Saturday, August 22, 2026

মেয়ে, তুমি কি দুঃখ চেনো? – ৫

0
3

মেয়ে, তুমি কি দুঃখ চেনো? – ৫

আমার পা টলে গেল। এরকমটা আগে একবারই হয়েছিল! সেই, আরশি আপুর বিয়ের দিন মাঝরাতে, নিয়ন ভাইদের বাড়িতে। কত জনম যেন খাইনি, এমন বুভুক্ষুর মতো খিদে পেয়ে গেল! আর এক পা বাইরে গেলেও যেন মুখ থুবড়ে পড়ে যাব – এমন জীবন-মরণ অবস্থা!
আমি ঘুরে এসে নিয়ন ভাইয়ের হাত থেকে নুডলসের বাটি কেড়ে নিলাম। ওর উপরে আমার রাগও হচ্ছে ভীষণ।
রাগের কারণ আমি জানি না!
আমি একটানে নুডলসটুকু শেষ করে শ্বাস নিলাম। নিয়ন ভাই পানির গ্লাস হাতে দিলো। সেটাও এক নিঃশ্বাসে শেষ করলাম।
নিয়ন ভাই মিটমিট করে হাসছে। বাইরে আকাশভরা রোদ। খোলা জানালা দিয়ে এক টুকরো সোনালি রোদ তার মুখের উপর আলো-ছায়ার নকশা বুনেছে। রূপকথার ডালিম কুমারের মতো দেখাচ্ছে।
আমার রাগ আরও বেড়ে গেছে। ও একটু কম সুন্দর হলে পাশাপাশি দাঁড়ানোর স্পর্ধা করতে পারতাম! এখন তো চাওয়াও বারণ!
বললাম,
–হাসছ কেন?
–ইউ আর এমিউজিং!
–ক্লাউন লাগছে আমাকে? টিটকারি করছ?
–একদম! ভাবছি, কত সহজে ডেবিট ক্লিয়ার করতে পারতে!
ভেংচি দিয়ে বললাম,
–থাকুক দেনা! আমার জমিজমা তো আর নিয়ে যাচ্ছ না!
দেবদূতের মতো সুন্দর হাসিটা ছুঁড়ে দিতে দিতে বলল,
–ইউ আর আ ক্লেভার গার্ল!
মধ্যদুপুর। বাইরে সূর্য তেতে উঠেছে। মাথার উপর ফুলস্পিডে ফ্যান ঘুরছে, তবুও আমি ঘামছি। মায়ের কথা শুনে গোসল করে আসতে পারতাম। এখন গা চিটচিটে লাগছে। নাকে আর কপাল ঘেমে তেলতেলে হয়ে আছে। আমার মুখের তেল সংগ্রহ করা গেলে তাই বেচে আমি কোটিপতি হয়ে যেতাম। কিন্তু, আমাকে দেখাচ্ছে বিধ্বস্ত, ফকিন্নি! পোশাকেও গুরুত্ব দিইনি। একরঙা খয়েরি ছিটকাপড় দিয়ে বানানো জামা। পায়ে দুই ফিতার স্যান্ডেল। বহুল ব্যবহৃত রেক্সিনের ব্যাগ কাঁধে ঝুলছে!
নিয়ন ভাইয়ের সাথে দেখা হওয়াটা এরকম অসুন্দর হতে হলো কেন?
কোন গ্রহ-নক্ষত্রের ফাঁদে পড়ে যে তখন নীল শাড়িটা পরতে বারণ করেছিলাম!
