অতিরিক্ত চাওয়া নাবিলা ইষ্ক পর্ব : ১

অতিরিক্ত চাওয়া

নাবিলা ইষ্ক

পর্ব : ১

তুমি আমার কি?
রিলেটিভস, বন্ধু, শত্রু, গার্লফ্রেন্ড, বউ?
নাহ তেমন কিছুই নও তুমি আমার।
তাহলে কে হও?
” তুমি শুধুই আমার এক ১৫ বয়সের স্টুডেন্ট আর আমি তোমার ২৮ বয়সের শিক্ষক ”
তাহলে তো তুমি আমার স্টুডেন্ট আর আমি তোমার শিক্ষক। শুনেছি শিক্ষকের মাঝেই বাবার প্রতিচ্ছবি থাকে। আমার মাঝেও আছে! প্রত্যেকটি স্টুডেন্টকে নিজের ছেলে_মেয়ের মতোই মনে করি। তাহলে তোমায় কেনো তা মনে করতে পারি না। কেনো পারি না? আমার কল্পনাতেও আমি তা ধারণ করতে পারি না!
কেনো?
কারন আমি যে তোমায় চাই! অতিরিক্ত চাই, আমার কাছে চাই, ঠিক আমার ডান পাশে চাই, আমার হাতে তোমার হাত চাই, আমার বুকের মাঝে তোমায় চাই।

লজ্জাজনক তাই না? জানি লজ্জাজনক! মানুষ জানলে থু থু দেবে আমার মুখে। কারন আমি এক নাবালিকা মেয়ে যে কিনা হয় আমার স্টুডেন্ট তাঁকে চাই। কি করার তাও যে তোমায় চাই! প্রতি সেকেন্ডে চাই! অনেক ভাবে চাই….!

মজনু যেমন চায় লাইলিকে, তেমনি আমি চাই তোমাকে..
ফারহাদ যেমন চায় শিরিনকে, তেমনি আমি চাই তোমাকে..
মানুষ যেমন চায় অক্সিজেনকে, তেমনি চাই তোমাকে…!
পৃথিবী যেমন চায় আকাশকে, তেমনি চাই তোমাকে…!
মাছ যেমন চায় পানিকে, তেমনি চাই তোমাকে..!
শব্দ যেমন চায় বাক্যকে, ঠিক তেমনি আমি চাই তোমাকে..!

হুম ঠিক শুনেছো তোমায় চাই.. অতিরিক্ত চাই, পগলের মতো চাই। যদি প্রশ্ন করো কতটা চাও? আমার জবাব হবে, ” তুমি যদি বলো আকাশের চাঁদটা এনে দাও, আমি সেই চাঁদ আনতে যাব ! জেনেও যে ওটা কখনোই আনতে পারবো না, ঠিক এতোটা চাই তোমায়।

” নেশা যেমন মাতাল করে মানুষকে, তেমনি তুমি মাতাল করেছো আমাকে.. ”
নেশা যেমন চড়ে বসে মস্তিষ্কে, তেমনি তুমি বসেছো আমার মস্তিষ্কে…! ”

ব্যহায়া আমি তাই না? হুম অনেক বেহায়া ! তোমার জন্য বেহায়া । জানি না, আমার এই বেহায়াপনা নিয়ে কতোদিন বেঁচে থাকতে পারবো ! যতদিন বেঁচে থাকবো, তুমি থাকবে আমার বুকের মাঝে।
যখন বুঝতে পেরেছিলাম তোমায় নিজের থেকে বেশি চাইতে শুরু করেছি, তখন ভেবেছিলাম তোমায় চাওয়ার থেকে মরে যাওয়াটা শ্রেয়! কিন্তু, পরিবার ছেড়ে কিভাবে মরতাম? আমি ছাড়া যে তাদের কেউ নেই!
জানি কখনো পাবো না তোমায়! কখনো ছুঁতে পারবো না তোমায়! তাও তোমায় একনজর দেখতে পাই তাই আমার বাঁচার প্রদিপ।
তৃষ্ণার বাঁচার প্রদিপ…!

ডাইরীর প্রথম পৃষ্ঠার পড়ে ফুপিয়ে কাঁদছে বেলি। চোখ মুছে দ্বিতীয় পেজে যাবে তখনি, কারোর পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলো। তড়িঘড়ি করে ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো। ডায়রিটা যেখান থেকে নিয়েছিলো সেখানেই ঢেকে রেখে দিলো। কানে আওয়াজ আসতেই সামনে তাকালো…
” ইয়েস স্যার?
” এখানে কি করছো? [ ধমকের শুরে ]
” কেউ আসে নি! তাই ভাবলাম একটা বই পড়ি!
” এতো তাড়াতাড়ি কেন এসেছো! কাল থেকে সবার সাথেই আসবে! যাও নিজের যায়গায়?

