Saturday, August 22, 2026

মেয়ে তুমি কি দুঃখ চেনো? – ৮

0
2

#মেয়ে_তুমি_কি_দুঃখ_চেনো? – ৮
বাড়ি ফিরে দোকান খুললাম। মাগরিবের সময় দোকান ঝাড়ু দেওয়া মায়ের নিষেধ আছে। একটু পানি ছিটিয়ে দিলাম, যেন ধূলো মরে।
তারপর একটা কয়েল ধরালাম। গরমে নালা-নর্দমার পানি কমে গিয়ে মশার উপদ্রব অনেক বেশি বেড়েছে। গরম বোধহয় এই বছরে একটু বেশিই। কী এল নিনো এফেক্ট! গরম বেশি, শীত বেশী, বর্ষাও ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!
ইসরাত আপু আমার কাছ থেকে জামা বানায়। ওর অনেক বই। আমি মাঝেমধ্যে দুয়েকটা বই আনি। এক পাতা দুই পাতা পড়ি কখনো সখনো। ফ্যাক্টরিতে যাওয়া-আসার সময়টা কাজে লাগাই। চিনুয়া আচেবের থিংস ফল এপার্ট বইটা পড়েছিলাম। নাইজেরিয়ার ইগবোরা জমজ শিশুদেরকে ইভিল ফরেস্টে ফেলে আসত, যেন তারা মরে যায়! অতিবর্ষা যেমন ফসলের জন্য বিপদজনক, জমজ সন্তানও অশুভ ছিল তাদের কাছে।
একসাথে এতজন পাণিপ্রার্থী আমার কাছেও বিষাক্ত ঠেকছে! ঈশ্বরের অভিশাপ বৈ তো নয়! একাকি কোনো ভয়ংকর জঙ্গলে চলে যেতে পারলে বাঁচা যেত!
এক কাপ চা খাওয়া দরকার। মাথাটা জ্যাম হয়ে আছে। মাথার আর দোষ কী! যা সব যাচ্ছে জীবনের উপর দিয়ে!
শাফিনদের বাড়ি থেকে গোলমালের শব্দ আসছে। ঝগড়া হচ্ছে ওই বাড়িতে। অবশ্য ওদের গলা চড়া সবারই। প্রেমালাপ করলেও মনে হয় ধমক দিচ্ছে। মিনিট দুই পরে শাফিন এলো। মুখ গোমড়া। রেগে আছে। আমি কাপড় কাটছি, মনোযোগ এদিকে। এক পলক দেখলাম ওকে। একটা চেয়ার হাত দিয়ে ঝেড়ে বসল। আমি জানতে চাইলাম,
–সাপের মতো ফোঁসফোঁস করছিস কেন?
–কামড়াব, তাই!
–এতদিন পরে বাড়ি এসেছিস। ঝগড়া করিস কেন?
ও দুই হাতে কপালের রগ চেপে বসে আছে। অন্যদিকে তাকিয়ে যেন অন্য কাউকে বলছে এমনভাবে বলল,
–আমার জিনিস আমাকে বুঝিয়ে দিলেই হয়। তাহলে তো আমি আর কিছু বলি না! তা না, শুধু টালবাহানা! আজ না কাল, কাল না পরশু!
মনোযোগ দিলে হয়তো বুঝতে পারতাম ওর কথার সুর। পালটা প্রশ্ন কোনদিকে মোড় নেবে সেটাও বুঝতাম। তাহলে আর এই প্রশ্নটা করতাম না। কাপড় কাটছিলাম বলেই বেখেয়ালী হয়ে কথার পিঠে বলে ফেললাম,
–তোর কোন জিনিস দিচ্ছে না?
ও আমার দিকে তাকাল। হাসলো। জায়গা ছেড়ে উঠে এলো। আমার কাপড় কাটার টেবিলে মুখোমুখি দাঁড়াল। দুই কনুইতে ভর দিয়ে আমার দিকে ঝুঁকে এলো। মুখে বড়ো একটা দুষ্টু হাসি টেনে বলল,
–বউ! আমার বউ! আমাকে আমার বউ বুঝিয়ে দিলেই আমি আর কাউকে কিছু বলি না!
