Tuesday, August 25, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প """"আমার প্রিয় তুমি আমার প্রিয় তুমি #মেহজাবিন তানিয়া পর্ব-২৯

আমার প্রিয় তুমি #মেহজাবিন তানিয়া পর্ব-২৯

0
3

#আমার প্রিয় তুমি
#মেহজাবিন তানিয়া
পর্ব-২৯

৫৬.

তাহুদের বাড়ি আজ জমজমাট । তাহুর মা রান্না-বান্না নিয়ে ব্যস্ত । আজ জামাই সহ মেয়ের শশুর বাড়ির লোকজন প্রথম আসছে কোনো কিছুর কমতি রাখতে চান না তিনি ।
বাবা মারা যাবার পরই মেঘ ঘরে কাজের জন্য হেলপিং হেন্ড রেখেছে । সে তাহুর মার সাথে হাতে হাতে সব করে দিচ্ছে । মেঘ গেছে বাজারে ঘি শেষ , সেটা আনতে গেছে । তানভি ঘিয়ের পোলাও খেতে পছন্দ করে তাহুর কাছে জেনেছে।

কাজ করতে করতে কলিং বেলের শব্দ শুনতে পেলে কাজের মেয়ে নিলুফা বলে উঠে দেখ তো মেঘ আসছে নাকি কখন গেছে এখনো আসলো না।

জি খালাম্মা দেখতাছি আমি বলে দৌড়ে গেলো তেরো দরজা খুলতে বছরের নিলুফা ।

দরজা খুলে দেখে তাহু আর রিমি দাঁড়িয়ে আছে , তাহুর শশুর বাড়ির সবাইকেই চিনে যেহেতু একই গ্ৰামের তার উপর ভিডিও কলে কথা হতো তাহুর মা যখন ফোন দিতো ।

ওমা খালাম্মা দেখেন যান আপায় আইসা পড়ছে। আসেন আপা ভিতরে আসেন , রিমি আপা কেমন আছেন ,আর সবাই কই , আপা দুলাভাই কই এক দমে বলে ফেললো নিলুফা।

আরে নিলুফা থামো থামো একটু তো দম নেও আর এক সাথে এতো প্রশ্ন করলে কিভাবে উত্তর দিব।

আচ্ছা পরে কইয়েন নে আগে ভিতরে আসেন ।
কথার মাঝেই দূত পায়ে তাহুর মা এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন।

মা-মেয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়েই কান্না জুড়ে দিলো । পিছন থেকে মেঘ বলে উঠলো মা কি শুরু করলা সবাইকে ভিতরে যেতে দেও।

মেঘের মা দেখলো ছেলের সাথে তানভি সহ পুরো পরিবার দাঁড়িয়ে তাদের মা-মেয়ের কান্ড দেখছে।

আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছেন সবাই । ক্ষমা করবেন খেয়ালই ছিলো না আসেন ভিতরে আসেন , আমিও কোন পাগল রিমি আসো ভিতরে আসো।

সবাই ভিতরে ঢুকে ড্রইং রুমে বসে । নিলুফা দৌড়ে গিয়ে সবার জন্য ঠান্ডা ঠান্ডা সরবত নিয়ে এলো।

তাহু এসেই দাদির পাশে বসেছে । দাদি এখন কথা বলতে পারে না এমনকি চোখ খোলেও তাকায় না।
দাদির হাত ধরে কতসত কথা বলে ফেলছে কিন্তু তার দাদির কোনো হেলদুল নেই ।
একে একে সবাই দেখে যায় তাহুর দাদিকে । সবশেষে তানভি আসে । এসেই পাশঘেষে বসে তাহুর হাত থেকে দাদির হাত ছাড়িয়ে ধরে বসে থাকে।
যদিও তাহু কিছু বলে না শুধু কিছু সময় তাকিয়ে থাকে তানভির দিকে ।

কি বেপার এমন করে তাকিয়ে আছো কেন পরে কিন্তু কন্ট্রোল করতে পারবো না বলে দিলাম দাদির সামনে শুরু করে দিবো সো অন্য দিকে তাকাও ।

মুখে কিছু আটকায় না আপনার না । আপনি ……. আর বলতে পারলো না নিলুফা রুমে ঢুকে বললো আপা দুলাভাই আসেন টেবিলে নাস্তা দিসি ।

নিলুফাকে দেখে তাহু তাড়াতাড়ি উঠে গেলো নিজ জায়গা থেকে – নিলু মা কি করছেরে চল তো দেখি ।আর আপনি আসেন নাস্তা করে নেন ।

তাহু গেলে জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেলে দাদির দিকে তাকায় তানভি ।
হাত ধরে বলে এই অসময়ে চলে গেলে হবে দাদি আপনার নতিনের সংসার দেখে যাবেন না বলে কিছুক্ষণ নিরব থেকে উঠে চলে আসে ড্রইং রুমে।

