সবটা অন্যরকম♥ পর্ব_১৯

সবটা অন্যরকম♥
পর্ব_১৯
Writer-Afnan Lara
.
দিবার খুব রাগ হলো
রেগেমেগে সে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে,আহনাফ বের হলো না,, তার ও মাথায় প্রচণ্ডরকম ভাবে রাগ উঠেছে তাই বিছানায় বসে পড়লো আপাতত
দিবা সোজা মণিতার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে,,ছেলের মা দিবার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন”ও কে?? আগে দেখলাম না তো”
.
খালামণি দিবার কাঁধে হাত রেখে বললেন”ও আমার ছোট বোনের মেয়ে,দিবা”
.
ভারী মিষ্টি,,আমার জন্টুর আরেকটা ভাই থাকলে আপনাদের পরিবারের এরেও নিয়ে যাইতাম বউ করে,মণির মতন ওর ও মুখের গঠন মাশাল্লাহ
.
আদনান দিবার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,এদিকে আন্টি কি বলছে দিবার সেদিকে একটুও খবর নাই
সে তো মনে মনে রাগে ফেটে যাচ্ছে,অবশ্য এরকম তারিফ সে এ প্রথম শুনে নাই
মণির শাশুড়ি ভালো বলে জাস্ট এটুকু বললেন,,ইতিকে তো যারা দেখতে আসত তারা মুখের উপর বলে দিতো ইতিকে নয় আমাদের দিবাকে পছন্দ হয়েছে
দিবা মনে মনে খুশি হলো এই ভেবে যে মণিতা একটা ভালো পরিবারে বউ হয়ে যাচ্ছে,মণিতা ও কম সুন্দর না,আর আমি তো সুন্দরই না,ফকফকা ফর্সা ও না তাও মানুষ কেন যে আমায় পছন্দ করে
.
খালামণি ফিসফিস করে বললেন ভেতর থেকে আরও দু গ্লাস শরবত গুলে আনতে,এখানে কম পড়ে গেছে
দিবা তাই সেদিকে গেলো
আদনান আর আনাফ মিলে মণি আর জন্টুর সামনে থেকে ট্রে গুলো নিয়ে রান্নাঘরে এসে রাখলো,জায়গা খালি করা প্রয়োজন বলে
দিবা শরবত বানাতে বানাতে চিনি দু চামচ দিয়ে ভাবলো আর লাগবে কিনা,একেক মানুষ একেক রকম চিনি খায়
আদনান ট্রেটা রেখে দিবার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বললো”চিনি বেশি কিংবা কম খাক,শরবতে নিয়ম অনুয়ায়ী চিনি বেশি দিতে হয় যদি সেটা ট্যাং হয়ে থাকে”
.
দিবা মাথা নাড়িয়ে চিনি আরেক চামচ দিয়ে গুলতে গুলতে বললো”ধন্যবাদ”
.
সবাই তোমার এত প্রশংসা করলো,তুমি দেখি ব্লাশ ও করলে না,,ভালো লাগে না প্রশংসা?
.
দিবা ট্রে হাতে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো”ঐ প্রশংসা শুনতে শুনতেই আজ আমি আমার পরিবার ছেড়ে আরেকজনের বাসায় থাকছি,আমি চাই আমার চেহারায় আগুন ধরুক যেন আর কেউ না তাকায়,যদি তাহলে নিজের পরিবারকে অন্তত আবার ফিরে পাই”
.
আদনান পিছু পিছু এসে বললো”এখনও কি কম আগুন জ্বলছে?”
.
দিবা থেমে গেলো,,কি যেন ভেবে মণিতার রুমের দিকে তাকালো সে,,সেখানে বসে আহনাফ গাল ফুলিয়ে এদিকেই তাকিয়ে আছে,টিয়া রঙের পর্দাটা পাতলা বলে বোঝা যাচ্ছে সব
দিবা এক গ্লাস শরবত বেশি বানিয়েছিলো,,সোজা সেদিকে গেলো সে,,পর্দা সরিয়ে একটা গ্লাস বাড়িয়ে ধরলো আহনাফের দিকে,আহনাফ রাগ করে থেকেও পারলো না,গ্লাসটা নিলো শেষে কারণ সে দেখলো দিবা ওড়না পেঁচিয়ে পরেছে
দিবা আবার ফেরত যাওয়ার সময় বললো”আগুনে পানি ঢালেন,,এখন থেকে নাহয় বাসাতে বোরকা পরেই ঘুরবো”
.
.
