#আমার প্রিয় তুমি
#মেহজাবিন_তানিয়া
পর্ব-৩১
৬১.
ড্রইং রুমে এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে আর তা হলো মেঘ আর মেঘের মার ঢাকায় শিফ্ট হওয়া নিয়ে । কারন তানভির যখন তাহুকে বলে মিলাদের অনুষ্ঠান শেষ হলেই ঢাকা বেক করতে হবে তখনই তাহু বেঁকে বসে সে কিছুতেই তার মাকে একা রেখে ঢাকা যাবে না এদিকে তানভিও ভুল করে হলেও বউকে গ্ৰামে রেখে যাবে না ।
এ নিয়ে দুজনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয় । ঝগড়ার এক পর্যায় তানভি বলে উঠে যদি মেঘ ভাই আর মাকে আমাদের সাথে নিয়ে যায় তাহলে তো কোনো সমস্যা নাই ।
এই কথায় এখন বউ রাজি হয়েছে ঠিকই কিন্তু শাশুড়ি আবার বেঁকে বসেছে । সে কিছুতেই মেয়ের শশুর বাড়িতে থাকতে রাজি না ।
লোকে কি বলবে মেয়ের শশুর বাড়িতে গিয়ে থাকলে সে ভয়ে তাহুর মা আরো রাজি না ।
তানভি কোনো উপায় না পেয়ে কিছুসময় চোপ থেকে হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে মেঘকে নিয়ে আলাদা রুমে চলে গেলো।
ভাইয়া তাহুকে কিছুতেই আমি এখানে রেখে যেতে পারবো না এমনেতেই সারাক্ষন ওকে নিয়ে আমি ভয়ে থাকি তার উপর এখানে যদি রেখে যাই তাহলে চিন্তায় আমি মরেই যাব । মাও রাজি না আমাদের বাসায় থাকতে । আবার আপনি চলে গেলেও মা এখানে একা হয়ে যাবে তাই বলছি কি আমাদের ওখানে যদি ফ্লাট নেন তাহলে আপনি চলে গেলে তাহু সহ আমার পুরো পরিবার মার খেয়াল রাখতে পারবো প্লাস মার কথা মতো আমার বাসায় থাকাও হলো না বলে মেঘের দিকে তাকিয়ে রইলো উত্তরের আসায় ।
হুম ঠিকই বলছেন এটা হলে আমিও বাহিরে গিয়ে চিন্তামুক্ত থাকবো যে ছেলে না থাক মেয়ে আছে মার পাশে কিন্তু সমস্যা তো অন্য জায়গায় ।
কি সমস্যা বলেন ?
মেঘ ইতস্ততবোধ করছে বলতে তবে তানভি বিচক্ষন মানুষ মেঘের ভাব দেখেই বুঝে নেয় । তাই বলে উঠে ভাই টাকা নিয়ে কোনো চিন্তা করার কিছু নাই আমি আছি কেউ জানবে না আপনি না হয় বাইরে যাওয়ার পর দিয়ে দিলেন প্লিজ ভাই না করবেন ।
মেঘও কিছুক্ষন চিন্তা করে কথাটা খারাপ না এভাবে মাকে তো আর একা রাখা যায় না মার আপন বলতে সে আর বোন ছাড়া কেউ নেই । তাই সব দিক বিবেচনা করে মেঘ রাজি হয়ে যায় ।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে তারা রুম থেকে বের হয় এবং ভিতরে যা কথা হয়েছে তার কিছুটা গোপন রেখে সবার কাছে বলে যে সে ফ্লাট কিনবে এবং মাকে নিয়ে সেখানেই থাকবে ।
এতেও তাহুর মা রাজি ছিলো না কিন্তু তিনি পরে চিন্তা করে অতি চালাকির সাথে বলে উঠেন যে মেঘ যদি বিয়ে করতে রাজি হয় তাহলে সে ঢাকা যেতে রাজি।
মেঘও চিপায় পরে রাজি হয়ে যায় ।
___________________
বিকেলের দিকে সবাই রওনা দিয়েছে ঢাকার উদ্দেশ্যে।
তাহুর মা-ভাইও যাচ্ছে । ফ্লাট কিনে সব ঠিকঠাক করে তারপর মেঘের জন্য মেয়ে দেখা হবে সবাই আলোচনা করে এটাই ঠিক করে।
আর ওদের এই গ্ৰামের বাড়িটা ভারা দেয়া হবে কিন্তু কখনো বিক্রি করবেন না এবং ভবিষ্যতেও যাতে কখনো তার অবর্তমানে বিক্রি না হয় তাই ছেলেমেয়েকে করা ভাষায় আদেশ দিয়েছেন ।
তাহুর বাবার স্কুলেই দূর এলাকার একজন শিক্ষক আছে তাকেই ভাড়া দেয়া হবে কারণ বাবা বেঁচে থাকতে ঐ শিক্ষকই বলেছিলেন একটা ভালো বাসা খুঁজে দিতে যাতে তার পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে তাই তার সাথে মেঘ ও তানভি গিয়ে কথা বলে এসেছে এবং সামনের মাস শিফ্ট হবে বলে রাজি হয়েছে । তাছাড়া গ্ৰামে হাওলাদার সাহেব আছে তার এতো সম্পত্তির সাথে না হয় তাহুদের বাড়িটারও একটু খোজখবর নিবে । এই প্রস্তাবে হাওলাদার সাহেবও দ্বিমত পোষণ করেননি।
৬২.
