কোনো_এক_শ্রাবণে উপসংহার

0
3905

কোনো_এক_শ্রাবণে

উপসংহার

পর্ব-১৬

-শাহাজাদী মাহাপারা (জোহুরা খাতুন)

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টার্কিশ এয়ার্লাইন এর বিমানটি মাত্রই ল্যান্ড করেছে।দেশের বাতাসে একটা শান্তি শান্তি ভাব।ভোর ৬ টার একটু বেশি বাজে। এবার বাড়ির পথে যাত্রা শুরু।এক্সিট গেইট থেকে বের হয়েই ট্যাক্সি ডাকলো মাহাপারা। লাগেজ গুলো ডিকিতে তুলে ট্যাক্সিতে এসে বসলো। যাত্রা ইস্কাটনের পথে। খুব বেশি সময় লাগলো না৷ প্রায় আধা ঘন্টার মধ্যেই পৌঁছে গেলো তার চিরচেনা নীড়ে। আজ প্রায় ছ বছর পর ফিরলো সে তার নিজের জন্মভূমিতে৷ তার নিজের পরিবারে।

ট্যাক্সির পেমেন্ট করে সব লাগেজ নিয়ে গেইটের সামনে এসে দাড়ালো।নক করতেই একজন গার্ড এসে দরজা খুলে দিলো। দারোয়ানটা নতুন। সম্ভবত শুধু নাইট ডিউটির জন্যই তাকে রাখা৷ মাহাপারাকে চিন্তে না পেরে সে বললো কাকে চাইছেন? আপনার পরিচয় দিন৷ মাহাপারাও বেশ মজার শুরে বললো-
” শফিক সাহেবের কাছে এসেছি।উনি কি বাসায় আছেন?”
” আজব ব্যাপার।এই ভোর ভেলায় স্যারে বাসায় থাকবোনাতো কই যাইবো? আপনি কে? আমারে বলেন আমি স্যারকে গিয়া বলে আসি?”
” আচ্ছা। ” মাহাপারা নিজের পার্স থেকে একটা কার্ড বের করে বললো “এই কার্ডটা আপনার স্যারকে দিলেই উনি চিনতে পারবেন আমি কে?” দারোয়ান একপলক কার্ডের দিকে তাকিয়ে মাহাপারার দিকে চেয়ে বললো “আচ্ছা।আপনে এইখানে দাড়ান আমি কইতাছি।”
মাহাপারাকে দাড়া করিয়ে রেখে সে কার্ডটা পকেটে নিয়ে গার্ডদের রুমের ওয়াশরুমে ঢুকলো। মাহাপারা এই ফাঁকে ভিতরে ঢুকে গেলো। তার পিছু পিছু আরো দুটো পা তাকে অনুসরণ করলো লাগেজ সমেত।
কলিংবেল দেদারসে বাজিয়ে যাচ্ছে মাহাপারা।

নাফির ঘুম পাতলা এতবার কলিংবেলের আওয়াজে সে বিরক্তই হলো৷ ” আরে মুসিবত! এই ভোরবেলায় কে এইরকম উদ্ভট কাজ করতেছে? কেউ খুলেও না দরজাটা আল্লাহ!” শেষমেশ সে নিজেই উঠলো তার সাথে ঋতুও উঠলো। রুম থেকে বের হয়ে দেখে আব্বা আম্মাও বের হয়ে আসছে। নসিমা আর কামাল দৌঁড়ে দরজা খুলতে গেলো।

দরজা খুলতেই নসিমা ভূত দেখার মতো চমকে গেলো। আল্লাহগো বলে এক চিৎকার দিয়ে সরে এলো দরজার সামনে থেকে৷ প্রায় তারখাম্বার মতো লম্বা একটা লোক সাদা ধবধবা শরীর। নসিমা চোখ ডলে চিৎকার করে রুবাবাকে ডাকলো।
” খালাম্মা দেইখা যান নতুন দুলাভাই!”
” ততক্ষণে সবাই ড্রয়িং রুমে এসে জড়ো হয়েছে।”
” মাহাপারা চিৎকার করে বললো সারপ্রাইজ ”
রুবাবা দৌঁড়ে এসে মাহাপারাকে জড়িয়ে ধরলো। বাসার সবার চোখ ভিজে এলো মাহাপারাকে দেখে৷ শেষ দেখেছিলো তিন বছর আগে৷ এরপর আর দেখা হয়নি তার সাথে।
নাফি এসে দাস্তানের সাথে করমর্দন করলো।

