অ্যারেঞ্জ_ম্যারেজ #অবন্তিকা_তৃপ্তি #পর্ব_২০ |১৮+ এলার্ট|

0
333

#অ্যারেঞ্জ_ম্যারেজ
#অবন্তিকা_তৃপ্তি
#পর্ব_২০ |১৮+ এলার্ট|

ঢাকা ফেরার পর থেকে তুলি একদম চুপচাপ হয়ে আছে। শুভ্র কল করলে, ধরে না। প্রতিদিন অনেকগুলো মিসড কল জমে থাকে তুলির কললিস্টে। তুলি ধরে না। তুলি এভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কেন করেছে; শুভ্র বুঝতে পারছে না। শুভ্র কয়েকবার তুলির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছে। এই নিয়ে মেসেজও করেছে তুলিকে। তুলি রিপ্লে করেনি। শুভ্র হঠাৎ করে তুলির এমন ব্যবহার দেখে থমকে আছে একপ্রকার। তুলি তো এমন নয়। শুভ্র বলতে যে মেয়ে অজ্ঞান; সে মেয়ে কী করে শুভ্রর সঙ্গে এতটা দিন যোগাযোগ ছিন্ন করে রেখেছে? শুভ্র ভেবেছে আজ তুলির বাসায় যাবে। সরাসরি কথা বলে এই মহা সমস্যার সমাধান করতে হবে।

দুপুরে খেতে বসেছে শুভ্র। আফরোজা আজ ইলিশ ভাজা করেছেন। শুভ্র এসব ভাজা মাছ, ভাজা মাংস পছন্দ করে। আফরোজা ইলিশের টুকরো শুভ্রর পাতে তুলে দিলেন। শুভ্র মায়ের দিকে চেয়ে হালকা হাসলো। তারপর বললো,

‘তুমিও বসো, আম্মু। ইনসুলিন নিয়েছো এখন?’

আফরোজা নিজের প্লেটের মাছের কাঁটা ছাড়তে ছাড়তে বললেন;

‘দিয়েছি। সুই ছাড়া কী ডায়বেটিসের আর কোন ঔষধ নেই রে শুভ্র। সুঁই গাঁ থতে হাত কাঁপে আমার।’

‘দিতে হবে আম্মু। কিছু করার নেই। তোমার ডায়বেটিস মেডিসিন দিয়ে কন্ট্রোলে আসবে না।’

কথা বলার ফাঁকে শুভ্র নিজের খাওয়া বাদ দিয়ে মায়ের প্লেটের মাছ নিয়ে কাঁটা ছড়াল। তারপর কাঁটা ছড়ানো মাছ তুলে দিল আবার আফরোজার প্লেটে। আফরোজা ছেলের এই কাজ দু-চোখ ভরে দেখেন। শুভ্র এই কাজ সবসময় করে। ছোটবেলা থেকে শুভ্র স্বনির্ভর। নিজের কাজ নিজেই করে। তারপর একটু বড় হয়েছে; সে তখন মায়ের দুঃখ বুঝতে শুরু করেছে। আফরোজা প্রথমে একটা মেয়ে নেই বলে আফসোস করতেন। ওটুকু বাচ্চা শুভ্রর এই ব্যাপারটা কী যে গায়ে লাগলো; তারপর থেকে সে ঘরের কাজে আফরোজার সঙ্গে হাত মেলাতে শুরু করে। আফরোজা বকেন; ছেলেরা এসব কাজ করে না; আরও কত কী বলেন। শুভ্র বুঝে না। আফরোজা এরপর দমে যান; মানা করার আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। কিম্তু জীবনের এই বৃদ্ধ বয়সে এসে আফরোজা বুঝেন: শুভ্র না রাজি হয়ে ভালোই করেছে। নাহলে বুড়ো বয়সে এক হাতে ঘরের ষোলো আনা কাজ আফরোজার একার পক্ষে করা সম্ভব হতো না।

