#আমার প্রিয় তুমি
#মেহজাবিন তানিয়া
পর্ব-২৪
৪৭.
একা একা রুমে বসে বোর ফিল করছে তাহু । সন্ধ্যার পরই ভাই চলে গেছে সাথে তানভিও গেছে মেঘকে গাড়িতে উঠিয়ে দিতে ।
যাওয়ার আগে তাহুকে অনেক উপদেশ দিয়ে গেছে শশুর বাড়ির সবার সাথে যেনো ভালোভাবে থাকে । সবাইকে যেনো আপন করে নেয় । সবার কথা যেনো শুনে । কাউকে যেনো কষ্ট না দেয়।
এরপর তাহুর শাশুড়ি আর শ্বশুরের সাথেও কথা বলে সবাইকে সামনে রেখে।
আন্টি-আঙ্কেল এই বিয়ে নিয়ে আপনাদের মনে অসন্তুষ্টি থাকতে পারে আর তানভির জন্য আমার বোনকে পছন্দ হয়েছে কিনা তা তো জানি না । হয় তো তানভি আরো ভালো কিছুর প্রাপ্প । কিন্তু আমার বোন কিন্তু খারাপ না । ওদের ভাগ্যে ছিলো বলেই বিয়েটা এইভাবে হয়েছে ।
আমার বোনটা এখনো অনেক ছোট তাই না বুঝেই অনেক ভুল করে ফেলবে সেগুলো ছোট বলে মাফ করে দিবেন । নিজের মেয়ে মনে করে পাশে রাখবে ভোর করলে শাসন করবেন আর ওকে নিয়ে যদি মনে কোনো খুঁত থাকে তাহলে অবশ্যই পাশে ঢেকে জিঙ্গেস করবেন আমি জানি আমার বোন আর যাই হোক মিথ্যা বলবে না।
মেঘের কথা শুনে আর কেউ কিছু না বলুক কিন্তু তারেক হাওলাদার বলে উঠলেন তুমি চিন্তা করো না মেঘ ওদের বিয়েটা যে পরিস্থিতিতেই হোক তাহরিমা এখন আমার ঘরের বউ । ওর অসম্মান কখনো হবে না। আমারও একটা মেয়ে আছে আমিও জানি মেয়ে অন্যের ঘরে গেলে কেমন চিন্তা হয়। তাই ইয়াং ম্যান নিশ্চিন্ত হয়ে বাসায় যাও।
বিদায় দেবার সময় ভাইকে জরিয়ে ধরে সে কি কান্না,মনে হয় যেনো আর জীবনেও দেখা হবে না । কিন্তু মেঘ অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে পরে বিদায় নিয়েছে।
ভাইকে বিদায় দিয়ে যে রুমে এসে বসছে আর বের হয়নি তাহু।
______________
রাত নয়টা রিমি তাহুকে রাতের খাবারের জন্য ডাকতে আসছে।
ভাবি চলো খাবে ।
এতোক্ষণ কোথায় ছিলো আপু আমার কেমন একা একা লাগছিলো।
আর বলো না ভাবি সাদ ভাইয়ার কাজিন অনন্যা আপু আসছে । ঐ যে তোমার মনে আছে পেয়ারা খেতে যেয়ে তোমরা তিন বান্ধবী কান ধরে দাঁড়িয়ে ছিলে পরে একটা মেয়ে এসে তোমাদের বাজে কথা বললো সে আসছে । জানো না আসলেই মাথাটা খারাপ করে ফেলে আসে চাচুর বাসায় কিন্তু সারা দিন পরে থাকে আমাদের বাসায় এই একটা মেয়ের জন্য মাঝে মাঝে মন চায় চাচুর বাড়িটা ক্রাম দিয়ে উঠিয়ে দূরে কোথাও দিয়ে আসি।
আর এতো নেকা যেনো কিছুই বুঝে না। ভাবি একটা কথা বলি ভাইয়াকে বলো না ,ভাইয়া শুনলে আমাকে মেরে ফেলবে।
এই অনন্যা আপু আছে না ভাইয়াকে পছন্দ করে , ভাইয়া যে তোমাকে বিয়ে করে ফেলছে এটা এখনো জানে না । যদি জানে কি যে করবে আল্লাহ মালুম। ভাবি তুমি একটু সাবধানে থেকো কেমন।
ওহহ তাই নাকি আপু তোমার ভাইয়া পছন্দ করে নাকি অনন্যা আপু দেখতে কিন্তু অনেক সুন্দর আর অনেক স্মার্টও।
ভাবি এই কথা আমার সামনে বলছো তাই বেঁচে গেলা ভাইয়ার সামনে কিন্তু ভুলেও বইলো না তাহলে ভাইয়া কিন্তু মানুষ-জন দেখবে না ওখানেই চর-থাপ্পর মারা শুরু করবে।
আচ্ছা এখন চলো না হলে আবার মা বকবে।
৪৮.