দাস্তান ইশারায় দেখালো।

নাফি হাসলো৷ ঋতু এসে বললো ভাইয়া ওদের আমার কাছে দিন নাসিমা এগিয়ে এলো। দাস্তান বেবি ক্যারিয়ার থেকে আলতো করে দার্নিয়াল আর দিলরাবাকে নামিয়ে ঋতু আর নসিমার কোলে দিলো। সে এসে ধপ করে সোফার উপর বসলো।
ক্লান্ত সে। ততক্ষণে গার্ড এসে চিৎকার করে উঠলো – “আমি না আপনাদের বললাম গেইটে দাড়াইতে।আমি স্যারকে বলতাম আপনেরা ভিত্রে ঢুকলেন কেন?” নাফি অবাক চোখে তাকিয়ে বললো- “তুমি বাড়ির মালিকিনকে গেইটে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছো?”
গার্ড ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো। মাহাপারা পরিস্থিতি অন্যদিকে যাবে বুঝতে পেরে বলে উঠলো – “উনি হয়তো জানেন না ভাইয়া আমি এইবাড়ির ছোটমেয়ে। থাক কিছু বলিস না।”
মাহাপারা একবার গার্ডের নেইম্পলেইট এ চোখ রেখে বলে উঠলো -” আজকে এখানেই নাস্তা করে যাবেন আসিফ ভাই।” কামাল দারোয়ানকে টেনে বাহিরে নিয়ে গেলো।
নাফি বললো “আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি” বলেই দৌঁড়ে উপরে চলে এলো। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিপা আর দোলাকে কল লাগালো।
দুজনে কল ধরেই ঘুমু ঘুমু কন্ঠে বললো ” তোর মাথা ঠিক আছে? কয়টা বাজে কল দিচ্ছিস?”
” দ্রুত বাসায় আয়। আব্বা আম্মা ডাকছে। জরুরি তলব। ”
দোলা এক লাফে বিছানায় উঠে বসে বললো “আম্মার শরীর ঠিক আছে? কি হইছে?”
” আমি জানিনা ডাকছে তোদের জলদি আয়।”
নিপা উত্তর দিলো ” আমরা আসতেছি।”

বেলা ৮ টা বাজে মাহাপারা শাওয়ার নিয়ে বের হলো বাথরুম থেকে। আকাশী সালওয়ার কামিজে কি দারুণ লাগছে তাকে। দাস্তান বাচ্চাদের সাথে শুয়ে আছে৷ সে এসেই হট শাওয়ার নিয়েছে।

নসিমা নাস্তার টেবিলে নাস্তা দিচ্ছিলো। রুবাবা গ্লাসে গ্লাসে জুস ঢালছিলো। কলিংবেলের আওয়াজ এলো।

নসিমা দরজা খুলতেই দোলা নিপা দৌড়ে ভিতরে ঢুকে মা বলে ডাকতেই দেখলো রুবাবা নাস্তার টেবিলে বসে আছে কাছে যেতেই চমকে উঠলো। আকাশী রঙের সালওয়ার কামিজে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিপা কিছুক্ষণ চোখ ডলে বুঝলো এইটা স্বপ্ন না। কিন্তু সে কাছে গেলো না। ড্র‍য়িং রুমে গিয়ে চুপ চাপ বসে রইলো। আবরার আর জাদিদ ঘরে এসেই সারপ্রাইজ হিসেবে দেখলো নিপা সোফায় বসা, দোলা নাস্তার টেবিলে জুসের গ্লাস হাতে। পাশে মাহাপারা দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে। কারো চেহারায় কোনো ভাবান্তর নেই। আবরারের কোলে তার তিন বছর বয়েসী ছেলে নামীর। সে তার গোল গোল চোখ দিয়ে একবার এদিক আরেকবার ওদিক দেখছে আর চুল ব্যাকব্রাশ করছে আঙ্গুল দিয়ে।

মাহাপারা নামীরকে মাত্র ২ মাসের দেখেছিলো শেষ বার। আর এবার কত বড় হয়েছে সে। নামীর খালামণি বলে ডাকতেই মাহাপারা তাকে কোলে তুলে নিলো। তার চোখে মুখে চুমু খেলো, কথা বললো। দোলার দিকে ফিরে বললো হুমায়রা আর জেহনাব কে আনলেই পারতে বড়পা। দোলা শুধু একবার মাহাপারার দিকে চাইলো দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিলো কোনো প্রতি উত্তর করলো না।