আমার মেরুদন্ড চিনচিন করে উঠল। শীতে যেন গায়ে কাঁটা দিলো।
এমন ভয়াবহ কথা বলে শাফিন একদম স্বাভাবিক। ফ্যানের সুইচ দিতে দিতে বলল,
–তুই কি ভূত? এই গরমে ফ্যান বন্ধ করে রেখেছিস কেন?
আমি বিড়বিড় করে বললাম,
–কাপড় উড়ে যায়, কাটা যায় না!
ও দোকানের শাটার অর্ধেক নামিয়ে দিলো। মানে, দোকান সাময়িক বন্ধ। অর্ধেক শাটার দেখলে সাধারণত কেউ দোকানে ঢোকে না।
ও চেয়ারে বসে বলল,
–কাটতে হবে না। পাশে এসে বস। তোর কাছ থেকে এক ঘন্টা নিলাম। দাম নিয়ে নিস!
আমি ভুরু কুঁচকে তাকালাম,
–কথাটা আরেকবার বল। নিজে শুনে বল, কেমন লাগল শুনতে।
–মিনিং তুই যেটা ধরবি, সেটাই আমি বলেছি। তুইও শয়তান আছিস। যা শুরু করেছিস তুই, তোকে মেরে আমার জেলে যেতে হবে। তোকে মারব, তোর মাকে মারব, তোর বোনগুলোকে মারব, আব্বা-আম্মাকে মারব, ভাই-বোন যেটা যেখানে আছে সবগুলাকে মেরে ফেলব!
–মেরে ফেল। জনসংখ্যার উপর চাপ কমুক। ছোটো একটা দেশ, পিঁপড়ার মতো মানুষ গিজগিজ করছে! মরে ছেড়ে যাওয়াই উচিত। মানুষের মতো না বাঁচলে সে কেমন বাঁচা?
–হ্যাঁ, আমরা সবাই অমানুষ, তুই একা মানুষ!
শাফিন রেগে আছে। অপ্রাসঙ্গিক আর অবান্তর সব কথা বলবে এখন। আমার জরুরি কথাটা বলা এখন আর সম্ভব না! চুপচাপ নিজের কাজ করতে থাকলাম। ও শান্ত হোক। ও বলল,
–চা খাওয়া এক কাপ!
–বানায় খা। কাজ করছি দেখতে পাচ্ছিস না?
–মনে রাখিস কিন্তু। যেদিন শোধ তুলব, সেদিন কেন্দেও পার পাবি না!
–আচ্ছা, তুলিস!
ও আবার উঠে এলো। আমার চুলের গোছা টেনে বলল,
–তোরে দিয়ে আমার ভাত না রান্ধানো পর্যন্ত তো আমি শান্তি পাচ্ছি না!
আবারও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য! আমি উত্তর দিলাম না। বুড়ো আঙুল দেখালাম ওকে। ও বলল,
–এই নে, তোর জন্য এনেছি।
স্মার্টফোন একটা টেবিলের উপর রাখল ও। বলল,
–বেতন পেয়ে কিনলাম এটা। ব্যবসা করতে গেলে এখন লাগে এসব। তুই তো টাকা খরচ করে কিনবি না, আমাকেই কিনতে হলো!
আমি সরিয়ে দিলাম ফোনটা। বললাম,
–আমার সময়মত আমি কিনে নেবো? তুই কেন দিবি আমাকে?
–তোর যা লাগবে আমিই তো দেবো! এতদিন পারিনি, দিইনি। এখন থেকে পারব, দেবো। আমি ছাড়া আর কে দেবে তোকে? বেইল, বাটি, চাডি – সবই তো আমিই দিই। আর কেউ গোণে তোকে?