আহনাফের রাগ একটু কমলেও দিবার কথায় তা আরও বেড়ে গেছে,উঠে দাঁড়িয়ে দিবার সামনে এসে ওর পথ আটকালো সে
রাগ কন্ট্রোল হচ্ছে না কিছুতেই,,দিবার হাতে শরবতের ট্রে বলে সে কিছু করার অবস্থায় নাই
আহনাফ ওর গায়ের থেকে ওড়নাটা টান দিয়ে নিয়ে আবারও ছুঁড়ে মারলো ওর গায়ে তারপর বললো”তোমার যেমনে ইচ্ছে তেমনে থাকো,আই ডোন্ট কেয়ার!আমার তোমাকে পর্দা করতে বলা ঠিক হয়নি,যে নিজেই পর্দা করতে চায় না তাকে বলে কয়ে আর কি লাভ,বাট আমাকে খোঁচা দিবা না তুমি,আমার সামনেই আসবা না,আমি যেগুলো পছন্দ করি না ওগুলো যেহেতু তুমি করবা তো ফাইন,আমার চোখের সামনে আসবে না,এবার তুমি ওড়না ছাড়া হাঁটো কিংবা বোরকা পরে থাকো সেটা আমার দেখার বিষয় না”
.
খুলছেন যখন আবার পরাই দেন,আমার হাতে ট্রে,আপনার মতন এরকম খোলাখুলির মুড আর সময় দুটোই আমার নাই
.
আহনাফের রাগ হচ্ছে অনেক এত রাগ সে কি করে হজম করবে তা ভাবতে ভাবতে দিবার হাত থেকে ট্রেটাই নিয়ে নিলো সে
দিবা কপাল কুঁচকে ওড়না ঠিক করে ট্রেটা নিয়ে চলে গেলো
.
নিজের গ্লাসটা ফেলতে গিয়েও পারলো না আহনাফ ,চুপচাপ খেয়ে নিলো শরবতটা,ঠাণ্ডা পানিতে বানানো শরবত মিস করে না সে যতই রাগ থাকুক
মোট কথা খাবারের সাথে রাগ করে না সে
.
দিবা ট্রেটা রেখে আবার খালামণির কাছে এসে দাঁড়ালো,,আহনাফ শরবত খেয়ে মাথা ঠাণ্ডা করে বেরিয়ে এসেছে
দিবার দিকে চেয়ে রাগী একটা লুক দিয়ে আদনানের পাশে দঁড়ালো সে
দিবা ভুলেও তাকাবে না ঠিক করে রেখেছে মনে মনে
আহনাফ আদনানের সাথে কথার ছলে বারবার দিবার দিকে তাাকচ্ছে,দিবা আগের মতন করে ওড়না পরেছে দেখে ওর মনে হচ্ছে গায়ে ফসকা পড়ছে এক এক করে
চেয়েও কিছু করতে পারছে না সে,তারপর ভাবলো তার কি তাতে,,পাত্তা কেন দিই আমি ওরে,আহনাফ জাস্ট ইগনর হার!!!বুঝলি তুই??
.
কিরে তোর কি হলো?মাথা ধরে বারবার ওদিকে ফিরাচ্ছিস কেন?আর বিড়বিড় করে কি বলছিস?
তোর মাথা কি তোর কথা শুনছে না?হাহা!!
.
ধুর মজা করিস না,,আংটি বদল কখন হবে?
.
এই তো এখন,ওরা খালি কথাই বলে যাচ্ছে,এদিকে সাড়ে দশটা বেজে গেছে
.
আংটি বদল আরও দশ মিনিট পরে হয়েছে,,অনেক করে বলার পরেও তারা ডিনারের জন্য থাকলেন না,বললেন জলদি করে বিয়ের তারিখ ঠিক করতে,চলে গেলেন এই বলে
মণিতা আংটির দিকে তাকিয়ে বসে আছে আর মিটমিট করে হাসছে
দিবা মণিতার পাশে বসে মিনির দিকে খেয়াল রাখছে
মিনি আরাফ আর আহনাফকে দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাচ্ছে,মানুষের হট্টগোল আগে থেকেই এর ভেতর সে ঝামেলা চায়না বলেই এখন ভদ্র বিড়ালের মতন ফুলের টবটার কাছে বসে জিরোচ্ছে
আহনাফ আদনানের সাথে কথা বলছে বিয়ের এরেঞ্জমেন্ট নিয়ে,ওদিকে খালামণি,ফুফু,,ফুফা,,খালু,দিদুনরা ভেতরের রুমে বসে কি সব আলাপ করছেন
দিবার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে,সেই যে বিকাল বেলায় চা বিসকুট খেয়ে ছিলো পেটে আর কিছু পড়েনি
তাই গলাটাকে ভেজাতে টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ালো দিবা,,পানি এক গ্লাস নিয়ে খেতে যেতেই চোখে চোখ পড়লো আহনাফের সাথে
আহনাফ হাত ভাঁজ করে দাঁড়ালো আর ভ্রু কুঁচকালো
কিছুক্ষণ আগে হওয়া ডিলটার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে সে
দিবা আরেকদিকে ফিরে চলে গেলো খালামণির কাছে
ঐ লোকটার সামনা সামনি থাকার এত শখ নাই ওর
যাই হোক সম্পূর্ন বোরিং লাগছে সবটা,মিনি ও আসছে না
এদিকে ওকে আনতে গেলেই লোকটা আবার কথা শুনাবে,বলবে ইচ্ছে করে উনার কাছাকাছি থাকছি আমি
.
