পর্ব_২৩ #অসমাপ্ত_প্রনয় #মিঃনাহিদ_হাসান

0
96

#পর্ব_২৩
#অসমাপ্ত_প্রনয়
#মিঃনাহিদ_হাসান

আসিফ মন্ডল সকালে ঘুম থেকে উঠেই রেন্ট্রি বাগানে গেলেন, পাতাল পুরীর সবকিছু শেষ হতে দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন…!

রাগে গজগজ করতে করতে বাড়িতে আসলেন_রায়হান রায়হান কোই তুই_আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল সব শেষ,কে করলো এইসব…!

রায়হান নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো_মুখ কালো করে বললো, তোমার ভাতিজা রুবেল এইসব করছে..!

তুই কোই ছিলি হা’রাম’জাদা কে কাইটা ফেলতে পারলি না..!
আব্বা ওরে তো কিছু করতে পারি নাই,ও ভাইগা গেছে_কিন্তু”যে ওরে সহযোগিতা করছে তারে উপরে পাঠাই দিছি..!
কারে মারছোস তুই,কারে উপরে পাঠাই দিলি..?

নাহিদ শা”লা কে শেষ করে দিছি,ব্যাটা আমার গ্রামে আইসা আমার গায়ে হাত তুলছিলো,আর এখন আমার ময়না পাখি নিয়া ভাগতে চাইছে,তাই ওর পাখনা কাইটা দিছি…!

বারেক খন্দকারের ছেলে নাহিদ খন্দকার_আরে বোকা হাদা”রাম বারেক খন্দকার আমার পাটনার ছিলো..!
যাই হোক ভালোই করছিস_বারেক কয়দিন আগে আমার সাথে সব সম্পর্ক শেষ করছে, এখন ওর উচিৎ শিক্ষা হইছে..!

আব্বা আমি আমার ময়না পাখি কে আজকেই বিয়া করমু,সব ব্যবস্থা করো…!
আচ্ছা কোন চিন্তা নাই,ব্যবসা গেছে তো কী হয়েছে, তুই খুশি থাকলে ওইরকম ব্যবসা আরো সাজানো যাইবো..!

আসিফ মন্ডল বাড়ির গেটে গিয়ে চমকে গেছেন..!

২৩-২৪ বছর বয়সী একটা মেয়ে পা ছুঁয়ে সালাম করলো..
আসিফ মন্ডল ঢোক গিলে বললেন,মায়া ‘মা’ তুমি এইখানে..!
জ্বি আব্বা আমি আসলাম তোমাকে দেখতে, তুমি তো খোঁজ খবর রাখো না…!

বাহিরে কথা শুনে রায়হান মন্ডল বেরিয়ে আসলো, আব্বা কী হইছে,এই মেয়েটা কে..?

আসিফ মন্ডল থমথমে অবস্থায় পড়ে গেছেন, কিছু সময় পর বললেন, এইটা তোর বড়ো বোন “মায়া”..!

আব্বা আমার বড়ো বোন আছে আগে তো জানতাম না..!
আগে জানবি ক্যামনে_মায়ার আম্মা, “মায়া”ছোট থাকতে মারা যাবার পর, আমি তোর আম্মাকে বিয়া করি..!
ছোট থেকেই মায়াকে শহরে ওর খালার বাড়িতে রাখছি,তাই তোদের সাথে কখনো পরিচয় হয় নাই..! এখন তো পরিচয় পাইলি,যা বোনকে নিয়া বাড়ির ভেতরে যায়, আমি একটু কাজে যামু..!

রায়হান মন্ডল কথা না বাড়িয়ে মায়াকে নিয়ে বাড়ির ভেতর আসলো_বললো আফা আপনে ঠিক সময় আইছেন, আমার আজকে বিয়া, আমি চাই বিয়াতে আপনে থাকবেন..!

মায়া মুচকি হাসলো,চলে যখন এসেছি বিয়া তো খেয়েই যাবো.. এখন বলো পাত্রী কে…?

রায়হান বললো,ওই কোনের ঘরে আটকে রাখছি,সময় করে দেখে নিয়েন…!

