কেউ কোনোদিন জানবে না পর্বঃ৪

কেউ কোনোদিন জানবে না পর্বঃ৪
#Tasfiya Nur

সকাল সাতটা বাজে প্রায়
ড্রয়িং রুমে ছুটোছুটি করছে রুহাশ তার পিছনে ছুটছে রুহাশা হাতে খাবারের বাটি।কয়টা দিন হলো রুহাশের প্রতি যত্ন নেওয়া হয়না তার এজন্য আজ সকাল সকাল উঠেই রুহাশের দিকে ধ্যান দিয়েছে সে।মা ছেলের এই ছুটোছুটি সোফায় বসে দেখছে আরিফা আর নুডলস খাচ্ছে।রান্নাঘরে মিসেস সায়লা আর শারমিন রান্না করছে, তাদের হেল্প করতে গিয়েছিলো আরিফা কিন্তু নতুন বউ তাই জোর করেই রান্নাঘর থেকে পাঠিয়ে দেন তারা। রায়হান এখনও ঘুমোচ্ছে। দাদীর বাতের ব্যাথা বাড়ায় নিচে নামেননি উনি।রাতুল আর রাত্রীয়া কেউ উঠেনি এখনও।
ঠিক এই সময়ে হাজির হয় পুরো আহমেদ পরিবার,বাদ যায়নি মিঃ জাহিদুলও। তিনি যে এই রহমান ভিলার মানুষ গুলোকে অপছন্দ করেন এটা সবাই ই জানে তবুও আজ মেয়ের জন্য এসেছেন তিনি।তাদের দিকে রুশার খেয়াল না থাকলেও আরিফার হাতে থাকা ফাকা নুডলসের বাটিটা পরে যায় মেঝেতে কার্পেট বিছানো থাকায় ভাঙেনি কিন্তু চামচ আর বাটির ঝনঝন শব্দে রুহাশকে ধরে কোলে নিয়ে আরিফার দিকে তাকায় সে,আরিফা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে, মেইন দরজা সকালে বাগানে পানি দিয়ে আসার পর বন্ধ করা হয়নি তাই সবাই হুড়মুড়িয়ে ভিতরে আসতে পেরেছে।আরিফার দৃষ্টি অনুসরণ করে রুশা দরজার দিকে তাকিয়েই থমকে যায়, তার সামনে দাড়িয়ে আছে তার প্রাক্তন প্রেমিক আর তার পরিবার।কেমন যেন হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে আছে সে।সবাইকে এভাবে এত সকালে দেখবে আশা করেনি আসবে এটা জানতো তাই বলে সকালে। এতে একটু অবাকই হয় সে।রাতে ফোন ধরে কথা না বলায় একটা টেক্সট করে দিয়েছিলো যে তাদের মেয়ে এই বাড়িতে আছে সাথে ঠিকানা দিয়ে দিয়েছিলো।তাই এই মানুষগুলোর আগমন। রিজভীও একটু করুণ চোখে তাকিয়ে আছে রুশার দিকে। শাড়ি পড়ে কোলে একটা বাচ্চাসহ দেখে তার বুকের ভিতর ধুকপুক শুরু হয়েছে, তবে কি রুশা বিয়ে করে নিয়েছে? মাথার ভিতর একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে।
সেদিন ছিলে থ্রিপিস পড়া উচ্ছল কিশোরী এখন হয়েছো শাড়ি পরা পূর্ণ যুবতী তাও একজন বাচ্চার মা।এমন একটা পরিবার আমারও হতে পারতো রুশা তুমি সাথে থাকতে কিন্তু উপরওয়ালা বোধ হয় চায়নি।যার জন্য দেখোনা আজ তোমার কাছে আমি অপরাধী।
কথাটা আনমনে ভেবে উঠে রিজভী।

