মনের_অন্দরমহলে পর্ব ২৮

মনের_অন্দরমহলে পর্ব ২৮
#আনিশা_সাবিহা

বেশ কিছুক্ষণ ধরে হসপিটালের করিডরে পায়চারি করছে আয়াশ। মাঝেমধ্যে কপাল থেকে বেয়ে পড়া ঘাম একটা আঙ্গুল দিয়ে মুছছে সে। তার মনটা ছটফট করছে আনিশার সঙ্গে কি হচ্ছে তা জানার জন্য। ওকে আই ম্যাচ এর জন্য ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভেতর থেকে আওয়াজও আসছে না। বিরক্ত হয়ে এক স্থানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সে। অনেকক্ষণ হয়েছে। ইচ্ছে করছে দরজাটা ভেঙে দিতে। কিন্তু এখন ধৈর্য রাখা উত্তম। সে শুনেছে ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয়। তাই কতটুকু মিষ্টি হয় সেটা দেখতে চায় আয়াশ।

আরো প্রায় পনেরো মিনিট পর ডক্টর বেরিয়ে আসে। সেটা খেয়ালে আসতেই হন্তদন্ত হয়ে ডক্টরের কাছে ছুটে আসে আয়াশ।
–“ডক্টর? রেজাল্ট কি?”

ডক্টর চুপ করে থাকলেন। উত্তর দিতেও খানিকটা সময় লাগে। সেটাই যেন হতে দিলো না আয়াশ। ডক্টর কিছু বলার আগেই আয়াশ আবারও উদ্বিগ্নতার সঙ্গে প্রশ্ন করল,
–“ডক্টর আই ম্যাচ করেছে তো? বলুন?”

–“ইয়েস মি. রায়হান। আপনারা লাকি! আই ম্যাচ হয়ে গেছে। খুব দ্রুত পেমেন্ট করে দিলে আমরা অপারেশন এর যোগার শুরু করে দিতে পারি।”

ডক্টরের কথায় স্থির হয় আয়াশ। মনে কাজ করছে এক চাপা আনন্দ। সে তার প্রেয়সীর চোখ রাঙানি দেখার জন্য ব্যকুল হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রেও তাকে স্বার্থপর বলা যায়। সে শুধু স্ত্রী-এর চোখে মুগ্ধ হতে চায় বলে অপারেশন করাচ্ছে? এই ভেবে মুচকি হাসে সে। ডক্টরকে চাপা সুরে বলে,
–“আজ এক্ষুনি অপারেশন শুরু করুন। যত টাকা লাগে আমি দেব। আমি আনিশাকে স্বাভাবিক দেখতে চাই।”

ডক্টর মাথা নাড়ায়। আয়াশ পেমেন্ট করার জন্য দ্রুত বাইরে যায়। আগে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হবে। সে চায় আবারও এই সুন্দর দুনিয়া তার নিশাপাখি দেখুক। যেতে যেতে সে বিড়বিড় করে বলে,
–“তুমি খুব দ্রুত এই সুন্দর দুনিয়ার রঙ আবারও দেখতে চলেছো নিশাপাখি। এবার এই দুনিয়ার রঙ গুলো আরো সুন্দর করে তোমার সামনে উপস্থিত করতে চাই।”

–“ব্রেকিং নিউজ! এই মূহুর্তের সবচেয়ে বড় খবর, ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট সাহাদ রায়হানের স্ত্রী মালিহা রায়হান যে কিনা এডভোকেট আয়াশ রায়হানের মা উনাকে একটি অভিযোগের দায়ে এরেস্ট করা হয়েছে। আর আপনারা জানলে অবাক হবেন যে অভিযোগটি তার ছেলে মানে আয়াশ রায়হান নিজে করেছেন। কিন্তু কি এমন অভিযোগ উঠল? যার কারণে ছেলে মায়ের বিরুদ্ধে এতো বড় স্টেপ নিলো?”

