Romantic_Devil পাঠ-১৯

#Romantic_Devil🌼
#Imtihan_Imran
19.

” সিনহা কলার ছেড়ে কথা বল।

” না ছাড়বো না, কী করবি তুই? মারবি। মার, মার আমাকে।

ইমরান হুঠ করেই সিনহার চুলে হাত ডুবিয়ে সিনহার মুখ নিজের মুখের কাছে এনে,সিনহার নরম ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে চুম্বনে আবদ্ধ হয়।

এমন আকস্মিক আক্রমণে সিনহা ফ্রিজড হয়ে যায়। ইমরান,ইচ্ছামতো সিনহার ঠোঁটের স্বাদ নিতে থাকে। সিনহা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেনা। সে শান্ত বালিকার মতো তার ডেবিলের ঠোঁটের ছোঁয়া নিতে থাকে।

প্রায় কিছুক্ষণ পর ইমরান, সিনহার ঠোঁট থেকে সরে আসে। সিনহা মাথা নিচু করে একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

” অনেককিছু করতে পারি আমি,দেখলি।

” তুই না আমার সাথে রাগ করে আছিস?আমার ঠোঁটে কিস করলি কেনো?(মাথা নিচু করে)

” আমার ব্যাপার সেটা। আমার যখন যা মন চাইবে, তাই করবো আমি। রাগ করতে হলে রাগ করবো, মারতে মন চাইলে মারবো,কিস করতে ইচ্ছে হলে কিস করবো।

” এ্যাঁ,মগের মুল্লুক পাইছস?

” মগের মুল্লুক না,বউ পাইছি। আমার ইচ্ছামতো নাচাবো।

সিনহা এবার মুখ তুলে তাকায়। তার মনে হচ্ছে ইমরানের এখন রাগ নেই। সিনহা, ইমরানের হাত ধরল। সে হাত ধরে ইমরানকে বিছানায় এনে বসালো।

” ভাইয়া এবার তো শোন, আমি কেনো বিয়ে করতে রাজি হয়েছি?

” সব জানি আমি।

” সব জানস মানে…?(অবাক হয়ে)

” হ্যাঁ সব জানি আমি।

” সব কী জানস তুই?

” তুই কেনো বিয়ে করতে রাজি হলি?

” কীভাবে জানলি তুই?(অবাক হয়ে)

” সেদিন রাতেই মারিয়া আমাকে ফোন করে সব বলেছিল।

” সব জেনেও তুই আমার সাথে এমন ব্যবহার করলি? কষ্ট দিতে পারলি আমাকে?

” অবশ্যই পারলাম। কারন যখন এই সিচুয়েশনে পড়লি,তখন ফোন দিয়ে আমার সাথে সবকিছু শেয়ার করা উচিত ছিল তোর। কিন্তু তুই তা না করে, বিয়ে করতে বসে গেলি।

” আসলে তখন মারিয়াকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুই মাথায় আসেনি আমার।

” হুম এইজন্যই তোমার সাথে এমন ব্যবহার করেছি।

সিনহা কথা টা শুনে তার নরম হাত দিয়ে ইমরানের বুক কিল ঘুষি মারতে থাকে। ইমরান,সিনহার দুই হাত নিজের দুই হাতের মুঠোয় বন্দী করে নেয়।

” এই তুই আমাকে মারছিস কেনো?

” মারব না তো কী আদর করবো,হ্যাঁ? কতো কান্না করেছি আমি।

ইমরান, সিনহার মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে সিনহাকে জড়িয়ে ধরে।

” আহালে, মামাতো বইন আমার অনেক কান্না করেছে।

” এই ছাড় আমাকে একদম ঢঙ করতে আসবি না।

সিনহা, ইমরানের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে নেয়।

” মানে কী? তুই এখন আমার সাথে রাগ করে থাকবি?

” হ্যাঁ করবো। আমাকে কষ্ট দিয়েছিস তুই।

” এখন শুধু ভালোবাসা, আদর দিবো মামাতো বইন।

” এই তুই আমাকে শধু মামাতো বইন, মামাতো বইন করছিস কেনো? বউ বলতে পারিস না.? বউ হই তোর।

” তুই তুই করলে বউ ডাকার ফিলিংস আসে না।

” তাহলে.?

” তুমি করে বলবি। তাহলে বউ ডাকার ফিলিংস আসবে।

” এ্যাঁ সম্ভব না।সবসময় তোকে তুই করে বলে আসলাম। এখন আসছে তুমি বলতাম।

” তাহলে আর বউ ডাক শোনার দরকার নাই। মানাতো বইন হয়েই থাক তুই।

” আচ্ছা আচ্ছা তুমি করেই বলবো।

” আচ্ছা দেখি এখন বলতো।

” তুমি।

” উঁহু এভাবে শুধু তুমি না। বলবি আমি তোমাকে ভালবাসি জামাই।

” ইসস…শখ কতো।

” আচ্ছা বুঝছি, ভালোবাসা নাই, তাই রাজি হচ্ছিস না।

ইমরান এই কথা বলে বিছানা থেকে উঠতে যায়। সিনহা হাত ধরে বসিয়ে দেয়।

” আমি তোমাকে ভালোবাসি জামাই।

সিনহা এই কথা বলে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলে, যেনো অনেক লজ্জা পেয়েছে সে।ইমরান হেসে দেয় সিনহার কান্ডে।

” আমিও তোমাকে ভালোবাসি বউ।

ইমরানের রিপ্লাই শুনে সিনহা মুখ থেকে নিজের হাত দুইটা সরিয়ে ফেলে হেসে দেয়।

” জড়িয়ে ধর আমাকে।।

” আবার..?(চোখ গরম করে)

” জড়িয়ে ধরো আমাকে।

ইমরান হেসে সিনহাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নেয়।

!¡!

