#আমার প্রিয়_তুমি
#মেহজাবিন_তানিয়া
পর্ব-২৮
৫৪.
তাহু অনেক সময় ধরে কান্না করছে আর তানভি তা বসে বসে দেখছে এমন না থামানোর চেষ্টা করেনি , এ পর্যন্ত কয়েকশ বার বলে ফেলছে আদর করেও বুঝিয়ে ফেলছে , এখন আর সহ্য হচ্ছে না নিজের শরীরের কথা তো চিন্তা করবে , একটু পরেইতো বলবে আমার মাথা ব্যথা করছে তাই সব দিক চিন্তা করে অত্যন্ত কঠোরতার সাথে ধমকে উঠলো।
আর একবার কান্না করবা তো তোমার খবর আছে , কি এমন হয়ে গেছে তোমার বান্ধবী তো এখন ঠিকই আছে দেখলেই তো তোমাকে হেঁটে দেখালো আর আমি তো বললামও নিয়ে যাবো পরের সপ্তাহে গ্ৰামে , তাহলে এতো কন্না করার কি আছে যদি মাথা ব্যথা উঠে না খবর আছে তোমার ।
ধমক খেয়ে এখন চুপ হয়ে আছে কিন্তু চোখ দিয়ে পানি পরছে আর বিরবির করছে আপন মনে-
হুহ সব আমার সাথে আসে , কিছু বলি না তো । আমার কষ্ট হয় না বুঝি , আমার জানটা কত কষ্ট পাইছে আমার জন্য ওর এতো বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে তাহলে তো কান্না পাবেই ।
:
দুপুরের দিকে শিলা এবং মেহু দুজন এক সাথে হয়ে তানভিরের কাছে ফোন দেয় কিন্তু তানভি অফিসে ছিলো বিধায় কথা বলতে পারেনি তবুও মেসেজ করে বলেছে দুঃখিত শালি আমি এখন অফিসে আছি আর আপনার বান্ধবী বাসায় তাই বিকেলে বাসায় গিয়ে ফোন দিবো রেডি থাইকেন।
বিকেলে তানভি বাসায় এসে ফ্রেস হয় তারপর তাহুকে নিয়ে শিলা আর মেহুকে ফোন দেয় তখনো দুজন এক সাথে ছিলো , মেহু গিয়েছিল শিলাকে দেখতে কিন্তু তাহুর সাথে কথা বলবে দেখে আর বাসায় ফিরে যায়নি।
দুই বান্ধবীর সাথে কথা বলার সময় থেকেই কান্না শুরু করছে । ফোন কাটার পরও কান্না থামেনি আর এখনো সেই কান্নাতেই আছে।
তানভি শুধু তাকিয়ে দেখছে তার বউ আস্তো একটা বাচ্চা, কি সুন্দর বিরবির করছে তার সামনে যে তার পতি বসে আছে তার কোনো খবরই নাই হাসি পাচ্ছে কোন পাগলের পাল্লায় পড়লো আবার কষ্টও লাগছে শিলার এক্সিডেন্ট এর জন্য তাহু নিজেকে দায়ী করছে বলে । এ টূকু জিবনে কতো কিছু ঘটে গেলো মেয়েটার কতো কিছু সহ্য করেছে মেয়েটা । এখন আফসোস হয় কেন সে আরো আগে তার কাছে নিয়ে আসলো না , কেন সে তাকে প্রোটেক্ট করতে পারলো না এসব ভেবে মনটা ব্যথিত হয়ে উঠলো । হঠাৎ আনমনা তাহুকে জরিয়ে ধরলো তাহু।
আমার এই ছোট্ট জানটার খুব কষ্ট হচ্ছে , but আই প্রমিজ জান আর কখনো কষ্ট পেতে দিবো না কখনো তোমার চোখে দুঃখের কান্না আসতে দিবো ।
তাহুও জরিয়ে ধরলো নিজ নামের মানুষটাকে বললো কবে নিয়ে জাবেন আমাকে গ্ৰামে ।
নিজের থেকে তাহুকে আলগা করে বললো খুব শিঘ্রই নিয়ে যাবো তোমার রেজাল্টটা দিলেই তারপর এমন ব্যবস্থা করে আসবো যাতে শুধু পরীক্ষার সময় গিয়ে পরীক্ষাটা দিতে পারো আর এই সুযোগে সবার সাথে দেখাও করে আসবে ঠিক আছে ।
হুম ঠিক আছে শক্ত করে জরিয়ে ধরে।
আচ্ছা রেডি হয়ে নাও আমারা আজ বাহিরে ডিনার করবো ।
সত্যি,তাহলে সবাইকে বলে আসি ।
উহুম দাঁড়াও যেতে হবে না তুমি রেডি হও আমি মার সাথে দেখা করে আসি আর বলে আসি । বলেই উঠে চলে গেলো তানভি ।
_________________________
সন্ধ্যার একটু পর দিয়েই বাসা থেকে বের হয় তানভি , তাহু , রিমি আর সাদ তাছাড়া দুই মাকেও বলা হয়েছে কিন্তু তাঁরা যাবে না বলে জানিয়েছেন তাই তারা চার জনেই ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে ডিনারের জন্য রওনা দিলো।
তানভি ড্রাইভ করছে আর পাশে বসে আছে সাদ । তাহু আর রিমি বসেছে পিছনে এরা দুজন যেনো এটাই চেয়েছিলো । পিছনে বসে দুজনে রাজ্যের গল্প জুড়ে দিয়েছে মনে হয় যেনো আশেপাশে আর কেউ নেই ।