মিনি আহনাফকে একা পেয়েছে কারণ কিছুক্ষন আগেই আদনানের একটা কল আসায় সে ফোন কানে ধরে দূরে চলে গেছে
মিনি গুটিগুটি পায়ে আহনাফের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে,,আহনাফকে বুঝতে দেওয়া যাবে না যে সে ওর খুব কাছে
আহনাফ নিজের ফোন বের করতে যেতেই ওর পকেট থেকে বারের আইডিকার্ডটা বেরিয়ে ঠুস করে মিনির মাথায় গিয়ে পড়লো
মিনি বেচারা ভয়ে এক চিৎকার দিয়ে উল্টে পাল্টে চিটপটাং হয়ে সামনে ছিঁটকে পড়েছে
মিনির এমন কান্ড দেখে আহনাফ ফিক করে হেসে দিয়ে বললো”একেবারে ঠিক হয়েছে,আরও আসি আমার গায়ের সাথে লেগে দাঁড়াও,আজাইরাদের সাথে এমনই হয়”
.
মিনি ঠিক বুঝেছে আহনাফ ওর ভয় পাওয়া দেখে হাসলো,খুশি হলো,
তাই সে ছুটে এসে আহনাফের আইডিকার্ডটা মুখে নিয়ে ভোঁ দৌড় দিলো
আহনাফের মনে হলে তার কলিজা ছিঁড়ে পালাচ্ছে,আসলেই তাই,,আইডিকার্ডটা কারোর হাতে পড়লে সব শেষ হয়ে যাবে,আজাইরা বিড়ালটা আজ আমায় কোন আজাইরা প্যাঁচালে ফালায় কে জানে
আহনাফ ও ছুটলো
মিনি দৌড় দিতে দিতে মণিতার রুমে ঢুকে গেলো,বারান্দায় দিবা দাঁড়িয়ে ছিলো দেখে ওদিকে গেলো সে
আহনাফ ও আসলো সেখানে
দিবা মণিতার বারান্দার ফুলগুলো ছু্ঁয়ে দেখছিলো,মিনি এসেছে টের পেয়ে সে হেসে বললো”দেখলি মিনি,,,মণিতা আপুর বারান্দাটা কত সুন্দর??আমার মনে হয় না আমার এই সাধ আর কখনও পূরন হবে,,কত শখ ছিলো আমার ও এমন একটা বারান্দা থাকবে,যেখানে থাকবে ডজন ডজন পর্তুলিকা,,সাদা হলুদ লাল গোলাপ,আর একটা গন্ধরাজ গাছ,,নিচে একটা পাপস থাকবে যেটায় আমি বসে বারান্দা বিলাস করবো,বৃষ্টির দিনে খুব ভালো লাগবে,এরকম মন খারাপ থাকলে সেটা ভালো হয়ে যাবে,আমার তো দিনে কতবার মন খারাপ হয় ঠিক ততবার বারান্দায় এসে মনটা ভালো করতাম আমি,কিন্তু তা আর হবে না মনে হয়
আজীবন এভাবেই আমাকে আমার জীবনটাকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে,নিজের মন খারাপটাকে নিয়ে বসে থাকতে হবে যতক্ষন না অন্য কারনে আবার মন খারাপ হয়
আচ্ছা আমার সাথে কোনো কিছু ভালো হতে পারে না কেন জানিস?আমার সাথেই কেন সব খারাপ হবে?যাই হোক তোর মুখে ওটা কি?দেখি”
.
দিবা নিচু হলো মিনির মুখ থেকে আইডিকার্ডটা নেবে বলে,আহনাফ এতক্ষণ দূরে দাঁড়িয়ে দিবার কথা শুনছিল,,আইডিকার্ডের কথা মাথায় আসতেই সে ছুটে এসে মিনির থেকে আইডিকার্ডটা নিয়ে নিলো দিবা নেওয়ার আগেই
.