ড্রয়িং রুমে কেমন শুনশান নিরবতা,মনে হচ্ছে বাড়িতে কেউ থাকেনা। বড় সোফাটায় বসে আছে রিজভী পাশে তার বাবা মা আর বোন।দুই পাশের সিঙ্গেল সোফা দুটোর একটাতে বসে আছে রায়হান অন্যটাতে রুশার মা সায়লা। তাদের সামনে রুশার হাত শক্ত করে ধরে ফাসির আসামীর মতো মুখ করে দাড়িয়ে আছে আরিফা। তাদের পাশে দাড়িয় আছে রাতুল।রুহাশকে দাদীর কাছে রেখে এসেছে সে।এর মাঝেই মিসেস শারমিন ট্রে তে করে নাস্তা ফলমূল নিয়ে এসে রাখলেন টি টেবিলে পিছনে রাত্রীয়া কফির ট্রে এনে রাখলো।সবার দিকে কফি এগিয়ে দিয়ে সরে আসেন মিসেস শারমিন।কফির মগটা আবারও টেবিলে রেখে মিঃ জাহিদুল থমথমে গলায় বলেন,
আমরা এখানে কফি খেতে আসিনি,আমাদের মেয়েকে নিতে এসেছি।
ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন আঙ্কেল আপনার মেয়ে আমাদের বাড়ির বউ, তা কোন হিসেবে নিয়ে যাবেন আপনি?হয়তো এটা বলতে পারেন আমাদের বাড়ির বউ হওয়ার আগে আপনার মেয়ে। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর ঘর সব এটা তো আপনিই আমাকে একদিন বলেছিলেন তাইনা?
রিজভীর দিলে শান্ত গলায় কথাগুলো বলে রুশা।তার কথায় চমকে রুশার দিকে তাকায় রিজভী।অতীতের পাতা কেন টানছে রুশা। রিজভীর চোখেমুখে স্পষ্ট বিস্ময় দেখতে পাচ্ছে রুশা।রিজভীর বাবার থমথমে মুখ যেন আরও থমথমে হয়ে যায় স্বামীর মুখের উপর কিছু বলতে পারেন না মিসেস শিরিন তাই চুপ করে দেখে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই তার। জারিফা আর রিজভীও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে উত্তরের আশায়। মিসেস সায়লা আর শারমিন চিন্তায় ভেতরের ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছেন তার মেয়ে না আবার কোন পাগলামি করে।মেয়েটার রাগ যেন আকাশচুম্বি। আল্লাহকে ডেকে যাচ্ছে শুধু। বাকিরা শুধু নিরব দর্শক হয়ে দেখে যাওয়া ছাড়া কিছু করার আছে বলে মনে হয়না
কিছুক্ষণ নিরব থেকে বলেন,
হ্যা কিন্তু এটাও হয়তো জানো তুমি রুশা ইসলামে বাবা মায়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে হলে সেই বিয়ে বিয়ের পর্যায়ে পরে কিনা আমার সন্দেহ!
জি আঙ্কেল আমি জানি কিছুটা। তাই কাল রিসেপশন রেখেছি আর সেখানে নতুন করে বিয়েও হবে সো আপনারা সানন্দে উপস্থিত হলে কৃতজ্ঞ হবো।আর আপনার মেয়ের ভালোবাসা আমার ভাই। তাই মেয়ের ভালোটাও একটু চিন্তা করবেন। রইলো বাকি যদি আপনার মেয়ের জন্য আমার ভাই যোগ্য কিনা এই প্রশ্ন তুলেন তাহলে বলবো আপনার মেয়ের জন্য আপনি যেমন ছেলে চান টাকা পয়সা গাড়ি বাড়ি আল্লাহর ভাষা রহমতে আমি সবই করেছি। আর সেগুলোর দায়িত্ব আমার ভাইকে আপনার মেয়ের সামনে বুঝিয়েও দিয়েছি। তাই আপনার আপত্তি থাকার কোনো রিজন দেখছিনা আর রিজন ছাড়া আমার ভাইকে অগ্রাহ্য করার অপশন আমি দেখছিনা।