তাড়াতাড়ি সেখান থেকে এসে নিজের যায়গায় বসলো বেলি। যার ধমকে বেলি ভয় পেলো সে হলো বেলির বাসার এবং স্কুলের শিক্ষক তৃষ্ণা মানঞ্জিল। বেলি আনমনেই ভাবছে যে তৃষ্ণা স্যার কাউকে এতোটা ভালোবাসে। বাবাহ ভাবা যায়? তাও তার থেকে ১১ বছরের ছোট এক মেয়েকে! আবার কিনা সে তাঁর স্টুডেন্ট! যাইহোক, মেয়েটা ভাগ্যবতী যে স্যারের এতোটা ভালোবাসা পাচ্ছে। স্যারের জন্য খারাপ ও লাগছে! তার এই ভালোবাসা কেউ ভালো চোখে দেখবে বলে মনে হচ্ছে না! মানবে নাকি সন্দেহ,
” বেলি?
আওয়াজ পেয়ে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে বলল…” জি স্যার!
” কালকের পড়া গুলো রিভিশান দাও। সবাই আসলে একসাথে টেষ্ট দিয়ো!
” ওকে স্যার!
স্যার আর একমুহূর্তও দাড়ালো না! চলে গেলো? ভাবতে লাগলো বেলি..” এই তৃষ্ণা স্যারটা না আমায় একদম সজ্জ করতে পারে না। জানি না কেনো! আমি তো কখনো স্যারদের সাথে খারাপ বিহেভিয়ার বা দুষ্টামি করি না। তার জন্য স্যার_ম্যামও আমায় বেশ পছন্দ করেন। কিন্তু তৃষ্ণা স্যার আমায় একদম পছন্দ করেন না! কিন্তু আমার স্যারটাকে ভালোই লাগে! স্যার হিসেবে বললে হি ইজ আ ব্রিলিয়ান্ট টিচার। যেকোনো প্রশ্নের আন্সার আছে তাঁর কাছে। উনার কথার স্টাইল, চলার স্টাইল, বিহেভিয়ার, সব চোখ বাঁধানোর মতো। এবং সে নিজেও এক আইটেম। উপস কি যে বলি! মানে সে দেখতে যথেষ্ট সু-পুরুষ! লম্বায় ৬ ফুট তো হবেই। চেহরার গঠন গোল। চোখ দুটো’ অসম্ভব সুন্দর। সিল্কি চুল গুলো বেশ বড় রেখেছে। স্যারের বয়স কেউ ধরতে পারবে বলে মনে হয় না ! এবং, সবার সাথে ভালোভাবে মিষ্টি ভাবে কথা বলে! শুধু আমার সাথে রেগে কথা বলে। কখনো নরম সুরে বা হেসে কথা বলে না ! আই মিন ইট!
স্যাররা যথেষ্ট বড়লোক। ঢাকার বসুন্ধরায় তাঁদের নিজেদের বাড়ি আছে ৮ তালা। আরোও নাকি আছে, সেইটা অন্যান্য টিচারদের মুখ থেকে প্রায় শুনি ।
গাড়িও আছে, এখন কতগুলো তা জানা নেই । পারসোনালি একটা গাড়ি স্যার ইউস করেন ডার্ক কালারের। মাঝে_মধ্যে গাড়িটা নিয়ে বের হয়।
এতোটা বড়লোক হওয়ার পরও স্যারের সেই ব্যাপারে কোনো অহংকার নেই। সাদামাটা ভাবেই সে চলা_ফেরা করে। কিন্তু স্টাইল এর দিক থেকে নো নড়চড়। স্টাইল করা মে বি স্যারের রক্তে মিশে আছে। বাসায় ও কখনো অগছালো ভাবে দেখিনি স্যারকে।

ভাবতে ভাবতে নিজের জগতে চলে এসেছি। পাশে যে কয়েকটা মেয়েরা চলে এসেছে সেদিকে খেয়াল ই করি নি। কিছুক্ষণ পর স্যার এলো আমার দিকে তাকাতেই মুখটা ঘুড়িয়ে বাকি স্টুডেন্টসদের দিক মুচকি হেসে তাকালো। আমার না খুব কান্না পায় স্যারের এমন করা তে। অন্য স্টুডেন্টসদের মতো কি আমায় ট্রিট করা যায় না? এতোটা খারাপ আমি..?

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here