#আমার প্রিয় তুমি
#মেহজাবিন তানিয়া
পর্ব-৩৪
৬৭.
রেস্টুরেন্টে বসে আছে মেঘ , রিমিকে আসতে বলছে তার জন্যই এখানে আসা । মেঘ চায় রিমির মনে কি আছে এবং তাকে নিয়ে কি ভাবে , ফেমেলির চাপে পরে রাজি হয় নাই তো আবার সেসব জানতেই রিমিকে ডেকেছে।
কফি খেতে খেতে গতকালের কথা ভাবতে লাগলো মেঘ । কাল ঠিক এই সময় তানভির সাথে বসে ছিলো ওর অফিসের পাশে একটা কফি শপে । সেখানে অনেক কথা হয় দুজনের সাথে ।
ভাই আপনি যদি তাহুর জন্য বিয়েটা না করেন তাহলে বলবো আপনার ধারনা ভুল কারন আমি আমার ফেমেলি কিংবা আপনার ফেমেলিকে রেখে তাহুকে পছন্দ করিনি । আপনাদের চিনার আগে আমি আপনার বোনকে ভালোবাসছি । আর সবার ফেমেলিতেই কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে মনমালিন্য লেগেই থাকে। আর আমারাও ফেমেলির বাহিরে না । তবে তার মানে এই না যে আপনার ঘরের মনমালিন্য রেশ আমার ঘরে এসে থামবে এতোটায় বিবেকহীন মানুষ আমি না । আপনি যেমন আমার কাছে বোন দিয়েছেন ঠিক সেটা কিন্তু আমার ক্ষেত্রও , আমিও এর বাহিরে না আপনার ঘরে যে যাবে সেও আমার বোন । আমি কিন্তু এ বিষয় গুলো নিয়ে ভাবি না ভাইয়া কারন আমার বিশ্বাস আছে আপনার উপর।
আর যদি বলেন আমার বোনকে আপনার পছন্দ না কিংবা আপনার অন্য কাউকে পছন্দ তাহলে বিয়েতে না করতেই পারেন ।
তখন এসব কথার ভিত্তিতে মেঘ আর একটা কথা বলতে পারেনি এবং সে সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় রিমির সাথে কথা বলে যদি মনে হয় যে বিয়েতে রাজি তাহলে আর অন্য কথা ভাববে না ।
:
:
মেঘ বসার ঠিক পনেরো মিনিট পর রিমি আসে রেস্টুরেন্টে । এসে কোনো কথা বলতে পারে না লজ্জার কারনে,চেয়ার টেনে চুপচাপ বসে থাকে ।
তো কেমন আছো রিমি ?
জি ভালো আপনি কেমন আছেন ?
এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো । তো কি নিবা বলেই ওয়েটারকে ডাক দিলো ।
না’না আমি কিছু খাবো না ।
তা বললে কি হয় অন্য কিছু না খাও কফি তো খেতেই পারো বলেই একটা কফি অর্ডার দেয়।
রিমি চুপচাপ বসে আছে কি বলবে,এতো দিন তো লজ্জা পায়নি আজ হঠাৎ এতো লজ্জা কোথা থেকে উদয় হলো ভেবে পায় না রিমি।
রিমিকে চুপ থাকতে দেখে মেঘই বলতে শুরু করলো ।
তুমি নিশ্চই বুঝতে পারছো কেন তোমারে এখানে আসতে বলছি । অবশ্যই তুমি জানো তোমার আমার বিয়ের কথা হচ্ছে।
শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলো রিমি ।
যাই হোক আমি অত পেঁচিয়ে কথা বলতে পারি না তাই সরাসরিই বলছি । তোমার মা বললো তুমি নাকি এই বিয়েতে রাজি । তা আমার বেপারে তোমার কি মতামত মানে আমাকে কি তুমি ভালো জানো কিংবা তুমি নিজের মতে রাজি হইছো নাকি কোনো চাপে পরে…. আমি চাই না চাপে পরে তুমি বিয়েতে মত দেও …কথা গুলো এক বলে থামলো মেঘ।
রিমি এতোক্ষন হা করে মেঘের দিকে তাকিয়ে কথা গুলো শুনছিলো । কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ঢুক গিলে নিলো । নিজেকে একটু শান্ত করে শুধু একটু করে উওর দিলো ‘আমি চাইছি বলেই আম্মু আব্বু আপনার বাসায় গেয়েছিলো’।
ব্যস মেঘ তার উত্তর পেয়ে গেছে । মনে মনে খুশিও হয়েছে তবে প্রকাশ করলো না রিমি নামের মেয়েটাকে যে তার নিজেরও ভালো লাগে , প্রথম যেদিন দেখেছিলো সেদিনই তাঁর মনে খুব প্রেম প্রেম পেয়েছিলো কিন্তু বোনের কথা চিন্তা করে পিছিয়ে গেছে। কিন্তু তার এই না চাওয়া প্রেম প্রেম অনুভূতি যে আপনাআপনি এসে ধরা দিবে তা জিবনে কল্পনাও করেনি।
অবশেষে যাকে দেখে জিবনে প্রথম মনের সুপ্ত প্রেম পেয়েছিলো তাকেই জীবনসঙ্গিনী রুপে পাবে এর চেয়ে বেশি আর কি চাই জীবনে।
ওদের মধ্যে আর কোনো কথা হয় নাই তবে মেঘ আর রিমিকে না খেয়ে বের হতে দেয়নি রেস্টুরেন্টে থেকে , তারপর বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে । বিদায় নেবার সময় রিমির মাথায় হাত রেখে বলে ভালো থেকো আর রেডি থেকো পুরো ফেমেলি নিয়ে আসছি তোমাকে একেবারে নেয়ার জন্য বলেই সেখান থেকে চলে যায় ।
৬৮.