একজন রিপোর্টার ক্যামেরার সামনে গড়গড় করে কথাগুলো বলল। মালিহা রায়হান গ্রেফতার বিষয়টাতে হইচই পড়ে গিয়েছে। প্রেস-মিডিয়া সকলে ভীড় করেছে পুলিশ স্টেশনে। ঠিক সেই মূহুর্তে একটি দামি গাড়ি এসে সেখানে থামে। সকলের নজর যায় সেদিকে। গাড়ি থেকে তাড়াহুড়ো করে নামেন সাহাদ সাহেব। উনি ছেলে আর মা দুজনের কান্ডে একেবারে বিভ্রান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছে। উনার সামনে দিয়েই মিসেস. মালিহাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উনি কিছুই করতে পারেননি। জামিন করাতে এসেছেন সাহাদ সাহেব। মিডিয়ার লোকজন দেখে হকচকিয়ে গেলেন উনি। লোকজন তার দিকেই ছুটে আসছে প্রশ্ন করার জন্য।

সঙ্গে সঙ্গে সাহাদ সাহেবকে ঘিরে ধরে মিডিয়ার লোকজন। নানানরকম প্রশ্ন করতে থাকে।
–“মি. সাহাদ রায়হান! আপনি কি জানেন যে আপনার ছেলে কোন কারণে মালিহা রায়হানের ওপর অভিযোগ দায়ের করেছেন? কি করেছেন আপনার স্ত্রী? আর খবর পেয়েছি আপনার স্ত্রী ছাড়াও আরেকজন ড্রাইভারকে এরেস্ট করা হয়েছে? এসবের কারণ কি যদি আমাদের বিস্তারিত বলতেন?”

–“দেখুন আমার তাড়া আছে। আপনাদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে আমি বাধ্য নই। সরুন সামনে থেকে।”

ভীড় ঠেলেঠুলে পুলিশ স্টেশনে কোনোমতে ঢুকে পড়েন সাহাদ সাহেব। রিপোর্টার দের আঁটকে দেওয়া হয়। দারোগা পুলিশেরা আঁটকে দেয় তাদের।

পুলিশ কাস্টারির ভেতরে থাকা একটা বেঞ্চিতে মাথা নিচু করে বসে আছেন মিসেস. মালিহা। তার মাথার ওপরে টিমটিমে একটা লাইট জ্বলছে। তিনি রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। ফোঁস ফোঁস করে সাপের মতো শ্বাস ছাড়ছেন।

–“কিরে? কি এমন করছিলি যে এই জায়গায় আসতে হলো? দেখে তো বড়লোকের বউ মনে হয়।”

মিসেস. মালিহা কারো তুচ্ছ করা কথায় মাথা তুলে তাকায়। তার থেকে কিছুটা দূরে বেশ কয়েকটা মহিলা বসা। তাদের মধ্যেই একজন কথাটা বলেছে। উনি রাগে কটমট করে বলেন,
–“ভদ্র ভাষায় কথা বলবেন। আপনি জানেন না আমি কে! মালিহা রায়হান আমি।”

–“নাম-ঢাম জেনে আমাদের কাজ নেই। জেলের ভেতরে সবাই সমান।”
দাঁত কেলিয়ে বললেন মহিলাটি। সকলে শব্দ করে হেঁসে ওঠায় রাগ বেড়ে গেল মিসেস. মালিহার। আঙ্গুল উঁচিয়ে কিছু বলে ওঠার আগেই একজন মহিলা পুলিশ এসে তালা খুলতে খুলতে বললেন,

–“মিসেস. রায়হান বেরিয়ে আসুন। আপনার জামিন হয়েছে। আপনার হাজবেন্ড এসেছেন।”
মিসেস. মালিহা তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসেন। একবার মহিলাদের দিকে চোখ রাঙিয়ে বিড়বিড় করে বলেন,

–“ডিজগাস্টিং পিপলস। আয়াশ আমার সাথে ঠিক করেনি। ওকে ভালো থাকতে দেব না। নিজের মায়ের মতোই ইরিটেট করে আমায় আমার কাজে। আমার কাজে বাঁধা দেওয়ার ফল কি হয় সে জানেনা! তবে শীঘ্রই জানবে।”
রক্তচক্ষু নিয়ে হাঁটা দেন মিসেস. মালিহা।

পাঁচ দিন পর,
আজকে আমার চোখের ওপর থেকে ব্যান্ডেজ সরানো হবে। বুকটা ভয়ে ধড়ফড় করছে আমার। কি হবে সেটা নিয়ে প্রচন্ড উত্তেজিত আমি। আমার পাশে বসে থাকা আয়াশকে চিন্তিত গলায় বললাম,
–“পা…পানি। আরেক গ্লাস পানি দেবেন প্লিজ?”

–“এই নিয়ে পাঁচ বার পানি খেয়ে যাচ্ছো নিশাপাখি। এতো টেনসড হচ্ছো কেন? কিচ্ছু হবে না।”

বলেই আমার হাতে পানি ধরিয়ে দিলেন আয়াশ। আমি পানি এক নিশ্বাসে খেয়ে নিয়ে বড় শ্বাস নিয়ে বললাম,
–“আপনি বুঝবেন না। আমি প্রায় আড়াই বছর পর নিজের চোখে দেখতে চলেছি পৃথিবীর আলো আর আপনা….”