দাস্তান দার্নিয়াল আর দিলরাবাকে নিয়ে ডাইনিং স্পেসে এসে দেখলো পরিস্থিতি সিরিয়াস। সে দ্রুতই দোলার কোলে দিলরাবা আর নিপার কোলে দার্নিয়াল কে দিয়ে নাস্তার টেবিলে বসলো। তার শাশুড়ির দিকে চেয়ে ভাঙ্গা বাংলায় বললো – ” মা আমরা কি নাস্তা করতে পারি?” রুবাবা খুশিতে গদগদ হয়ে বললেন ” অবশ্যই সব তোমাদের জন্য করেছি বাবা। জাদিদ, আবরার তোমরাও এসো আব্বা। ” জাদিদ আর আবরার নাস্তার টেবিলে বসতেই রুবাবা খুশিতে কান্না করে দিলেন৷ একসাথে নিজের মেয়ের জামাইদেরকে খাওয়াতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত৷ আহা এই সুখ কি সবার কপালে থাকে? আজ তার বড্ড আনন্দের দিন। নাফি এবং শফিক ও চলে এলো নাস্তা করতে। নির্ভান মাহাপারাকে দেখে খালামণি বলেই দৌড়ে এলো। কত বড় হয়ে গিয়েছে তার ভাই পো। আর ওদিকে দোলা আর নিপা তাদের চোখের মণিদের নিয়ে চোখ ভেজানোতে ব্যস্ত। সময় কত দ্রুত চলে যায়৷ একসময় ছোট্ট মাহাপারাকে এভাবে কোলে নিয়ে ঘুরতো তারা আর আজ মাহাপারার ছোট দুটোকে কোলে নিয়ে বসে আছে৷

মাহাপারার বাংলাদেশে আসার মূল উদ্দেশ্য শফিক ও রুবাবার গোল্ডেন জুবলি উদযাপন। যদিও সে আসতে পারবেনা বলে বাহানা দিয়েছিলো। তবে সারপ্রাইজ পেয়ে সবাই খুশি। ৪ মাসের ছুটিতে এসেছে তারা। এবারই দাস্তান এত বেশি সময়ের ডিপ্লয়মেন্টএ বাড়ি এসেছে।তাই এ বার দেশে ফিরতে পেরেছে মাহাপারা। প্রথম তিনবছরতো অভিমান করেই বাড়ি ফেরে নি। দাস্তানের সাথে বিয়ের পরও বাড়ি ফিরতে পারেনি। ৮ মাসের দুবাচ্চাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলো।
দাস্তানের এটা ২য় বার বাংলাদেশ ভ্রমণ। এর আগে মা বেঁচে থাকতে খুবই ছোটবেলায় এসেছিলো সে এরপর আর আসা হয়নি।তার নানা বাড়ির লোকজন তার বাবা মায়ের সম্পর্কটা মূলত মানতে পারেনি।তার বাবা সাদা চামড়া ছিলো কিনা।তার উপরে খ্রিস্টান। এ নিয়ে তার কোনো দুঃখ নেই।সে এখন বেশ আছে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে। তার শ্বশুরালয়ের সকলেই বেশ ভালো এবং ব্যক্তিত্ববান লোক৷ এছাড়া তার ভায়রাভাইয়েরাও বেশ ভালো মানুষ। এতগুলো ভালো মানুষের মাঝে থাকলে বাতাবরণ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।মেঘে মেঘে বেলা যাবার মতো তার জীবনেও বহু সময় পার হয়ে গিয়েছে এসব দুঃখ বুকে পুষে রাখার জন্য।

————– —————————- ————–

বাড়ি জুড়ে একটা উৎসব এর আমেজ। মাহাপারাকে দেখতে আশেপাশের পারা প্রতিবেশিরা ভীড় করেছে বাড়িতে।ড্রয়িংরুমটা মেহমানে গমগম করছে। সবাই মাহাপারাকে কম ওর পাশে বসা গ্রীক দেবতাটাকেই বেশি দেখছে। একজন দাদীর বয়েসী মহিলাও এসেছে।তিনি বিদেশী বর দেখতে পেরে বেশ খুশি।তার পান খাওয়া দাঁত গুলো বের করে ফিক করে হাসছে। রুবাবা সবাইকে চা-নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করছে।

ঋতু এতক্ষণ পর রুম থেকে বের হলো। ওর সাথে নির্ভান ও এলো।দুজনের হাতে দুটো দেবশিশু দেখতে পাচ্ছে সবাই৷ মাহাপারার বাচ্চাদের দেখতে পেয়ে সবাই বেশ খুশি।ঋতু এগিয়ে আসতেই শুনতে পেলো কেউ একজন বলছে -“শুনছিলামতো ওর নাকি একটাই বাচ্চা। মেয়ে বাচ্চাটা।তাইলে ওই ছেলে বাচ্চাটা আবার কার?”
“আরে কাকী আপনে জানেননা ওইটাতো ওর যার সাথে বিয়া ঠিক হইছিলো তার বাচ্চা।”
” কি বলো এইসব? এই লোকের না দুইটা?”
” আরে না।”

ঋতুকে দেখেই তাদের ফিসফিস বন্ধ হয়ে গেলো। মাহাপারা ঋতুর দিকে চাইলো। ঋতু বুঝলো মাহাপারার কানে সবই গিয়েছে৷ মাহাপারা তার দুই বাচ্চার সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিলো।

