গোধূলী_আকাশ_লাজুক_লাজুক (পর্ব-৯) সিজন ২

#গোধূলী_আকাশ_লাজুক_লাজুক (পর্ব-৯)
সিজন ২
লেখক— ইনশিয়াহ্ ইসলাম।

১৮.
তনুশ্রী এলো হাতে ক্যামেরা নিয়ে। ইরফানকে দেখে ক্ষানিকটা চমকায়। মেহজা তাকে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। বলে,
-‘এসেছ? চলো চলো! এখনও অনেক জায়গা ঘুরে দেখিনি। সেখানে যাই।’
ইরফান বলল,
-‘চলে যাচ্ছো?’
-‘আসলে ভাইয়া আমরা ছবি তুলব তো।’
-‘এই ক্যামেরায়?’
তনুশ্রী জবাব দিল-
-‘হ্যাঁ।’
-‘আমার কাছে আরো ভালো মডেল আছে। ওয়েট করো আমি তোমাদের ছবি তোলার ব্যবস্থা করছি।’
-‘তার প্রয়োজন নেই, আমারটা দিয়েই তুলব।’
-‘সেটা তো তুলবেই, আমি বলছি আরেকটু বেটার কোয়ালিটির ক্যামেরায়ও কিছু তোলো।’

ইরফান বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। হাত বাড়িয়ে ডাক দেয়,
-‘তানভীর! এদিকে আয় তো!’
তখনিই একটা ছেলে ছুটে এলো। ছিপছিপে গড়নের বেশ লম্বা এক ছেলে। গায়ের রঙ তামাটে, ঝাকরা চুল, মজার ব্যপার সামনের একটি দাঁত নেই। তাই একটু অন্য রকম লাগছে। অবশ্য নেই বললে ভুল কিছুটা ভেঙে গেছে। কিন্তু দাঁত কীভাবে ভাঙল? মা’র’পি’ট করে নাকি! মেহজা মনে মনেই ভাবে। তবে কিছু বলেনা।
-‘ওদের সুন্দর করে ছবি তুলে দিবি। আর দেখে শুনে রাখিস। অনেক বহিরাগত আছে।’
-‘ভাই চিন্তা করবেন না। আমি আর আসিফ আছি।’
-‘আমি তবে গেলাম। তোমরা থাকো।’
তনুশ্রী আর মেহজাকে বলে ইরফান চলে গেল। তনুশ্রী মনে মনে খুশিই হলো। যাক! কষ্ট করতে হবে না আর। ক্যামেরম্যান আছে এখন সাথে। তবে মেহজা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ইরফানের হঠাৎ কী হলো? মেহজা লজ্জা আর সংকোচে দূরে দূরে থাকতে চাইছিল আর লোকটা কীনা নিজে থেকে এসে কথাও বলে গেল। আবার যাওয়ার সময় ওদের খেয়াল রাখার কথাও বলল। আনমনেই সে হেসে দেয়। তখনিই মুখে ফ্ল্যাশলাইটের আলো পড়ে আর ক্লিক করে শব্দ হয় একটা। মেহজা তাকাতেই তানভীর নামের ছেলেটা হেসে বলল,
-‘ছবিটা সুন্দর আসছিল আপু। তাই তুলে ফেলেছি। রাগ করবেন না।’
মেহজা কিছুটা বিরক্ত হয়েছে বটে তবে সত্যিই রাগ করেনি। সে হেসে বলল,
-‘সমস্যা নেই।’

তারপর বিভিন্ন ভঙ্গিমায় তাদের দুজনের ছবি তুলে দিল তানভীর। একটা ছেলেও তাদের পাশেই ছিল সে হচ্ছে আসিফ। তানভীরের সহযোগী।