বললাম,
–একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।
নিয়ন ভাই আমার মুখোমুখি সোফাটায় বসেছে। ছড়ানো হাঁটুদুটোর উপর দুই কনুই ভর দিয়ে হাতদুটোকে ঝুলিয়ে দিলো; মাথাটা আমার দিকে এগিয়ে দিলো, যেন খুব মনোযোগী স্রোতা! আমি ইতস্তত করে বললাম,
–ইনভেস্টমেন্টটা পেতে আমি খুব ডিটারমাইন্ড! আমি তো জানতাম না, ওটা তোমাদের। তাহলে আরশি আপুকে মিডিয়া করে দুলাভাইকে ধরতাম! বড়োচাচাকে দিয়েও বলাতাম।
আমি একটা নকল হাসি টানলাম মুখে। বললাম,
–তোমরা এত কাছের আত্মীয় আমাদের, এদিকে আমি চেয়ারম্যানের অফিসে ছুটছি, এমপির পিএস এর পেছনে ঘুরছি সুপারিশ এর জন্য! কত লোকের কাছে যে গেলাম, আর অফিসে যে হাঁটলাম, তা গুণে শেষ করা যাবে না।
হাসিটা আরেকটু বিস্তৃত করলাম। তেলতেলে ধরনের হেসে বললাম,
–ফাইলটা যেহেতু তোমার কাছে এসেছে, তুমি আমাকে রেকমেন্ড করতে পারো।
নিয়ন ভাই ভুঁরু বাঁকাল,
–করাপটেড হতে বলছ?
আমি লজ্জা পেলাম,
–করাপশন কেন হবে?
ইনিয়েবিনিয়ে বলতে চাইলাম,
— তুমিই তো বললে, আমি এলিজিবল। যাস্ট একটু সুপারিশ করে দেবে! একটা ছোটো ধাক্কা আমার ফাইলটাকে একটু এগিয়ে রাখতে!
–কনফ্লিক্ট অভ ইন্টারেস্ট – টার্মটা বোঝো?
আমি মরিয়া হয়ে গেলাম। আগে বলা কথার একদম উলটো সুর টানলাম,
–আশ্চর্য! ইন্টারেস্ট এর কনফ্লিক্ট হবে কেন? আমার চাচতো বোনের বোনের দেবর তুমি। কত দূরের সম্পর্ক!
–তুমি জানো, ইনভেস্টমেন্টটা কত টাকার?
আমি মাথা নাড়লাম,
–ফার্স্ট ক্যান্ডিডেট বিশ লাখ টাকা পাবে।
আমি দ্রুতগতিতে আমার প্রপোজালের সামারি বললাম,
–বিভিন্ন কর্পোরেট, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি, ক্লাব, সোশ্যাল ক্যাম্পেইনিংয়ে কাস্টমাইজড ইভেন্ট টিশার্ট এর এখন খুব ডিমান্ড! আমি একশো ষাট থেকে দুইশো বিশ জিএসএম এর হাই কোয়ালিটি কটন-ব্লেন্ড ফেব্রিক ব্যবহার করব। কোয়ালিটি ধরে রাখলে, ডেলিভারি টাইম ঠিক রাখতে পারলে, আর ইনভেস্টমেন্টটা পেলে আমার উদ্যোগটা দাঁড়িয়ে যাবে। খুব তাড়াতাড়ি তোমাদেরকে ইকুইটি শেয়ার দিতে পারব!
নিয়ন ভাই খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। তারপর বলল,
–কিন্তু আমি তো তোমাকে পছন্দ করি। এখন যদি তোমার ফাইলে আমার রেকমেন্ডেশন থাকে, পরে যখন তোমাকে বিয়ে করব- ফাউন্ডেশন এর বোর্ড মেম্বাররা বলবে না, আমি দুর্নীতি করেছি?
হাতমুঠো করে রাগ কমাতে চাইলাম। দাঁত চেপে খিটিমিটি করে বললাম,
–আমি অসহায় বলে এভাবে ইয়ার্কি করছ?
নিয়ন ভাই ধমকে উঠল,
–খবরদার, ভিকটিম কার্ড ছাড়বা না। অসহায় তো আমি! তুমিই প্রথম থেকে ইয়ার্কি করে গেছ আমার সাথে। আমার বয়স কম ছিল। ইমোশনাল ছিলাম। তুমি আমাকে প্যাচে ফেলে আজীবন কমিটেড করে রেখেছ! আমি তোমার মত হাঁসের বাচ্চা না, যে পানি থেকে উঠে পাখনায় দুটো ঝাড়া দিয়ে শুকনো হয়ে যাব। গায়ে পানির চিহ্নটুকুও থাকবে না! আমি ওয়াদা করেছিলাম, সেটা আমি ভুলতে পারছি না!
