#আমার_প্রিয়_তুমি
#মেহজাবিন_তানিয়া
পর্ব-৩০
৫৯.
প্রেমময় ঘন বর্ষনের সিক্ত প্রহর কাটিয়ে মাত্রই চোখ লেগেছে তাহুর , তানভি অনেকক্ষন ডেকে গেছে ফ্রেস হবার জন্য কিন্তু ও এতোই ক্লান্ত ছিলো যে চোখ মেলেও তাকাতেও পারে নাই তাই তানভি একাই ফ্রেস হতে চলে যায় ।
ফ্রেস হয়ে এসে দেখে তার অর্ধাঙ্গিনী পুরো খাট জুড়ে এলোমেলো ভাবে সুয়ে আছে । কিন্তু তাহুর কাছে যাওয়ার আগেই দরজায় টোকা পরে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে একটা প্রায় বেজে আসলো এ সময় কে আসলো বলে প্রথমে তাহুর কাছে গিয়ে চাদর দিয়ে ঢেকে দেয় তারপর দরজার কাছে এগিয়ে যায় ।
দরজা খুলে দেখে তার মা দাঁড়িয়ে আছে খুবই আতঙ্কিত মুখে । আর দাদি শাশুড়ির রুম থেকে কান্নার শব্দ আসছে ।
তানভি তোর দাদি শাশুড়ির অবস্থা খারাপ হসপিটালে নেওয়ার সময় আল্লাহ দিবে নাকি কে যানে ?
দীর্ঘনিঃশ্বাষ নিয়ে বলে তুমি যাও আমি আসছি । দরজা লাগিয়ে তাহুর কাছে গিয়ে আবার ডাকতে থাকে।
তাহু জান উঠো ।
উহুম আমি ঘুমাবো , ঘুমাতে দেন ।
তাহু দাদির অবস্থা ভালো না মা এসে ডেকে গেছে উঠো।
কথাটা কানে যেতে দেড়ি উঠতে হয়নি তাহু । কোনো দিকে খেয়াল না করে উঠতে গেলে তানভির আটকে দেয় ।
নিজের দিকে তাকিয়ে দেখছো ,আগে ফ্রেস হও তারপর রুম থেকে বের হও ।
___________________________
ডাক্তার এসেছে একটু আগে মেঘ আর সাদ আসার সময় নিয়ে আসছে । কিন্তু ডাক্তার আসাটাও যেনো বিফলে গেলো যার যেখানে যাওয়ার সে সেখানে চলে গেছে ।
তাহু দাদির পায়ের কাছে বসে হাওমাও করে কান্না করছে ।
তানভির মা শান্তনা দিচ্ছে তাহুর মাকে। কিন্তু এই সময় কি শান্তনা কাজে আসে ?
আপা এই মা-ছেলে যে আমাকে একেবারে খালি করে রেখে গেলো , বটবৃক্ষের ছায়া উপরে দিয়ে গেলো এখন কি করবো আমি , কার কাছে গিয়ে বলবো আমার পেরেশানির কথা আরো নানা রকম বিলাপ করে কান্না করছে তাহুর মা ।
মেঘও দাদির পাশে বসে নিরবে চোখের পানি ফেলছে ।
তানভি ,সাদ আর হাওলাদার সাহেব মিলে দাফনের দিক সামাল দিচ্ছেন ।
মেঘও চেয়েছিলো করতে কিন্তু তানভি বলেছে আপনি দাদির পাশে থাকেন আমি সব সামলে নিবো। হাওলাদার সাহেবও নাতির কথায় সায় দেয়।
সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো যে যেহেতু সকাল হলেই শুক্রবার তাই জুমার নামাজের পরই দাফন করা হবে ।
:
:
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করছে । সারা রাত কেউ দুই চোখে পাতা এক করেনি । তাহুর মা কিছুক্ষণ পর পরই কেঁদে উঠছেন আর বিলাপ করছেন কিছুদিন আগে স্বামীর অকাল মৃত্যু এখন আবার শাশুড়ি আর কত হারাবে ।
তাহু তো কান্না করতে করতে বেহুঁশের মতো অবস্থা হয়ে পরে তাই তানভি ওকে জোর করে রুমে নিয়ে গেছে আর বের হতে দেয়নি ও নিজেও বের হয়নি যেহেতু জানাজা জুমার পরে তাই হাতে এখনো অনেক সময় ।
সকাল নয়টায় তানভির নিজে গিয়ে সবার জন্য নাস্তা নিয়ে এসেছে কিন্তু কেউ ছুঁয়েও দেখেনি । তাই মাকে ডেকে বললো মা নাস্তা আনছি সাবাইকে দেউ আর তুমিও খেয়ে নেও আমি দেখি তাহুকে খাওয়াতে পারি নাকি ।
তানভির মা এক প্লেটে বেশি করে খাবার দিয়ে বললেন বউমার সাথে তুইও খেয়ে নিস ।
প্লেট নিয়ে রুমে এসে দেখে তাহু এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে আর চোখ দিয়ে পানি পরছে ।
তানভির শান্তনা দেবার মতো কিছুই খুঁজে পেলো না দীর্ঘনিঃশ্বাস নিয়ে খাবার নিয়ে এগিয়ে যায় ।
তাহু দেখো খাবার নিয়ে আসছি এখন বলবে না খাবে না । আসো খাইয়ে দেই কাল সেই রাতে একটু খাইছো আমার তো অনেক খুদা লাগছে নেও ফাষ্ট খেয়ে নেও বলে মুখের সামনে নেয় কিন্তু তাহু মুখে নেয় না ।
আরে বাবা তোমার পর আমিও খাবো তাই তাড়াতাড়ি খাও।
আমি খাবো না আপনি খেয়ে নেন প্লিজ।
তা বললে তো হবে না তোমার শাশুড়ি দিছে এখন এটা ফিরত নিলে আমার খবর করে ছারবে সো নেও তাড়াতাড়ি বলে জোর করে মুখে ঢুকিয়ে দিলো। তবে বেশি খেতেও পারে নাই আর তানভি জোরও করেনি ।
তাহুর পর নিজেও খেয়ে নেয় ।
৬০.
