সবটা অন্যরকম♥ পর্ব_৯

সবটা অন্যরকম♥
পর্ব_৯
Writer-Afnan Lara
.
ওহহ,,
.
কেন তুই জানতি নাকি??
.
না আমি তো এখন শুনলাম,,আহারে বেচারা আহারে
.
নিজের খেয়াল একটুও রাখে না,,ভাবছি একটা বিয়ে করিয়ে দেবো,বউ এসে খেয়াল রাখবে,নিজের খেয়াল তো সে রাখে না,আমি আরিফের খেয়াল রাখবো নাকি ওর,তাও আজ পর্যন্ত দুজনের খেয়াল রেখে এসেছি,এবার আরিফের চাকরি হলে আরিশার সাথে ওর বিয়ে দিয়ে দিলে নিশ্চিত হয়ে যাব কিন্তু আহনাফকে নিয়ে কি করবো তাই ভাবছি
আহনাফের তো কাউকে পছন্দই হয় না,জিজ্ঞেস করলাম কাউকে পছন্দ করে কিনা,,ওমা সেটার ধারের কাছেও সে নাই
.
দিবা মনে মনে বললো”যেমন বাঁদর ছেলে গিয়ে দেখো মেয়েরাই ওরে পছন্দ করে না”
.
এই পুরো দালানের এমন কোনো জোয়ান মেয়ে নাই যে কিনা আহনাফকে প্রেমপত্র দেয় নাই
আরিফ ঐ কাগজগুলো জমিয়ে কেজি দরে বেচে সেই টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছে আমাদেরকে নিয়ে
.
দিবা হাসতে হাসতে বললো”কি আছে উনার মধ্যে যে মেয়েরা এত এত প্রেমপত্র পাঠায়?”
.
সে কি রে,কি বলিস এসব,আমার আহনাফের ফেস কাটিং দেখেছিস??এরকম গায়ের রঙ কটা ছেলের হয়
তার উপর যে স্টাইল করে আমি তো আরিফকে বলি ওর মতো হতে
.
আরিফ ভাইয়া যেমনই আছেন তেমনই ভালে লাগে,বরং উনাকে বেশি ভালো লাগে
.
হুম,,আরিশার জন্য একদম পাগলা দিবানা,আরিশাও কম না
ভাবছি আহনাফের পরেই ওদের বিয়েটা দিয়ে দেবো,,আমরা দু পরিবার রাজি,,আরিফের চাকরির জন্য অপেক্ষা
.
দিবা ভাবছে তার ওড়নাটা কি করে উদ্ধার করবে
বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে,,খালামণি আর খালু সোফার রুম থেকে যাচ্ছেনই না,,বাংলাদেশের একটা স্টেজ প্রোগ্রাম শো দেখছেন দুজন মিলে
দিবা আর মিনি এই নিয়ে বিশবার চক্কর কাটিয়েছে দরজার কোণা থেকে
বারবার নিরাশ হয়ে ফিরছে দুজনে

আহনাফ চেয়ারে বসে তার কেবিনের নেমপ্লেটটা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখছে,,সেখানে মিঃনাফি লিখা আছে,,এই জগৎ এর সবাই ওরে নাফি হিসেবে চেনে,,ওর আসল নাম যে আহনাফ তা কেউ জানে না
ইচ্ছে করেই অন্য একটা নাম দিয়েছে সে যাতে কেউ ওকে না চিনতে পারে
মাঝে মাঝে নিজের নাম নাফি দেখে নিজেকেই চিনতে পারে না আহনাফ
আহ বাদ দিয়ে নাফ সেটাতে ই-কার যোগ করে নাফি
কেউ চাইলেই এই সুন্দর অংকটার সমাধান করে নিতে পারে অনায়াসেই
.
নিহাদ নাফির ঘাড়ে হাত রেখে বললো”ভাই তোর কপালে দুঃখ আছে!”
.
কেন আবার কি হলো?
.
ঐ মিশকা ম্যাডাম আজ আবার বারে আসবে মনে হয়
.
আসলে আসুক,আমি বার থেকে বেরিয়ে যাব,এসব মেয়েদের পাত্তা দিই না আমি
.
ইস রে যদি আমার জন্য পাগল হইতো,কত ভালো হইতো
.
আহনাফ নিজের মাস্ক আর চশমা নিয়ে নাহিদের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো”যা সিমরান থুক্কু,যা নাহিদ জিলে আপনি জিন্দেগি ”
.
নাহিদ ব্রু কুঁচকে কয়েক সেকেন্ড চেয়ে থেকে পরেই দাঁত বের করে হেসে দিয়ে বললো”আইডিয়াটা দারুন,আজ পিজ্জা নিয়ে গিয়েছিলাম তোর বেশে,আমাকে একদম চিনতেই পারেনি,যে টাইট করে জড়িয়ে ধরেছিলো রে ভাই,জোস একটা ফিলিংস ছিলো”
.