বলেই থেমে গেলাম আমি। লুকিয়ে গেলাম মুখ ফসকে বলে ফেলা কথাটা। তবুও আয়াশ আমার অর্ধ বলা কথাগুলো সম্পূর্ণটা যেন আমার আগেই জেনে বসে থাকেন। উনি আমার মুখের কথা কেঁড়ে নিয়ে বললেন,
–“আর আমাকে আই মিন তোমার সুর্দশন যেই মি. হাজবেন্ড আছে তাকে কখন দেখতে পাবে সেটা নিয়েই ব্যকুল হয়ে যাচ্ছো তাই না নিশাপাখি?”

আমি বেলুনের ন্যায় চুপসে গেলাম। তবুও হার মানলাম না। উনার কাঁধে আলতো ধাক্কা মেরে বললাম,
–“মোটেও না। আপনাকে কেন দেখতে যাব আমি? আপনি কি আহামরি সুন্দর?”

–“আমি খুব সুন্দর। কারণ কি জানো? আমার কাছে আমার প্রেয়সী রয়েছে। আর নিজের প্রেয়সী কাছে থাকলে নিজেকে সবথেকে সুন্দর মনে হয়। তবে আমি আমার মায়াবিনীর থেকে সুন্দর নই। আমার মায়াবিনীর কাছে আমার সৌন্দর্য ফিকে পড়ে যাবে।”

মনের মধ্যে যেন একটা ঢেউ খেলে গেল। এতোটা সুন্দর করে কথা বলে কি আমায় পাগল করে দেওয়ার কোনো দরকার আছে? লোকটা নিজেও পাগল আর আমাকেও পাগল বানাতে চান নিজের ভালোবাসায়। দরজা খোলার শব্দ একটু নড়চড়ে বসলাম আমি। ডক্টরের কন্ঠ কানে এলো।

–“মিসেস. রায়হান আপনার চোখের ব্যান্ডেজ খোলার সময় হয়ে গেছে।”

আমি নার্ভাস হয়ে পড়লাম। চেপে ধরলাম শক্ত করে আয়াশের হাত। উনি আমার মাথার চুল নিজের নিবিড়ভাবে বুলিয়ে দিয়ে কোমল সুরে বললেন,
–“আই এম উইথ ইউ। তোমার পাশে আছি আমি। ভয় পাবার কোনো দরকার নেই।”

–“আপনি প্লিজ এখান থেকে যাবেন না। আমার সামনে এসে বসুন।”

আমার মন থেকে অদ্ভুত আবদার মুখ ফুটে বলেই ফেললাম। আয়াশ হয়ত আমার সামনে গেলেন। আর বললেন,
–“আমি বেডের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ডক্টর তোমার ব্যান্ডেজ খুলে দেবে তাই উনাকে সামনে থাকতে হবে।”

আমি মাথা নাড়ালাম। আস্তে-ধীরে আমার ব্যান্ডেজ খোলা শুরু করলেন ডক্টর। একটু একটু করে খুলে যাচ্ছে চোখের বাঁধন। ডক্টর আমাকে বললেন,
–“ব্যান্ডেজ খোলার সাথে সাথে একেবারে চোখ খুলবেন না। চোখে এতোদিন পর আলো লেগে সমস্যা হতে পারে। ধীরে ধীরে চোখ মেলবেন।”

আমি শুধু বাদ্ধ মেয়ের মতো কথাগুলো শুনলাম। ব্যান্ডেজ খোলা শেষ হলো। একটু একটু করে চোখ মেলতেই চোখে আলোর ঝলকানি পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে খিঁচে চোখ বন্ধ করে নিলাম। আয়াশ তৎক্ষনাৎ অস্থির হয়ে নার্সকে বললেন,
–“জানালা বন্ধ করে দিন নার্স।”

হয়ত জানালা বন্ধ করে দিয়েছে নার্স। ডক্টর আবার বললেন চোখ খুলতে। হালকা চোখ মেলতেই সামনে অস্পষ্ট দেখা গেল কারো প্রতিচ্ছবি। আস্তে আস্তে চোখ মেলতেই গাঢ় হলো সামনের প্রতিচ্ছবি। বুঝতে পারলাম এটা তো আয়না। আমার সামনে আয়না ধরে রেখেছেন নার্স। এতে প্রচন্ড বিরক্তবোধ করলাম আমি। ভ্রুকুটি কুঁচকে গেল আমার। আমি সর্বপ্রথম আয়াশকে দেখব বলে বাসনা করেছিলাম। নিজেকে নয়। আমি ঘাড় কাঁত করে আয়না পেরিয়ে পেছনে থাকা একটা সুর্দশন পুরুষকে দেখতে পেলাম। চোখজোড়া স্থির হয়ে গেল সেখানেই। এই কি সেই পুরুষ যাকে আমি এতোদিন ধরে নিজের কল্পনায় এঁকে চলেছি? হ্যাঁ ইনি তো সেই! যে আমার কল্পনার চেয়েও অত্যাধিক সুদর্শন। যার কোনো মাত্রা নেই।