বলতে বলতে ওর কথার সুর বদলে গেল। শেষের দিকে ক্ষ্যপাটে শোনা গেল!

হাঁসের বাচ্চা আমি? চোখ পাকিয়ে বললাম,
–কাকে না কাকে , না জেনেশুনে কী পাগলের মতো ওয়াদা করেছিলে, সেটা আমি কীভাবে জানব? আশ্চর্য!
নিয়ন ভাই শান্ত হয়ে গেল। স্পষ্ট উচ্চারণে বলল,
–আমার কোনো আলৌকিক ক্ষমতা নেই, রুমঝুম। ফোনের অপরপ্রান্তে কে আছে সেটা আমি দৈববলে জানিনি! আমি জানতাম ওটা তুমি। আমি এক্সপেক্ট করেছিলাম তোমাকে, সেজন্য আমি জানতাম ওটা তুমিই! আমি জেনেবুঝে ওয়াদা করেছিলাম! আমি তোমার কাছে ফিরেছি, রুমঝুম! আমার দুর্ভাগ্য, তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করে থাকোনি!
আমার কাছে এই অভিযোগের জবাব নেই। আমি ধরা গলায় বললাম,
–তুমি আমাকে এক্সপেক্ট করেছিলে? সেই সেদিনও?
–আমার জীবনটা খুব জটিল। শৈশব, কৈশোর গেছে জন্মপরিচয় খুঁজতে খুঁজতে! আমার চেহারা বরাবর লোকের কাছে আমাকে কৌতুহলের পাত্র করেছে। সেসব খুব ডিসগাস্টিং লাগত! শুধু তোমার চোখে ছিল সহজ ভালো লাগা! আই ফেল ইন লাভ উইদ দ্যাট! আমিও ছোটোমানুষ ছিলাম, কুড়ির গন্ডি পেরোইনি তখনো! এই কয়বছরে রিয়েলাইজ করেছি, তুমি কৈশোরের ভালো লাগা না শুধু, আরো বিশেষ! তুমি কেঁদেছিলে আমার জন্য, কেউ কোনোদিন আমাকে হারানোর দুঃখে চোখে জল ফেলেনি। আম্মার চোখে আমার জন্য একটুখানি মায়া দেখতে আমি কত কী করতাম তখন! তুমি পরিচয় লুকিয়ে গিয়েছিলে, কারণ তোমার কোনো এক্সপেক্টেশন ছিল না। একাকী প্রবাসে এসব অনেককিছু আমার অনুভূতিকে আরো ডেপথ দিয়েছে। আরো প্রগাঢ় হয়েছে। আমি তোমাকে চাই, রুমঝুম! আমি যে শুধু চেহারাসর্বস্ব মানুষ নই, আব্বাকে সেটা প্রমাণ দেওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিলাম, আমার জন্ম কোনো আস্তাকুঁড়ে নয়, আমি চৌধুরীদের যোগ্য উত্তরসূরী – আম্মাকে সেটা দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। সেই সবকিছুতে সফল হয়ে আমি ফিরেছি। তোমার কাছেই ফিরেছি!
রূপকথার গল্পগুলো কি সত্যি হয়? হয় সম্ভবত! সেই গল্পগুলোতে রাজপুত্ররা ঘুঁটেকুড়োনির প্রেমে পড়ে যায়! তারা আকাশ থেকে নেমে এসে জমিনের তৃণলতার গালে চুমু আঁকে!
মিথে আমার বিশ্বাস নেই। অবিশ্বাসী গলায় বললাম,
–আমার কাছে ফিরেছ? মিথ্যুক! তাহলে সীমানাকে কেন বিয়ে করতে চেয়েছ?