এখানে নাঁচ গানের বিশাল আয়োজন হয়েছে। নামি দামি শিল্পী এনেছে। সবাই পুরো অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখছে। এর মধ্যে ইরা মেহজাকে ডেকে নিল। যদিও ইরা আগেই ইকরাকে হলুদ লাগিয়েছে তবুও মেহজা একা দেখে দুজন একসাথে আবারও স্টেজে ওঠে। হলুদ লাগায়। তখনকার মুহূর্ত ইরফান নিজের সেলফোনে ধারণ করে নিল টুক করে।

বেশ রাত হয়েছে অনুষ্ঠান শেষ হতে। এরই মাঝে আরেক কান্ড ঘটে। মাহিমা বেগমের কোন বান্ধবী তার বোনের ছেলের জন্য মেহজাকে পছন্দ করেছেন। মাহিমা বেগম এতে তেঁতে গিয়ে দুই দফা ঝগড়া লেগেছেন। অবশ্য নিজেদের বয়স্ক মহলেই। ঝগড়ার পর মাহিমা বেগম থম মেরে বসে রইলেন। ইমাকে ডেকে বললেন,
-‘দ্যাখ, দ্যাখ! তুই আর তোর ভাই বলস মেহজা নাকি পিচ্চি। ইয়াজের সাথে যায়না। মানুষ কী বলবে! এদিকে মানুষরাই বলতেছে তাদের পঁয়ত্রিশের কৌঠার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে এই মেয়েরে। আমার ছেলে কী বুড়া! সবেমাত্র ঊনত্রিশে পড়ছে। মেহজাও তো আর শিশু না। শুনলাম আঠারো শেষ হইছে। তো সমস্যা কী? দশ বছরের পার্থক্য কিছুই না। তোর বাপ আমার তেরো বছরের বড় না! তো আমি সংসার করিনা? এসব ঢং বাদ দে। তোর ভাইরে বোঝা। আমি এই মেয়েরেই ঘরে তুলমু। ওই চু’ন্নি আমারে বলে নাকি আমার ঘরেও মেহজা আসব না। ওরে আমি দেখাই দিব মেহজারে ঘরের বউ বানাইয়া।’
-‘আহ মা! বাচ্চামো কেন করছ? আর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছ কেন?’
-‘এই! আমার মাতৃভাষায় আমি কথা বলব তোর সমস্যা আছে!’
-‘আছে। এখন চুপ থাকো। মেহজা রাজি হবে কিনা সেটা ভেবেছ? ওরা আজকালকের মেয়ে। পছন্দ থাকতে পারে।’
-‘আমার চাঁদের মতো ছেলেরে রেখে আর কারে পছন্দ হবে! তুই চুপ থাক। বাপ আর ভাইয়ের মতো করস। যা দূর হো।’

ইমা চলে এলো সেখান থেকে। তার ধারণা মা ভুল করছে। মেহজা নিতান্তই বাচ্চা তার ভাইয়ের তুলনায়। যদি মেহজার মত থাকত তবে তারও সমস্যা ছিল না। এখন যেহেতু মেহজার দিকটা জানা যাচ্ছে না তাই চুপ থাকায় শ্রেয়। এদিকে ইরফানকেও তো রাজি হতে হবে। সে বলেছে এত ছোট মেয়ে বিয়ে করবেনা। তাতেই মা ছেলের এক অদৃশ্য দ্বন্দ চলছে। এর জাতা কলে পিষে যাচ্ছে আহনাফ মজিদ। মাহিমা বেগম উঠতে বসতে তাকে বকাবকি করে। এটাই বলছে, ছেলেকে সে কেন বোঝায় না!