রায়হান মন্ডল চলে গেলো,জুবিয়া বেগম এগিয়ে আসলেন..!
আরেহ “মায়া” তুমি এতো দিন পর আইলা, আমাগো কথা এখন মনে পড়ছে….!
“মায়া” কাঁদো কাঁদো গলায় জুবিয়া বেগমের গলা জড়িয়ে ধরে বললো, ছোট আম্মু আমি তো আসতে চাইছি, কিন্তু কিছু ঘটনা মন থেকে মুছে না..! আমি আজকে তোমার কাছে একটা সত্যি কথা শুনতে চাই…!

জুবিয়া বেগম মায়া কে কাছ থেকে সরিয়ে দিলেন,একটু দূরে দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন..
বলো কি শুনতে চাও..!

ছোট আম্মু বলো, আমার আম্মু কীভাবে মারা গিয়েছেন,তার মৃত্যু এখনো আমার কাছে অনেক বড়ো রহস্য জনক ধাঁধা_আমি এখনো জানি না কী হয়েছিলো সেইদিন রাতে…? আমি তো প্রতিদিনের মতো সেইদিন ও আম্মুর সাথে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু সকালে দেখলাম আম্মু মারা গেছে,বলো ছোট আম্মু কী হয়েছিল সেইদিন…!

জুড়িয়া বেগম বললেন, আমি এইসব কিছু জানি না, আমি তো তখন ছিলাম না, আমি কিভাবে জানবো..?

ছোট আম্মু তুমি কিছু তো জানো,বলো না কী হয়েছিল?
জুবিয়া বেগম চাঁপা কন্ঠে বললো,হ্যাঁ আমি জানি_তোর আব্বার কাছে আমি শুনছিলাম…!

বলো কি হয়েছিলো…?
জুড়িয়া বেগম বলতে শুরু করলেন,তোর আম্মা যখন জানতে পারে তোর বাবার অবৈধ সব কারবারের ব্যাপারে.. তখন তিনি সবকিছুর বিরোধী হয়ে ওঠেন…?
বাঁধা দেন সব কাজে, তোর আব্বা কে বোঝাতে থাকেন, কিন্তু তিনি বুঝতে নারাজ_সেইদিন তুই ঘুমানোর পর, আবার ঝগড়া শুরু হয়,আর এক পর্যায়ে তোর আব্বা রাগের মাথায়,তোর আম্মাকে বালিশ চাপা দিয়ে মে*রে ফেলে…! পরে রটিয়ে দেওয়া হয় হার্ট অ্যাটাক করছে..

আমাকে একদিন ভয় দেখিয়ে তোর বাবা এইসব সত্যি কথা বলছে, আমি যদি তার পথে বাঁধা দেই, আমার অবস্থাও নাকি এমন হবে..! আমি সেইদিন থেকেই চুপ হয়ে যাই,আর কিছু বলি নাই…!

মায়া যখন জানতে পারলো,তার বাবাই তার মায়ের খু*নি_বড়ো একটা হোঁচট খেলো কিন্তু প্রকাশ করলো..!
আচ্ছা ছোট আম্মু এখন এইসব বাদ দেও, নতুন ভাবি কোন ঘরে আছে বলো,দেখা করবো…!

জুবিয়া বেগম মীমের ঘরটা দেখিয়ে দিলো..! তার আর কি করার আছে, তিনি নীরব দর্শক_কিছুই করার নেই.!

——–
বিকেল হয়ে গেছে,মীম ঘুমিয়ে ছিলো_স্বপ্নে দেখলো” নাহিদের সাথে জোছনা মাখা রাতে একসাথে বসে চাঁদ দেখছে, জীবনের কতো শত গল্প করছে..! কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো_আচমকা মনে পড়লো গতকাল রাতের কথা, ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে তার জীবনের আশার স্বপ্নের সূর্য চিরতরে ডুবে গেছে..! সারাজীবন দুঃখের নদীতে সাঁতার কেটে”যখন সুখের নদীর দেখা পেলাম, অনেক খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু আফসোস সুখের নদীটা শুকিয়ে গেছে…! মীম গুনগুন করে অনেক সময় কাঁদলো_হঠাৎ মনকে শক্ত করলো, আর কাঁদলে হবে না, আমার প্রিয়তমের অসম্পূর্ণ কাজ আমি সম্পন্ন করবো, আগাছা আবার জঙ্গল তৈরি করার আগে, সমর্পণ শিকর উগরে ফেলবো…!

