Romantic_Devil পাঠ-৮

Romantic_Devil🌼
#Imtihan_Imran
08.

চাচা সিনহা, ঈশিতা ভাবীকে বুঝাচ্ছে,

” শোন মাইয়ারে কোনো উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করবি না। তোদের তো আবার অভ্যাস খারাপ, উলটাপাল্টা প্রশ্ন কইরা মাইয়ারে নাচায় ছাড়স।

চাচা ওদের বুঝাতে বুঝাতে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করছিল। সামনে খেয়াল করছিল না, হঠাৎ করেই দরজায় পায়ার সাথে চাচা উষ্টা খেয়ে পড়ে যায়। আর চাচার লুঙ্গি উঠে যায় মাথায়।

” ওরে আল্লাহ…

” হায় আল্লাহ! গেছে মান সম্মান বিয়া সব গেছে।

মেয়ে বাড়ির বড় কর্তারা পাত্রের কাছ থেকে এমন দৃশ্য আশা করেনি। তারা যা বুঝার তা বুঝিয়ে দিয়েছে। চাচার লুঙ্গি সময়মতো খুলে গেলেও, চাচার কপাল আর খুলে না, যা হবার তাই হলো চাচার বিয়া এবারও হলো না।

চাচা ছ্যাঁকা খাওয়ার ভাব নিয়ে বাসায় চলে আসে। কেউ কিছু বলে না।বলবে কেনো? তারা সবাই চাচাকে লুঙ্গি পড়তে মানা করলে চাচা তো শুনে না।

চাচা বাসায় আসতেই এই বিয়েও হবে না জেনে জরিনা বানু বকাবকি শুরু করছে।

” আগেই কইছিলাম, চাচা লুঙ্গি পইড়া যাইয়েন না। এই লুঙ্গি আন্নের বিয়া হইতো দিতো নো। না হেতেন লুঙ্গিরে ছাড়তেই হারে না। হইছে লুঙ্গি পইড়াই থাকেন, আন্নে আর বিয়া করন লাগত নো।

” জরিনা বানু বেশি কথা না বলিয়া,আমার লাইগা ঠান্ডা পানি আন। মাথা কিন্তু গরম আছে। যেকোনো সময় তোর চাকরি নট হয়ে যাবে বলে দিলাম।

মীর জাফর জরিনা বানুরে সামলা কইলাম,নাহলে তোর চাকরিও নট হই যাবে।

” চাচা আমার নাম মীর জাফর না। জাফর শুধু জাফর।

” তুই কি এখন আমারে তোর নাম শিখাবি। নাকি আমার লাইগা চা কইরা আনবি।

” চাচা ঠান্ডা পানি, চা দুইটাই কি একসাথে খাইবেন?

” তো কি মাথায় দেওয়ার জন্য আনতে কইছি? যা নিয়ে আয়।(ধমক দিয়ে)

” গেছে বিয়ার শোকে এই চাচার মাথা পুরাই গেছে।

!¡!

!!

সবাই একসাথে রাতের খাবার খেতে বসেছে। আজকের ঘটনা শুনার পর ইকবাল সাহেব মুখ খুললেন।

” শহরের মেয়ে দেখা বাদ। এখন থেকে গ্রামের মেয়ে দেখা হবে। আমরা পরশু সবাই গ্রামে যাচ্ছি। সিনহার আব্বু আম্মুর সাথে আমার এই নিয়ে কথা হয়েছে। সিনহা, ইমরান তোমরা কয়েকদিন স্কুল, ভার্সিটি অফ দেও।

” আব্বাজান তোমরা যাও। আমি যাবো না। গ্রাম আমার ভালো লাগে না।

” যে যেমন, তার রুচিও তেমন। তোর কাছে ইট পাথরের শহরেই ভালো লাগবে। গ্রামের প্রকৃতির সৌন্দর্য্য তোর কাছে ভালো লাগবে না।

” তোর গ্রাম, তাই বেশি প্রশংসা করছিস। বুঝি তো আমি।

” ভাতিজি ভালো না লাগলেও যাইতে হইবো। তোর চাচার বিয়া এবার হউতেই হইবো।

” ইমরান ভালো না লাগলেও যেতে হবে তোমার।

ইমরানের বড় ভাই ইশান বলল,

” আব্বা আমি যেতে পারব না। আমার অনেক কাজ আছে। আমি একেবারে বিয়ে হলে তখন যাবো।

” ঠিকাছে তোমাকে জোর করছি না। বউমা তুমি যাবে আমাদের সাথে?

” আমিও আপনার ছেলের সাথেই যাবো।

” আচ্ছা। এই কথাই রইল।

!¡!

