Thursday, April 30, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প মেঘবৃত্ত মেঘবৃত্ত পর্ব_৩৮

মেঘবৃত্ত পর্ব_৩৮

মেঘবৃত্ত
পর্ব_৩৮
#আভা_ইসলাম_রাত্রি

কিন্তু আফসোস, সেদিন রাতে মেঘবৃত্তের সুখের ঘুম আর হলো না। বরং, এক আস্ত রাত তারা কাটিয়ে দিলো শুধুই গল্প করে। বৃত্ত যতক্ষণ কথা বলছিল, ততক্ষণ মেঘা তার বুকে শুয়ে বৃত্তের দিকে চেয়ে ছিলো। বৃত্তের ভ্রু কুঁচকানো, হুটহাট হেসে ফেলা, তার মুখের বাঁ দিকের গজদন্ত, এসব কিছুই মেঘাকে ক্রমশ মোহিত করতে লাগলো। আজ নতুন করে সে আবারও এই বৃত্ত নামক প্রেমিকের প্রেমে পড়লো। ইশ, মানুষটা এত সুন্দর কেন? সে রাতে মেঘা চট করে বৃত্তের গালে এক ভয়ানক চুমু খেয়ে কম্বল দিয়ে মুখ ঢেকেছিল। তখন খুব লজ্জা লাগছিল তার। কিন্তু, সে কি করবে? বেসামাল হয়ে পড়েছিল ও। এটা কি তার দোষ? উহু, একটুও না। বরং বৃত্তের দোষ! সে এত সুন্দর কেনো হলো? একটুখানি বিশ্রী দেখতে হলে কি এমন ক্ষতি হয়ে যেত? তাকে দেখলেই কেনো সর্বদা এত প্রেম প্রেম পেতে হবে? এটা তো এক ধরনের অন্যায়!

রাত পেরিয়ে নতুন এক কুয়াশা ভেজা সকাল হলো। মেঘা রান্নাঘরে রুটি বানাচ্ছে। আর একটু পরেই বৃত্ত অফিসে যাবে। মেঘা রুটি ভালো বানাতে হবে পারে না। তার রুটির আকার সবসময় বিশ্রী হয় দেখতে। কিন্তু, বৃত্তের আবার রুটি খুব পছন্দের। তাই মেঘা কষ্ট করে হলেও রুটি করছে। বিস্কুট রাখার বড় কৌটার ছিপি দ্বারা খুব কষ্ট রুটির আকার গোল করলো। বেশ সুন্দর হয়েছে রুটিগুলো। বৃত্তের আলবাত পছন্দ হবে।

— মেঘ, মেঘ? আমার সাদা ফাইলটা কোথায়? মেঘ?
বৃত্তের হাকডাক শুনে মেঘা রুটি গরম করতে করতে চেঁচিয়ে উত্তর করলো,
— আলমারির তিন নম্বর তাকে আছে।

বেশ কিছুক্ষণ পর বৃত্তের আবার ডাক এলো। এবার তার ওয়ালেট চাই। মেঘা তখন খাবার টেবিলে নাস্তা সাজাচ্ছিল। বৃত্তের এমন হাকডাক তার মগজ অব্দি নাড়িয়ে তুললো। চিৎকার করে বললো,
— বিছানার উপরই আছে। দেখ ভালো করে।

বৃত্ত থামলো। কিন্তু দু মিনিটে যেতে না যেতেই আবারও চেঁচিয়ে উঠলো,
— কই, পাচ্ছি না তো। এসে খুঁজে দিয়ে যা।

মেঘা এবার অধৈর্য্য হলো। সবকিছু হাতের সামনে রাখার পরও এত হাকডাকের কোনো মানে হয়? বৃত্তের মাও ছেলের এমন ডাকাডাকিতে বেশ বিরক্ত হলেন। এগিয়ে এসে মেঘার হাত থেকে গোশতের বাটি নিজের হাতে নিয়ে বললেন,
— যাও, দেখে আসো কি বলে!

