#আমার প্রিয় তুমি
#মেহজাবিন তানিয়া
পর্ব- ৩২
৬৩.
তাহু আর তাহুর মা খুব ব্যস্ত নতুন ঘর নতুন ভাবে সাজাতে । গ্ৰাম থেকে আসার সময় নিলুফাকে নিয়ে আসছে মেঘ আর নিলুফাও চায় ওদের সাথে থাকতে এছাড়াও তানভি দুজন মেইড পাঠিয়ে দিয়েছে কাজে সাহায্য করার জন্য আর তাহুকেও বলে দিয়েছে ও অফিস থেকে এসে যেনো বাসায় দেখতে পায় কারণ দিনে থাকার অনুমতি দিলেও রাতে থাকার অনুমতি দেয়নি ।
তাই অফিসে যাওয়ার সময় তাহুকে দিয়ে যায় এবং রাত আটটা থেকে নয়টার ভিতরে মেঘ গিয়ে দিয়ে আসে তাহুকে।
এ নিয়ে তাহু মনে মনে হাজারটা গালি দিয়ে ফেলছে তানভিকে ।
একটা নতুন বাসায় কাজের কোনো অভাব থাকে না ।যতোই সারাদিন করা হয় না কেনো মনে হয় যেনো কমার বদলে বারতেই থাকে । কাজ করতে করতে তাহুল মা হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে , এতো কাজের চাপে বিপি হাই হয়ে যায় তার । তাই মেঘ মাকে রুমে সুইয়ে রেখে বোনকে পাশে বসিয়ে রেখেছে । আর ও খাবার আনতে বাহিরে চলে গেছে ।
এদিকে রাত প্রায় দশটাও বেজে আসলো কিন্তু তাহুর সে দিকে কোনো মাথা ব্যথা নেই ,সে তার মাকে নিয়ে বসে আছে । অবশ্য মা ঘুমিয়ে গেছে তারপরও পাশে বসে আছে যদি জেগে যায় আর কিছুর দরকার পরে।
:
:
তানভির বাসায় এসেছে অনেকক্ষন হলো কিন্তু তার বউয়ের কোনো দেখা নাই । ভেবেছে হয়তো রিমির রুমে আছে তাই প্রথমে ফ্রেস হয়ে পরে রুম থেকে বের হলো। কিন্তু রিমির রুমেও নাই । সব জায়গায় খুঁজলো কিন্তু পেলো না এমনকি মা বোনকেও পেলো না তাই বাসার কাজের মেয়েকে কাছে পেয়ে জিগ্গেস করে তারা কোথায় ।
ভাই ভাবি তো এখনো ঐ বাসা থেকা আসে নাই আর একটু আগে দুই খালাম্মা আর রিমি আপায়ও কই যেনো গেলো বললো কিছুক্ষণ পরে আইসা পরবো।
কথা শুনে মনে মনে রাগ হলেও মুখে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো নতুন বাসার উদ্দেশ্যে।
______________________
তাহু রান্না ঘরে খাবার সব রেডি করছে আর ওর মার রুমে সবাই বসে আছে । মা অসুস্থ শুনে দুই শাশুড়ি ও ননদ দেখতে এসেছে । ভাবির পিছন পিছন ননদও কাজে সাহায্য করতে হাজির রান্না ঘরে । দুই ননদ ভাবি কথা বলছে আর হাসছে । তখনই পিছন থেকে বলে উঠলো এই রিমি এখান থেকে যা আমার ওর সাথে কথা আছে ।
দুজনেই ঘুরে দাঁড়ায় কথাটা শুনে । দেখে চেহারা হিংস্রতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তানভি।
ভাই তুমি কখন আসলা এসে ভালোই করছো দেখো আন্টি …….. আর বলতে দিলো না ।
ঐ তকে কি বলছি তারপরও এখানে দাঁড়িয়ে ভাষন দিচ্ছিস ধমক দিয়ে বলে উঠলো ।
ভয়ে কেঁপে উঠলো দুজন , রিমি ভাবির দিকে করুন চোখে তাকিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো ।
ক’কি হইছে আপনি এমন করলেন কেন ।
এই কি হইছে মানে তোমাকে কি বলছিলাম আমি যেনো অফিস থেকে এসে তোমাকে বাসায় দেখতে পাই , আর তুমি কি করছো বাসায় তো যাও নাই তার উপর আমাকে জানাও নাই এতো বড় সাহস আসে কই থেকা তোমার হা বলেই তাহু বাহু জোর করে ধরে।
ব্যথায় মৃদু শব্দ করে উঠে । ব্যথা লাগতেছে ।
তানভি তুই কখন এলি ?
কথাটা শুনে তাহু ছিটকে সরে পিছন ফিরে তাকালো আর তানভি ওর মার দিকে ঘুরে তাকালো।
তুই কখন এলি বললি না? ( রিমির কাছে জেনেই এখানে আসছে এসে দেখেন ছেলের মাথা গরম আর বউয়ের উপর তার ঝাঁজ উঠাচ্ছে। )
তোমরা যে সব এখানে এসে উঠেছো বাসায় কি সেটা জানিয়ে আসা যেতো না , তাহুর দিকে তাকিয়ে বললো কারো কোনো দায়িত্ব জ্ঞান নাই ।
আমাদের দায়িত্ব জ্ঞান আমাদের খুব ভালো করে জানা আছে সেটা তোর কাছে থেকে শিখবো নাকি ।
আর ঐ সময় কোনো হুস থাকে নাকি , বেয়ান যে অবস্থা হয়েছিলো সবাই তো ভয়ই পেয়ে গেছিলাম ।
কেন কি হইছে ?