–তোকে কে দয়া করতে বলেছে?
–মুখে বলিস না, মনে মনে তো বলিস!
–তুই আমার মনের কথা শুনতে পাস?
–শুনি না, বুঝে নিই। দে, তোর মিউজিয়াম পিস মোবাইলটা দে, আমি সিমকার্ড ইনসার্ট করে দিই?
শাফিন হাত বাড়াল আমার পুরোনো মোবাইলের দিকে। আমি ছোঁ মেরে আমার মোবাইলটা নিয়ে ড্রয়ারের ভেতর রাখলাম।
উফ! এখনই এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছিলাম!
বললাম,
–তোর মোবাইল, বেইল, বাটি, চাডি সব নিয়ে আমার সামনে থেকে যা। বিরক্ত করিস না! কাজ করতে দে।
–বললাম না, কাজের ছুটি এক ঘন্টা?
ও চেয়ার তুলে এনে আমার কাছাকাছি বসতে বসতে বলল,
–চৈতিকে বলিস, মোবাইলের ফিচার দেখিয়ে দেবে তোকে।
আমি তাকালাম ওর দিকে। শাফিন ঘরোয়া ছেলে। আমার দুই ক্লাস উপরে পড়ত। স্কুলে যাওয়ার সময় একসাথে যেতাম। ছুটির ঘন্টা বাজলে, ওকে পেতাম গেটের সামনে, একসাথে বাড়ি ফিরতাম। আমরা অনেক ঘনিষ্ঠ না, আবার একদম প্রতিবেশী ধরণের দূরত্বও নেই আমাদের মধ্যে। রাস্তার এপার ওপার বাড়ি, রাস্তায় দেখা হয়েই যায়। দেখা হলে কথা হয়। এমনিতে বাড়িতে যাওয়া আসা হয় কম। আব্বা মরার পরে, আমি গার্মেন্টসে চাকরি নিলে সেটা আরো কমে শূন্য হয়ে গিয়েছে। আমার কাজটা ভদ্রসমাজে গ্রহনযোগ্য না হয়তো! আমি পরোয়া করিনি। শাফিন আগের মতোই ছিল। দেখা হলে চুল টেনে ধরত, ইয়ার্কি করে বউ ডাকত! ও ঢাকায় পড়তে গেলে যোগাযোগটা কমে গিয়েছিল। আমার দিক থেকেই মনে হয় আগ্রহ ছিল না। শাফিন বরাবর একইরকম।
–শাফিন…
একটু তেলতেলে মুখ করে ওর নাম ধরে ডাকলাম। মুখে এক চিলতে হাসি টেনে বললাম,
–দেখ, আমাদের মধ্যে তো কোনো ধরণের কমিটমেন্ট নেই। আমরা প্রেমও করিনি। এমন যদি হয়, তুই অন্য কাউকে পছন্দ করেছিস… হয় না? ভালো লেগে গেল কাউকে? এই ভালো লাগাটা তো আমাদের হাতে নেই! হয়ে যেতেই পারে। আমিও জানি, আমাকে এখন একসেপ্ট করাটা একটু কঠিন। তুই ফ্রাংকলি আমাকে বলতে পারিস কিন্তু।
শাফিনের চোখমুখ সব কুঁচকে আছে। চোখে প্রশ্ন। ও হাত উঁচু করে থামাল আমাকে,
–থাম, থাম। কী বলতে চাইছিস, এক কথায় বলে ফেল।
আমি ঘাড় চুলকালাম। ইনিয়েবিনিয়ে বললাম,
–চৈতির সাথে তোর কিছু…
শাফিনের চোখের দিকে তাকিয়ে থেমে গেলাম। ওর চোখ বেরিয়ে আসতে চাইছে। ভয়ংকর দৃষ্টি। ঢোঁক গিলে নিলাম।
ও জানতে চাইল,
–কে বলেছে?