নিয়ন ভাইয়ের গাল ঝুলে গেল। হা করে থাকল। তারপর গাল বন্ধ করে বিস্মিত কন্ঠে বলল,
–হু ইজ সীমানা? তোমার কোন চাচার মেয়ে যেন, মনে পড়েছে! একগাদা বোন, কোনটা কে, কে জানে!
শব্দগুলোকে চিবোচ্ছে এমন দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
–আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। আব্বার অফিসের দায়িত্ব নিতে চাই। তোমার সাথে দেখা করবার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু তুমি আসলে ভীষণ ব্যস্ত নাকি আমাকে এড়িয়ে যেতে চাইছ, বুঝতে পারিনি। ট্রাই করার জন্য বিয়ের প্রপোজাল দিয়েছিলাম। কোনো সীমানাকে নয়, স্টুপিড! তোমাকে!
–অ্যা!
–তারপর ভাবি বলল, তুমি এংগেজড!
নিয়ন ভাইয়ের গলায় তিক্ততা,
–ঠিকই আছে, বোকার মতো আমি একাই কমিটমেন্ট দিয়েছিলাম, তুমি তো আর কমিটেড না আমার কাছে! সেজন্য অপেক্ষা করোনি আমার জন্য। আমার বারবার যোগাযোগের চেষ্টাতেও সাড়া দাওনি।
আমি সহজে কাঁদি না। কিন্তু এখন গলা ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। বললাম,
–আমি কোন যোগ্যতায় তোমাকে চাওয়ার স্পর্ধা করব, বলো? তুমিই বলো?
নিয়ন ভাই ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে দুলে দুলে বলল,
–ভালোবাসলেই চাইতে, রুমঝুম! ভালোবাসলে, অন্য আর কোনো দাবি লাগে না, আর কোন যোগ্যতা লাগে না! আমারই বুঝতে ভুল হয়েছে। যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছ, তাকে ভালোবাসো? নাকি, তার সাথেও অভিনয় করো?
এই সুন্দর ছেলেটার গালে দুটো থাপ্পড় কষাতে পারলে আমার ভালো লাগত। একইসাথে ভালোবাসে বলছে, একইসাথে দূরে ঠেলে দিচ্ছে!
আবার বলল,
–তুমি ফিরে এলে ইনভেস্টমেন্টটার জন্য, আমার স্বীকারোক্তি শুনতে নয়। একটু রুড করে বললে, টাকার জন্য। টাকার জন্য তুমি কী কী করতে পারো?
আমি তাকিয়ে থাকলাম। ও বলেই গেল,
–আমার জন্মদাত্রী মাকে আমার জন্মদাতা ভালোবাসেনি। তাই আমাকে ঝেড়ে ফেলেছিল দুজনেই। এতিমখানায় ফেলে দিয়েছিল। আমার ভাগ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা নেই। আমি এটা মেনে নিয়েছি। বিশ লাখ কেন চাইছ? আরো চাও, রুমঝুম! ঈশ্বর আমাকে তোমার ভালোবাসা কেনবার মত টাকা দিয়েছেন! তুমি আরো চাও। তবুও আমাকে ভালোবাসো। মিথ্যে করে হলেও ভালোবাসো! আমি টাকা ইনভেস্ট করব, ভালোবাসার অঙ্কে রেভিনিউ ফেরত নেবো! তুমি কত নেবে, বলো?
–আমার উচিত তোমার গালে ঠাস ঠাস করে থাপ্পড় মারা!
–মারো?
নিয়ন ভাই বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। খুব দ্রুত আমার হাত ধরে নিজের গালে থাপ্পড় দেওয়াল। এত দ্রুত যে আমি বাধা দিতে পারলাম না। হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কঠিন করে বললাম,
–এত রাগ পুষে না রেখে, আয়নায় একবার আমার পাশে দাঁড়িয়ে দেখো, আমি কি তোমাকে চাইতে পারি? আর একবার ভালোবাসার চোখ দিয়ে খুঁজলে টের পেতে, আমি তোমাকে চেয়েছি কিনা! খুব চেয়েছি, নিয়ন ভাই, খুব ভালোবেসেছি! আমি যে স্বপ্নটা দেখি, সেটার নামও তো রুমঝুম। নামটা আমাকে তুমি দিয়েছিলে!