জরিনা বানু রান্না করছে। পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে জাফর মিয়া।

” ইস! কতো কষ্ট করতে হইতেছে তোমারে। আমারে বিয়া কইল্লে তোমারে আমার রানী করে রাইখতাম।

” ঢঙ, নতুন নতুন সবাই এরকম কথাই কয়। সিনেমায়ও দেখি৷ বিয়ার পর ঠিকি সব বদলি যায়।

জাফর মিয়া, জরিনার হাত ধরে বলে,

” আমি বদলি যামু না জরিনা। তোমারে আমি কতো ভালোবাসি।

” কতো ভালোবাসেন এক্কানা কন চাই আমিও হুনি।

চাচাকে দেখে জাফর মিয়া জরিনার হাত ছেড়ে দেয়।

“এইজন্যই তো আজকাল মীর জাফর সাহেবকে কোনো কাজে খুঁইজে পাওয়া যায় না। সারাদিন জরিনা বানুর পিছে পিছে ঘুইরা এইসব পেম পিরিতি করলে কি চাকরি থাকব? চাকরি তো নট হই যাইবো।

” চাচা আমি এইসব পেম পিরিতিতে নাই।

” তুই দেখি মীর জাফরের মতো বেঈমানী করস। পোলাডা কতো ভালোবাসে তোরে।

” চাচা সব দেখি আন্নেই কন।

” আমিই তো কমু। আর কে কইবো? যাই হোক কাজে মন প্রান দে দুইটা। নাইলে চাকরি নট করি দিয়ুম।

!¡!

বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি পড়ছে। সিনহা, ইমরানের কাছে বায়না ধরলো, সে বৃষ্টিতে ভিজবে।

” ওই ডেভিল চলো না, আমরা বৃষ্টিতে ভিজবো।

” জ্বর বাধার ইচ্ছা নাই আমার।

” এতো আনরোমান্টিক কেনো? কোথায় বউয়ের সাথে বৃষ্টিতে ভিজবে। তা না জ্বর নিয়ে পড়ে আছে।

ইমরান, সিনহাকে একটানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। সিনহার কোমড়া হাত দিয়ে বলে,

” আমি আনরোমান্টিক তাই না.? রোমান্টিকতা দেখতে চাও?? (চোখ টিপ দিয়ে)

” বৃষ্টিতে ভিজতে চাই।🥺

” আচ্ছা চলো।(হেসে)

ইমরান, সিনহাকে নিয়ে ছাদে আসে। ছাদে এসে দুজনে অবাক হয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকায়। চাচা, চাচিকে নিয়ে বৃষ্টিতে নাচানাচি করছে।

” এইটা কোনো কাজ হইলো?

জাফর মিয়াও বৃষ্টিতে ভিজার জন্য জরিনা বানুকে নিয়ে ছাদে আসে। তারাও চাচাকে দেখে হা হয়ে যায়।

এইদিকে ভাতিজা ভাতিজিদের দেইখাও চাচার কোনো কেয়ার নাই। চাচা নাচতেই আছে। নাচতে নাচতে যে চাচার লুঙ্গি খুলে পড়ে যাচ্ছে সেদিকেও চাচার কোনো খেয়াল নাই। জরিনা বানু ঠিকি খেয়াল করছে। সে চিৎকার করে বলছে,

” চাচা নাচানাচি পরে করেন, আগে আপনের লুঙ্গি সামলান। লুঙ্গি সামলান, লুঙ্গি।

চাচার অভিধানে লুঙ্গি সামলানোর মতো কোনো সূত্র এখনো আবিষ্কার হয়নি। প্রতিবারেই চাচার লুঙ্গি খুলবে।আর জরিনা বানু লুঙ্গি সামলান, লুঙ্গি সামলান বলে চিৎকার করবে।

চাচার নাচানাচির অত্যাচার, লুঙ্গি সামলাতে না পেরে, লুঙ্গি খুলে নিচে পড়ে যায়। তাতে চাচার কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই। তিনি সোহাগী বেগমরে কোলে নিয়ে লাফালাফি শুরু করে দেয়।

তা দেখে সবার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।

” হায় আল্লাহ! এই চাচার লজ্জা শরম কি কোনো কালে হইবো না।

জাফর মিয়াও বলে বসে,

” চাচা কামডা করলো কী?😐

চলবে…

~ ইমতিহান ইমরান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here