নিপা আর দোলা বাড়ি চলে এসেছে দুপুরের দিকে। আগামীকালকের দিনটা বেশ বড় যাবে তাই আজ থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। নিপা অফিসার্স ক্লাবে আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রেখেছিলো। ডেকোরেটারসদের ও বুকিং দিয়ে দিয়েছে। দোলা ক্যাটারিং সার্ভিস এ বলে রেখেছে।সবার জন্য শপিং করা শেষ আগেই। কাল সকাল সকালই রওনা দিতে হবে। দিনটা শুক্রুবার হিসেবে পরায় আরো সুবিধাই হয়েছে।

আবরারের বাবা মারা যাবার পর তার মা তাদের সাথেই থাকে। এতে নিপার সুবিধাই হয়েছে। মানুষ হিসেবে তার শাশুড়ী বেশ ভালো যাকে বলে মাটির মানুষ। নিপার মেয়ে নূদার বেশির ভাগ সময় তার দাদীর কাছেই থাকে।নিপা তাই বাবার বিজনেসটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে।এছাড়া আবরারও তার বাবার ব্যবসা সামলে নিয়েছে।

ঋতু রাতের বেলা সবাইকে খেতে ডাকলো ডাইনিং স্পেসে। রুবাবা খুশিতে আটখানা। নাতি নাতনী সব তার বাড়িতে ভীড় করেছে। আগামীকালতো চাঁদের হাট বসবে এই বাড়িতে। তার জীবনেও এত সুখ ছিলো তিনি হয়তো কল্পনাও করেননি।এই মুহূর্তে তিনি নাফির মেয়ে নাহলাকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। নাহলা নূদার চেয়ে তিনমাসের ছোট। রুবাবা নির্ভানকে শুরুতে পছন্দ না করলেও তিনি এখন তার নাতির ভক্ত। এত সুন্দর চৌকস বাচ্চাকে তিনি আদর না করে থাকতে পারেননি। গোড়ামি আছে তার মাঝে কিন্তু তিনি পাষাণ নন।
নির্ভানও যেন দাদী নেউটা।

দোলার রুমের বারান্দায় দোলনাটায় সারাদিন পর মাহাপারা এসে বসলো। পুরোনো স্মৃতি গুলো মনে পড়ে যাচ্ছে।
দাস্তান বেশ ক্লান্ত সে এখন ঘুমের সাগর পাড়ি দিয়েছে। বাচ্চারাও ঘুম। মাহাপারা একবার ঘরে গিয়ে দিলরাবা আর দার্নিয়ালকে দেখে এলো। দোলনায় দোল খেতে খেতে মাহাপারার বিকেলে বলা প্রতিবেশিদের কথা মনে পড়তে লাগলো। ব্যাপারটা যদিও সত্যি। দার্নিয়াল মাহাপারা আর দাস্তানের ছেলে নয়। সে বেয়াজিদ আর সূচির ছেলে।

সূচির প্রেগন্যান্সির খবর জানতে পেরে বেয়াজিদ সহ সবাই খুশি হয়েছিলো শুধু খুশি হয়নি সূচি। তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই বাচ্চাটা বাঁধা হিসেবে কাজ করছিলো। প্রথমে আবোর্শনের চিন্তা করলেও শুধু মাত্র বেয়াজিদকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে তা করতে পারেনি। সূচির শশুরের লন্ডনে পোস্টিং হওয়ায় সূচি ভেবেছিলো বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই থাকবে তারপর দেশে এসে আবারও কাজ শুরু করবে। বেয়াজিদ শিপে চলে যাওয়ার পর তার পুরো পরিবার লন্ডনে শিফট করে।সূচির শাশুড়ী তার একমাত্র পুত্রবধূর সেবায় কোনো কমতি রাখেন নি। তবুও ভাগ্যের লেখা খন্ডানো যায়না। সূচির জীবন সময় হয়তো খুব অল্পই ছিলো। মাহাপারার এখনো মনে আছে বেয়াজিদ বলেছিলো হসপিটাল থেকে চেকাপ করিয়ে ফেরার সময়ই কার এক্সিডেন্টে তার বাবা মা দুজনেই গত হন। সেদিন সৌভাগ্যক্রমে সূচি বেঁচে গেলেও কোমায় চলে যায়। তখন সূচি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের অন্তসত্বা। সূচিকে লাইফ সাপোর্টেই রাখা হয়। পুরো চারমাস কোমায় থাকার পর সি-সেকশনের মাধ্যমে দার্নিয়ালকে পৃথিবীতে আনে সূচি এরপর আর দু ঘন্টাই সে বেঁচে ছিলো। একটা শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেক শোকে পাথর হয়ে যায় বেয়াজিদ। সে ঠিক করে সে তার এই সন্তানের কাস্টাডি অন্য কাউকে দিয়ে দিবে। তার মাথায় শুধু একজনই ছিলো। সে দার্নিয়ালের কাস্টাডি মাহাপারা আর দাস্তানের নামে দিয়ে যায়। তখন মাহাপারাও দিলরাবাকে ক্যারি করছিলো। বেয়াজিদ আমেরিকা এসেছিলো তার ছেলেকে নিয়ে সেবারই তাদের শেষ দেখা৷ এরপর বেয়াজিদের মৃত্যুর খবরই আসে মাহাপারার কাছে। শহীদ হয়েছিলো বেয়াজিদ বোম্বব্লাস্টে। মাহাপারা ভেঙে পড়েছিলো অনেকখানিই৷
দাস্তান তখন ঘানায় পোস্টিং এ। একা একাই সামলে উঠেছিলো সে দিলরাবা আর দার্নিয়াল এক মাসের ছোটবড় হলেও মাহাপারার প্রথম সন্তান দার্নিয়াল।