সাদ তো বিরক্ত হয়ে কানে ইয়ারফোন গুঁজে বসে রইলো আর তানভি তো ড্রাইভিংএ মনোযোগ দিয়ে রেখেছে যদিও কিছু সময় পর পর তাহুকে খেয়াল করছে।
ভালো নামিদামি রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি থামানো হলো । তানভি ডুকে গেলো প্রথমে ভিতরে তারপর মেনাজারের সাথে কথা বলে সবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে নিজেদের জন্য টেবিল ঠিক করে আবার গাড়িতে ফিরে আসে । ততক্ষনে সাদ আর রিমি নেমে আসে গাড়ি থেকে শুধু তাবু ছাড়া ।
ভিতরে মেনাজারের সাথে কথা হয়েছে গিয়ে বস তরা আমি আরে নিয়ে আসি বলে তাহুকে গাড়ি থেকে বের করে হাঁটা ধরলো ।
তাহু মফেসলের হওয়াতে তেমন একটা আসা হয় না রেস্টুরেন্টে শহরের কোনো রেস্টুরেন্টে তো এই প্রথম আসলো গ্ৰামের ছোটখাটো রেস্টুরেন্টে হাতেগনা কয়েক বার গেছে ।
তাই তাহুর মধ্যে একটা জরতা কাজ করছে । কেমন জেনো তানভিরের গায়ের সাথে লেপ্টে আছে । তানভিও বুঝতে পারে তার প্রিয়ো অর্ধাঙ্গিনী মধ্যে যে জরতা কাজ করছে । তাই তাহুকে নিজের কাছে আরো টেনে নেয় ।
টেবিলে সবাই বসলে পরে ওয়েটার এসে অডার নিয়ে যায় খাবার আসতে দেরি তাই রিমি শুরু দেখো ঐ দিকে প্লেজটা অনেক সুন্দর চলো ভাবি ছবি তুলবো বলে তাহুর হাত টেনে নিয়ে যায় এক কর্নারে ।
ছবি তোলায় তারা এতোই মগ্ন ছিলো ওদের সামনে যে অনন্যা এসে দাঁড়িয়েছে খেয়ালই করেনি। কিন্তু দূর থেকে সাদ দেখতে পেলো অনন্যাকে ।
এখন যদি তানভি ভাই দেখে তাহলেই এই রেস্টুরেন্টে ঝড় বয়ে যাবে তাই খুব কৌশলে উঠে এগিয়ে গেলো ।
সাদ আসার আগেই রিমি আর তাহুর একদম সামনে এসে দাঁড়ালো।
দুজনেই ভুত দেখার মতো চমকালেও রিমি বলে উঠলো আরে অনন্যা আপু তুমি এখানে কখন আসলে আর কার সাথে আসলে ।
কিন্তু অনন্যা রাগে তাহুর দিকে তাকিয়ে আছে যেনো এখনই মেরে ফেলবে।
অনন্যার বাবা তার জন্য ছেলে দেখেছে আর আজ এখানে সেই ছেলের সাথেই দেখা করতে আসছিলো ।
দেখা করে বের হবার সময়ই তাহু আর রিমিকে চোখে পরে।
অনন্যা তাহুর দিকে রেগে আস্তে গেলেই রিমি বলে উঠে দেখো আপু এখানে কোনো ঝামেলা করো না তানভি ভাইয়া কিন্তু আছে সেদিন ভায়ের হাত থেকে বেঁচে গেলেও আজ কিন্তু বাঁচতে পারবে না ।
কথাটা যেনো অনন্যাকে আরো খেপিয়ে তুলে ‘তো কি হইছে তোর ভাইকে কি আমি ভয় পাই ,এই মেয়ের জন্য আমি আমার তানভিকে পাই নাই ওর জন্য ফুপি আমাকে চর মারছে ওকে আমি আজ খুন করে ফেলবো বলে মারতে গেলে সাদ এসে থামিয়ে দেয় আর টানতে টানতে রেস্টুরেন্টে বাহিরে নিয়ে যায় ।
সাদা ছাড় আমাকে আমি আজ ঐ মেয়েকে মেরে ফেলবো । ঐ মেয়ের জন্য আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করছিস।
চুপ একদম চুপ ঐ মেয়ে কি হা ভাবি হয় আমার আর তোমার ভাগ্য ভালো তুমি আমার বরো বোন হও নাহলে এতোক্ষণে থাপরিয়ে তোমার গাল লাল করে দিতাম । তানভির ভাই আজ এখানে আছে তোমাকে বাঁচিয়ে দিলাম পরে যদি ভাবির আসেপাশে দেখি না আমি নিজে ভাইকে সব বলে দিবো । এখন এখান থেকে সোজা বাসায় যাবা এই দিকে যেনো তোমাকে আর না দেখি তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে বলেই একটা রিকশা ডেকে জোর করে উঠিয়ে দিলো বাসা ছাড়া যেনো অন্য কোথাও না নামায় তাই রিকশাওয়ালাকে হুমকিও দিয়ে দিলো ।
কিন্তু যাওয়ার আগে অনন্যা ঠিকই বলে গেলো কত দিন বাঁচাবে এই মেয়েকে আমিও দেখবো ।
উফ এই মেয়ে জিবনেও ঠিক হবে না আল্লাহ এরে একটু সৎ বুদ্ধি দেও বলে রেস্টুরেন্টের ভিতরে চলে গেলো।
৫৫.