তাহলে আজ মাস্ক আর চশমা পরে স্টেজে নেমে পড়
.
কিন্তু ও তো আমাকে তুই মনে করে কাছে আসবে,পরে তোকে একলা পেলে তো সেই আবারও,আমি যে নাহিদ সেটা তো জানবেই না
.
প্রেম হয়ে গেলে পরে আর ঠেকানো সম্ভব না,,তুই প্রেম করতে থাক,সময় হলে মাস্ক আর চশমা খুলে সত্যিটা জানিয়ে দিবি,ততদিনে সে তোর প্রেমে পড়ে যাবে অলরেডি
.
ঠিক তো?
.
অবশ্যই,আর নয়তো এক কাজ কর,তুই সোজাসুজি গিয়ে প্রোপোজটা করে দে
.
হুম তাই করবো
.
নাহিদ আর আহনাফ কথা বলতে না বলতেই দেখলো একটা এ্যাশ কালারের গাউন পরে মিশকা এসে পড়েছে বারে
সাথে তার কিছু বান্ধুবী,,মিশকা আঙ্গুল তুলে আহনাফের দিকে দেখালো সবাইকে
সবাই আহনাফকে প্রথম দেখা দেখেই ওয়াও বললো
আহনাফ মুখটা ঘুরিয়ে মাস্ক পরে নিলো ঠিক সেসময়ে
মেয়ে গুলো তো আরও অবাক,,এত এত ভাব!!
তারপর তারা তারিফ করলো মিশকার চয়েসের
সবাই মিলে এবার যে যার আসন গ্রহন করেছে
মিশকা হেলেদুলে রিসিপশান অবদি আসতেই দেখলো আহনাফ উঠে যেতে যেতে নাহিদকে বলছে”আমি ওয়াসরুম থেকে আসছি,তুই সামলা”
.
আচ্ছা নাহিদ?নাফির আসতে কতক্ষণ লাগবে জানো?আসলে আমি আমার ফ্রেন্ডদের সাথে ওর পরিচয় করিয়ে দিতে চাই
.
নরমালি নাফি ওয়াসরুমে গেলে ২মিনিটের বেশি লাগে না
তবে মনে হয় আজ সারা রাত হয়ে গেলেও ওর দুই মিনিট শেষ হবে না
.
হোয়াট?কি বললে?লাস্টের লাইনটা বুঝতে পারলাম না
.
ইয়ে মানে আসলে তো দেখবেনই,এখন কি খাবেন বলেন,আমি আনিয়ে দিচ্ছি

আহনাফ ওয়াসরুমের সামনে থাকা রুমটার জানালার কাঁচ খুলছে এক এক করে,,কাঁচ গুলো আলতো করে খাঁজে রাখা,আর এগুলো যখন আটকানো হয়েছিলো তখন আহনাফ কাজগুলো দেখছিলো
কাঁচ ভাঁজে ভাঁজে খুলে রেখে সেই খোলা জায়গা দিয়ে আহনাফ জাম্প দিবে তা নাহলে আজ ঐ রিকসার থেকে বাঁচা ইম্পসিবল হয়ে দাঁড়াবে, সাথে করে আবার পেয়াদা ও আনিয়েছে দেখলাম
.
আহনাফ জানালা দিয়ে বেরিয়ে দিলো এক দৌড়
পরে আবার বাইকের কথা মাথায় আসতেই সেদিকে গেলো,বািকে উঠে ভাবলো আজ একটু ঘুরতে যাবে মনটা ভালো করার জন্য
পরে ভাবলো বাসায় গিয়ে বরং একটু ঘুমাই,সারাদিনে ঘুমানোর ঠিকমত সময় পাই না
তাই সে বাসার দিকেই যাচ্ছিলো,পথে দেখা হয়ে গেলো ভার্সিটির কিছু ফ্রেন্ডের সাথে
ব্যস আর কি,,তাদের সাথে রবীন্দ্রসরবরে এসে আড্ডা বসে গেলো
জিসান আর পিয়াস থাকায় আড্ডাটা দারুন ভাবে জমে গেছে
হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হওয়ার উপক্রম,তাদের জীবনে যে কত রকমের কষ্ট,পরিবারের বোঝা এসব কিছু তারা আড্ডা দিতে গিয়ে ভুলে একাকার,তাদের সবার মুখে এখন একেকটার জোকস্ এর বুলি ফুটছে
সাথে দুধ চা,রঙ চা আর পাউরুটি

রাত বারোটা বাজতে আর তিন মিনিট বাকি,মানে এখন ১১:৫৭বাজে
দিবা মিনিকে রেখে চুপিচুপি দরজা খুলে বাসা থেকে বেরিয়েছে
বাকিরা সবাই ঘুমে
সামনের বিল্ডিংটার দারোয়ান মরার মতন ঘুমাচ্ছে তার চেয়ারে বসে
দিবা পা টিপে টিপে ভিতরে ঢুকে এক দৌড় দিলো
লিফট অন না করেই সে সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে ছুটলো
লিফট একদম দারোয়ানের মুখের সামনে বলে রিস্ক নিলো না সে
সিঁড়ি বেয়ে চার তলা ক্রস করে দিবা হয়রান হয়ে গেছে,ফ্লোরে বসে পড়লো সে মাথায় হাত দিয়ে
হাঁপিয়ে আবারও উঠে শুরু করলো ছোটা
পাঁচ তলা অবদি এসে দিবার মাথায় আসলো গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে লিফট না নিলাম,,দোতলা থেকে তো নেওয়া যেতো!ইস আমি কি বোকা!