আমি চোখ বন্ধ করে বললাম,
–ছুটকি বলেছে, চৈতির সাথে তোর ফোনে কথা হয়। দেখ, চৈতি তো ছোটো এখনো। তবে, তোরা সিরিয়াস হলে আমরা একটু সময় নিতে পারি। মাকে আমি বোঝাব!
শাফিনের হাত মুঠো করা। হাতটা মুখে চাপা দিয়ে পা নাড়াতে থাকল ও। মিনিট দুই আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। পকেট থেকে নিজের মোবাইল বের করে আমার দিকে ছুড়ে দিলো ও। বলল,
–কথা তো রেকর্ড করে রাখিনি। তবে, ওর অনেক মেসেজ আছে এখানে। দেখ। আমিও ওকে মেসেজ দিয়েছি, সেগুলোও আছে। মোবাইলের পিন তোর জন্মসাল।
আমি মোবাইলের দিকে হাত বাড়ালাম না। ও অপেক্ষা করে করে উঠে এলো। মেসেজবক্স খুলে দিলো। বড়ো আপা রাগ করেছে, মায়ের সাথে বড়ো আপার ঝগড়া হয়েছে, আজকে বড়ো আপা দেরি করে ফিরেছে, বড়ো আপার মন খারাপ, বড়ো আপার একটা মোবাইল দরকার, বড় আপাকে আজকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে, বড়ো আপা এই , বড়ো আপা সেই…
আমি জিভ কামড়ে ধরলাম। ক্যাবলা হাসি দিয়ে বললাম,
–ওহ, চৈতি তোর খবরি?
শাফিন কিছু বলল না। ওর চোখের দৃষ্টি তীব্র। ওই চোখে চোখ মেলাতে পারছি না আমি। শাফিন জানতে চাইল,
–তোর কথা বল? তুই কি অন্যকিছু ভাবছিস? অনেক কথা আমার কানেও আসে। আমি তোকে সন্দেহ করিনি। এখন সত্যি করে বল? মসজিদ পাড়ার মনসুর ভাইয়ের সাথে তোর কিছু?
শাফিনের কন্ঠে তীব্র রোষ। আমি ঠোঁট চেপে কান্না আটকালাম। মাথা নেড়ে বললাম,
–মনসুর ভাই না!
–তাহলে কে?
আমি তাকিয়ে থাকলাম ওর দিকে।
ও বলল,
–ওহ! বলবি না! মনসুর ভাই না, তার মানে কেউ নিশ্চয়ই আছে। সেই কেউটা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, মরা বাপের ঠিক করে রাখা বিয়েটাও তার সামনে কিছু না।
আমি বিড়বিড় করে উচ্চারণ করলাম,
–স্যরি, শাফিন!
–কীসের স্যরি? কেন স্যরি বলছিস? বিয়েটা ভাঙলি বলে?
আমি হ্যাঁসূচক মাথা নাড়লাম।
ও আরো জোরে ডানেবায়ে মাথা নাড়ল,
–উহু! তুই হাজারবার মাফ চাইবি। তাতেও তোর অপরাধ কমবে না। তোর আমার বিয়ের কথা হয়েছে আজ ছয় সাত বছর। আমরা দুজনেই সেটা জানি। আমি তো কাউকে মনে জায়গা দিইনি কখনো। তুই দিয়েছিস। আমার সাথে চিট করেছিস। আবার আমার উপর চৈতির সাথে সম্পর্কের বদনাম দিয়ে এস্কেপ রুট খুঁজতে চেয়েছিস। নীলার দুটো বানানো কথায় তুই আসলে খুশি হয়ে গেছিলি! কিন্তু এমন তো কয়েকদিন আগেও ছিল না, তাই না? কয়েকদিন আগেও তো এই বিয়েতে তোর মত ছিল।
ঠিক। শাফিন শতভাগ ঠিক বলেছে। নিয়নের অস্তিত্ব তো শুধু আমার কল্পনার জগতজুড়ে ছিল, বাস্তবে তো ওকে চেয়েও দেখিনি কোনোদিন। শাফিনের সাথে বিয়েটা নিয়ে কখনো দ্বিমত ছিল না আমার!