অনন্যা আসছে পর থেকে বকবক করছে তো করছেই এখন আবার খাবার টেবিলে বসেও বকবক করছে । এক কথায় তানভির মাকে তেল মারছে । আন্টি এটা-আন্টি ঐটা , আন্টি তোমার হাতের রান্না আমার সেই লাগে আমার তোমার মতো একটা শাশুড়ি লাগবে , আন্টি তুমি এতো কিউট কেন , হেন-তেন বলে যাচ্ছে কিন্তু তানভির মা শুধু হুঁ -হা করে যাচ্ছে আর টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে ।
উপর থেকে তাহু অনন্যার কথা গুলো শুনতে শুনতে নিচে নামলো আর তখনি তানভি সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ।
এক গ্লাস পানি আনো তো, তাহুকে দেখে তানভি বলে লিভিং রুমে দিকে চলে গেলো।
তাহু আস্তে আস্তে হেটে টেবিলের কাছে গেলো , গিয়ে দেখে শাশুড়ি কাজ করছে ।
কাছে গিয়ে দাড়াতেই তানভির মা এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলো কিন্তু মুখে কিছু বললো না।
তাহুর মনটা যেনো নেচে উঠলো মন চাইলো শাশুড়িকে এখনই একটু জরিয়ে ধরতে কিন্তু মনের ইচ্ছা মনে রেখে গ্লাস হাতে নিয়ে তানভির কাছে ছুটলো।
কিন্তু তাদের এই কর্মকাণ্ড গুলো টেবিলে বসে অনন্যা গোল গোল চোখ করে দেখলো । তাহু ডাইনিং ছেরে গেলেই প্রশ্ন করে বসলো তানভির মার কাছে ।
আন্টি আমরা যখন গ্ৰামে গেলাম তখন এই মেয়েটাকে দেখছিলাম সেখানে জানো এই মেয়েটা না চোর তোমাদের গাছের পেয়ারা চুরি করছিলো ,মেয়েটা এখানে আসলো কি করে । আর তাজরিয়ান ওর কাছে পানি চাইলো কেন তুমি ছিলা আমি ছিলাম আমাদের কাছে পানিও চাইতে পারতো।
ওর কাজ ও করছে তুমি খেতে বসো অনন্যা ।
আন্টি ওর কাজ মানে , এক মিনিট এক মিনিট তোমরা কি এই মেয়েকে কাজের মেয়ে হিসেবে আনছো ।
ওয়াও খুব এক্সাইটেড হয়ে বললো অনন্যা।
কিন্তু পাশ থেকে সাদের বাজখাঁই গলার এক রাম ধমক খেলো ।
এই অনন্যা আপু তোমার মুখে কিছু আটকায় না নাকি । কাকে কি বলছো তুমি না বুঝে না জেনে মাঝখান থেকে একটা কথা বলে দিলে । তুমি জানো কার নামে কি বলছো ভাবি হয় তানভি ভাইয়ের বউ আজ যদি ভাইয়া শুনতো না খুন করে ফেলতো তোমায় । আর এমন কথা শুনে ভাইয়া কি করবে যানি আমি কিন্তু তোমার অবস্থা খারাপ করে ফেলবো কথাটা যেনো মনে থাকে।
কি তাজরিয়ান বিয়ে করছে মানে ? কবে করলো বিয়ে , এই মেয়েকে বিয়ে করছে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। তোমরা মিথ্যা বলতেছো তাই না।
চলবে………….
❎অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ ❎
সেয়ার করে গল্পটা সবার কাছে পৌঁছে দেবার জন্য অনুরোধ করছি।
♥️ভালোবাসা অবিরাম♥️