একদমে কথাগুলো বলে থামে রুশা।রায়হান তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে তার ছোট্টো বোনটা কত বড় হয়ে গেছে। শান্ত মাথায় সব সামলাতেও শিখেছে। কথাটা ভাবতেই ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটে উঠছে।মিঃ জাহিদুল রুশার কথা শুনে তিনি তার মেয়ের দিকে তাকান। মেয়েটা তার দিকে জলভরা চোখে তাকিয়ে আছে,চোখেমুখে আকুল মিনতি সব মেনে নেওয়ার।শতহোক মেয়ে তো তাও আদরের বড় মেয়ে আরিফা তাই গোপনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকায় ছেলের দিকে স্ত্রীর দিকে তারাও যেন আকুল আবেদন জানাচ্ছে সব মেনে নিতে।
ছেলের জীবন তো নষ্ট করেই ফেলছি যার ফলস্বরুপ ছেলে এখনও বিয়ে করলোনা বয়স বত্রিশ এর কোঠায় গিয়ে পৌছালো।মেয়ের জীবনটা না হয় সাজিয়ে দেই। এটা মনে মনে ভেবেই তিনি উত্তর দেন,
আচ্ছা ঠিক আছে কাল তাহলে সব নিয়ম মেনে নতুন করে হোক সব শুরু।
রিজভীর বাবার কথায় সবাই খুব খুশি হয়।আরিফা গিয়ে দৌড়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বসা অবস্থাতেই।মিসেস সায়লা সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠেন,
আমি তাহলে রান্না করি সকাল সকাল এসেছেন সকালের ব্রেকফাস্ট আর দুপুরের খাবারটা এখানে খেয়ে যাবেন আপনারা। আর হ্যা কাল আপনাদের আত্মীয় স্বজন যাদের ডাকা প্রয়োজন সবাইকে নিয়ে আসবেন কিন্তু।
মিসেস শিরিন আপত্তি জানায় এতকিছু না করতে কিন্তু তার কথায় পাত্তা না দিয়ে তিনি চলে যান রান্না করতে।কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস লাগতো রায়হানকে বাজারে পাঠিয়ে দেন তিনি।রাতুল আর রাত্রীয়া বাড়িতে চলে যেতে চাইলে বাধা দেয় রুশা কিন্তু ওরা না শুনেই চলে যায়। যাওয়ার আগে রুশা জোড় করেই ব্রেকফাস্ট টা করিয়ে দেয়।জারিফা আর রিজভী আরিফার রুমে গিয়ে বসে আছে।
মিসেস শিরিন আর জাহিদুলকে গেস্ট রুমে ফ্রেশ হতে দিয়ে এসেছে রুশা।তারপর নিজে রুহাশকে নিয়ে চলে যায় ছাদে।কলেজ থেকে ছুটি নিয়েছে সপ্তাহের পুরোটা।আপাতত তার কাজ ঐ লোকটাকে খুজে বের করা যে তার এনজিও-র পিছনে পরেছে আর ভাইয়ের সবটা ভালোভাবে সেট করে দেওয়া।যেন ভাইয়ের সংসার জীবনে অশান্তি না হয়।ছোট্ট রুহাশকে কোলে নিয়ে পিঠে আস্তে আস্তে চাপর দিয়ে ঘুম আনানোর চেষ্টা করতে করতে ছাদের এমাথা ওমাথা হাটছে আর এসব ভাবছে রুশা।

রাশহানের রুমের সাথে এডজাস্ট করা ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আছে রিজভী। ভাবছে রুশার কথা হাসিখুশি চঞ্চল মেয়েটা কেমন শান্ত আর ম্যাচিউর হয়ে গেছে। আগে একটা কথা কনভিন্স করানোই ছিলো যুদ্ধ জয় করার মতো আর এখন নিজেই সবটা সামলাচ্ছে।ভাবতেই ঠোটের কোনে ফুটে উঠে ঠোঁট প্রশস্ত করা হাসি।মেয়েটা এখনো বিয়ে করেনি, বাচ্চাটা রাস্তা থেকে তুলে এনে মানুষ করছে রুশা,কথাগুলো আরিফার থেকে জেনেছে রিজভী।অথচ নিজেই বাচ্চার আবভাভ ছাড়তে পারেনি একসময়।সময় কতটা বদলে দেয় মানুষকে।না কথাটা ভুল মানুষ বদলে না ব্যবহারটা বদলে যায়।মেয়েটা তাকে বলেছিলো একসময় রিজভী ছাড়া কেউ তার জীবনে ঠায় পাবেনা। মেয়েটা নিজের জিদ পালন করছে কিন্তু এভাবে তো জীবন চলেনা।পুরো জীবন পরে যেভাবেই হোক নিজের অপূর্ণতার জন্য রুশার জীবন কেন নষ্ট করবে যেটুকু নষ্ট করেছে এবার না হয় সবটা নিজ হাতে সাজিয়ে দিক।