নিজের মাথায় নিজে চড় দিয়ে দিবা লিফটে উঠলো,,ছাদে এসে নিজের ওড়নাটা খুঁজতে লাগলো সে
অনেক খুঁজে পেলো এমন জায়গায় যেটা তার নাগালের বাহিরে
বাতাসে ওড়নাটাকে ছাদের নিচের তলার বারান্দার কাছাকাছি নিয়ে গেছে
দিবা হাতটাকে ঝুলিয়ে ওড়নাটা ধরার চেষ্টা করছে
এত এত চেষ্টা করতে গিয়ে দিবা টের পেলো তার পা দুটো শূন্যের উপরে উঠে গেছে এবং সে এবার দুড়ুম করে বারো তলার দালানটা থেকে নিচে পড়তে চলেছে
তার ধারনায় ছেদ ঘটালো আহনাফ
কোমড় ধরে টান দিয়ে পড়া থেকে বাঁচালো ওকে
দুজনেই একসাথে চিৎকার দিয়ে উঠলো
পরে আহনাফ নিজে চিৎকার থামিয়ে দিবার মুখ চেপে ধরে বললো”এরকম চেঁচাও কেন?”
.
আপনি?? এখন?? এসময়ে?এখানে?
.
একই প্রশ্ন আমার তোমায় করা উচিত,তোমাকে দেখে ভেজা বেড়ালের মতন মনে হলেও আসলে তুমি কিন্তু না নও
তুমি মহাসাহসী,,নাহলে একটা মেয়ে হয়ে রাতের বারোটার সময় কিনা একটা অচেনা দালানে চোরের মতন প্রবেশ করে একা একা ছাদে আসলা,আবার শুধু সেটা না,নিজের জান বিপদে ফেলে কি নিতে যাচ্ছিলা তুমি?
.
দিবা থতমত খেয়ে বললো”ঐ আসলে আমার ওড়ানটা উড়ে এসে এখানে পড়ছিলো”
.
ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করে টাইটানিক সিন প্রেকটিস করতেছিলা বুঝি?
.
একদম উল্টা পাল্টা কথা বলবেন না আপনি,,ওড়নাটা জর্জেটের ছিলে বলে ধরে রাখতে পারিনি,গ্রীষ্মের শুরুতে এরকম ঝড়ো হাওয়া শুরু হয় জানেন না?
.
হোয়াটএভার,নেক্সট টাইম মোটা সুতোর ওড়না পরবা তুমি,যেমনটা আমার মা পরে
.
ওগুলো পরলে খালার মতন লাগে
.
তোমাকে তো এমনিতেও খালার মতন লাগে
.
দিবা মুখ বাঁকিয়ে আবারও ওড়নাটা নিতে যেতেই আহনাফ আটকালো ওকে তারপর গালটা ফুলিয়ে গোটা ছাদ খুঁজে একটা পাইভ বের করে সেটা দিয়ে ওড়নাটা তুলে আনলো
ওড়নাটা সোজা করে ধরে বললো”এই নাকি ওড়না,ওড়নার ছিরি দেখো,ক্লাস টু এর মেয়ে বেবিরাও এসব ওড়না পরে না
তুমি আসলেই ধোয়া তুলসি পাতা না,আমাকে কেউ গলা কেটে বললেও বিশ্বাস করবো না আমি
.
দিবা ওড়নাটা কেড়ে নিয়ে বললো”আপনি জানলেন কি করে যে আমি এখানে?”
.
