Thursday, April 30, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প এক গুচ্ছো কদম এক গুচ্ছো কদম পর্বঃ১২

এক গুচ্ছো কদম পর্বঃ১২

0
1950

#এক_গুচ্ছো_কদম
#পর্বঃ১২
লিখাঃসামিয়া খান

“আর কতো হলুদ মাখাতে হবে তোর দুর্জয়?এবার তো থাম”।

হিমাদ্রির গালে আরো হলুদ মাখতে মাখতে দুর্জয় জবাব দিলো ,

” তোকে জানিস এখন ঠিক সোনার প্রতীমার মতো মনে হচ্ছে।তোর শরীরে হলুদ যেনো সোনা হয়ে ফলেছে।”

“এতো তেল কেনো মারছিস?”

“আমার প্রসংশা তোর কাছে তেল মারা মনে হচ্ছে।এটা তুই বলতে পারলি হিমাদ্রি? ”

“জ্বী পারলাম।আর কী হিমাদ্রি হিমাদ্রি করিস সবসময়?সবার মতো হিম বলতে পারিস না?”

“না পারিনা।হিম শব্দটা শুনে কেমন যেনো ঠান্ডা ঠান্ডা লাগে।”

“কেমন লাগে!?”
“ঠান্ডা লাগে।”

দুর্জয়ের মুখ থেকে এমন কথা শুনে কিছুক্ষণ তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো হিমাদ্রি।

“যতোসব আজগুবি কথাবার্তা বলিস তুই দুর্জয়।”

“আমার কথা ফুড়িয়ে এসেছে রে হিমাদ্রি।”

“মানে?”

“কিছুনা।”

হলুদের বাটিটা ছাদের রেলিঙের উপরে রেখে তারা ভর্তি আকাশের দিকে একমনে তাঁকিয়ে রইলো দুর্জয়।কোন একটা কিছু ভাবছে সে।হিমাদ্রির দিকে পিঠ করে দাড়িয়ে রয়েছে।হিমাদ্রি খেয়াল করলো দুর্জয়কে পিছন দিক থেকে একদম মৃদুলের মতো দেখতে লাগে।দুইজনের মধ্যে বেশ মিল আছে।হিমাদ্রি একটু এগিয়ে গিয়ে পিছন দিক থেকে দুর্জয়কে জরিয়ে ধরলো।তাদের আকদ আগেই হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু ওয়ালিমা করা বাকী।তাও কালকে হবে।আজকে হলুদ সন্ধ্যা ছিল তাদের।দুর্জয় তার জন্য বৈধ। সেজন্যই হয়তো ওকে জরিয়ে ধরতে একটুও সংকোচ করলো না হিমাদ্রি।

ওভাবেই নিশ্চুপ হয়ে কিছু সময় দাড়িয়ে রইলো দুজনে।নিরবতা ভেঙে দুর্জয় প্রথমে মুখ খুললো।

“তুই কী এখনো মৃদ ভাইয়াকে ভালোবাসিস?”

দুর্জয়ের করা প্রশ্ন একটুও বিচলিত করলো না হিমাদ্রিকে।দুর্জয়ের পিঠে মাথা ঠেকিয়ে সে শান্ত ভঙিতে জবাব দিলো,,
“মৃদ যেদিন থেকে অন্যজনের স্বামী হয়ে গিয়েছে সেদিন থেকেই আমি তার কথা ভাবা বন্ধ করে দিয়েছি। আর আমি এখন অন্য কারো স্ত্রী।আমি কোনদিন এমন কিছু করবো না যা সবার জন্য লজ্জাজণক।”

“আমি জানি হিমাদ্রি। ”

হিমাদ্রির দিকে ঘুরে হিমাদ্রির মুখটা নিজের দুহাতের আজলায় ভরে নিলো দুর্জয়।তারপর বলতে শুরু করলো,,

“মৃদ ভাইয়া জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছে হিমাদ্রি। ওর জীবনে ভয়ংকর একটা কালো অধ্যায় আছে।এবং আমি বলতে পারি আরো ভয়ংকর একটা সময় আসছে মৃদ ভাইয়ার জীবনে।মৃদ ভাইয়া তোকে অনেক সমীহ করে হিমাদ্রি।”

“আমি জানি দুর্জয়।”

“তুই দুইটা ওয়াদা করবি আমাকে?”

“কী ওয়াদা?”

“তুই যেকোন অবস্থায় মৃদ ভাইয়ার পাশে থাকবি।ভাইয়া যা বলবে তোকে তুই তাই করবি এবং তা বিনাবাক্য ব্যায়ে।”

“হঠাৎ এই কথা?”

“জানিনা একথা কেনো বললাম কিন্তু এটা জানি দুজনের মানুষের তোকে খুব দরকার।একটা হলো মৃদ ভাইয়া আর একজন আছে।”

“কে সে?”

“তোকে একটা চিঠি দিয়েছিলাম না কালকে বলেছিলাম ঠিক একমাস পর চিঠিটা খুলবি।চিঠিতে লিখা আছে আর একজন কে।”

কথাগুলো বলে নিজের কপালটা হিমাদ্রির কপালে ঠেঁকিয়ে চোখ বন্ধ করে দিলো দুর্জয়।

“আমি খুব বড় একটা ভুল করে ফেলেছি হিমাদ্রি।আমি কোন পথ পাচ্ছিনা এর থেকে বের হবার।”

“কী ভুল?”