কথাগুলো মাথাতে ঘুরপাক খেতেই একরাশ বিষন্নতা ঘিরে ধরে রিজভীকে।রুমে এসে তাকায় জারিফার দিকে একমনে ফোনে গেমস খেলছে সে।কিছু না বলে ড্রয়িং রুমে এসে চলে যায় ছাদে। ভালো লাগছেনা তার কিছু। রুশাকে দেখে তার বুকফেটে কাদতে ইচ্ছে করছে কিন্তু ছেলেতো কারো সামনে চোখের জল দেখাতে পারেনা। কিন্তু কেন ছেলেদের জন্য এই নিয়ম কেন হবে, ছেলেরা কি মানুষ না ওদের কষ্ট কি থাকতে নেই।ভেবে পায়না রিজভী।নিজেকে হালকা করতেই ছাদে আসে সে।কিন্তু সেখানে যে তার নয়টা বছর ধরে ভালোবেসে আসা মানুষটার দেখা পাবে ভাবনায় ছিলোনা তার।অবাক চোখে তাকিয়ে পা বাড়ায় ছাদের রেলিং ঘেসে দাড়িয়ে থাকা মানবীর দিকে যার কাঁধে মাথা রেখে একটা বাচ্চা পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। পৃথিবীতে মনে হয় এটাই বেস্ট মোমেন্টস হয় যেখানে মা আর সন্তান সময়টা কাটায়।নিশব্দে রুশার পিছনে গিয় দাড়িয়ে জিগাসা করে,
কেমন আছো রুশা?
আনমনে আকাশ দেখছিলো রুশা।এতবছর পর রিজভীকে দেখে তার ভিতরটা রীতিমতো জ্বলে যাচ্ছে চাপা যন্ত্রণায়।তাই এখানে এসে সবার থেকে আলাদা হয়ে দুঃখবিলাস করতে মত্ত সে।কিন্তু এর মাঝেই পরিচিত কন্ঠটা শুনে মনের মাঝে একটা হী শীতল বাতাস প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে তার।পিছন না ফিরেই মলিন স্বরের উত্তর দেয়,
যেমনটা রেখে গিয়েছিলেন তেমনটা আমি থাকিনি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।আপনি কেমন আছেন?
আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ রেখেছে ভালো।তা দিনকাল কেমন চলছে এখন?
আলহামদুলিল্লাহ মিঃ রিজভী যেমনটা এক্সপেকটেশন ছিলো তার থেকে অনেক বেশিই ভালো।
রিজভীর দিকে ফিরে চোখে চোখ রেখে কথাটা বলে রুশা। রুশার চাহনীতে মনের মাঝে ঝড় বইছে রিজভীর,ইচ্ছে করছে রুশাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কিন্তু সে পারবেনা সেই অধিকার সে চারবছর আগেই হারিয়েছে।তাই শান্ত হয়ে জিগাসা করে,
বাচ্চাটার নাম কি?
রুহাশ রহমান।
ওহ আচ্ছা।
কথাগুলো শেষ করেই আবারও একরাশ নিরবতা ঘিরে ধরে দুজনকে। দুজন দুদিকে ফিরে দাড়ায়।অথচ একসময় রাতের পর রাত মুঠোফোনের আড়ালে চলতো কথা দেখা হলে একেঅপরের হাত আকড়ে ধরতো।ভাবতেই মন খারাপের ভাবনা গুলো জড়িয়ে ধরে দুজনকে।কিছুক্ষণ এভাবে কেটে গেলে রুশা রিজভীর দিকে ফিরে প্রশ্ন করে,
কেন ঠকিয়েছিলে রিজভী? আমার ভালোবাসায় এতটাই কমতি ছিলো?