তুমি যখন চোরের মতন এই বাসায় ঢুকছিলে তখন আমি আমাদের বাসায় ঢুকছিলাম সেসময়ে দেখেছিলাম তোমায়,তাই ফলো করে টের পেলাম কি কান্ড করছিলে এতক্ষণ ধরে,তোমার সাহসের প্রশংসা করতে হয়
কোনো চোরের দল তোমাকে নিলে তুমি একদিনে ওদেরকে চোরের ডিগ্রি অর্জন করিয়ে দিতে পারবা
.
আপনার সাথে কোনো কথা বলাই বেকার,বাই!
.
আহনাফ দিবার হাত ধরে আটকালো ওকে
হাতটা শক্ত করে ধরে চাপ দিয়ে বললো”মাকে এসব জানাতে মানা করেছিলাম না?আমার যতদূর মনে আছে আমি তোমায় ওয়ার্নিং দিয়েছিলাম,তাহলে কেন?”
.
দিবা ঢোক গিলে হাতটা ছাড়াতে ছাড়াতে বললো”আমি বলি নাই”
.
আহনাফ হাতটা আরও জোরে চেপে ধরে বললো”এই সত্যি টা আমি আর তুমি ছাড়া কেউ জানে না”
.
আমি সত্যিই বলিনি,,মিনির কসম
.
আহনাফ দিবার হাত ছেড়ে দিয়ে বললো”তাহলে মা জানলো কি করে?”
.
আপনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন নাকি উনি আপনার রুমে এসে দেখেছিলো
.
ওহ!
.
দিবা আরেকদিকে ফিরে হাঁটা ধরতেই আহনাফ পিছন থেকে ডাক দিলো
দিবার তো ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে,তাও কেঁপে কেঁপে তাকালো
আহনাফ গম্ভীর গলায় বললো”মিনিকে অনেক ভালোবাসো তাই না?নেক্সট টাইম ওর কসম দিয়ে কিছু বলবা না,,এরকম কসম দেওয়া ঠিক না,,এমনিতে ঐ আজাইরা বিলাইটাকে আমি লাইক করি না তাও বললাম,,ওর নামে কসম দিবা না”
.
দিবা মাথা নাড়িয়ে হাঁটা শুরু করলো,,
.
আহনাফ আস্তে আস্তে গ্রাউন্ড ফ্লোর অবদি এসে আটকে গেছে
দিবাও আগে থেকে আটকে আছে দেখলো
দিবা একটা পিলারের পিছনে লুকিয়ে উঁকি দিয়ে দারোয়ানকে দেখছে
দারোয়ান ঘুম থেকে উঠে পুরে গ্রাউন্ড ফ্লোর হেঁটে হেঁটে নজর রাখছেন
.
এই যা!!এবার যাবো কি করে,এই দারোয়ান আমাদের একসাথে দেখলে হুলুস্থুল কান্ড করবে
.
আমি একা ঠিক ছিলাম,আপনার কি দরকার ছিলো এখানে আসার?
.
এই জন্য মানুষের ভালো করতে নেই,আমি না আসলে এতক্ষণে তুমি চান্দের দেশে থাকতা বুঝলে?
.
এখন ঝগড়া না করে কি করে বাসায় যাবো তা ভাবেন
.
আহনাফ নিজের মাস্ক আর চশমা দিবার হাতে ধরিয়ে দিলো,তারপর জ্যাকেটের চেইন খুলে উন্মাদ হয়ে গেলো কিছু সময়ের জন্য
দিবা ভাবছে লোকটার হলোটা কি,,মদ খেলো না কিন্তু মদ খাওয়া উন্মাদের এক্টিং করছে??
.
হেই দারোয়ান’স!!হাউ আর ইউ??
.
দারোয়ান ভয় পেয়ে লাইট মারলো আহনাফের মুখের দিকে
আহনাফ হেলেদুলে দারোয়ানের গায়ে সাথে লেগে দাঁড়িয়ে পড়লো
.
কে আপনি?এখানে এত রাতে কি করেন?
.
আমি হলাম জাস্টিন বাইবারের প্রতিবেশি,,তা এখন বাংলাদেশে কটা বাজে জানো?
.
মদ বেশি খেয়েছেন ভালো কথা,দুনিয়ার বিল্ডিং থাকতে এখানেই আসতে হলো?
.
আহনাফ দারোয়ানকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে হাত একটা পিছনে নিয়ে দিবাকে ইশারা করলো চলে যেতে
দিবা এই সুযোগে বেরিয়ে গেলো,দারোয়ান দেখতেই পেলো না ওকে
আহনাফ সাথে সাথে সিধা হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে বললো”ওকে,আমার মদের নেশা গেছে,এখন বাংলাদেশ সময় বারোটা পঁচিশ,ওকে বাই”
চলবে♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here