শাফিন ক্ষোভে কাঁপছে।
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। ওর কাছে গিয়ে বললাম,
–মা শুনতে পাবে, শাফিন। আস্তে করে বল। তুলকালাম লাগাস না, প্লিজ!
ও দাঁত চেপে বলল,
–তুই নিজে চিটার, অথচ আমাকে চিটার সাজাতে চেয়েছিলি!
–শাফিন, প্লিজ, আমি ভুল করে ফেলেছি…
ও বেরিয়ে যেতে যেতে পিছু ফিরল, আমার গালে কষে থাপ্পর মারল। আমি মুখ ঢেকে বসে পড়লাম। জোরে মেরেছে ও। আমার মুখ দিয়ে তাপ বেরোতে শুরু করেছে। মাথা বনবন করছে। কিছুক্ষণ পরে চৈতি এলো। ওর হাতে ঠান্ডা পানির বোতল। বলল,
–কী হয়েছে, আপা? শাফিন ভাই নাকি তোকে মেরেছে? আমাকে বলল, তোর মুখে বরফ ঘষে দিতে!
আমি মুখ তুললাম।
চৈতি বলল,
–ইস! আঙুলের দাগ বসে গেছে! মারল কোন সাহসে?
আমি অনুরোধ করলাম,
–কাউকে বলিস না, চৈতি!
–এত বড়ো কাহিনি করবে, কাউকে বলব না?
–থাক। আমার প্রাপ্য ছিল।
শাফিন চলে যাচ্ছে। ওর মা রাস্তা পর্যন্ত পেছন পেছন এসেছে। শাফিনের প্রিয় বলে আজ হাঁসের মাংস রান্না হয়েছে। না খেয়েই চলে যাচ্ছে ও। মায়ের কাতর অনুনয় বিনয় কিছু শুনছে না। আমার দোকান থেকে সবটা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
চলেই গেল ও!
অনেকদূর গেল ঘটনাটা। বাড়িতে আমার বিচার বসল। বড়োচাচি অত্যন্ত রেগে গেলেন,
–বিয়ে ঠিক করে রাখা। এতদিন স্বামী-স্ত্রীর মতো চলেছে, এখন বিয়ে করবি না কেন? তোর মতলব কী? জবাই করে রেখে দেবো, রুমকি!
চাচির কথার অর্থ আমি বুঝি, আমি যে বুঝি সেটা তিনিও বোঝেন!
আমি কাউকে কিছু বলতে পারি না। একগাদা গালমন্দ শুনে দোকানে ফিরে আসি। চোখের পানি মুছি, আবার চোখ ভিজে যায়। কেচি হাতে নিই। কাজ করি। চোখ মুছি।
মনসুর ভাই আসেন। চেয়ারে গ্যাট হয়ে বসে বলেন,
–তোমার দুঃখের দিন মনে হয় শুরু হলো!
আমি ফোলা মুখ নিয়ে অল্প হাসি।
–এতদিন কি আমার দুঃখ কম মনে হয়েছে আপনার কাছে?
মনসুর ভাই উদাস গলায় বললেন,
–এটাকে দুর্দশা বলে, দুঃখ না? তুমি কি দুঃখ চেনো?
আমি তাকাই না। কাজ করি। মনসুর ভাই বলেন,
–দুর্দশা কাটায়ে ওঠা যায়, রুমকি! দুঃখ সারাজীবনের! এই যে শাফিন কাঁদতে কাঁদতে তোমারে ছাড়ল, এই দুঃখ তুমি ক্যামনে ছাড়াবা? কাছের মানুষ হারানোর চাইতে বেশি দুঃখ আর কী আছে জীবনে?
আমার দুঃখের শুরু? মানুষ হারাতে শুরু করেছি কেবল? আমি কি আরো মানুষ হারাব?

চলবে…
আফসানা আশা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here