দাস্তানও কখনো দার্নিয়ালকে নিয়ে প্রশ্ন করেনি৷ তার জন্যও দার্নিয়াল তার প্রথম সন্তান। অত্যন্ত সাহসী এবং চমৎকার ব্যক্তিতের পুরুষ ছিলো বেয়াজিদ। তার সন্তানকে আপন করে নিতে দাস্তানের কোনো সমস্যা হয়নি৷মাহাপারা জানে এরজন্য কতবড় মনের মানুষ হওয়া প্রয়োজন৷দাস্তান কখনোই দার্নিয়ালের প্রতি তার দায়িত্বে অবহেলা করেনি। সে তার দুসন্তানকেই সমানভাবে ভালোবাসে।

মাহাপারার জানে অনেকেই অনেক কথা বলবে আগামীকালের অনুষ্ঠানে।তার জন্য সে প্রস্তুতি নিয়েই নিয়েছে।আর দাস্তানতো তার পাশে আছেই। এই মানুষটার জন্যই তার ভঙ্গুর জীবনটা সুন্দর এবং ভালোবাসাময় হয়ে উঠেছে।এরকম ভালোবাসাও যে তার ভাগ্যে ছিলো তা জানলে হয়তো নিলয় বা বেয়াজিদের দেয়া কষ্ট গুলো পুষে রাখতো না।সৃষ্টিকর্তা সবার জন্য সুখসময় বেছে রাখেন। এখন সময়টা তার।

” ঘুমাবে না?”
” ঘুম আসছেনা৷ তুমি উঠে চলে এলে যে?”
” আমার মনে হয় তোমার ঘুমিয়ে নেয়া উচিৎ।তা না হলে আগামীকাল আর বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেনা।টুমোরো ইজ হ্যাজার্ডফুল ইউ নো?”
মাহাপারা হাসলো দাস্তানের দিকে চেয়ে।
” লেটস স্লিপ।” বলে দাস্তানের বাহু ধরে উঠে রুমের দিকে রওনা হলো।

এ বাড়ির আরো দুজন পুরোনো সদস্য রয়েছেন যাদের দেখা মেলেনি। মেলিসা আর রিউপার্ট। তারা আর বেঁচে নেই।তবে তাঁদের বংশধরেরা এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।মাহাপারার আমেরিকাতেও দুটো হাস্কি রয়েছে। তবে তার যখন মেলিসা রিউপার্টের কথা মনে পড়ে তখন আর কিচ্ছু ভালো লাগেনা। পোষা প্রাণীরা হয়তো এমনই হয়।

সকালে দাস্তান ঘুম থেকে উঠে দেখলো দার্নিয়াল তার পাশে হামাগুড়ি দিচ্ছে।সে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বিছানা দেখে নেমে যাবার। মাহাপারা আর দিলারাবা ঘুমাচ্ছে।
দাস্তান তার পা ধরে টেনে কাছে আনলো। “মর্নিং ডিয়ার”
” ড্যাডা পুপ”
“আহ! চলো আমার ত্রিদেশীয় সিটিজেনশিপ ধারী পুত্র।গত দুদিন যাবত তুমি এ দেশিও লু ইউজের সুযোগও পাচ্ছো।ইউ আর ইনডিড আ জেম।”
মাহাপারা ফিক করে হেসে দিলো।
” আরেন্ট ইউ স্লিপিং?”
” এগুলা কি বলছো ওকে তুমি? আর কি ত্রিদেশীয় সিটিজেনশিপ ধারী বলো?”
” মিথ্যা কি বললাম?” দাস্তান উঠে টি শার্ট গায়ে জড়িয়ে দার্নিয়ালকে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে রওনা হলো। ওয়াশরুম থেকেই সে বলছে।
” দার্নিয়াল জন্মসূত্রে ব্রিটিশ। পিতৃ সূত্রে আমেরিকান আর মাতৃসূত্রে বাংলাদেশি।সো ইজ ইট দ্যাট ব্যাড টু কল হিম দিস?”
মাহাপারা আবার হাসলো।বললো –