শুভ্রর মন আজ নিজের মধ্যে নেই, তার আজ ইলিশেও মন নেই। সে খামোকা হাত দিয়ে ভাত মাখিয়ে যাচ্ছে সে কখন থেকে। আফরোজা ছেলেকে এই প্রথম এতটা অন্যমনস্ক হতে দেখলেন। তিনি বিচলিত হয়ে পড়লেন। শুভ্র সাজেক থেকে আসার পর তো ঠিকই ছিল। মন মেজাজ তার ভীষণ ফুরফুরে ছিল। এখন দুদিন ধরে তার ঠিক হয়েছেটা কী? মায়ের মন তো? ছেলের অশান্ত অবস্থা দেখে নিমিষেই চিন্তিত হয়ে যান। আফরোজা শুভ্রর চওড়া কাঁধে আলতো করে হাত রাখেন। ডাকেন;

‘শুভ্র?’

শুভ্র শুনে না। সে এখনো অন্য ধ্যানে মগ্ন। মূলত তুলির কী হয়েছে; শুভ্রর সঙ্গে সবকিছু শেষ করে দেওয়ার মানে টা কী সেটাই তো বুঝতে পারছে না শুভ্র। আফরোজা থামেন। পরপর শুভ্রর কাঁধে আলতো চাপড় দিয়ে ডাকেন;

‘অ্যাই শুভ্র।’

‘ঊ? ওহ, হ্যাঁ আম্মু। কি, বলো?’

শুভ্র এবার ফিরে তাকায়। আফরোজা থামেন। গাঢ় চোখে ছেলের দিকে চেয়ে থাকেন কিছুসময়। শুভ্র হয়তো আফরোজার চাওনি বুঝতে পেরেছে। সে কিছু না বলে গলা পরিষ্কার করে আবার খেতে মন দেয়। আফরোজাকে শুভ্র কিছুই জানাতে চায় না। সে চায় না; আফরোজা জানুক তাদের মধ্যে কিছু ঠিকঠাক চলছে না। খামোকা চিন্তা করবেন। শুভ্র তো আজ যাচ্ছি তুলির বাসায়। ঘাড়ত্যাড়া তুলিকে চেপে ধরে সব ঠিক করে দিবে সে; সব।

আফরোজা কিছুসময় পর চিন্তিত কণ্ঠে বলেন;

‘শুভ্র? তোর কী হয়েছে? বল আম্মুকে। তুই এত আপসেট কেন, বাবা?’

শুভ্র থামে। মায়ের আদুরে কথায় শুভ্রর গলায় যেন কিছু একটা আটকে যায়। আফরোজা ঠিক ছোটবেলার ন্যায় শুভ্রকে কাছে টেনে জানতে চাইলেন; শুভ্রর কেনো মন খারাপ। ছোটবেলার ন্যায় আফরোজা শুভ্রকে নিয়ে অজথা চিন্তা করবেন ভেবে শুভ্র এবারেও নিজের মন খারাপের কারণ লুকিয়ে গেলো। শেষ লোকমা ভাতটুকু খেয়ে কোনোরকম হাত ধুয়ে উঠে অন্যদিকে চেয়ে বললো,

‘কিছু না তেমন। চিন্তা করো না তুমি। আমার একটু কাজ আছে আম্মু; আমি রুমে যাচ্ছি। বাসনগুলো নিজে না ধুয়ে ডিশ ওয়াশারে দিয়ে দিয়ো।’

শুভ্র দ্রুত পায়ে হেঁটে নিজের রুমে চলে যায়। আফরোজা নিজের খাবার খাওয়া থামিয়ে স্থির চোখে ছেলের চলে যাওয়া দেখেন।
______________
শুভ্র সেদিন বিকেলেই উপস্থিত হলো তুলিদের বাসায়। ইয়াসমিন দরজা খুলে দিলেন। শুভ্র তাকে সালাম করল। পথে থেকে কিনে আনা চিপস, মিষ্টির প্যাকেট ইয়াসমিনের হাতে তুলে দিয়ে বললো;

‘আসলে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম; ভাবলাম আপনাদের দেখে যাই।’

