Tuesday, August 25, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প """"আমার প্রিয় তুমি আমার প্রিয় তুমি #মেহজাবিন তানিয়া পর্ব -৩৩

আমার প্রিয় তুমি #মেহজাবিন তানিয়া পর্ব -৩৩

0
3

#আমার প্রিয় তুমি
#মেহজাবিন তানিয়া
পর্ব -৩৩

৬৫.

জন্ম , মৃত্যু ও বিয়ে এই তিনটা জিনিস কারো হাতে নেই। আল্লাহ ছাড়া এই বিষয় কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না । মেঘকে এ পর্যন্ত অনেক মেয়ে দেখানো হয়েছে কিন্তু কোনোটাই মন মত হয় নাই । কারো মেয়ে পছন্দ হয় তো ফেমেলি পছন্দ না আবার কারো ফেমেলি পছন্দ হয় তো মেয়ে পছন্দ হয় না । এই চলছে আজ প্রায় এক মাস যাবত। এদিকে আবার মেঘের ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে আসছে কি করবে । মেঘ তো বলেই দিলো সে বিয়ে করবে না । এ নিয়ে তার চিন্তার শেষ নেই । ছেলের বয়স তো কম হলো না তারমধ্যে সে একা কি করে থাকবে মেয়েটা চলে গেছে শশুর বাড়ি সব সময় চাইলেই কি আর নিজের কাছে রাখা যাবে না । তার যে পুরো ঘরই খালি হয়ে যাবে ছেলে চলে গেলে তাই তিনি যেকোনো মূল্যে ছেলের বিয়ে দিতে চান।

একদিন বিকেলে তানভির বাবা ও মা হঠাৎই মেঘদের বাসায় হাজির । মেঘের মা একটু অবাকই হয়েছে পরে ভেবেছে বাড়ি যেহেতু কাছে আসতেই পারে দেখা করতে । তাই তিনি তাদের সমাদর করায় ব্যস্ত হয়ে পরে।

আপা মেঘকে দেখছি না ও কোথায় ?

এই তো একটু বাহিরে গেলো এসে পরবে আমার ঔষধ আনতে গেছে ।

আপা মেঘে বিয়ে নিয়ে কি ভাবলেন ?

আপা কোনো দিকই ঠিক হইতেছে না কি করবো বুঝতে পারতেছি না তারমধ্যে ওর যাওয়ার সময় হয়ে আসছে।
ও চলে গেলে আমার ঘরটা যে একেবারে শূন্য হয়ে যাবে । একটা বউ আসলে নাতি -পুতি আসলে ঘর সম্পূর্ণ হবে আমার কিন্তু মন মতো তো আর পাইতেছি না ।

আপা যদি কিছু মনে না করেন একটা আবদার নিয়ে আসছি আপনার কাছে । আজ সকালে ফোনে বাবার সাথেও কথা হয়েছে এই ব্যপারে , সেও না করেনি তানভির বাবার কথায় ।

কি কথা আপা না বললে বুঝবো কি করে , তাহু কি কিছু করছে আপা ।

আরে না তাহুর কথা বলতেছি না আমার ছেলের বউ মাশাআল্লাহ লাখে একটা । আমি মেঘের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসছি ।

ওমা এই কথা তার জন্ম কি অনুমতি লাগে । তা মেয়ে কে ,কি করে , আপনাদের পরিচিত নাকি ভাই ।

বেয়ান আপনি চিনেন মেয়েকে ।

কি বলেন চিনি কে সে । আমার চোখে পরলো না । আগে জানলে তো অন্য জায়গায় মেয়েই দেখতাম না মজার ছলে কথাটা বললো মেঘের মা।

তানভির মা কাছে এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে বললো ‘আপা আমাদের রিমিকে কেমন লাগে আপনার ছেলে বউ হিসেবে ।

মেঘের মা হা করে তাকিয়ে আছে তার বিশ্বাসই হচ্ছে না , এই মূহুর্তে কি বলা উচিত সেটা ঠিক করতে পারতেছে না ।

কি আপা বলেন আমার মেয়েকে কি পছন্দ হয় না ও কি মেঘের জন্য যোগ্য না ।

আরে না না রিমি অনেক ভালো একটা মেয়ে এমন মেয়ে যে ঘরে বউ হয়ে যাবে তার তো ভাগ্যই খুলে যাবে কিন্তু আমাদের এই গরিবের ঘরে ও কি থাকতে পারবে ও কি রাজি হবে ।

আপা আমি আমার মেয়েকে সেই শিক্ষা দেইনি আর আপনার ভাই সবার সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা বলছে তানভি , বউমা এমনকি রিমি না করেনি । আমরা যেখানে রাজি রিমিও সেখানে রাজি ।

আমার সুভাগ্য যদি রিমি আমার ঘরে বউ হয়ে আসে। আমি মেঘের সাথে আজই কথা বলবো ।

আলহামদুলিল্লাহ শুনে খুশি হলাম মেঘকে আমাদের খুব পছন্দ আর আমারা রিমির জন্য আশেপাশে ছেলে খুঁজছিলাম । মেঘ যেহেতু ঘরের ছেলে বাহিরে কেন যাবো।