দিবা চমকে বললো”ওহ,,আপনার এটা?”
.
আহনাফ কিছু না বলে চলে আসলো রুম থেকে,,দিবা মিনিকে কোলে তুলে একটা পর্তুলিকা ফুল ওর মাথায় গুজে দিলো তারপর হেসে বললো”তোরে সাজালে আমার এমনিতেই মন ভালো হয়ে যায় বুঝলি?”
.
মিনি আহনাফের চলে যাওয়া দেখছে,সে রাগ করে আনলো আইডিকার্ডটা,কোথায় আহনাফ তার ভুল স্বীকার করবে,মাথায় হাত বুলিয়ে গাল টিপে দেবে,তা না করে উল্টে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো আইডিকার্ডটা,মিনি তো ভেবে নিয়েছে,আবার কখনও ঐ নীল রঙের আইডিকার্ডটা দেখলে একদম মুখে পুরে সেটা বারান্দার গ্রিল দিয়ে নিচে ফালাবে,হুহ!
.
আহনাফ কপালের ঘাম মুছে নিলো,,বাপরে বাপ আর একটুর জন্য ধরা খাইতাম

সবাই মিলে ডিনারটা শেষ করে এবার রওনা হলো বাসায় যাবে বলে,ফুফু কত করে বললেন আজ রাতটা থেকে যেতে কিন্তু আহনাফ, আরিফ থাকতে চাইলো না
খালু ও থাকতে চাইলো না কারন তার ঔষুধ আনা হয়নি, ঔষুধ এক ডোজ মিস করলে শরীর খারাপ করে
তাই এবার সবাই চললো বাসার দিকে
আহনাফ বাইকে যাবে,,আরিফকে বললো মা আর দিবাকে নিয়ে ফিরতে ও বাবকে নিয়ে যাবে
বাবা সোজা মানা করে দিলেন তার নাকি বুকে ব্যাথা করে বাইকে বসলে তাই
এদিকে মাও বাইকে বসবে না,,আরিফ বললো সে বাইকে যাবে
মা ধমক দিয়ে বললেন”তোর বাবা একা নিজেরে সামলাইতে পারে না এত রাতে আমারে আর দিবারে সামলাবে কি করে?পথে বিপদ হলে?”
.
তো কি করবো তুমি বলে দেও,এক কাজ করি আমরা যেভাবে আসছি ঐভাবে যাই,ভাইয়া একা আসুক
.
সেটা কেমন কথা,বাইক থাকতে শুধু শুধু বাস ভাড়া দিয়ে একজন কেন যাবে?
.
তো আর কে যাবে
.
দিবা যাবে,আহনাফ তুই দিবাকে নিয়ে আয়,আমি আরিফ আর তোর বাবা বাসে আসছি
.
জীবনেও না,দিবাকে তোমাদের সাথে আনো,ওর ঐ আজাইরা বিড়ালকে সামনে বসালে আমার আবার কত ঝামেলা পোহাতে হবে জানোই তো,হাঁচি দিতে দিতে জান যাবে
.
তাহলে দুইশ টাকা দে,দিবার বাস ভাড়া,তোর বাবার কাছে কম আছে
.
আহনাফ পকেটে হাত ঢুকিয়ে মানিব্যাগ বের করে দেখলো একশো পাঁচটাকা আছে,,আহনাফ পকেটে বেশি টাকা রাখে না,বাসার আলমারিতে রাখে সে,দরকার পড়লে নেয়,,দুইশ টাকা নেই বলে দাঁত কেলিয়ে সে মায়ের দিকে তাকালো
.
ভালো খুব ভালো,,সুতরাং এটাই ফাইনাল যে দিবা তোর সাথে যাবে,মিনি তোর সামনে বসবে,তোর ঐ কালো মাস্ক আছে না?ওটা পর,তাহলেই হয়
.
আহনাফ দিবার দিকে রাগী লুক নিয়ে মাস্কটা পরে মিনিকে খপ করে ধরে সামনে বসালো
মিনির তো মনে লাড্ডু ফুটছে,সে আহনাফের সাথে আজ বাসায় ফিরবে,খুশিতে খালি মিঁয়াও বলতে ইচ্ছে করছে তার
দিবা বািকে উঠে আহনাফের কাঁধে হাত রাখলো,,মা বাবা আর আরিফ অটো ধরে বাস স্ট্যান্ডের দিকে চলে গেছে
.
তোমাকে কদিন বলছি আমাকে এমন ভাবে ধরবা যেন আমার বুক ধরফর না করে?
.
এক কাজ করবো,ধরবোই না,পড়লে পড়বো,আপনাকে ধরাটাই আমার ভুল
চলবে♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here