ভেতরে সাদা শার্ট আর তার ওপরে এ্যাশ রঙের লম্বা কোট, হাতে একটা সোনালী চেইনের ঘড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আয়াশ। আমার কল্পনার পুরুষ। যাকে দেখে আমার প্রাণে প্রশান্তি জাগছে। উনার মুখে ফুটে আছে একটা হাসি। ইশশ… কি স্নিগ্ধতায় ভরা সেই হাসি! খাঁড়া নাকের ডগায় একটা ছোট্ট কালো তিল বলে দিচ্ছে যেন, ‘আমিও এখানে আছি। আমার দিকেও তাকিও।’

গালে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। হাসিতে দুই গালে বসে গিয়েছে টোল। চুলগুলো জেল দিয়ে একপাশে সুন্দরমতো সেট করে রাখলেও তাড়াহুড়োতে যেন তা সম্ভব হয়নি। কপালে নেমে এসে সুন্দরভাবে পড়ে আছে। প্রশস্ত উনার দেহ। বুকে হাত জড়িয়ে রয়েছেন সুন্দর করে। অতিরিক্ত ফর্সা হওয়ার কারণে উনার ঠোঁটের নিচে থাকা একটা ছোট্ট তিলও আমার চোখে দৃশ্যমান। একজন পারফেক্ট হ্যান্ডসামকে দেখছি আমি। মানতেই কেমন জানি লাগছে এই পারফেক্ট হ্যান্ডসাম আমার স্বামী!

ধীর পায়ে এগিয়ে এসে আমার সামনে বসলেন আয়াশ। তবুও আমার ভাবান্তর হলো না। আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি আর ভাবছি লোকটা এতো নিখুঁত কেন? কোনো খুঁত দেখতে পাচ্ছি না কেন? আর মনে যে হাতুড়ি পিটিয়ে প্রেমের আহ্বান করে যাচ্ছে আর জানিয়ে দিচ্ছে, ‘আনিশা! তোর মনে সর্বনাশা এক অনুভূতির জন্ম হয়েছে। এই অনুভূতি গ্রাস করবে তোকে। কিন্তু কষ্ট হবে না তোর বরণ সুখানুভূতি হবে। এই সুখ আর কোথাও নেই।’

–“কি হলো? নিজের চেহারা দেখবে না? দেখবে না আমার ওয়াইফের সৌন্দর্য? তুমি তার সৌন্দর্য ইগনর করে মোটেও ঠিক কর নি নিশাপাখি।”

বলেই আমার সামনে আয়না ধরতেই ধ্যান ভাঙল আমার। উনি এবার আয়নাটা ধরে আছেন। আয়নায় নিজের চেহারা দেখলাম। সবটা আগের মতোই রয়েছে তবে শুধু আগে একটু ছোট চেহারা ছিল এখন একটু বড় বড় লাগছে। এই পার্থক্য! এক পলক নিজের দিকে তাকিয়েই বাঁকা চোখে আবারও আয়াশের দিকে তাকালাম। এবার মনে হচ্ছে, কিছুক্ষণ আগে বলেছিলাম উনি আহামরি কি সুন্দর? সেটা বল বড্ড ভুল হয়ে গিয়েছে!

আয়াশ আয়না সরিয়ে রাখলেন। আমার সামনে থুঁতনিতে হাত রেখে বসলেন। মুচকি হেঁসে বললেন,
–“আমি বলেছিলাম আমি অত্যাধিক সুন্দর আমার প্রেয়সীর কারণে।”

আমি হাত বাড়িয়ে হঠাৎ উনার চুল ধরে খিলখিল হেঁসে উঠলাম। এ যেন অন্যরকম অনুভূতি!

–“আনিশা?”
আচমকা মায়ের কন্ঠে বিস্মিত চোখে তাকালাম আমি। দরজার কাছে মা সহ বাবা আর ভাই দাঁড়িয়ে। খুশির জোয়ার বয়ে গেল আমার মনে!

চলবে…

[বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here