মেঘা বৃত্তের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো। বৃত্ত তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্টের বোতাম লাগাচ্ছিল। মেঘা বালিশের কাছ থেকে ওয়ালেট নিয়ে বৃত্তের পাশে এসে দাঁড়ালো। বৃত্তের দিকে ওয়ালেট এগিয়ে দিয়ে বললো,
— তোর ওয়ালেট। বিছানার উপরই ছিলো। কিন্তু আফসোস, কানা মানুষের চোখে পড়লো না।

বৃত্ত মুচকি হাসলো। মেঘার হাত থেকে ওয়ালেট নিয়ে পকেটে পুড়লো। তাকের থেকে সাদা ফাইল নিয়ে ব্যাগে ঢুকালো। অতঃপর এসে দাঁড়ালো মেঘার ঠিক সামনে। হেসে বললো,
— আগে কানা ছিলাম না। কিন্তু তুই আসার পর থেকেই নিজেকে কেমন যেনো অলস মুরগি মনে হয়। আমার সব কিছু এভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে দিস না তো। বদ অভ্যাস হয়ে গেছে।

মেঘা হাসলো, কিছু বললো না। তবে তবে মনে মনে সুধালো, ‘ থাকুক না কিছু বদ অভ্যাস। তুই একটু নাহয় অগোছালো হ, আমি আছি তো তোকে গোছানোর জন্যে। ‘
________________________________
সেদিন রাতের ঘটনা! বৃত্ত মাত্রই অফিস থেকে ফিরলো। সারাদিনের কাজ শেষে তার শরীর ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত! দেহের সুরমা রঙের শার্টটা ঘামে ছুপছুপ হয়ে আছে। রাতের খাবার পর্ব শেষ করে বৃত্ত ঘরে এলো। টেবিলের উপর মাথা ব্যথার ঔষধ দেখে বৃত্ত খানিক অবাক হলো। পরক্ষনেই মুখে হাসি ফুটলো তার। আসলেই, বেশ মাথা ব্যথা করছিল তার। মেঘার এমন ছোটখাটো কেয়ার বেশ লাগে বৃত্তের। মাঝমধ্যে মনে হয়, বৃত্ত বোধহয় একটু বেশি ভাগ্যবান। মেঘার মত এমন লক্ষ্মী মেয়ে চাইলে ওর চেয়ে ভালো কাউকে পেতে পারতো। কেনো যে এই ইন্টেলিজেন্ট মেঘ তার মত এক ডাফারের প্রেমে পড়লো! অদ্ভুত! এই দুনিয়ার যা কিছু ঘটে, সব হয় অদ্ভুত নাহয় রোমাঞ্চকর!

মেঘা ঘরে এলো বেশ রাত করে। বৃত্ত তখন বারান্দার দোলনায় বসে কফি খাচ্ছিল। মেঘা গুটিগুটি পায়ে এসে বসলো বৃত্তের পাশ-টায়। বৃত্ত মেঘার দিকে চেয়ে দেখলো। মেঘার গা থেকে বেশ ঘ্রাণ নাকে লাগছে। কি সুগন্ধ গায়ে মেখেছে সে? বৃত্ত কি জিজ্ঞেস করবে? বৃত্ত করলো তার ঠিক উল্টোটা! বললো,
— সিদ্ধার্থ চাকরি পেয়েছে। আজ ফোন দিয়ে জানালো।

মেঘা আলতো হাসলো। বললো,
— বাহ, খুব ভালো খবর তো। ট্রিট কবে দিচ্ছে?
— বলেছে, কাল দিবে। আমি না করে দিয়েছি। নতুন নতুন চাকরি পেয়েছে। বেতন পাক, তখন নাহয় নিজের টাকায় ট্রিট দিবে।
— ভালো করেছিস! আর তিতিরের কি খবর? বিয়ে-টিয়ে করবে নাকি? ফোন দিয়েছিল আমাকে আজ। ব্যস্ত থাকায় রিসিভ করতে পারিনি। তোর সাথে কথা হয়েছে?
— ও তো চাকরি করবে। ক্যারিয়ার করার পর হয়তো বিয়ে-টিয়ে করবে। কথাবার্তা হয়নি ওর সাথে। রাতুল জানালো এসব।
— আর তুই?