এতদিন পুষে রাখা আবেগ প্রকাশ করে ফেলতে পেরে হালকা লাগল। আমি সোফায় গা এলিয়ে দিলাম। সিলিংয়ে সুন্দর নকশার কাজ করা। সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম,
–টাকাটা আমার খুব প্রয়োজন। সেজন্য তোমার দয়া আমি চাইনি। আমার মনে বিশ্বাস আছে, এই কাজটা আমি করে উঠতে পারব, সেই পরিমাণ এফোর্ট দিতে পারব, তাই আমি তোমার রেকমেন্ডেশন চেয়েছি। এখন আর প্রয়োজন নেই, আমি নিজেই পারব। তোমাকে কিছু করতে হবে না!
আমি উঠে দাঁড়ালে নিয়ন ভাই অপ্রাসঙ্গিকভাবে বলল,
–আমি ট্রাস্টি বোর্ড থেকে রিজাইন করব!
আমি বুঝিনি কথাটা। অস্ফুটে শব্দ করলাম,
–হুম্ম!
–আমি তোমাকে রেকমেন্ড করব না। কখনো করাপশনের উল্লেখ হোক সেটা আমি চাই না। আম্মার কাছে ছোটো হতে পারব না!
— প্রয়োজন নেই। বললাম তো, রেকমেন্ড করতে হবে না। কেউ কখনো জানবে না, আমাদের এরকম একটা কনভার্সেশন হয়েছিল।
নিয়ন ভাইও উঠে দাঁড়াল। জেদি গলায় বলল,
–প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আছে, কারণ সবাই জানবে! আমি এটাও জানি, ইনভেস্টমেন্টটা তুমিই পাবে। তারপর যখন তুমি আমার বউ হবে৷ আমি এখন তোমাকে রেকমেন্ড করি আর না করি, তখন কথা উঠবেই। তাই, রিজাইন করব। এভাবে ভালোবাসি বলে নাচতে নাচতে চলে যাবে, আর আমি তোমাকে যেতে দেবো, ভেবেছ?
আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম ওর কথার ভাববঙ্গী দেখে। সাইকো নাকি? জানিও না তো এর সম্পর্কে কিছুই। অবচেতনে কাপড়ের উপর দিয়েই টিপছুরিটাকে চেপে ধরলাম। বললাম,
–কী করবে?
–বেঁধে রেখে দেবো!
একগাল হেসে বলল,
–ইউ মাস্ট প্রমিজ মি, ইউ উইল বি মাইন!
ও বাইরে যাওয়ার দরজার মুখে আসন দিয়ে বসল।
আমার বারোশো টাকা দামের বাটন ফোনটা পি পি করে বাজল।
শাফিন ফোন করেছে।
কী টাইমিং!
কোন বিচ্ছুটা যেন ওর নাম সেভ করেছে জান কলিজা ১ লিখে! আর মনসুর ভাইয়ের নাম আছে জান কলিজা ২ দিয়ে। আমি অনেকবার ঠিক করে দিয়েছি। আবার একদিনের মাথায় এই নামে ফেরত গেছে। কয়েকবার ঠিক করে দিয়ে, তারপর বিরক্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছি!
বিচ্ছুশিরোমণি বোনগুলো আজকের এসব জানলে নিয়ন ভাইয়ের নম্বর সেভ করে ফেলবে জান কলিজা ৩ লিখে!
এসব কী হচ্ছে আমার সাথে? কোন উপগ্রহের কোপানলে পড়েছি? কোপানল নাকি প্রেমানল? নাকি সবটুকুই একটা স্বপ্ন? সুন্দরতম স্বপ্ন!
ঘুম ভাঙলেই, সেই সাথে স্বপ্নটাও ভেঙে চুরচুর হয়ে যাবে?
আমি একটা ঢোঁক গিললাম। শাফিনকে কী বলব?
এখন?
আর পরে?

চলবে…
আফসানা আশা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here