শুভ্র মিথ্যা বলেছে। তার এদিকে কোনো কাজ ছিলো না। সে একমাত্র তুলির জন্যই এসেছে এ বাড়ি। ইয়াসমিন অবশ্য শুভ্রর কথায় ভীষণ খুশি হয়েছে। গদগদ হয়ে শুভ্রকে সোফায় বসিয়ে চা করে নিয়ে এলেন। শুভ্র চা খেতে খেতে ইয়াসমিনের সঙ্গে গল্প করছে। কিম্তু ঘুরেফির বারবার চোখ চলে যাচ্ছে তুলির বেডরুমের দিকে। ইয়াসমিন হয়তো বুঝতে পারলেন সেটা। তিনি বলেন;

‘তুলি তো ঘুমাচ্ছে শুভ্র। এত ডেকে এলাম আমি; উঠলোই না। তুমি একবার নাহয় ডাকো গিয়ে; দেখো উঠে কিনা। কখনো তো এত বিকেল অব্দি ঘুমায় না। একবার ডাকলেই উঠে। আজ কি হয়েছে কে জানে? যাও বাবা; যাও।’

শুভ্র যেন এ কথারই আশায় ছিল। চায়ের কাপ ট্রে তে রেখে দিয়ে চলে এলো তুলির রুমে। তুলি ঘুমাচ্ছে না; বরং শুভ্র এসেছে শুনে জোরপূর্বক বিছানায় শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে। কোলবালিশ খামছে ধরে আছে যেন শুভ্রর কোন কথা শুনে তুলি পুনরায় আবেগ খুইয়ে না বসে। দরজা লাগানোর শব্দে তুলি আরও শক্ত করে কোলবালিশ খামছে ধরে। শুভ্র এগিয়ে আসছে; তার পায়ের শব্দ স্পষ্ট শুনছে তুলি।
শুভ্র বিছানায় বসেছে। তুলি চোখ খিঁচে রেখেছে। তুলি যে ঘুমায় নি; সেটা শুভ্র তুলির আচার-আচরণ দেখে স্পষ্ট বুঝতে পারছে। শুভ্র হালকা হাসলো। যে মেয়ে শুভ্রর জন্যে মরিয়া; তার এত পালাই পালাই ব্যবহার শুভ্র কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকল। শুভ্র পা থেকে ধীরেসুস্থে স্যান্ডেল খুললো। তারপর সোজা তুলির বুকে মাথা রেখে একটানে লম্বা হয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো। তুলি আচমকা এমন আচরণে থম হয়ে দু চোখ খুলে ফেলল। শুভ্র তুলিকে দুহাতে ঝাপটে ধরে আছে। তুলি শুভ্রর ভারে চ্যাপ্টা হয়ে নিঃশ্বাস অব্দি নিতে পারছে না। যখন শুভ্র ধরে; নিজের সঙ্গে একদম পি ষে ধরে। এ কেমন অভদ্রতা। তুলি ছটফট করা শুরু করল। বলতে লাগলো;

‘ছাড়ুন আমায়; কাঁচা ঘুম এভাবে ভাঙিয়ে দেওয়া এটা কেমন অভদ্রতা? ছাড়ুন বলছি।’

তুলি রেগে কি বলছে নিজেও জানে না। শুভ্রর কান ধরে গেলো একদম। এতদিন শুভ্রর সামনে ভিজে বিড়াল হয়ে থাকা তুলি,এখন শুভ্রকে শাষাচ্ছে? ভালোই উন্নতি হয়েছে উনার। শুভ্র তুলির বুক থেকে মাথা তুলে সরাসরি তুলির চোখের দিকে চাইল। সঙ্গেসঙ্গে তুলি শুভ্রর গরম চাওনি দেখে চুপ হয়ে গেল। ছটফট বন্ধ হয়ে এলো মুহূর্তেই। শুভ্র ভ্রূ বাকালো। ইশারায় জানতে চাইল, তুলি কী চায়। তুলি কিছুসময় চুপ থাকল। পুরনো তেজ আবারো ছড়িয়ে গেল সর্বাঙ্গে। তারপর জোরেজোরে কয়েকটা নিঃশ্বাস ছেড়ে শুভ্র দিকে চেয়ে চোখ পাকিয়ে বললো;