রিমিদের বাসা আজ ভরপুর দুই পরিবার যে এক সাথে হয়েছে । মেঘ তার পুরো পরিবার নিয়ে হাজির হয়েছে মিনিট বিশেক আগে । এখন তাদের আপ্যায়নের পালা চলছে । ছেলে – মেয়ের দু’টুর শশুর বাড়ি যে এখন এক বাড়ি । তাই তাদের সমাদরও বেশি ।
তাহু তো আজ প্রচুর ব্যস্ত । দম নেবারও টাইম নেই । এই একার ছোট্ট কাধে আজ অনেক দায়িত্ব । এক দিকে ভাইয়ে বোন হয়ে দায়িত্ব পালন অন্য ননদের ভাবি হয়ে , আরো আছে বাড়ির বড় বউ হয়ে দায়িত্ব পালন । এতো দায়িত্বে মধ্যে নিজের প্রতি খেয়াল রাখার দায়িত্ব পালন করতে পারছে না । গতকাল থেকে ভয়ংকর ভাবে ব্যস্ত সে ।
এক দিকে ননদ অন্য দিকে ভাইয়ের এঙ্গেজমেন্ট বলে কথা । তাই সে খুশীতে লাফিয়ে লাফিয়ে সব কাজ করছে । তানভির কয়েক বার এসেছে বউয়ের সাথে একটু কথা বলতে কিন্তু ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে গেছে । শেষ বার যখন আসলো তখনও তাহুর এড়ানো দেখে বলেই ফেললো রাতে তো আসবা সেই আমি যে বিছানায় ঘুমাই সেখানে তখন দেখো কি করি তোমাকে বলে সেই যে গেছে এর পর তাকে দেখা যায় নাই ।
মেঘের পক্ষ থেকে মা , চাচা-চাচি এবং দুজন কাজিন আসছে তাছাড়া আর কেউ থাকলে তো আসবে । মেঘের পরিবারটা খুবই ছোট । তাই মানুষও কম । মেঘের নানা বাড়ির কেউ নেই কারণ মেঘের মা একাই ছিলেন আর নান-নানি তো সেই কবেই মারা গেছে।
সবার খাওয়া পাট চুকিয়ে এখন এঙ্গেজমেন্টের আয়োজনে লেগে পরেছে । তানভির আর সাদ সব কিছু হাতে হাতে করছে । একমাত্র বোনের এঙ্গেজ বলে কথা কোনো কিছুর ঘাটতি রাখতে চায় না ।
মেঘ আগেই বলে দিয়েছে বিয়ে হোক আর বাগদান সবকিছুই হওয়া চাই ছোট পরিসরে। ও দুমদাম বিয়ে করতে একদম রাজি না । আর যেটুকু হচ্ছে সেটাও তাহুর ইচ্ছায় তার একমাত্র ভাই + ননদের বিয়ে অনেক বড় না হোক ছোট করে যেনো অনুষ্ঠান হয় । নিজের বিয়েতে তো কিছুই হয় নাই তাই ভাই ও ননদের বিয়ে দিয়ে দিয়ে ঘাটতি পূরন করতে চায় । এ ক্ষেত্র তানভির তেমন কিছু না বললেও তাহু আর সাদের জিদের কারনে শুধু অতি নিকটবর্তী আত্মীয়দের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে ।
ঠিক রাত নয়টা চল্লিশে আঙ্কটি পড়ানো শেষ হয় তারপর দুই পরিবার মিলে আলাপ-আলোচনা করে বিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হয় । যেহেতু মেঘ কানাডা চলে যাবে তাই বিয়ের তারিখটাও দূরে না দিয়ে এক সপ্তাহ পরেই রেখেছে । সব ফাইনাল করে রাত বারোটার পর মেঘরা ফিরে যায় বাসায়।
চলবে……….
লাইক, কমেন্ট এন্ড শেয়ার প্লিজ🙂