তারা আরো কিছুক্ষণ কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো । মেঘের মা থাকার জন্য অনেক জোরাজুরি করে কিন্তু অন্য এক সময় থাকবো চলে যায়।

:
:

মেঘের রুমে বসে আছে মা-ছেলে । একটু আগে ছেলের কাছে সব খুলে বলছে রিমির ব্যপারে । মেঘ শুনে চুপ করে কিছু চিন্তা করছে ।

মা ওদের সাথে আমাদের যায় না তার উপর তাহুর ননদ আমার ঘরে যদি কখনো মনমালিন্য হয় দেখা যাবে সেটার প্রভার বোনের সংসারে পরতে পারে।

সেটা ঠিকই বলেছিস কিন্তু তারা নিজে এসে বলেছে আমার মনে হয় না তেমন কিছু হবে আর রিমিকে আমার খুব পছন্দ তাই একটু ভেবে দেখ না বাবা । কি করে না করবো তাদের ।

কার মনে কি আছে সেটা তো আর জানি না বোনের ননদ না হলে অন্য কথা ছিলো । আচ্ছা আমাকে একটু সময় দেও ।

৬৬.

সন্ধ্যার পরই তানভির আজ বাসায় চলে আসছে । ঘরে ঢুকেই বাসার তিন নারীর হাসাহাসি শব্দ শুনতে পায়।

আরে কি নিয়ে এতো হাসাহাসি হচ্ছে আমিও একটু শুনি ।

তুই আজ এই সময় ?

হুম কাজ ছিলো না হাতে তাই বাসায় চলে আসলাম । তাহু পানি আনো তো।

তাহু পানি আনতে গেলে পিছে পিছে তানভিও চলে আসে ডাইনিং রুমে । এসে বউ তার লেবুর শরবত তৈরি করছে ।

পেছন থেকে জরিয়ে ধরে ঘারে মুখে ডুবিয়ে দেয় ফিসফিসিয়ে বলে কি এতো হাসছিলে ।

প্রথমে ভয় পেলেও পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে কি করছেন কেউ এসে পরবে তো ।

আসুক আমি কি অন্য কাউকে ধরছি নাকি কালেমা পড়া ব্যক্তিগত মানুষকে ধরছি ।

শরবত হাতে দিয়ে বলে এটা ধরেন ।

হাতে শরবত নিয়ে ওকে যাও দিলাম ছেরে কিন্তু রুমে আসো মজা দেখাবো আমার কাজে বাধা।

হুহ দেখা যাবে বলে চলে গেলো তাহু।

:
:
রাতের ডিনারে পর তাহু রুমে বসে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলছে । মূলত রিমিকে বিয়ে করা নিয়ে মেঘ কি কি বলেছে সেগুলো বলছে মেয়ের কাছে।

সব শুনে তাহু এমন কিছুই হবে ভাইয়া শুধু শুধু চিন্তা করছে। ওনারা খুব ভালো মানুষ না হলে আমাকে কখনো মেনে নিতো না । আর রিমি আপু তো অনেক ভালো একটা মেয়ে । আপুকে বিয়ে করলে ভাইয়া কখনো অসুখী হবে না ।

সে কথা তো আমি বলছি ওকে।

আচ্ছা তুমি চিন্তা করো না আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলবো ।

আচ্ছা মা ভালো মনে করিস রাখি তাহলে।

ফোন রেখে জিম মেরে বসে আছে তাহু রুমে যে তানভির এসেছে সে খেয়াল করেনি ।

কি বেপার আমার বউ ছোট্ট একটা মন নিয়ে এতো কি ভাবে তাহুর কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলে।

তাহুও পরম আদরে জড়িয়ে ধরে স্বামীকে ।
একটা কথা বলি তবে আমার কথা আগে সম্পূর্ণ শুনবেন তারপর উওর দিবেন ।

হুম তা বালার বলে ফেলে তাড়াতাড়ি পরে বেশি সময় দিবো না ।

এমন করে ধরে রাখলে বলবো কি করে ।

আমাকে তখন জড়িয়ে ধরতে বাঁধা দিয়েছ এখন এমন করেই বলতে হবে এটা তোমার শাস্তি না হলে বলার দরকার নেই ।

তাহু বাধ্য হয়ে এ অবস্থায় বলতে শুরু করলো । তার ভাই কি কি বলছে রিমি আপুকে বিয়ে করা নিয়ে ।

তাহু ভাইয়ার চিন্তার কারন ঠিক আছে , যেহেতু বোন বিয়ে দিছে চিন্তা হবারই কথা । ভেবো না আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলবো এখন আমার কাজ করতে দেও বলেই তাহুর উপর চড়াও হলো ভালোবাসার পূর্ণতায়।

চলবে…………..

❎কপি করা নিষেধ ❎

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here