” মেয়েরা যদি জানে তোমার এই হ্যান্ডসাম পুত্রটি ত্রিদেশীয় সিটিজেনশিপধারী শুরশুর করে চলে আসবে। আই গ্যাস ওর ভবিষ্যতে গার্লফ্রেন্ডের অভাব হবেনা।”
দাস্তান মাহাপারা দুজনেই হাসলো৷ দিলরাবা ঘুম থেকে উঠে একচোট এদিক ওদিক চেয়ে মাহাপারাকে জড়িয়ে ধরলো।
” ইউ ওয়ান্না পি হানি? ”
সে এদিক ওদিক মাথা নাড়ালো।
” দাস্তান আর ইউ গাইজ ডান? শি নিডস টু ইউজ ইট। ”
দাস্তান এক হাতে উল্টো করে দার্নিয়ালকে ধরে নিয়ে এলো। এরপর দিলরাবাকে নিয়ে গেলো ওয়াশরুমে। দার্নিয়াল বিছানায় উঠে মাহাপারাকে ধরে দাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো। মাহাপারা তাকে সাহায্য করলো।

নাফি আধোঘুমেই ঋতুকে জড়িয়ে ধরতে গেলে মাঝখানে বাঁধা পেলো।তাদের মাঝখানে নাহলা।সে চোখটা হালকা খুলে দেখলো নাহলা তার দিকে চেয়ে হাসছে।
” মা তুমি আজ দাদীর রুমে ঘুমাওনি?”
” উঠে চলে এসেছি”
” হুমমম ভালো করেছো”
ঋতু নাফির কান্ড দেখে হেসে ফেললো।
” তুমি জেগে আছো আর মজা নিচ্ছো তাইতো? ”
” নেভার মাইন্ড।” বলে আবারও হাসলো।
নাফি চিৎ হয়ে শুতেই নাহলা তার বাবার বুকের উপর গিয়ে শুলো আর ঋতু চেপে এসে নাফির বাহুর উপর মাথা রাখলো। নাফি বাঁ হাতে ঋতুকে শক্ত করে জড়িয়ে নিলো।ঋতু একপলক নাফির দিকে চেয়ে চোখ সরিয়ে নিলো।মাঝে মাঝে তার মনে হয় এ জীবনে নাফির সাথে যদি তার দেখা না হতো তাহলে কি হতো?কেজানে! তবে যেহেতু দেখা হয়েছে তাই এরচেয়ে ভালো কিছুই আর নেই।

————————————–

দুপুর নাগাদ সব কাজ শেষ হয়ে গেলো অনুষ্ঠানের। অতিথিরা সন্ধ্যে আটটার মধ্যে ভেনুতে পৌঁছে যাবে। রুবাবাকে নিয়ে পার্লার যাওয়ার জন্য রওনা হলো ওরা।মাহাপারা, দোলা,নিপা,ঋতু, হুমায়রা সবাই যাবে। যদিও বাচ্চাদের রাখার জন্য ঋতু বাসায় থেকে যেতে চেয়েছিলো।তবে দাস্তান আশ্বস্ত করেছে তারা আসতে আসতে সে এদিকটা সামলে নিবে। মাহাপারা জানে দাস্তান সামলে নিবে। নিশ্চিন্তে সে বের হলো বাসা থেকে।

সন্ধ্যে নাগাদ ভেন্যুতে পৌঁছে গেলো সবাই।
সকলের সাথে দেখা করলো মাহাপারা। গুঞ্জন উঠলো তার স্বামী এবং সন্তানদের সম্পর্কে। মাহাপারার ভাগ্য বলতে হবে।পরপর দুটো বিয়ে ভাঙার পরেও কি দারুণ সংসার করছে।ব্যাপারটা অনেকের জন্যই ঈর্ষার। রুবাবা সবাইকেই বোঝাচ্ছে দাস্তান আর দার্নিয়ালের কথা।অনেকে ভৎসর্না দিচ্ছে তো কেউ কেউ বাহবা দিচ্ছে। মাহাপারার এসবে নজর নেই। সে এই মুহূর্তে অতিথিদের আপ্পায়নে ব্যস্ত।
ফ্যামিলি ফটো তোলার সময়েও সবাইকে একসাথে একফ্রেমে বন্দী দেখে রুবাবা চোখ ভেজালো।দাস্তানকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো নাফী।দাস্তানের খাতিরদারি দেখে আবরার বলেই বসলো, “নাফী ভাই আমাকে আর মানাফ ভাইকে ভুলেই গিয়েছেন নতুন বোন জামাইকে পেয়ে। আমরা তাহলে পুরোনো হয়ে গেলাম!” আবরারের কথা শুনে সকলেই হেসে ফেললো।