১৯.
বিয়ের দিন সকালে ছাদে রঙ খেলার আয়োজন করা হলো। মেহজা ঘুমাচ্ছিল, তখনিই রাফসান এসে চেঁচাতে থাকে,
-‘ওই ওঠ! রঙ মাখামাখি করবিনা? সবাই রঙ মাখছে।’
-‘মাখুক। আমার কী! একদম ডিস্টার্ব করবিনা। যা ভাগ!’
দাঁত কিড়মিড়িয়ে তো রাফসান চলে গেল। যাওয়ার আগে বলল,
-‘উপর তলার ইনায়া আপু এসেছে। ড্রয়িং রুমে বসে আছে। তোকে ডাকতে বলেছে তাই এসেছি নয়তো আমার ঠেকা পড়েনাই তোর জন্য!’
মেহজার খুব রাগ হলো। এরা পাঁচ ভাই-বোন তো খুব জ্বালাচ্ছে! ধুর ভালো লাগেনা। মেহজা আবারও শুয়ে পড়ে। বিশেষ লাভ হলো না। ইনায়া এসে জোর করে নিয়ে গেল।

ছাদের ডেকোরেশনটা অনেক সুন্দর, সবটাই রঙিন। নানা রঙের কাগজ, ফুল, ফিতা দিয়ে সাজিয়ে রাখা। সামনে নানা রকম ডালা ভর্তি রঙ। সবার ভীড়ে তনুশ্রীকেও দেখা গেল। দুজনে হাত নেড়ে হাই, হ্যালো করল। মেহজা যেতেই এক বিচ্ছু দল তাকে রঙ মেখে সঙ বানিয়ে দেয়। ভূ’তের মতো অবস্থা নিয়ে সে এক কোণে দাঁড়ালো। তখনিই দেখে ইরফান আর কালকের ছেলে গুলো সুইমিংপুলের পানি উঠিয়ে একটা বালতিতে ভরে সেখানে রঙ গুলছে। এবার হয়তো রঙের স্যুপ বানানো হবে। আর সেই স্যুপ দিয়ে সবাইকে গোসল করানো হবে! মেহজার মনে হলো এই মুহূর্তে এখানে থাকা বি’প’দ’জনক। তাই সে ভো দৌড় দিয়ে বাসায় ফিরে এলো।

বারোটার দিকে গোসল করে সে শুয়ে পড়ে আবারও। কেমন ক্লান্ত লাগছে। তখন তার মা হাঁক ছাড়লেন তৈরি হতে। বিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে হবে। তাই যেতে যেতেও তো সময় লাগবে। সে যেন তৈরি হয়ে যায়। তবে মেহজার একটুও ভালো লাগছিল না। সে ঘুমিয়ে পড়ে।

যখন ঘুম ভাঙে তখন বেলা দুইটা। সারা বাসায় কেউ নেই। মেহজা বুঝতে পারে সবাই চলে গেছে তাকে ফেলে। সে তার মাকে কল করে। প্রথমে অবশ্য নিজেরই গাফিলতির জন্য কিছু কড়া কথা শুনতে হয় তাকে। পরে বললেন রাদিফকে পাঠানো যায় কিনা দেখবে!

এরপর মন খারাপ করে সোফায় বসে থাকে সে। আধা ঘন্টা পর তাদের কলিং বেল বেজে ওঠে। মেহজা ভাবে তার ভাই এসে গেছে। সে দরজা খুলেই চমকে যায়। ইরফান দাঁড়িয়ে আছে ওপাশে। মেহজাকে দেখেই সে বলল,
-‘ফটাফট তৈরি হয়ে নাও তো! দেরি করো না।’
-‘কী!’
-‘তৈরি হও। বিয়েতে যাবেনা?’
-‘কিন্তু আপনি কেন এলেন!’
-‘আমার মা পাঠিয়েছেন। তুমি নাকি ঘুমে ডুবে ছিলে। তাই সবার সাথে যাওনি। এখন নাকি আবার যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করছ।’

মেহজার রাগ হলো। কোথায়? সে একটুও কান্নাকাটি করেনি। এটা নিশ্চয়ই তার মায়ের কাজ। তার মা হয়তো ইরফানের মা’কে এমনটা বলেছেন। সে দরজা থেকে সরে ইরফানকে ভেতরে আসতে বলে তৈরি হতে গেল।

#চলবে।
(ভালো লাগছে না তাই না? কেউ কেউ নাকি আগা গোড়া বুঝছে না। এখন কি করা যায়? বন্ধ করে দিব কী!)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here