#আমার_প্রিয়_তুমি
#মেহজাবিন_তানিয়া
পর্ব-২৬
৫১.
রাত এগারোটা এখনো তানভি রুমে ঢুকেনি বারান্দায় বসে আছে ।
খাটের উপর রাখা ফাইল,ভাঙ্গা কাঁচের জগের টুকরো সব পরিষ্কার করে বসে আছে কিন্তু তানভিরের কাছে তার জাবার সাহস পাচ্ছে না ।
শুধু আমার সাথে রাগ দেখায় আমি কি করছি , আমি কি বলছি অনন্যা আপু যাও তানভি এখন একা আছে গিয়ে তার সাথে প্রেম করো।
হুহ থাকুক রাগ করে আমার কি । দেরি করতে করতে রাত সাড়ে এগারোটা বেজে যায় তাহু বার বার ঘড়ির দিকে দেখছে । নাহ আর বসে থাকা যায় না ঘুম পাচ্ছে । ধীর পায়ে বারান্দা দরজার কাছে যায় ।
তানভি এক হাতে রেলিং ধরে আছে আর অন্য হাতে সিগারেট এর ধোয়া উরছে এক মনে আকাশে দিকে তাকিয়ে আছে।
ঘুমাবেন না রাত অনেক হয়ে গেছে তো আস্তে করে বলে উঠে।
হাতে থাকা ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকা বস্তুটা বাহিরে ছুড়ে চোখ-মুখ শক্ত করে ঘুরে দাঁড়ায় তানভি।
ভয়ে দু-কদম পিছিয়ে আ-আমি কি করছি?
জট করে জড়িয়ে ধরে তাহুকে এতো ভয় কেন আমি কি বাঘ । বলে পাশে রাখা চেয়ারে বসে বলে।
কাছে আসো ।
আপনি বকবেন না তো ?
আমি কি শুধু বকি তোমাকে?
তাহু মাথা নিচু করে নেয় কথাটা শুনে।
কই আসলা না কাছে , আসো ।
দরজা থেকে সরে তানভির কাছে যায় ।
হঠাৎ হাত টেনে কুলে বসিয়ে দেয় তাহুকে ।
মাথা গরম ছিলো কিন্তু তাই বলে আসতে এতো দেরি করবে , কখন থেকে একা একা দাঁড়িয়ে আছি । বলে বুকে মাথা রেখে গলায় মুখ ডুবালো।
একটা জিনিস চাইবো দিবা?
ক-কি বলেন ?
স্লো বয়েজে বললো তোমার অস্তিত্বে আমার অস্তিত্ব বিলীন করতে চাই দিবা আমাকে। প্লিজ তাহু আই জাষ্ট নিড ইউ ।
তাহুর শরীর কেঁপে উঠলো দম বন্ধ করে তানভির পরনের গেঞ্জি খামচে ধরলো। কিন্তু মুখে কিছু উচ্চারণ করতে পারলো না ।
কিছু প্রহর বাদে তানভি বলে উঠলো চলো ঘুমাবো সকালে অফিসে জেতে হবে বলে উঠতে নিলে তাহু উঠতে দেয় না ।
আমতা আমতা করে হঠাৎ চোখ বন্ধ করে তানভির কপলে চুমু দিয়ে মিনমিনিয়ে বলে অপেক্ষা করছি রুমে আসেন বলে এক মিনিটও দেরি না করে রুমে চলে গেলো।
:
:
তানভিরের অনুভূতি শূন্য হয়ে পড়েছে । ভিতরে চলছে ঝড় আর বাহিরে বরফের ন্যায় ঠান্ডা । প্রবল উত্তেজনা সহিত স্থান ত্যাগ করে রুমে প্রবেশ করলো । মুখের ভাব সম্পূর্ণ স্বাভাবিক কিন্তু নিষিদ্ধ কামনা গুলি উঁকি দিচ্ছে।
তাহু রুমে ঢুকেই নিজেকে চাদরে মোড়িয়ে নিয়েছে । খাটের নিজ স্থান দখল করে শুয়ে আছে।
তা দেখে তানভির ঠোঁটে বাঁকা হাসির রেখা বিদ্যমান । প্রথমে নিজের পরনে বস্ত্র এক টানে খুলে নিলো তারপর লাইট অফ করে ধীর পায়ে খাটে গিয়ে নিজ স্থানে শুয়ে পড়লো।
চারদিক পিনপতন নীরবতা ছেয়ে আছে । হঠাৎ বাহিরে বাতাসের বর্ষন যেনো উতলা হয়ে উঠে ঘরের পর্দা গুলো তারই প্রমান দিচ্ছে ।
পাশ ফিরে আস্তে বললো – তাহু আরো সময় লাগবে ?