কি হবে বিপি বেরে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।
কি বলো কখন হলো জানাবা না আমাকে বলে তাহুর দিকে তাকায় ।
এখন তো জানিস যা দেখে আয় ।
তানভি গেলে পরে পেছন থেকে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে উঠে পাগলটা কিছু বলেছে মা ।
কথাটা শুনে তাহুর যদিও কন্না এসে পরেছিলো তবে তা আটকে বলে না মা কিছু বলে নাই । আপনি যান আর রিমি আপুকে পাঠিয়ে দেন । মাকে খাবারটা খাইয়ে এক সাথে বের হই ।
না মা আমি আর তোমার চাচি এখনই বের হবো তুমি আর তানভি পরে এসো বেয়ানকে খাবারটা খাইয়ে বলেই তিনি রুমে চলে গেলো বিদায় নিতে।
৬৪.
গ্ৰামের টিনসিট বিল্ডিং এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে তাহু পুরো পরিবার। সাথে তার দাদা শশুর এবং শাশুড়িও আছে।
তারা মূলত এখানে মেঘের জন্য মেয়ে দেখি আসছে । এই মেয়ের খবর হাওলাদার সাহেব নিজে দিয়েছে । যেহেতু মেঘ বলেছে নম্র ভদ্র মেয়ে বিয়ে করবে যাতে তার মার সাথে মিলেমিশে থাকতে পারে সে দিকে বিবেচনা করেই হাওলাদার সাহেব এই মেয়ের কথা প্রস্তাব রাখেন ।
সবাই ভিতরে ঢুকে দেখে খুবই সাধারন একটা বাড়ি কিন্তু খুব পরিপাটি । পরিবেশটা খুব সুন্দর । কিছু প্রহর বাদে মেয়েকে নিয়ে আসে । মেয়ে দেখতেও খারাপ না ।
সবার পছন্দ হয় মেয়েকে । তাই মেঘ আর মেয়েকে আলাদা কথা বলার জন্য বাড়ির বাহিরে পুকুরের আলাদা বসার জায়গা আছে সেখানে নেয়া হয় ।
কি বলে কথা শুরু করবে সেটা ভাবতে থাকে মেঘ । কিন্তু মেঘকে অবাক করে দিয়ে মেয়ে বলতে শুরু করে।
দেখেন ভাইয়া আমি এই বিয়েতে রাজি না । আমি অন্য একজনকে পছন্দ করি কিন্তু বাসার কেউ রাজি না । আপনার সাথে বিয়ে হলে আপনি আমি কেউই সুখি হতে পারবো না । তাই বলছি বিয়েটা ভেঙ্গে দেন । আমি বললে কেউ শুনবে না তবে আপনি বললে আপনার ফেমেলি মেনে নিবে প্লিজ হেল্প করুন আমাকে ।
মেঘ তো হা করে তাকিয়ে আছে ওর মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হচ্ছে না । মেয়েটা একবারও ওর দিকে তাকায়নি মাথা নিচু করে রেখেছে।
কোনো কথা খুঁজে না পেয়ে মেঘ উঠে গেলো সেখান থেকে । কিন্তু মেয়েটা পিছন থেকে বলে উঠে ভাইয়া আর একটা কথা প্লিজ আমার কথা আমার ফেমেলির কাউকে বলবেন না তাহলে আমার ভাই আমাকে মেরে ফেলবে ।
মেঘ আর এক মিনিট সময় না নষ্ট করে সেখান থেকে চলে আসে এবং নয়-ছয় বুঝিয়ে সেই বাসা থেকে বের হয়ে আসে ।
রাস্তার মধ্যে তাহু ভাইকে জেকে ধরে মেয়ে পছন্দ হয়েছে কিনা কেন এতো তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে আসলো ।
চাপে পড়ে মেঘ গরগর করে সব বলে দিলো । মেঘের কথা শুনে সবাই দম ফাটিয়ে হাসতে শুরু করে । তবে আজিজ হাওলাদার রেগে যান ।
কেন তাদের এভাবে হেনস্তা করা হলো তাদের মেয়ে যেহেতু রাজি না সেখানে কেন আমাদের আসতে বলবে ,আমি এখনই মেয়ের মা-বাবার সাথে কথা বলবো।
আরে না দাদু ওনাদের কিছু বলবেন না সব ফেমেলি চায় তাদের মেয়েকে ভালো ফেমেলি আর ঘর দেখে বিয়ে দিতে সে দিক দিয়ে তারা কোনো ভুল করেনি । আমরা বলে দিবোনে উমে পরে জানাবো তাহলেই ওনারা বুজে যাবে ।
তবুও কাজটা তারা ঠিক করেনি।
চলবে…………..
লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার প্লিজ ♥️