‘আমি কী বলেছি, শুনেন নি? ছাড়ুন আমায়; নাহলে ভালো হবে-‘

তুলি বাকি কথা শেষ করতে পারে নি আর। তার আগেই ব্যগ্রভাবে শুভ্র তুলির ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে। এতটাদিন তুলিকে দেখেনি,স্পর্শ করেনি, কণ্ঠ শুনতে চেয়েও পারেনি। তার ফলাফল হচ্ছে, শুভ্র নিজের এতদিনের ছটফট করা আবেগ তুলির ঠোঁটে সবটুকুই ছড়িয়ে দিচ্ছে। তুলি ব্যথা পাচ্ছে। কিম্তু এতোদিন পর কাঙ্ক্ষিত স্পর্শে ব্যথাটুকু ভুলে; আরামে ভেসে যাচ্ছে। মুহূর্তেই সব রাগ পানি হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আস্তে আস্তে তুলি ডান হাতের আঙুলে শুভ্রর মাথার চুল খামছে ধরে; বাম হাত রাখে শুভ্রর প্রশস্ত পিঠে। শুভ্র দুহাতে তুলির পিঠটা আঁকড়ে ধরে আরও গভীর ভাবে স্পর্শ করতে লাগল তার তুলিকে।
তুলি হারিয়েই যাচ্ছে শুভ্রর স্পর্শে। চাইলেও পারছে না, শুভ্রকে নিজের উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলতে। জাদু করতে কিভাবে জানে শুভ্র? তুলি হাঁপিয়ে উঠচি বারবার। ভেতরে ভেতরে কান্নায় ফোপাচ্ছে। একটাপর্যায়ে শুভ্রর বুকের নিচে চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকা তুলির মনে পড়ে যায় সবকিছু। এত সহজে সে শুভ্রর কাছে ধরা দিবে না ও।শুভ্রকে বুঝতে হবে; তুলি অভিমান করে ছিলো। নিজের মূল্যটুকু শুভ্রকে বোঝাতে হবে। ভাবনার মধ্যেই তুলির চোখ বেয়েজল গড়ায়। শুভ্র চোখ বন্ধ অবস্থায় তার গালে অশ্রুর স্পর্শ পায়। তুলি কাঁদছে, শুভ্র অবাক হয়ে তুলির ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে বিস্ময় নিয়ে তুলির কান্না দেখে। তুলি শুভ্রর থেকে মুখটা সরিয়ে নিয়ে অন্যপাশে ফিরে চোখ মুছে।

শুভ্র এবার ভয় পেয়ে যায়। তুলি শুভ্রর উপর রাগ করেছে। কদিন হয়েছে তাদের বিয়ের; এরমধ্যে শুভ্র তুলিকে কাদিয়ে ফেলেছে? শুভ্র ভীষণ অপরাধবোধে ভুগে। তুলির মুখটা ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে চোখের জল মুছে ব্যস্ত হয়ে প্রশ্ন করে,

‘তুলি, তুমি কাঁদছো? কেনো? আমি কিছু করেছি?’

তুলি উত্তর দেয় না। শুভ্র এবার অধৈর্য্য হয়ে ধমকে উঠে,

‘তুলি? অ্যাই মেয়ে, তাকাও আমার দিকে। লুক অ্যাট মি।’

#চলবে
খুশি করলাম আপনাদের,এখন ৫ হাজার হবে এই পর্বে?

পরপর দুদিন পর্ব দিলাম, এখন মাথা ব্যথা করছে। শেষের দিকটা আমি নাপা খেয়ে লিখেছি। এইজন্যেই আমি চাইলেও রেগুলার দিতে পারিনা। ফোনের দিকে বেশি তাকালে মাথা ধরে আমার❤️

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here