তাহুরা ঢাকায় এসেছে আজ দু’দিন হলো । প্রথম দিন তো বাসা থেকে বেরই হতে দেয়নি তানভির মা বাসায় রেখে বলেছে এসেছেন একদিন রেস্ট নিবেন আমাদের আপ্পায়োন করার সুযোগ দিবেন তারপর না হয় অন্য কাজ । অবশ্য মেঘ একবার সাদের সাথে বিকেলে বের হয়েছিলো ফ্লাট দেখার জন্য । কয়েকটা ফ্লাট দেখেছে তার মধ্যে দুইটা পছন্দও হয়েছে । একটা ফ্লাট তো তানভিদের বাসা থেকে খুবই কাছে হেঁটে যেতে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিট লাগবে আর একটা একটু দূরে । এখন শুধু মা বোনকে দেখানোর পালা । যদি পছন্দ হয়ে যায় তাহলে দুটা থেকে একটা কিনে নিবে ।
তাই আজ দুদিনের মাথায় মেঘ সবাইকে নিয়ে যাচ্ছে ফ্লাট দেখাতে । তানভির মা,চাচি ও রিমি আর মেঘের মা-বোন সবাই মিলেই যাচ্ছে । তানভি আসে নাই ওর কাজ পরে গেছে বলেছে সবাই পছন্দ করেনিক আমি না হয় এক টাইমে গিয়ে দেখে নিবো তাই আর কেউ কিছু বলে নাই ।
বাসা থেকে কাছে যে ফ্লাট পরে সেখানেই গেলো প্রথম । ফ্লাটাটা সুন্দর তিনটা বেডরুম সব কাটার সাথে এটাস্ট বাথরুম তাছাড়া বেলকনি , কিচেনরুম এবং লিভিং রুমের সাথে এটাস্ট করা ডাইনিং স্পেস । সবার পছন্দ হয়েছে ।
তাহু তো বলেই দিলো আমি আর ঐ বাসা দেখতে চাই না যদি ফ্লাট কিনে তো এটাই কিনতে হবে ওতো দূরে কখনো সে কিনতে দিবে না । তাই সবাই মনে মনে এটাকেই ফাইনাল করে রাখলো । কিন্তু তারপরেও তো এতো দাম দিয়ে ফ্লাট কিনবে একটা দেখে কি আর কিনবে , কয়েকটা দেখবে যাচাই-বাছাই করবে তারপর না পছন্দসই একটা কিনবে।
তাই তাহুকে মানিয়ে ঐ ফ্লাটাও দেখতে গেলো সবাই । এই ফ্লাটাও সুন্দর আর ঐটার থেকে এটা আরো বরো।
কিন্তু তাহু তো এক কথার মধ্যেই আছে সে তার মাকে এতো দূরে আসতে দিবে না ঐটা ছোট হোক কিন্তু কাছে । মা তার চোখের সামনে থাকবে এটাই বেশি বড় ফ্লাট দিয়ে কি করবে । আর তাছাড়া তার ভাই কি দুই -তিনটা নাকি যে বড় ফ্লাটের প্রয়োজন এই ফ্লাটটা মা ,ভাই এবং ভাই বউয়ের জন্য একদম পারফেক্ট । বাসায় এসেও এরকম হাজারটা যুক্তি দাঁড় করিয়ে দিলো ।
তানভির বাসায় এসে যখন শুনলো তার বউ কাছের ফ্লাটের জন্য সবাইকে নানা ভাবে বুঝিয়ে যাচ্ছে তখন আর কোনো দিকে তাকায়নি এক কথায় এই ফ্লাটের জন্য রাজি হয়ে যায় । পরে তাহুকে এবং মেঘকে নিয়ে গিয়ে সেই ফ্লাট ফাইনাল করে এডভান্সও করে আসে । এবং দুদিন পরে তা কাগজে কলমে বুঝে নিবে ।
তাহু তো সেই খুশি হয়ে যায় তানভিরের প্রতি কোনো দিক না ভেবেই ভাইয়ের সামনে মানবিকে জরিয়ে ধরে।
তানভিও প্রশান্তি পায় বউকে খুশি করতে পেরে। সে জরিয়ে ধরে মাথায় চুমু খায় । মেঘ তা দেখে হাসি দিয়ে অন্য দিকে চলে যায় ওর মনেও শান্তি আসে তার বোন স্বামীর সাথে সুখে আছে ভেবে। সারা জীবন যেনো এমনি করে হাঁসি-খুশি থাকে সেই দোয়াই করে।
চলবে………………
আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছেন সবাই
গল্প দেরি করে দেয়াতে সবাই আগ্ৰহ হাড়িয়ে ফেলছেন জানি । কিন্তু ব্যস্ততার কারণে এতো দিন দিতে দেরি হয়েছে ইনশাআল্লাহ এখন থেকে রেগুলার দেবার চেষ্টা করবো। যাই হোক গল্প শেষ হতে আর বেশি দেরি নাই হয়তো আর কয়েক পর্বের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
সবাই পাশে থাকবে এবং লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করবেন ।সবার প্রতি রইল
♥️ ভালোবাসা♥️