মেঘা হটাৎ করেই এক অমূলক কথা বললো। বৃত্ত ধ্যান ভাঙলো। মেঘার কথার অর্থ বুঝতে তার বেশ সময় লেগে গেলো। মেঘা তখন নিজের কোলের উপর রাখা আঁচলের দিকে চেয়ে। হয়তো লজ্জা পাচ্ছে। বৃত্ত ভাবলো, তাকে আরো একটু লজ্জা দেওয়া যাক। মেয়েদের লজ্জা পেলে সুন্দর লাগে। মেঘাকে সুন্দর দেখতে বৃত্তের বড় লোভ হলো। বৃত্ত মেঘার কোমরে হাত গলিয়ে দিলো। কোমরের উন্মুক্ত অংশে চিমটি কেটে কানের কাছে ফিসফিসালো,
— আপাতত মেঘের বৃত্ত হচ্ছি। ভাবছি, তাকে একটুখানি ভালোবাসবো। বেশি না, এই যে এই একটুখানি।

বৃত্ত আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো পরিমাণটা। মেঘা হেসে ফেললো বৃত্তের এহেন কথায়। বৃতের কাঁধে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরলো তার বলিষ্ট হাতখানা। উত্তর করলো,
— উহু, একটুখানিতে আমার পোষাবে না। আমার তো এক আকাশ সমান ভালোবাসা চাই। যাকে যখন মন চাইবে, হাতের মুঠোয় নিয়ে আজলায় পুড়বো, তাকে স্পর্শ করবো, তার কাঁধে মাথা রাখবো, তার নরম নরম চুলে হাত বুলাবো আর খুব খুব বেশি ভালোবাসবো তাকে।
— আর আদর? সেটা? সেটা করবি না?

ইশ, মেঘা লজ্জা পেয়ে গেলো। চোখ বন্ধ করে ফেললো মুহূর্তেই। বৃত্তের কাঁধে মাথা রেখে মিহি সুরে বললো,
— ইশ, জানিনা! সর তো সামনে থেকে।

বৃত্ত হাসলো, সরে গেলো না। বরং, মেঘার চুলে ঠোঁট রেখে ভাবলো, আজকাল মেঘার এই ভালোবাসা পাগলামো তাকে অবাক হতে বাধ্য করছে। মেঘার তাকে নিয়ে এ ধরনের পাগলামি করবে, সে স্বপ্নেও এ ভাবতে পারেনি। আজ প্রথম মনে হচ্ছে, বন্ধুত্বের দিক থেকে মেঘা যেমন অদ্বিতীয়া, ঠিক তেমনই প্রেমিকা রূপেও সে অনন্য। আর স্ত্রী রূপ? সেই রূপটা কবে দেখবে বৃত্ত? বৃত্তের তো আর তর সইছে না। খুব লোভী সে। শুধু মেঘার বেলাতেই তার যত লোভ!

#চলবে
গল্পটা শেষ হয়ে গেলে কি করবেন? মিস করবেন মেঘবৃত্তকে?
নোট ১- যাদের কাছেই পোস্টটা পৌঁছাবে রেসপন্স করার অনুরোধ। পেইজের রিচ প্রবলেম চলছে। আপনাদের ছোট্ট রিয়েক্টই পেইজের রিচ বাড়াতে সাহায্য করবে।

লেখিকার পাঠকমহল,
আভার পাঠকঘর📚-stories of Ava Islam Ratri
আগের পর্ব,
https://www.facebook.com/100063985747587/posts/275376777938512/?app=fbl

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here