_____________

টেবিলে ছোটরা সবাই বসেছে নাস্তা করার জন্য । তিন-চার ধরনের পিঠা , নানা রকম ফল , পাস্তা , মিষ্টি আরো অনেক খাবার তৈরি করেছে তাহুর মা ‌।

ওমা এতো খাবার কেন করতে গেছেন আপা এমনেই আপনি অসুস্থ তার শাশুড়ির কি অবস্থা বলে উঠলো সাদের মা ।

কই আর করতে পারলাম আপা আজ যদি তাহুর বাবা বেঁচে থাকতো তাহলে দেখতেন খাবার থেকে উঠার সময় খুঁজে পেতেন এতো খাবার এনে হাজির করতো। কিন্তু কপাল কতো কিছু ভেবে রেখেছিলো মেয়ে বিয়ে দিবে মেয়ের শশুর বাড়ির সবাইকে বছর বছর দাওয়াত দিবে বলতে বলতে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পরলো গাল বেয়ে।

আপা মন খারাপ করেন না এই দুনিয়ায় কেউ চিরদিনের জন্য থাকতে আসে নাই । জম্ম-মৃত্যু সব আল্লাহর হাতে । চিন্তা করবেন না। আসেন এক সাথে নাস্তা করি।

৫৭.

রাতের খাবারের পর মেয়েরা সবাই তাহুর দাদির রুমে বসে টুকটাক কথা বলছে । তাহুর দুই শাশুড়ি চলে যেতে চেয়েছিলো নিজ শশুরে ওখানে কিন্তু তাহুর মা কিছুতেই যেতে দেয়নি।
সাদ চলে গেছে জায়গার স্বল্পতার কারণে তবে তাহুর মা করা গলায় বলে দিয়েছে দাদাকে নিয়ে জেনো সকাল সকালই এসে পরে।
মেঘ গেছে সাদের সাথে কারন মেঘের রুমে তাহুর দুই শাশুড়ির ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তানভি অনেকক্ষন ধরে একা একা বসে আছে কিন্তু তাহু আসার খবর নাই । তাই নিজেই উঠে গেলো বউয়ের খোঁজ করতে ।

দাদির রুমে গিয়ে দেখে দাদির পায়ের কাছে বসে বোন আর বউ ফোনে কি যেনো দেখছে আর নিঃশব্দে হাসছে।
কি সুন্দর এখানে বসে হাসছে আর আমি যে একা একা বসে আছি তার কোনো হুস নাই।
তিন মাও একটু দূরে বসে কথা বলছে ।

আরে তানভি বাবা ওখানে দাঁড়িয়ে কেন আসো ভিতরে কিছু লাগবে তোমার ।

হুম লাগবেই তো আপনার মেয়েকে। কিন্তু মুখে বললো না মা তেমন কিছু না। তাহু আমার নীল টিশার্ট টা কই রাখছো ঘুমানোর আগে চেঞ্জ করতে হবে।

ঐটা দেখেন ব্যাগের একদম নিচে আছে ।

তাহু এটা কেমন কথা যা খুঁজে দিয়ে আয় । তানভির বাবা যাও ও আসতেছে।

তাহু তানভির দিকে তাকিয়ে দেখে মিটিমিটি হাসছে। কি অসভ্য লোক ইচ্ছে করে এমনটা করছে বেশ বুঝতে পারলো ।
তাই আর কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা উঠে নিজের রুমে চলে গেলো । তানভিও তাহুর পিছু নিলো ।
রুমে ঢুকে ব্যাগ থেকে টিশার্ট খুঁজতে শুরু করলো ততক্ষনে তানভির রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিয়েছে।

এই আপনি দরজা আটকালেন কেন । আমি বাহিরে যাবো দরজা খুলেন ।

ঐ রুম থেকে এই রুমে আনার জন্য কত কাঠখর পুরালাম কি আবার জেতে দেওয়ার জন্য নাকি। সারা দিন সবার খেয়াল রাখছো এবার জামাইর দিকে নজর দেও।

আমি জানতাম তো আপনি ইচ্ছা করে করছেন বিয়ে হইছে পর থেকে তো দেখলাম না রাতে ঘুমানোর সময় জামা-কাপর গায়ে রাখতে , এখন আসছে টিশার্ট ফুটাইতে।

তো কি করবো বউর তো জামাইর দিকে কোন নজর দেয় না । জামাই যে একা একা বসে আছে সেই খেয়াল আছে আপনার বলতে বলতে তাহুর কাছে চলে আসে।
প্লিজ এবার এ দিকে তাকাও।

এই ছাড়েন আমি আজ দাদির সাথে ঘুমাবো ।

বিয়ে করছি কি দাদির সাথে ঘুমানোর জন্য নাকি ।

আপনি…….. হুঁশ আর কোনো কথা না বলেই তাহুকে তুলে বিছানায় চলে গেলো।

চলবে…………………

❎কপি করা নিষেধ ❎

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here