নিপার স্কুলের বান্ধবীরাও এসেছে অনুষ্ঠানে। এছাড়া বিজনেস ডেলিকেটসদেরও দাওয়াত দেয়া হয়েছে।

রুবাবা এবং শফিকের বিয়ের ছবি ছাড়াও তাদের বিয়ের পরবর্তী এবং ৫০ বছরের বিবাহিত জীবনের সব ছবি গুলো প্রজেক্টরে দেখানো হলো।

পার্টি শেষ হতেই দোলা আর মানাফ বাচ্চাদের নিয়ে নিজেদের বাসায় চলে গেলো। নিপা আজ বাসায় ফিরবে না বলে ঠিক করলো।

_____________________________

বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিলো মাহাপারা৷
পার্টি ভালোভাবেই সম্পন্ন হওয়ায় হাফ ছেড়ে বাঁচলো মাহাপারা।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো মুছতে মুছতেই চোখ গেলো তার বুকশেলফটার দিকে। বেয়াজিদের দেয়া দুটো বই রয়েছে সেখানে। বইগুলো অযত্নে নেই তবুও তার স্পর্শ পায়নি বহুবছর হয়েছে৷ মাহাপারা তোয়ালেটা কাঁধের উপর রেখে শেল্ফের দিকে এগুলো। পুরোনো বই গুলো ছুঁয়ে দেখছে সে। বেয়াজিদের বই দুটো ছুঁয়ে দিতেই চোখ দুটো ছল ছল করে উঠলো তার। শেল্ফ থেকে বই বের করে হাতে নিতেই বুঝিতে পারলো ভিতরে কিছু রয়েছে। খুলতেই একটা সাদা এনভেলপ। বই দুটো হাতে নিয়েই সে বিছানায় গিয়ে বসলো। এনভেলপ খুলতেই তা থেকে ফটোগ্রাফ বের হলো। অনেকগুলো ফটোগ্রাফ৷ সবগুলোই মাহাপারার ছবি। দোলার বিয়ে থেকে শুরু করে বেয়াজিদের সাথে কাটানো সময়গুলোর ছবিও রয়েছে তাতে। অজস্র ছবির ছড়াছড়ি।সাথে একটা চিঠিও রয়েছে৷
বেশি না মাত্র কয়েক লাইনের চিঠি৷ মাহাপারা চিঠিটা পড়তে শুরু করতেই শেষ হয়ে গেলো চিঠিটা সে বার বার পড়লো বহুবার পড়লো।
“মাহাপারা এই ছবিগুলোর প্রত্যেকটার আলাদা কপি আমার কাছেও রেখেছি।যখন তুমি থাকবেনা তখন দেখবো বলে। ছবিগুলোতে আমাদের একসাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো বন্দি করার ছোট্ট প্রচেষ্টা মাত্র। ছবিগুলোতে তোমার হাসিটাই শুধু চোখে পরবার মতো বাকি সব পানসে যেনো।
ইতি
বেয়াজিদ।”

এনভেলাপে চিঠি আর ছবি গুলো ভরে শেল্ফে রেখেই ছাদে গেলো মাহাপারা। বহু বছর পর আবার সেই ছাদে উঠা হলো মাহাপারার। রাতের আকাশে ধূসর সাদা মেঘগুলো পেজা তুলোর মতো এদিক থেকে ওদিক ভেসে যাচ্ছে৷ মুগ্ধ হয়ে আকাশের দিকে চেয়ে আছে মাহাপারা। দার্নিয়াল, দিলরাবাকে ঘুম পাড়িয়ে ছাদে এসেছে মাহাপারা। কিছুক্ষণ পরেই দাস্তান
এসে মাহাপারার পাশে দাঁড়ালো।
“স্কাইস আর দ্যা রিফ্ল্যাকশন অফ এডমায়ারারস মুড।”
” ইজ দ্যাট ট্রু?”
“নট শিওর৷ বাট আই হার্ড ইট সামহোয়্যার।”
” তুমি আর তোমার অবান্তর ছন্দ।”
দাস্তান মাহাপারাকে দু হাতে জড়িয়ে ধরলো। আজ মাহাপারার হঠাৎ বেয়াজিদের কথা মনে পরলো। সেদিন আর আজকের মাঝে তফাৎ শুধু মানুষটাই নেই৷
” কি ভাবছো?”
” বেয়াজিদের কথা। ”
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো দাস্তান৷
মাহাপারার উদ্দেশ্যে বললো,
“ইন দিস ওয়ার্ল্ড নাথিং স্টেইস ফরেএভার। উই হিউম্যানজ কান্ট ইউজ দ্যা ওয়ার্ড ফরেভার ফর এনিথিং।ইভেন ইফ ইটস লাভ ফর লাভ অর লাইফ। ইট’ল বি গন টোটালি ওয়ান্স ইউ স্টপ ব্রিদিং৷ দ্যাটস হোয়াই এভ্রি সেকেন্ড কাউন্টস৷ এন্ড উই হ্যাভ টু লিভ ফর দ্যা পারসন হু লেফট আস, হুম উই লাভড এন্ড ফর আওয়ার লাভ। দিস হাউ দ্যা ওয়ার্ল্ড ব্যালেন্স কান্টিনিউ৷”