“তা আমি তোকে বলতে পারবো না।শুধু এটা বলতে পারি সবসময় একটা জিনিসে তুষ্ট থাকবি।আমার মতো ভুল করবিনা।”

“কী হয়েছে তোর দুর্জয়?এমনভাবে কেনো বলছিস?তোর কথা শুনে কেমন যেনো বুকের একপাশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ”

হিমাদ্রির করা প্রশ্নে কোন জবাব না দিয়ে কিছুসময় ওর দিকে তাঁকিয়ে রইলো দুর্জয়।চাঁদের আলোয় হলুদমাখা হিমাদ্রিকে বেশ লাগছে।এভাবে একদিন সৃষ্টিকেও দেখেছিল সে।দুর্জয় ভেবে পেলোনা সে কীভাবে দুটো মেয়ের জীবন নিয়ে জঘন্য খেলা খেলতো পারলো।হিমাদ্রির চোখ থেকে চোখ সরিয়ে ওর ঠোঁটের দিকে তাঁকালো দুর্জয়। সেদিকে চোখ রেখেই কিছুক্ষণ পরে নিজের মুখটা হিমাদ্রির মুখের ওপর নামিয়ে নিলো।

দুর্জয়ের বুকে মাথা রেখে বসে আছে হিমাদ্রি।একটা শান্তি লাগে যখন ওর বুকে মাথা রাখে।আগে হিমাদ্রিকে পাত্তাও দিতো না দুর্জয়।কিন্তু ইদানীং বেশ কাছাকাছি থাকে।

“হিমাদ্রি তুই ওয়াদা গুলো পালন করবি তো।”

“সারাজীবন করবো।”

“আমি জানতাম হিমাদ্রি। জানিস তুই আমার জীবনে দেখা সবথেকে অনন্য বৈশিষ্টের নারী।”

“তাই?”

“হুম।হিমাদ্রিরে তুই মৃদ ভাইয়া আর চিঠিতে উল্লেখকৃত মানুষের খেয়াল সবসময় রাখিস।তাহলে আমি মরেও শান্তি পাবো।মনে রাখবি এটা আমার শেষ ইচ্ছা।

,

হিমাদ্রির চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি হাতে থাকা চিঠিতে পরে তা মিলিয়ে গেলো।বহুবার এ চিঠিটা পড়েছে হিমাদ্রি। তারপর সবসময় পড়তে মন চায়।আর এই চিঠিটা পড়লেই তাদের হলুদ সন্ধ্যার সেই কাঁটানো একান্ত মূহুর্তের কথা মনে পরে।

দুর্জয়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছে হিমাদ্রি।চিঠিতে দুর্জয় সৃষ্টির কথা উল্লেখ্য করেছিল।সৃষ্টি আর মৃদ দুজনকেই আগলে রেখেছে হিমাদ্রি।(লিখাঃসামিয়া খান)রোদসীর করা শত অপমান স্বত্বেও শুধুমাত্র দুর্জয়ের জন্য মৃদের সব কথা শুনে সে।যদিও মৃদের সাথে এমন অনেক ব্যাবহার করেছে যাতে মৃদ নিজে থেকে হিমাদ্রির থেকে দূরে থাকে।কিন্তু কখনো তা হয়নি।

চিঠিটা বুকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো হিমাদ্রি।উপরে সিলিঙের দিকে তাঁকিয়ে বিড়বিড় করে বললো,,

“কেনো হলো এমন দুর্জয়?একবার তো নিজের মনের কথা বলতে পারতি আমাকে!আমি নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতাম।”
,
,
,
“তুমি তো আমার সাথে গেম খেলছো না আহাদ?”

“তুমি আমাকে এমন কথা বলতে পারলে রোদসী?”

“বলবো না কেনো?হিমাদ্রির সাথে তোমার এতো কী?ও কেনো এখানে কী করতে এসেছিল।”

“ও এমনি স্কলারশিপ এক্সাম সম্পর্কে জানতে এসেছিল।আর কিছুনা।”

“সত্যি তো?”

“আমার ওপর কোন বিশ্বাস নেই তোমার জানেমন।প্রজাপতির সাথে আমার কিছু নেই।সত্যি বলছি।”

“আমি বুঝিনা সবাই এতো কেনো হিমাদ্রি হিমাদ্রি করে।এক মৃদ আরেক তুমি।”

“মৃদ তো একটা ছ্যাচড়া যে বিধবার ওপর নজর দেয়।আমি কী ওর মতো নাকী?আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি।”

“সত্যি তো? ”

“অবশ্যই। ”

হুট করে রোদসী আহাদের শার্টের কলার চেঁপে ধরলো।

“আমাকে ধোকা দেওয়ার ট্রাই করবে না কখনো”।

” আমি ওরকম না রোদসী।কলারটা ছাড়ো।”

আহাদের শার্টের কলারটা ছেড়ে ওকে জরিয়ে ধরলো রোদসী।আহাদও পরম যত্নে রোদসীকে জরিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকলো।কিছুক্ষণ পরে রোদসী বললো,,

“আচ্ছা আমি হিমাদ্রিকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলি তাহলে কী সবাই হিমাদ্রি হিমাদ্রি করা বন্ধ করে দিবে।”

চলবে,,

বিঃদ্রঃছোট হওয়ার জন্য সরি।আমি এখনো দাদুবাড়ী। তাই এটুকুই দেওয়া পসিবল হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here