তাহুর দাদিকে গোসল করিয়ে কাফন পরানো হয়েছে সেই সকলেই । এখন শুধু জানাজার পালা । আত্মীয় স্বজন একে একে সবাই এসে পরছে । ছেলেরা সবাই লাশের খাটিয়া নিয়ে রওনা দেয় মসজিদে । যাওয়ার সময় তানভি মা-চাচিকে বার বার বলে যায় তাহুকে যেনো কিছুতেই বাড়ির বাইরে বের হতে না দেয়।
এমনেতেই বাড়ি ভর্তি মানুষ তার উপর রাকিবকে নিয়ে ভয় ,এখনো ধরা পরেনি রাকিব আর কোনো ঝামেলা চায় না তানভি ।
নামাজ শেষে ছেলের কবরের পাশেই মার দাফনের ব্যবস্থা করা হয় ।
:
:
দাফনের পর মেঘ বাবা আর দাদির কবরের মাঝে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে ।
হাওলাদার সাহেব এগিয়ে গিয়ে মেঘকে শান্তনা দেন । মেঘ দাদুভাই এভাবে কাঁদতে নাই যার জিনিস সে নিয়ে গেছে । তুমি বরং তাদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করো আল্লাহ যেনো বাবা আর দাদিকে বেহেস্ত নসিব করে । দেখি উঠে আসো বাসায় সবাই অপেক্ষা করছে ।
সবাই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো কিন্তু পেছনে সারা জিনের জন্য রেখে গেলো বাবা আর দাদি নামক মূল্যবান ছায়াকে।
আত্মীয় স্বজনরা যার যার গন্তব্যে চলে গেছে শুধু আতি নিকটস্থ কিছু আত্মীয় রয়ে গেছে ।
ড্রইং রুমে ছেলেরা সবাই বসে কথা বলছে । এই বাসায় আজ রান্না করতে দেয়নি হাওলাদার সাহেব । নিজের বাসায় যতটুকু কম সময়ের মধ্যে সম্ভব কাজের লোকদের দিয়ে রান্না করিয়ে আনিয়েছে ।
দুপুরের খাওয়ার পর মোটামোটি সব আত্মীয়রা চলে গেছে শুধু তাহুর চাচা চাচি রয়ে গেছে ।
তানভি গিয়ে তাহুকে আবারও জোর করে দুপুরের খাবার খাইয়ে দিয়েছে ।
____________________________
আজ তিন দিন হয়ে গেছে তাহুর দাদি মারা যাওয়ার । তাই ছোট করে মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে ।
সেদিন তানভির বাবা দাফনের পরে আসতে পারছে যেহেতু সে ঢাকার বাইরে ছিলো তাই ঠিক সময় আসতে পারে নাই কিন্তু ছেলেদের ফোন দিয়ে সব কিছু সঠিক ভাবে করার নির্দেশনা দিয়েছে।
তানভি খুব জরুরী ফোনে গতকাল ঢাকা গেছে আজ অবশ্য একটু পরই এসে পরবে সে ফোন দিয়ে জানিয়েছে ।
মেঘ সব কিছু করছে তবে তাহুর শশুর বাড়ির প্রত্যেকটা লোক তাকে এবং তার মাকে সাহায্য ও সাপোর্ট করছে ।
ভাগ্য গুনে মেয়ে এমন শশুর বাড়ি পেয়েছে না হলে কোন দিকে মোর নিয়েছিলো মেয়ের জীবন ভাবতে ভয়ে শরীর কেঁপে উঠে । আল্লাহতালা যা করে ভালোর জন্যই করে ।
চলবে………………..
❎কপি করা নিষেধ ❎