তাহু এখন তাদের গ্ৰামে ঢোকার আগে যে বাজারটা আছে সেখানে গাড়ির ভিতর ঘুমিয়ে আছে । কারন কান্না করে ক্লান্ত হয়ে গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েছে, তার সাথে তার পুরো শশুর বাড়ির মানুষও আছে ।
সকালে হঠাৎই ফোন আসে তাহুর দাদির অবস্থা খুবই খারাপ , তাহুর দাদি ছেলের বিয়োগে যেনো দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছে হয়তো তিনি বেঁচে থাকতে ছেলের এমন অকাল মৃত্যু তাকে ভিতর থেকে নিঃশেষ করে দিয়েছে । তাই তো ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়তেন । কিন্তু এবার যেনো অবস্থাটা আগের তুলনায় কয়েক গুন বেশি খারাপ দেখে মনে হয় যে কোনো সময় খারাপ সংবাদ শুনতে পারে সবাই ।
তাহুর মা সারাক্ষন শাশুরীর সেবায় নিয়োজিত আছেন কিন্তু তারও তো মনের অবস্থা ভালো না স্বামী বিয়োগ তাকেও ভিতর থেকে ভেঙ্গে দিয়েছে তবুও শাশুড়ির যত্মের কোনো কমতি রাখছেন না।
:
:
তানভি আর সাদ অনেকক্ষন হলো বাজারে ঢুকেছে । তানভি বিয়ের পর এই প্রথম শশুর বাড়ী যাচ্ছে খালি হাতে কি আর যাওয়া যায় তারমধ্যে দাদি শাশুড়ি অসুস্থ তাহুকে দিয়ে ফোন দিয়ে জেনে নিয়েছে এই সময় কি খেতে চায় বা কি কি খেতে পাড়ে । সেসবই কিনছে । বাজারে মত রকম ফল পেয়েছে সব নিয়েছে।
তাছাড়া মিষ্টি-দইও নিয়েছে । সবার জন্য শপিংও করেছে ঢাকা থেকেই।
তাহু ঘুমে বলে রিমি আর মাকে তাদের গাড়িতে তাহুর পাশে বসিয়ে রেখেছে । তানভির বাবা আসে নাই তিনি এখন আউট অফ ঢাকা আছে । চাচা-চাচি , মা ,রিমি,সাদ সবাই এসেছে।
অনেক সময় পর বড় বড় ব্যগ ভরে জিনিস পত্রের এনে দুই গাড়ির ঢিক্কি ভর্তি করে ফেলছে । একে একে সব জিনিস গাড়িতে উঠিয়ে আবার রওনা দেয় তাহুদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
তাহুর একটু আগে ঘুম ভেঙ্গেছে গাড়ির ঝাঁকুনিতে, উঠে দেখে চলে আসছে তার সেই চিরচেনা গ্ৰামে । যে গ্ৰাম থেকে কয়েক মাস আগে কত হেনস্তা হয়ে তানভির নামে কবুল বলে বিদায় নিয়েছিলো ভাবতে ভাবতে আবার চোখ ঝাপসা হয়ে যায় তাহুর ।
পাশে বসে বউকে আবার কান্না করতে দেখে মনে মনে বলে উঠে এই মেয়ে এতো কি করে কান্না করতে পাড়ে।সাথে এটাও বুঝতে পারে যে পুরনো স্মৃতি মনে করে কান্না করছে । কারণ স্মৃতি গুলো তো আর সুখময় ছিলো না ।
চলবে……….
আসসালামুয়ালাইকুম
সবাই কেমন আছেন । আগেই বলছি কেউ আবার কবাটাকা দিয়েন না , জানি অনেকেই রেগে আছেন আমার উপর গল্প দেই নাই বলে কিন্তু কি করবো বলেন সবারই পার্সোনাল লাইফ আছে আর সেই লাইফে অনেক কিছুই ঘটে । আমি একদমই সময় পাই নাই আর লেখার মন মানসিকতাও ছিলো না । তাই হোক সব কিছুর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী । ইনশাআল্লাহ কালও গল্প পাবেন