এটা সত্যি যে মাহাপারার বেয়াজিদের প্রতি কোনো কিছুই নেই। সে মনে প্রাণে শুধু দাস্তানকেই ভালোবাসে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে জানে মাহাপারা দার্নিয়ালের জন্যই কষ্ট পায়। যদিও দার্নিয়ালকে বাবা মায়ের ভালোবাসা দিতে কোনো কমতি রাখছে না তবুও মনের মধ্যে একটা সন্দেহ রয়েই যায় আদৌও সে তার দায়িত্ব পূরণ করতে পারছেতো?

শ্রাবণ মাস চলছে। ভাপ্সা গরমের সাথে হালকা মৃদু বাতাস দিচ্ছে। বৃষ্টির পূর্বাভাস। কিছুক্ষণ পরেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। মাহাপারা ভিজে যাবার ভয়ে দৌড়ে ছাদ থেকে নেমে যেতে চাইলো। দাস্তান মাহাপারাকে টেনে ধরলো।
” আমি কখনো বাংলাদেশের বৃষ্টিতে ভিজি নি।তুমি কি কিছুক্ষণ আমার সাথে ভিজবে?” ভাঙ্গা বাংলায় বললো দাস্তান৷
মাহাপারার বড্ড মায়া হলো। এই মানুষটা তার স্বামী। তাদের বিয়ের কয়েকবছর হয়ে গিয়েছে, তাদের টোনাটুনির সংসারে দুটো ছোট টুনটুনিও রয়েছে৷ তবুও মাঝে মাঝে দাস্তানের আবদার গুলো মাহাপারাকে সেই শুরুর দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এক জীবনে এই মানুষের যতটুকু ভালোবাসা প্রাপ্য আদৌ তা মাহাপারা দিতে পারবে কিনা তা তার জানা নেই। কিন্তু মাহাপারা একদিনও দাস্তানকে ভালো না বেসে থাকতে পারবেনা। রোজ নতুন করে মানুষটাকে এক্সপ্লোর করে মাহাপারা।

মাহাপারা দাস্তানের দিকে তাকিয়ে হাসলো। বৃষ্টির পানিতে ভিজে একাকার দুজন৷ মাহাপারার চোখের কোণে জমা পানি গুলো বৃষ্টির সাথে গরিয়ে পরছে৷ এই অশ্রু গুলো মাহাপারার আনন্দের যা দাস্তানের অগোচরে ঝড়ে যাচ্ছে। মাহাপারা বহুক্ষণ দাস্তানের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।শেষ শ্রাবণে যখন ভিজেছিলো তখনও কি ভেবেছিলো তার জীবনটায় এতো বৈচিত্র‍্যময় ঘটনা ঘটবে৷ অথচ এই শ্রাবণ তার জন্য নতুন বৈচিত্র‍ নিয়ে এসেছে৷ তার জীবনে এভাবেই নতুন বৈচিত্র আসুক বার বার আর শ্রাবণের নবধারা তাদের এভাবেই ভিজিয়ে দিয়ে যাক।

সমাপ্ত।

Shahazadi Mahapara’s Inscription

অবশেষে দুবছর পর বহু কষ্টে শেষ করতে পারলাম “কোনো এক শ্রাবণে” উপন্যাসটা। এটা আদৌ উপন্যাস বলা চলে কিনা জানিনা তবে এটা আমার জীবনের প্রথম বড় গল্প। এর মাঝেও বহু গল্প লিখেছি সিরিজ লিখেছি৷ আশা করি আবার নতুন কোনো গল্প নিয়ে আসতে পারবো। যদিও এ গ্রুপে এখন আর আমার কোনো পাঠক নেই ইররেগুলারিটির জন্য। আশা করি আবার নতুন করে পাঠক কুড়াতে পারব। সবাইকে ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here