেবিল থেকে মিষ্টির বাটিটা তুলে নিয়ে বলল,
‘কাল চলে আসতে বল।আমি বুঝিয়ে বলবোনি।’
আরাফ কিছুক্ষণ চিন্তা করে উঠে ব্যালকনিতে যেয়ে বাবার কাছে কল দিয়ে ডক্টরের সাথে বিয়েতে না বলল।আরাফের বাবা ডক্টরের সাথেই বিয়ে দিবেন।বাবার সাথে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি শেষে আরাফ বলেই দিল ইচ্ছেমতির বিয়ে সে একাই দিবে।বাবা-মার যদি বিয়েতে উপস্থিত থাকার ইচ্ছে থাকে তাহলে যেন তারা চলে আসে।কল কেটে আরাফ নিজেকে অনেক হালকা ফিল করছে।বাসায় গেলে বোনের কান্না মুখের পরিবর্তে হাসি মুখ দেখতে পাবে এটায় অনেক।আর সব থেকে বড় কথা ভালোবাসা না পাওয়ার কষ্ট সে বোনকে দিতে চায়না।বাবা-মাকে সবাই মিলে একটু বুঝালেই বুঝে যাবে।বাবা দরকার হলে ডক্টরের বাবার সাথে ছাড়াছাড়ি করে প্রান্তর বাবার সাথে বন্ধুত্ব করবে।হেলা ফেলা করে নিজের ভালোবাসা হারিয়েছে এখনও হেলাফেলা করে বোনের জীবন নষ্ট করতে চায়না তাই আরাফ জারিফকেও প্রান্তদের বাসায় ডেকে নিল।ঘরোয়াভাবে পরশুদিন বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা পাকা করে ডিনার সেরে বাসায় চলে আসলো।
—
ছয়দিনের হানিমুন শেষে সন্ধ্যায় রাযীন আর আফ্রা বাসায় ফিরেছে।দুটো লোক বেশি হওয়ায় ফাঁকা বাসা আজ কেমন পরিপূর্ণ লাগছে।অন্ত খুব খুশি কারন বোনের সাথে এখন থেকে সারাদিন তার বেশ ভালই সময় কাটবে।আফ্রা উপর উপর যতই অন্তর সাথে মিসবিহেব করুকনা কেন ভেতরে ভেতরে সে অন্তকে খুব ভালোবাসে।সেজন্যই তো কক্সবাজার থেকে আসার সময় অন্তর জন্য অসংখ্য জিনিসপত্র নিয়ে এসেছে।রাতে ডিনার শেষে অন্ত ঝিনুকের তৈরি ব্রেসলেট হাতে দিয়ে হেসে হেসে আফ্রার সাথে কথা বলছিল তখনই নির্ভীকের ডাক শুনে আফ্রার ঘর থেকে বেড়িয়ে নিজের ঘরে আসলো।নির্ভীক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টাই খুলতে খুলতে অন্তর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
‘কোথায় ছিলা?’
অন্ত মুখ ফুলিয়ে সোফায় বসে ফোন টিপতে টিপতে বলল,
‘আপুর রুমে।’
নির্ভীক শার্ট খুলতে খুলতে বলল,
‘ওরা এসে গেছে?এত তাড়াতাড়ি?’
অন্ত কিছু বলল না।নির্ভীক বুঝতে পারছে আবহাওয়া গরম আছে।সকালে অন্তকে কোথাও নিয়ে যাওয়ার জন্য রেডি থাকতে বলে ক্যাম্পাসে গিয়েছিল।আসতে আসতে রাত বানিয়ে ফেলেছে।অন্তকে অবশ্য ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিল আজ ঘুরতে নিয়ে যাবেনা।সেজন্য অন্তর মন খারাপ ছিল কিন্তু নির্ভীক এত রাত করে বাসায় ফিরাই তার অভিমান হয়েছে।নির্ভীক শার্ট খুলে অন্তর সামনে দাঁড়ালো।অন্তর হাত থেকে ফোন নিয়ে বিছানায় ফেলে দিল।অন্ত সোফার হ্যান্ডেলে হাত রেখে উঠে দাঁড়াতেই নির্ভীক অন্তর দুই বাহু ধরে আবার সোফায় বসিয়ে দিল।দুই হাত অন্তর দুই পাশে সোফায় রেখে অন্তর দিকে ঝুকে বলল,
‘রাগ করেছো?প্রান্তর বাসায় যাওয়া আর্জেন্ট ছিল তাই ওখানে গিয়েছিলাম।প্রান্তর বিয়ে হলেই আমরা ঘুরতে যাবো ওকে?’
অন্ত সব রাগ অভিমান ভুলে কৌতূহলী হয়ে বলল,
‘প্রান্ত ভাইয়ার বিয়ে?কবে?’
নির্ভীক অন্তর কপালে চুমু দিয়ে বলল,
‘পরশু।আমরা কাল সকালেই ওদের বাসায় যাব।প্রচুর কাজ।নতুন বউয়ের জন্য শপিং করতে হবে কিন্তু তুমি কিছু করবা না।ভাবি যেহেতু এসে গিয়েছে সব ওরাই করবে।’
অন্ত ভ্রু কুচকে বলল,
‘আমি করব না কেন?’
নির্ভীক সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
‘তুমিও করবা শুধু নিজের টা।’
‘আমার কিছু লাগবেনা।’
নির্ভীক ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
‘লাগবে,একটু ওয়েট কর আমরা এখন অনলাইনে শপিং করব।’
অন্ত অপেক্ষা করলো না।প্রান্তর বিয়ের কথা বোনকে জানানোর জন্য আবার আফ্রার ঘরে চলে গেল।
চলবে…………