কথাটা তাহুকে পাশ ফিরে তাকাতে বাধ্য করে । দেখে তানভি ওর দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে ।
স্বামী নামক প্রেমিক পুরুষের এই চাহনি ফিরিয়ে দেবার সাহস করলো না । সম্পূর্ন ঘুরে তানভিকে জড়িয়ে ধরল।
আর তানভিও যেনো এই সমান্য ইঙ্গিতেরই অপেক্ষায় ছিলো । নিজেও জড়িয়ে নিলো অর্ধাঙ্গিনীকে সম্পূর্ণ নিজের করার জন্য । ভালোবাসার পূর্ণতার সাক্ষী পেলো রাতের আধার ও বাহিরের ঝড় হাওয়া।
৫২.
রুমের ফ্লোরে তোশকে শুয়ে আছে অনন্যা ,খুব ভোরেই ঘুম ভেঙ্গে গেছে । কিন্তু তারপরও ফ্লোরে শুয়ে আছে।
রাতে তানভির রুম থেকে বের হয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে নিজের জন্য যে রুম বরাদ্দ সে রুমে গিয়ে তুলকালাম কাণ্ড করে বসে । সব জিনিসপত্র এদিক ওদিক ছুড়া -ছুড়ি করেছে । সিঙ্গেল খাটের তোশক – চাদর সব নিচে নামিয়ে ফেলে জিদের মাথায় । কিন্তু যখন ঘুমাতে যায় তখন দেখে কি করেছে সে তাই রাগে – দুঃখে এবং অলসতার কারনে নিচেই শুয়ে পড়ে।
শুয়া থেকে উঠে রুমের অবস্থা দেখে নিজেই নিজেকে গালি দিতে থাকে না সে এতো রাগ দেখাতো আর না সে রুমের এই অবস্থা করতো এখন সব নিজের গুছাতে হবে না হলে সবাই যে জেনে যাবে।
______________________
সকালের নাস্তা সময় সবাই চলে আসছে কিন্তু তানভি আর তাহু এখনো আসে নাই ।
রিমি উপরে তাকিয়ে দেখে অনন্যা নিচে নামছে । পাশে থাকা সাদকে খুচা দিয়ে বললো সাদ ভাই দেখো আসছে ম্যাডামে । তানভি ভাই যদি দেখে এটায় এখনো যায় নাই তাহলে তো আবার হাংগামা হবে । আমার তো মন চাইতেছে নিজেই ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দেই।
হুম ঠিক বলছিস এটা আমার মামাতো বোন আমার বলতেই লজ্জা লাগছে, মামা যে কি খাইয়া এই বেহাটাকে জম্ম দিছে আল্লাহ জানে।
এই তোরা কখন থেকে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুসুর ফুসুর করছিস। যা গিয়ে টেবিলে বস খাবার দিচ্ছি।
অনন্যা এসে কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা টেবিলে বসলো । তানভিরের মাকে দেখে বলে উঠলো আন্টি কাল রাতের জন্য সরি আসলে আগে তো তানভিরের রুমে যখন খুশি তখন যেতাম তাই ভুলে চলে গিয়েছিলাম।
অনন্যা দেখো আগে একা ছিলো এখন ও আর একা নেই তাই যখন তখন ওর রুমে না যাওয়াই ভালো তোমার জন্য।
কথাটা শুনে অনন্যা ভিতরে ভিতরে ফুঁসে উঠে কিন্তু মুখে বললো জি আন্টি আর হবে না।
তার কিছুক্ষন বাদে তাহুও নেমে রান্নাঘরে গিয়ে ঢুকে , আ-আন্টি আমি খাবার গুলো নিয়ে যাই টেবিলে।
তানভিরের মা কিছু বলার জন্য মুখ খুলে কিন্তু তার আগেই চাচি বলে উঠে হে হে যাও ঐ যে দেখো সব কিছু রেডি করা আছে।
:
:
একে একে সব কিছু টেবিলে এনে রাখছে আর অনন্যা তাহুকে ঘুরে ঘুরে দেখছে ।
কাজ করার ফাঁকে তাহুর মাথার কাপর সরে গেলে অনন্যার যেনো অন্তর-আত্মা জলে উঠলো। তাহুকে দেখেই বুঝা যায় তানভি কতটা পরিপূর্ণ করে রেখেছে । ভেজা চুল শরীরে ভালোবাসার চিহ্ন তাহুর রুপের পূর্ণাঙ্গ দৃশ্য পেয়েছে। আর এই রুপ যেনো অনন্যার ভিতরের হিংশ্রতাকে আরো বাড়িয়ে তুলছে ।
চলবে……………….
❎কপি করা নিষেধ ❎