হঠাৎ দরজায় টোকা পড়লো, ঘরের ভেতরে মায়া প্রবেশ করলো_হাতে খাবারের প্লেট…!

মায়া সুন্দর ভাবে মায়া ভরা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম কি_এইখানে আটকে রেখেছে ক্যান…!

আমার নাম মীম, এই ছোট্ট জীবনের গল্পটা অনেক বড়ো,তাই বাদ দেও…!

আচ্ছা বাদ দিলাম, এখন না হয় একটু খাবার খেয়ে নাও..?
খাবো না আমি সব কিছু নিয়ে যাও আমার চোখের থেকে, আমাকে একা থাকতে দাও…!

দেখো আপু আমি তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে সব বলতে পারো, আমি তোমাকে সাহায্য করবো..?
মীম যেন একটু ভরসা পেলো_বলতে শুরু করলো জীবনে ঘটে যাওয়া সকল কাহিনী, চোখের সামনে প্রিয় মানুষের মৃত্যুর কথা বলতে, তার চোখে শ্রাবণের বৃষ্টি নেমে এলো..!
মায়া শান্তনা দিবার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না,তার মনেও লুকানো অনেক ব্যাথা..! মায়াও বলতে শুরু করলো তার জীবনের গল্প…!
দুইজনের চোখ ছলছল করছে,কেউ কোন কথা বলতে পারছে না, নীরবতা ভেঙে মীম বললো_ উন্মাদ হয়ে গেছি আমি, ওদের রক্তে স্নান করা না পর্যন্ত আমার শান্তি মিলবে না…!
মায়া পিছনে এসে দাঁড়ায়,আপু আমিও তোমার সাথে আছি, আমার আম্মুর জীবনের মূল্য_ নিজের জীবন দিয়ে দিতে হবে আসিফ মন্ডলকে..!

দুইজনের দৃঢ় প্রত্যয় এইবার সমাজের আগছা আমরাই পরিষ্কার করবো…! এমন ভাবে পরিষ্কার করবো,যাতে ভবিষ্যতে আর এইগুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে…!

হঠাৎ রায়হান মন্ডলের গলার আওয়াজ শুনা যায়, দুইজন নিজেকে স্বাভাবিক করে নেয়…
রায়হান মন্ডল ঘরে আসে,মায়া বেড়িয়ে যায়…!

ওরে আমার ময়না পাখি, এখনো খাও নাই ক্যান তাড়াতাড়ি খাইয়া নেও.. আজকে আমাদের বিয়ে হবে বাসর হবে,আরো কতো কিছু হা হা হা হা…!
রায়হানের হাঁসি মীমের কানে বিষ ঢেলে দিচ্ছে..! মীম নিজেকে সামলে নিলো…!
রায়হান এগিয়ে আসছে মীমের দিকে,মীম পিছনে যেতে যেতে দেওয়ালে আটকে গেলো_রায়হান মীমকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো_ ঠোঁটের কাছে মুখ আনতেই,মীম রায়হানের মুখ চেপে ধরলো, আদুরে গলায় বললো, এখন না_এইসব বিয়ের পর..!

রায়হান একটু দূরে সরে গেলো, আচ্ছা তাহলে আজকেই বিয়া করি, তাহলে তো আর বাঁধা নাই…!
মীম বললো আমাকে দুইদিন সময় দিতে হবে, আমি দুইদিন পর বিয়ে করবো…!

রায়হান মেনে নিলো, আচ্ছা সময় দিলাম_এখন আমি ঘুমাতে গেলাম,ভাবো বেশি কইরা ভাবো…?শেষ মেষ তো আমারি হইবা,এতো ছটফট কইরা লাভ নাই…!
রায়হান বেরিয়ে যায় ঘর থেকে…!

মীম দাঁত কটমট করে বলে, বেশি করে ঘুমিয়ে নে..
আজকে থেকে তোর শান্তির ঘুম শেষ হবে…!

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here