রিজভী রুশার প্রশ্নে চকিতে তাকায় তার দিকে তারপর মাথাটা নিচু করে নেয়।এরপর কাঁপা গলায় বলে,
আমি অপরাধী রুশা, আমি কেন ঠকিয়েছি তা কেউ কোনোদিন জানবে না কারণ দোষ আমার কমতি আমার।আমি আমার আপন মানুষকে সবার সামনে ছোটো করতে চাইনি।সে যে আমার, যাই হোক বাদ দাও শুধু একটা অনুরোধ রাখবে লাইফে মুভ ওন করো। ভালো আছো এমনই থেকো আসি।
কথাগুলো একনিঃশ্বাস এ বলে হনহনিয়ে চলে যায় রিজভী।রুশা সেখানেই হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে থাকে।ভাবছে রিজভীর কমতি মানে কি?কে আপন মানুষ যে তার থেকেও ইম্পরট্যান্ট ছিলো।প্রশ্ন হাজার উত্তর শূন্য।

সেদিনের পর কেটে গেছে একটা সপ্তাহ, মাঝখানে হয়ে গেছে রিসেপশন।কিন্তু রুশা কোথাও রিজভীকে দেখেনি রিজভীকে।আরিফার থেকে জানতে পারে এখানে নতুন করে হসপিটালে জয়েন হয়েছে সে কাজ নিয়েই ব্যস্ত। এখন রায়হান যায় ব্যবসার জায়গায়। আর রুশা কলেজ আর নিজের এনজিও নিয়েই ব্যস্ত।ইনজুরিড বাচ্চাগুলোকেও নিয়মিত সময় দিয়ে সুস্থ করেছে রুশা।এসবের মাঝে তার মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে রাতুলকে বলা ইনফরমেশন বের করার কথা।পথশিশুদের জন্য কিছু করতে পারলে অনেক শান্তি পায় সে।যতটুকু পারে করে যাচ্ছে।আমাদের চারপাশে এমন হাজারও পথশিশু আছে যাদের জন্য দশ টাকারও কিছু করতে পারলে তাদের মুখে ফুটে উঠে এক চিলতে হাসি যার মূল্য মনে হয় পুরো পৃথিবীর বিনিময়েও হবেনা।আমরা যাি একটু সাহায্যের হাত বারাই এমন হাসি আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাবো।কিন্তু এসবের দিকে আমাদের সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষের খেয়াল নেই সবাই সবার লাইফ নিয়ে বিজি।কলেজে ক্লাস শেষ করে গাড়ি চালিয়ে একটা কফিশপে যাচ্ছে সে উদ্দেশ্য রাতুলের সাথে দেখা করা।এরমাঝেই এসব আনমনে ভাবছিলো সে।
গাড়িটা গন্তব্যে থামিয়ে দ্রুত পা চালিয়ে যায় ভিতরে।সেখানে দেখতে পায় রাতুল এক কোর্নারে বসে আছে কফি হাত।সেদিকে গিয়ে রাতুলের সামনে বসে তারাহুরা করে বলে,
দ্রুত যা ইনফরমেশন পেয়েছিস বল, আমার বাসায় যেতে হবে।
রাতুল রুশার তারাহুরা দেখে চোখ ছোটো ছোটো করে তাকিয়ে বলে,
একেতো দেরি করে আসলি আবার তারাহুড়া দেখাস উস্টা চিনিস খাবি?
বাজে কথা বন্ধ কর আসল কথা বল!
বিরক্তিকর চোখে কথাটা বলে রুশা কিন্তু এর প্রতিত্তোরে এমন কিছু শুনবে তার আশা ছিলোনা?

চলবে?
(আসসালামু আলাইকুম ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here