সিনহা, ইমরান দুজনেই ছাদে এসে দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে।

” গ্রামে যাচ্ছিস ভালো কথা। গ্রামের মেয়েদের দিকে ভুলেও তাকানো যাবে না?

” তাকানো যাবে না কেনো? তাকালে কী সমস্যা?

” অনেক সমস্যা আছে।আমি বলছি তাকানো যাবে না, ব্যস তাকানো যাবে না।

” তুই বললেই তো হবে না৷

” আমি বললেই হবে। আমি তো তোর সব কথা শুনি।তুই আমার কথা শুনিস না কেনো?

” বড়দের কথা শুনতে হয়, তাই তুই আমার কথা শুনিস।

” এ্যা আসছে বড়। তুই সত্যি যদি আমার কথা না শুনিস, তখন দেখবি আমি কী করি?

” কী করবি শুনি?

” সেটা তখন দেখবি।

” আচ্ছি আমিও দেখবো।(হেসে)

” ধ্যাৎ তোর সাথে কথাই বলব না আমি।

সিনহা উঠে চলে যায়। ইমরান হেসে দেয় সিনহার যাওয়া দেখে।

!¡!

চাচা গ্রামে যাওয়ার জন্য লুঙ্গি পড়েই বের হয়েছে। জরিনা বানু দেখে কিছু কথা না বলে থাকতে পারলো না।

” হায় আল্লাহ! চাচা আন্নে লুঙ্গি পড়া কি বাদ দিতেন নো? লুঙ্গি ছাড়া কি আন্নের জীবনে কোনো প্যান্ট নাই? আন্নের কি বিয়া করার কোনোই শখ নাই? আমি তো আন্নের কোনো মতিগতি বুইঝতেছি না।

” মীর জাফর দেখ এই বেডি কি কয়?

ওই বেডি বিয়া করার শখ না থাকলে নি এতোগুলা মাইয়া দেখতেছি? আমার লুঙ্গির পিছে পইড়া নাই থাইকা তুই তোর রান্নার কাজে মন দে,নাইলে তোর চাকরি নট করি দিয়ুম। যে আমার লুঙ্গি দেইখা আমারে বিয়া করবে, আমি তাকেই বিয়া করবো।

” তাইলে মনে হয় আর বিয়া হইবো না। (জরিনা বানু কথা আফসুসের সুরেই বলল)

!¡!

ইকবাল সাহেব ও মিসেস জাহানারা বাসের সামনের সিটেই বসলেন। জরিনা বানু ও জাফর মিয়া মাঝখানের সিটে বসলো। সবার শেষে ইমরান আর সিনহা বসল। চাচা বামপাশে এক বুড়ি মহিলার পাশে বসল।মহিলা টা ইচ্ছামতো পান চাবাচ্ছে আর চাচার গায়ে ঢলে পড়ছে। চাচা বিরক্ত হয়ে সিট থেকে উঠে পড়ে। এই বুড়া বেডি কি শুরু করছে? মন চাইতেছে লুঙ্গি দিয়া গিট্টু দিয়া মাইরালাই।☹️

” সিনহা ওই সিটে যা।

” চাচা,আমি কেনো ওই সিটে যাবো?

” ওর পাশে বসার বয়স তোর এখনো হয়নি। যা ওই বুড়া বেডির লগে যাই বস।

” ওই কয়দিন পর আমার জামাই হবে। ওর সাথে বসার বয়স আমার হয়নি তো কি তোমার হয়েছে?

” ওই কী বললি? আমি কয়দিন পর তোর জামাই হবো মানে?

” তুই চুপ করে বসে থাক। বেশি কথা বলবি না।

সিনহা, ইমরানকে চুপ করে বসিয়ে দেয়। চাচাও রেগে যায়। তিনি বলেন,

” ভাতিজা, ওরে চুপ করে সিট থেকে উইঠে যাইতে ক। আমি কিন্তু এখন রেগে যাচ্ছি, রেগে গেলে কিন্তু আমার লুঙ্গি টুঙি সব খুলে যাইবো কই দিলাম।

চাচার কথাটা জরিনার বানুর কানে পৌঁছে যায়। সে সিট থেকে দৌড়ে আসে।

” হায় আল্লাহ! চাচা আন্নে ভুলেও রাগিয়েন না। এই বাসের ভিত্রে লুঙ্গি খুইল্লে একটা কেলেংকারী হই যাইবো।

চলবে…

~ ইমতিহান ইমরান।

গল্প পড়তে পেজে লাইক বা ফলো করুন WRiter im Ran ❤️

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here